০৮:৩১ পি.এম
সিপিবি: বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন মনে করেন, লুটেরা ধনিক শ্রেণির স্বার্থে প্রণীত এই বাজেট বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার পর তিনি গনমাধ্যমে বলেন, আমাদের দেশের জন্য এত বড় বাজেট প্রযোজ্য নয়।
এ বাজেটে প্রায় আড়াইল লাখ কোটি টাকা ঘাটতির উল্লেখ করা হচ্ছে। এই টাকা মূলত সাধারণ মানুষের ওপর থেকে কর সংগ্রহের মাধ্যমে আয় করা হবে। যদিও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিত্যপণ্যের দাম কমে যাবে; কিন্তু বাংলাদেশে দাম কখনো কমে না এবং আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের জন্য আবার সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
সিপিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘বাজেটে শ্রমিকের মজুরি এবং ন্যূনতম মজুরি কত হবে? কৃষকের জন্য সমবায়, কোল্ড স্টোরেজ, হিমাগার, ও ধানের দাম কিভাবে নির্ধারণ হবে, এসব বিষয় স্পষ্ট হয়নি।
আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ঢাকা জেলা আ.লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম গ্রেপ্তার
আমাদের কর্মসংস্থানের কোনো চিন্তাভাবনা নেই। তিনি বলেন, কোটি কোটি বেকার রয়েছেন; তবে বেকারত্ব দূর করার বিষয়ে বাজেটে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সার্বিকভাবে দেখা যায়, অতীতে সরকারগুলো যে ধরনের বাজেট তৈরি করেছিল, ধনিক শ্রেণির স্বার্থে এবারও বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। মূল কথা হলো, এটা বাস্তবায়ন করা কঠিন।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি: বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘নতুন অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রস্তাবনায় ‘সামর্থ্যের মধ্যে জনপ্রত্যাশা পূরণের আধাআধি প্রচেষ্টা রয়েছে’, সমাজের নানা অংশকে তুষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিশাল অঙ্কের ঘাটতি বাজেটের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যাবে। বাজেটের আকারের বড় উল্লম্ফন ঘটলেও বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।
তবে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, করদাতাদের আওতা বৃদ্ধি ও সংগ্রহের দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারলে এই রাজস্ব অর্জন অসম্ভব নয়। তিনি বলেন, বাজেটে সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এর জন্য অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে যতটা সম্ভব প্রণোদনা দিতে হবে। বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হবে এবং উৎপাদনমুখী নতুন শ্রমঘন শিল্প উদ্যোগ নেওয়ার প্রতি বাজেটের মনোযোগ দিতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর প্রস্তাবনা ইতিবাচক হলেও যে প্রকল্পগুলো আখেরে দারিদ্র্য বিমোচন করবে, তার জন্য প্রয়োজন আত্মকর্মসংস্থানের উৎপাদনশীল বহুমুখী উদ্যোগ। এছাড়া খাদ্যপণ্যসহ নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাজেটে আশাব্যঞ্জক কিছু প্রস্তাবনা দেখা যাচ্ছে না। এবারও বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার পুরনো ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এসব তৎপরতা অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে নতুন করে উৎসাহিত করবে।
বাসদ: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘এই বাজেটে আশাবাদ রয়েছে তবে অভিজ্ঞতার শিক্ষা নেই। এবার বড় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে কিন্তু আর্থিক সংস্থান পরিকল্পনা সেই পুরনো পথে রয়েছে। অর্থাৎ ধনীদের ওপর প্রত্যক্ষ করের তুলনায় সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ কর চাপিয়ে বাজেটের টাকা সংগ্রহ করা হবে। ফলে বাজেট ঘাটতি, দেশি বিদেশি ঋণ গ্রহণ, ঋণের সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ বরাদ্দ এবং কথার চমক রয়েছে এই বাজেটে। তিনি বলেন, গত অর্থ বছরে কেন রাজস্ব আদয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি, কেন ঋণখেলাপিদের টাকা আদায় করা যায়নি, কেন ব্যাংক খাত সচল ও শক্তিশালী করা যায়নি, মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নামানো যায়নি, বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি, বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি খাতে দুর্নীতির চক্র ভেঙে গ্রাহকের কাঁধে বাড়তি দাম চাপানো হয়েছে, এমন পর্যালোচনা খুব জরুরি ছিল। কিন্তু এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় একটিও প্রতিফলন ঘটে না। সাধারণ মানুষের আয়ে বৃদ্ধি হচ্ছে না, অথচ সরকারি হিসেবে মাথাপিছু আয় ও জিডিপি বৃদ্ধির হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে, যা বিশ্বাসযোগ্য হবে না। দেশের জনগণ অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছে, তাই বাজেট অধিবেশনে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনকল্যাণমূলক প্রতিটি খাত আলোচনা করে বাজেটের দুর্বলতা দূর করার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন
জাতীয় পার্টি: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করার পর জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন তা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়, বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা কখনোই অর্জন হবে না। ফলে সরকার ডেভেলপমেন্ট বাজেট এডিপি থেকে ঋণ করে করবে, বেতন, সরকারি রেভিনিউ বাজেটও লোনের ভিত্তিতে হওয়া দেখা যাবে। এই বিষয়টি অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে; পাশাপাশি যদি বেতন বাড়ানো হয়, পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়, তবে বেসরকারি খাতে চাপ বাড়বে। প্রচণ্ড মুদ্রাস্ফীতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো নির্দেশনা বাজেটে নেই। কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঠিক নির্দেশনা নেই। তিনি আরও বলেন, চর এলাকার মানুষদের জন্য চর ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন; তবে চর এলাকার উন্নয়নের জন্য এখানে কোনো নির্দেশনা নেই, বরাদ্দ কম দেওয়া হয়েছে। আরো অধিক বরাদ্দ প্রদান করা উচিত।’
জেএসডি: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে আয়বৈষম্য মোকাবিলায় দিকনির্দেশনা প্রতিফলিত হয়নি, জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) শীর্ষ নেতারা। দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘বাজেটে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান সংকট এবং আয়বৈষম্য মোকাবিলায় কার্যকর দিকনির্দেশনা পর্যাপ্তভাবে প্রতিফলিত হয়নি। করের আওতা সম্প্রসারণ রাষ্ট্রের প্রয়োজন হলেও সেই প্রক্রিয়া যেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একইসঙ্গে কর ফাঁকি, অবৈধ অর্থপাচার এবং অপ্রদর্শিত সম্পদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায্য এবং জবাবদিহিমূলক করব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংস্কৃতি, সৃজনশীল অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবাখাতে কর সুবিধার উদ্যোগটি ইতিবাচক। তবে এসব সুবিধার প্রকৃত সুফল যেন শুধু বৃহৎ কর্পোরেট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণ উদ্যোক্তা, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং উদ্ভাবকদের কাছেও পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন