সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৯ পি.এম
চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি নিয়ে সচিবালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনা ঘটে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্মারকলিপি দিতে সচিবালয়ের দিকে যাত্রা শুরু করেন। যখন মিছিলটি সচিবালয় মোড়ের নিকট পৌঁছায়, তখন পুলিশ তাদের বাধা প্রদান করে।
আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মন্তব্য করেন, "পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের উগ্র লোকজন পুলিশের ওপর চড়াও হলে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোর (ওবিইউ) কার্যক্রমে নতুন সুযোগ প্রদান করেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। এখন থেকে ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) তাদের নিজস্ব দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিট (ডিবিইউ), অন্যান্য অনুমোদিত ডিলার (এডি), অন্যান্য ওবিইউ এবং বৈধ স্থানীয় পক্ষের সঙ্গে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় এবং ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বৈধ গ্রাহক লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়নের প্রয়োজন, দায় পরিশোধ, তারল্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ওবিইউগুলো আরও নমনীয়ভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা করতে সক্ষম হবে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি জারি করা অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের নির্দেশিকার এফ (১) অনুচ্ছেদে ওবিইউগুলোর কার্যক্রমের ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বৈধ গ্রাহক লেনদেন সহজ করা, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, সম্পদ ও দায় ব্যবস্থাপনার চর্চা উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রেজারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দেশের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে ওই বিধানের কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ওবিইউগুলো এখন তাদের সংশ্লিষ্ট ডিবিইউ, অন্যান্য এডি, অন্যান্য ওবিইউ এবং বৈধ স্থানীয় পক্ষের সঙ্গে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করতে পারবে। পাশাপাশি তারা ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেনও করতে পারবে।
কিন্তু এসব লেনদেনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করেছে। লেনদেনগুলো অবশ্যই অনুমোদিত গ্রাহক লেনদেন, অর্থায়নের প্রয়োজন, নিষ্পত্তির দায়, তারল্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা অথবা বৈদেশিক মুদ্রা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে হবে।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র বৈদেশিক মুদ্রার দামের ওঠানামা থেকে মুনাফা করার উদ্দেশ্যে এসব লেনদেন করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, অনুমাননির্ভর বা জল্পনামূলক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের উদ্দেশ্যে ওবিইউগুলো এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লেনদেন পরিচালনার সময় ওবিইউগুলোকে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিবিধান, প্রুডেনশিয়াল বা সতর্কতামূলক নির্দেশনা, অনুমোদিত অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, ডিলিং ও কাউন্টারপার্টি সীমা এবং যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ওবিইউগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রায় বিচক্ষণ অর্থায়ন কৌশল গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। প্রয়োজন ও সম্ভাবনা থাকলে তুলনামূলক কম ব্যয়ের মুদ্রায় অর্থায়নের সুযোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লেনদেনের নিষ্পত্তি ব্যয়-সাশ্রয়ী করা, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় অথবা ক্রস-কারেন্সি সোয়াপের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নতুন সুবিধাগুলোর মূল লক্ষ্য হলো অনুমোদিত বাণিজ্য ও অর্থায়ন কার্যক্রমে ওবিইউগুলোর সেবা আরও দক্ষ করা। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়নের ব্যবস্থা করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাজারচর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন মুদ্রায় ব্যাংকগুলোর ঝুঁকির পরিমাণ ব্যবস্থাপনা করা।
অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণত দেশের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য, অর্থায়নের ব্যয় এবং মুদ্রার বিনিময় হারের ঝুঁকি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে একটি ওবিইউ তার প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য ইউনিট বা ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ কিংবা প্রয়োজন না থাকলে তা বিক্রি করার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে এক মুদ্রায় অর্থায়ন গ্রহণ করে অন্য মুদ্রায় দায় বা লেনদেন ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হলে ক্রস-কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ ও গ্রহণের সময় যে মুদ্রা-ঝুঁকি তৈরি হয়, তা ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের লেনদেন কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ব্যবস্থাপনায়ও নমনীয়তা বাড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ সুবিধার মাধ্যমে ওবিইউগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রার অর্থায়ন কাঠামো আরও কার্যকরভাবে সাজাতে পারবে। ফলে অনুমোদিত বাণিজ্য ও অর্থায়ন কার্যক্রমে গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে।
জল্পনামূলক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে নতুন সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্কতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, অনুমোদিত উদ্দেশ্য ছাড়া এসব লেনদেন করা যাবে না এবং বিশেষ করে জল্পনামূলক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসার জন্য এ সুবিধা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া প্রতিটি ওবিইউকে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, ডিলিং সীমা ও কাউন্টারপার্টি সীমা অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ নতুন সুবিধা চালুর পরও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো কার্যকর রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে প্রুডেনশিয়াল নির্দেশনা ও প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা আইন-বিধি যথাযথভাবে অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আগের সব নির্দেশনা বহাল রেখে নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি জারি করা অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের নির্দেশিকার সব বিধান বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন সার্কুলারে যেসব বিষয়ে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ছাড়া নির্দেশিকার অন্যান্য সব বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা চর্চা প্রতিষ্ঠা এবং বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যেই নতুন এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারটি জারি করা হয়েছে অফশোর ব্যাংকিং আইন, ২০২৪-এর ১১(৭) ও ২৫(২) ধারা এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া ক্ষমতাবলে।
নতুন নির্দেশনার বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবহিত করার জন্য দেশের সব অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট এবং তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সাহসিকতা, বীরত্ব, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জন্য চারটি ক্যাটাগরিতে এই পদকগুলো প্রদান করা হবে। ক্যাটাগরিগুলো হলো—বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা।
এছাড়া, প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং অন্যান্য উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদকগুলো প্রদান করা হচ্ছে।
মোট ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে চারটি ক্যাটাগরিতে পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেখুন এখানে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলমান জ্বালানি অস্থিরতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সরকার দেশের ব্যাংকিং খাতকে মাফিয়াদের হাতে তুলে দিতে নতুন ষড়যন্ত্র করছে, এমন অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঋণ শ্রেণিকরণের মেয়াদ তিন মাস থেকে বাড়িয়ে নয় মাস করার উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে দুর্বৃত্ত পোষার নির্লজ্জ মানসিকতা ও ব্যাংকিং সংস্কারের বিপরীত পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, শ্রেণিকরণের মেয়াদ বাড়ালে ব্যাংকের এক টাকাও ফেরত আসে না, কেবল কাগজের সংখ্যাটি ছোট দেখায়। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পথ ধরে বর্তমান বিএনপি সরকারও একই পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "জুন ২০২৬ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশ। কঠোর শ্রেণিকরণ বিধি ও স্বাধীন সম্পদমান নিরীক্ষার ফলে এ লুকানো ক্ষত প্রকাশ পেয়েছে, যা নীতির সাফল্য। এখন সংজ্ঞা শিথিল করার অর্থ হলো স্বচ্ছতার শাস্তি হিসেবে স্বচ্ছতাকেই বাতিল করা।"
তিনি আরও বলেন, 'থার্মোমিটার ভেঙে ফেললে জ্বর কমে না' মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে ভারত ও ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ২০০৪ সাল থেকে ৯০ দিনের মান অনুসরণ করছে এবং ২০১৮ সালে এনপিএ অনুপাত ১১.১৮ শতাংশে উঠলেও সংজ্ঞা শিথিল করেনি। বরং সম্পদমান নিরীক্ষা, দেউলিয়া আইন, সময়াবদ্ধ সমাধান এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের নিষিদ্ধ করার মতো নীতি গ্রহণের ফলে সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে দেশটির এনপিএ অনুপাত দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.১ শতাংশে। একইভাবে ভিয়েতনামও সংজ্ঞা না বদলে ২০১৭ সালে জামানত দখলের আইন প্রণয়ন এবং ২০২৫ সালে তা সংশোধনের মাধ্যমে আদায় প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। উভয় দেশের অভিজ্ঞতার মূল শিক্ষাই হলো—মাপকাঠি ঠিক রাখা এবং আদায়ের ক্ষমতা বাড়ানো।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের প্রতি ৬ দফা দাবি পেশ করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ:
১। ৯০ দিনের শ্রেণিকরণ বিধি অপরিবর্তিত থাকতে হবে। মেয়াদ বাড়ানোর সব আলোচনা অবিলম্বে বন্ধ হোক এবং বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ্যে অবস্থান জানাক।
২। ২০২৭ সালের মধ্যে আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হোক। IFRS-9 এ বকেয়ার বদলে ঝুঁকির মূল্যায়ন কাজ করে যা ৯ মাসের প্রস্তাবের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত। আইএফআরএস-৯ মতে, কিস্তি বন্ধ হওয়ার অপেক্ষা না করে ঝুঁকি বাড়ার মুহূর্তেই প্রভিশন রাখতে হবে। ব্যাংকিং বিপর্যয়ের পরেও বাংলাদেশ ব্যাংক কিস্তি বন্ধ হওয়ার পরও নয় মাস অপেক্ষা করতে চায়। দুটি একসঙ্গে চলতে পারে না। মূলধন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক রূপান্তর পরিকল্পনা সহ বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৭ সালের মধ্যে আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। সংজ্ঞা পিছিয়ে দিয়ে সেই অঙ্গীকার রাখা সম্ভব নয়।
৩। খেলাপি ও পুনঃতফসিলকৃত ঋণগ্রহীতাকে নতুন ঋণে ঝুঁকিভিত্তিক অতিরিক্ত সুদ ও কঠোর শর্ত দিতে হবে। আজকের ব্যবস্থায় একজন খেলাপি এবং একজন নিয়মিত পরিশোধকারী প্রায় একই শর্তে ঋণ পান। এটিই নৈতিক বিপর্যয়ের উৎস। খেলাপির ইতিহাসের একটি দাম থাকতে হবে, এবং সেই দাম তাকেই দিতে হবে।
৪। ৩১ আগস্টের পুনঃতফসিল সার্কুলারের প্রয়োগ বড় এক্সপোজারের ক্ষেত্রে স্থগিত থাকুক (১০ কোটির উপর), যতক্ষণ না সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এর প্রভাব মূল্যায়ন করে।
৫। সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন এবং অর্থঋণ আদালত আইনের সংশোধনী আগে পাস হোক। আদায়ের আইন তৈরি না করে সংজ্ঞা শিথিল করার আলোচনা অগ্রহণযোগ্য।
৬। বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঘোষণার প্রক্রিয়া এবং সময়াবদ্ধ আইনি ব্যবস্থা চালু হোক।
পোস্টের শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি আমানতকারীর টাকার নিরাপত্তা, বিনিয়োগকারীর আস্থা এবং রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন। যে সংখ্যা সংজ্ঞা বদলে খেলাপি কমানো হয়, বাজার সেই সংখ্যা বিশ্বাস করে না। ঋণদাতা করে না, আমানতকারী করে না, বিদেশি অংশীদারও করে না।
"আমরা দাবি করছি, বাংলাদেশ ব্যাংক এই উদ্যোগ থেকে প্রকাশ্যে সরে আসুক এবং আন্তর্জাতিক প্রমিত মান থেকে বর্তমানে যেসব বিচ্যুতি রয়েছে, তার একটি পূর্ণ তালিকা ও সংশোধনের সময়সীমা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উপস্থাপন করুক। স্বচ্ছতার শাস্তি হিসেবে স্বচ্ছতাকে বাতিল করবেন না, খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা বদলে সংকট আড়াল করার উদ্যোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, কানাডার আটলান্টিক উপকূলের নিকটবর্তী একটি ফরাসি ভূখণ্ডে একটি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়। উভয় দেশ প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে গভীর অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছে। বৈঠকটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান
সেন্ট পিয়ের ও মিকেলন দ্বীপপুঞ্জে দুই নেতার সফরটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি ২০১৪ সালের পর ফরাসি প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর এবং ইতিহাসে কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারা এই দ্বীপপুঞ্জসহ কানাডা এবং উত্তর আমেরিকার অন্যান্য দেশকে মার্কিন পতাকায় ঢাকা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর উভয় দেশের সরকার প্রধান এই সফরে যান।
আরো পড়ুন
২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন শি চিনপিং
অটোয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান তিক্ত বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে।
গতকাল রবিবার, ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক বিবৃতিতে মার্ক কার্নি বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিপর্যয়, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির ক্ষয় এবং আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর নতুন সব হুমকি—এই নতুন সঙ্কটের কারণে আমাদের সমাজ আজ কেঁপে উঠছে।" তিনি যোগ করেন, "এতে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার করার সময় এখন এসেছে।"
ম্যাক্রোঁ বলেন, দুই মিত্র দেশ মহাকাশ ও জলবায়ু থেকে শুরু করে জ্বালানি খাত পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে।
আরো পড়ুন
ভারতে প্রথম আসছে ডেঙ্গু টিকা : এটি কিভাবে কাজ করে?
রতে
ফরাসি প্রেসিডেন্ট যোগ করেন, "আমরা উভয়েই গণতন্ত্র, আইনের শাসন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্যের প্রতি সম্মান, আমাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে বিজ্ঞান এবং আমরা যে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করি—তাতে বিশ্বাস করি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ