মো:রাজিব তালুকদার নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭:১৭ পি.এম
নিরাপদ পানি প্রকল্পে ১০ শতাংশ নেওয়ার অভিযোগ
## সচিবের নাম ভাঙিয়ে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ প্রকল্প পরিচালক হানিফের বিরুদ্ধে
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অধীনে বাস্তবায়িত *‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’* ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রভাব বিস্তার ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের অনুমোদন ও প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) প্রক্রিয়ায় প্রায় *১০ শতাংশ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ* করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার ও প্রকৌশলী। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গ্রামীণ ও জনবহুল এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাই ছিল এ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জানুয়ারি ২০২০ থেকে জুন ২০২৬ মেয়াদের এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় নলকূপ ও গভীর নলকূপ স্থাপন, পানি শোধনাগার ও আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপন, পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ এবং দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এমন গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
### *সচিবের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ*
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক *মো. হানিফ* বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সইএন) এবং প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকল্পের ইস্টিমেট নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে হাতে হাতে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন ও কাজের ক্ষেত্রে প্রায় *১০ শতাংশ অর্থ নেওয়া হচ্ছে* বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, প্রকল্প পরিচালক মো. হানিফ সরাসরি অর্থ না নিয়ে বিভিন্ন সময়ে *স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর নাম ব্যবহার করেন*।
ওই ঠিকাদারের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের নাম ব্যবহার করেও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়।
### *ইস্টিমেট নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ*
প্রকল্পটির ইস্টিমেটার *আনোয়ারুলের* বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ইস্টিমেট প্রস্তুত ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ইস্টিমেট হাতে হাতে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা এবং ঠিকাদার নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
### *‘অর্থ নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত কাজ হয়নি’*
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাহী প্রকৌশলী অভিযোগ করে বলেন, তাঁর কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থ নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত কাজ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি প্রকাশ্যে বললে হয়রানির আশঙ্কায় তিনি এতদিন নীরব ছিলেন। তাঁর কাজ সম্পন্ন না হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলেও জানান তিনি।
### *ফোন করেও পাওয়া যায়নি প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য*
অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক *মো. হানিফের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।* ফোনে বিষয়টি জানার জন্য কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইস্টিমেটার *আনোয়ারুলের* বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পের নথিপত্র, ইস্টিমেট, অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।
### *নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি*
অভিযোগকারীদের দাবি, নিরাপদ পানি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বিপুল সরকারি অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় করা হয়েছে। তাই প্রকল্পের ইস্টিমেট প্রস্তুত, অনুমোদন, ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের বাস্তবায়ন এবং অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি ধাপ নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তাঁরা প্রকল্প পরিচালক মো. হানিফ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে *‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’-এর* অর্থ ব্যয়, ইস্টিমেট ও অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় আটক ৮ রোহিঙ্গা এবং ৪ মানবপাচারকারীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আদালতে তোলা হলে আদালত এই নির্দেশ দেন।
এর আগে ১৭ আগস্ট কানাইঘাটের দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি মাদরাসার সামনে থেকে তাদের আটক করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই সময় পাচার কাজে ব্যবহৃত দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি মাদরাসার সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে দেখে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরবর্তীতে কানাইঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ৮ রোহিঙ্গাসহ ১২ জনকে থানায় নিয়ে আসে।
বাকি চারজন মানবপাচারকারী। সিলেট নগরের কদমতলী এলাকা থেকে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ওই ৮ রোহিঙ্গাকে কানাইঘাটে নিয়ে আসা হয়েছিল। পুলিশ জানায়, দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তাদের ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
আটক হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে রয়েছেন, এনায়েত হোসেন (১৮), আব্দুল মুবিন (২৪), জুবের আহমদ (১৮), আজিদা বেগম (১৮), জামিলা বেগম (২০), ফাতেমা বিবি (১৮), নুর ফাতেমা (১৮) এবং আজিদা (১৮)।
পুলিশ জানায়, তারা সকলেই মিয়ানমারের নাগরিক এবং কক্সবাজারের উখিয়া থানার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করতেন।
মানবপাচারকারীদের মধ্যে রয়েছে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের এরালীগুল বাঙ্গীছড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আছাদ আহমদ, বড়খেরড় গ্রামের বাতা মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন এবং দুই সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাইকাপন গ্রামের মৃত হেদায়েতুল ইসলামের ছেলে রফিক আহমদ ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার মইন নুরুলীয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশের ছেলে এলাছ উদ্দিন।
সিলেটের কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আটকদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বন্ধ ও সংকটে পড়া কারখানা পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে ঘোষিত মেগা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ২৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ৩৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
গত মে মাসে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ হিসেবে, ৪১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুদের হার নিয়ে বাণিজ্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে, সুদের হারের এই বিরোধ নিষ্পত্তির পর আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ বিতরণ শুরুর পথ সুগম হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক তার নীতি সুদহারের (পলিসি রেট) সঙ্গে ৫০ বেসিস পয়েন্ট যোগ করে তহবিল জোগানদাতা ব্যাংকগুলোকে অর্থ প্রদান করবে। গত ৩০ জুলাই নীতি সুদহার কমানোর পর এখন তা ৯ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে, এই প্রণোদনা তহবিলের বর্তমান সুদের হার ১০ শতাংশ।
এই ঋণ একবারে না দিয়ে তিন বছর ধরে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। কোনো ব্যাংক তাদের গ্রাহকের জন্য অর্থ চাইলে, উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা অন্য ব্যাংকের সঙ্গে মিল ঘটিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এই তারল্য সরবরাহ করা হবে। এর ফলে, ব্যাংকগুলোর টাকা দীর্ঘ সময় আটকে থাকবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর আগে, সুদ হারের এই বিরোধ নিষ্পত্তিতে ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহমেদের সভাপতিত্বে ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি প্রধানদের সঙ্গে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। ওই বৈঠকদ্বয়ে ব্যাংকগুলোর ঋণ আমানত অনুপাতসীমা (এডিআর) ৬০-৭০% অথবা ৭০-৮০% রাখা নিয়ে মতবিভাজন থাকলেও সেটির চূড়ান্ত সমাধান হয়েছে।
তবে, এই কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ঋণের বিপরীতে কোনো তারল্য সহায়তা বা লিকুইডিটি ব্যাকস্টপ না পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ট্রেজারি কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, নগদ অর্থের সংকট দেখা দিলে এই তহবিলের অংশ রেপো অর্থায়নের জামানত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি, এই তহবিল ব্যাংকগুলোর হিসাবের খাতায় কীভাবে নথিভুক্ত হবে, তা নিয়েও কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৪১ হাজার crore টাকা উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলোর পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং সংকট, জ্বালানি ঘাটতি ও মূলধন সংকটে পড়া শিল্প সচল করতে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, ৫ হাজার কোটি টাকা এসএমই খাতের জন্য, ১০ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য, ৩ হাজার কোটি টাকা কৃষি-হাব গঠনের জন্য এবং ৩ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অবশিষ্ট ১৯ হাজার কোটি টাকা সরকারি গ্যারান্টির বিপরীতে সরাসরি সরবরাহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অংশটি প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট, পিকেএসএফ, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও বেকারদের ঋণ তৈরিতে ব্যবহৃত হবে।
গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ করতে পারবে এবং স্টার্টআপের ক্ষেত্রে সুদের হার সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সুদের এই ফারাক সরকার বাজেটে ভর্তুকির মাধ্যমে পূরণ করবে। স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতি চাঙ্গা করা এবং বেসরকারি খাতে প্রায় ২৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এই প্রণোদনা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তি করতে চায় ইরানের সঙ্গে, তাতে তেহরান কোনভাবেই রাজি হবে না। তিনি আরো বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘তারা এমন কোনো চুক্তি করবে না, যেটাকে আমি প্রয়োজনীয় মনে করি।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঠেকানো।
ট্রাম্প বলছেন, ‘আমরা সেখানে একটি কারণেই আছি। ইরান কোনভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।’ তিনি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুনর্গঠন নিয়ে মন্তব্য করেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলার কারণে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর পুনর্গঠনে দেশটির দীর্ঘ সময় লাগবে।
আলাদা করে, জুনে ইরানের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ওই সমঝোতা লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধ করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তির হবে। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখনো এগোয়নি। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে না।
অন্যদিকে, ইরান পরিষ্কার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখবে। তেহরানের দাবি রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহার, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ছাড় দেওয়া এবং সামরিক হুমকি ও অভিযান বন্ধ করার।
চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে ট্রাম্প ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অবদান রাখা ওমানকে নিয়েও তিনি হুমকিমূলক মন্তব্য করেছেন। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর, ১৮ আগস্ট ২০২৬ : জেলায় আজ শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) -এর অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস (প্রসাধন সামগ্রী) জব্দ করা হয়েছে।
জব্দকৃত এসব প্রসাধন সামগ্রীর বাজার মূল্য আনুমানিক আটলাখ ৫০ হাজার টাকা বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীবরদী উপজেলার চান্দাপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একটি টহল দল।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে শ্রীবরদী উপজেলার চান্দাপাড়া সীমান্তে চোরাকারবারিরা ভারত থেকে অবৈধভাবে প্রসাধন সামগ্রী বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি’র একটি বিশেষ টহল দল তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করলে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধন সামগ্রী জব্দ করে বিজিবি। জব্দকৃত এসব প্রসাধন সামগ্রীর বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় আটলাখ ৫০ হাজার টাকা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি’র ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ যেকোনো ধরনের চোরাচালানি মালামাল পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। ভবিষ্যতেও এই কঠোর নজরদারি ও দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ