০৫:১৬ পি.এম
দেশবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আইনজীবী রিংকি সিং চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগটি জানানোর পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, হাদি হত্যা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে অনুষ্ঠিত তৃণমূলের ধরনা কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: গুয়াতেমালায় আইনপ্রণেতাকে লক্ষ্য করে হামলায় ৩ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ব্যাপারে দাবি করেন, তিনি সকল কিছু জানেন। তিনি বলেন, মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। তাই দেশের স্বার্থে তিনি মুখ খুলছেন না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এক বড় খুনিকে বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেফতার করেছিল, যা নিয়ে অনেক রেভুলেশন হয়েছিল। উক্ত খুনি মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে। বাংলায় আসার পর এসটিএফ তাকে ধরে, এটি তাদের ক্রেডিট। এর পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'এতদিন আমি বলিনি, মুখ খুলিনি। আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে বলছি। আমি এখনও নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। কারণ বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে। আমি সেটা চাই না। আমি দেশকে ভালোবাসি। তাই দেশের স্বার্থে বলব না।'
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা প্রশ্ন রাখেন, কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? মমতা বলেন, আজ সরকার পরিবর্তন হলেও মনে রাখবেন, আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটি তথ্য ভাণ্ডার। আমি তো সম্পদের ভয়ে কর্মীদের জলে ভাসিয়ে দিয়ে দল ছেড়ে চলে যাব না।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৫ জন আটক
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের দলের একটা নীতি আছে, আদর্শ আছে, দর্শন আছে। আজ আমার দুঃখ একটাই, যাদের জন্য সারাজীবন করেছি তারা আজকে গাদ্দারের সঙ্গে লাইন করছে। তোমার এলাকায় যখন বাড়ি ভাঙে, আমি নিজে ফোন করে তোমাদের যেতে বলি, কিন্তু তোমরা চাচ্ছ না। আমি বলেছিলাম, যখন মসজিদের মাইক কেড়ে নেয়া হচ্ছিল, তোমরা একটা কেস করো, কিন্তু করনি। যারা আজ গাদ্দারি করছে তৃণমূলটাকে ভাঙার জন্য, আমি বলি— ঈশ্বর আল্লাহ তেরে নাম, সপ্ত সুমতি দে ভগবান।'
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় গত ৮ মার্চ হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স। চার দিন রিমান্ড শেষে তাদের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মাইক্রোবাস-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষে ৯ জন আহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন