ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাউখালীতে গাঁজা গাছসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার


কাউখালীতে গাঁজা গাছসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
 

 

 

 

পিরোজপুরের কাউখালীতে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গাঁজা গাছসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কাউখালী থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের শাজাহান হাওলাদারের ছেলে বাবু হাওলাদার (২৫) দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়ির পশ্চিম পাশে গাঁজা গাছ রোপণ করে তা পরিচর্যা করছিলেন। পরবর্তীতে ওই গাঁজা প্রক্রিয়াজাত করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদের ভিত্তিতে কাউখালী থানার এসআই মহিউদ্দিন ও এসআই মাসুদ আল মামুনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স বৃহস্পতিবার ভোররাতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বাবু হাওলাদারকে গাঁজা গাছসহ আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কাউখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে কাউখালী থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে গাঁজা গাছসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের পাশাপাশি জনসাধারণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত জুন মাসে কাউখালী থানায় ১০টি মাদকের মামলা হয়েছে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক মাদক ব্যবসায়ীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। 
 

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজাকে ঘিরে কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সম্ভাবনা, ৮০ শতাংশ হোটেল বুকিং

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেলয়েট টেক ফাস্ট ৫০-এ শীর্ষে ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ফান্ডেডনেক্সট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


ডেলয়েট টেক ফাস্ট ৫০-এ শীর্ষে ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ফান্ডেডনেক্সট

মধ্যপ্রাচ্য ও সাইপ্রাস অঞ্চলের জন্য প্রকাশিত ডেলয়েট টেকনোলজি ফাস্ট ৫০ তালিকায় ফিনটেক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শীর্ষে স্থান অর্জন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফিনটেক গ্রুপ নেক্সট ভেঞ্চারসের ফ্ল্যাগশিপ প্ল্যাটফর্ম ফান্ডেডনেক্সট। একই সাথে সামগ্রিক র‌্যাংকিংয়ে প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।

এই অর্জনের মাধ্যমে এটি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেলয়েটের এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। গত সোমবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ডেলয়েট, যা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রফেশনাল সার্ভিস নেটওয়ার্ক ‘বিগ ফোর’-এর অন্যতম সদস্য, গত চার বছরের নিরীক্ষিত আয়ের প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করেছে।

এছাড়াও, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা (ইএমইএ) অঞ্চলের ২৪টি দেশের ৫০০টি দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ডেলয়েট টেকনোলজি ফাস্ট ৫০০ তালিকায়ও ১১তম স্থান অর্জন করেছে ফান্ডেডনেক্সট। এতে প্রতিষ্ঠানের দুই প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবদুল্লাহ জায়েদ ও সৈয়দ আবদুল্লাহ গালিব প্রথম বাংলাদেশি উদ্যোক্তা হিসেবে এই সম্মাননা পেয়েছেন।

২০২২ সালে যাত্রা শুরু করে ফান্ডেডনেক্সট বর্তমানে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে সেবা প্রদান করছে। নেক্সট ভেঞ্চারসের পোর্টফোলিওতে ‘এফএনমার্কেটস’ নামে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্রোকারেজ হাউসও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নেক্সট ভেঞ্চারসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আবদুল্লাহ জায়েদ বলেন, ডেলয়েট টেকনোলজি ফাস্ট ৫০-এ স্থান পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। কারণ এই র‌্যাংকিং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিরীক্ষিত চার বছরের আয় প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়।

ডেলয়েট টেকনোলজি ফাস্ট ৫০-এর ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে ডেলয়েটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.deloitte.com এই ঠিকানায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালাক্কা মডেলে হরমুজে টোল আদায়ের পরিকল্পনা ওমানের, সংশয়ে বিশ্লেষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


মালাক্কা মডেলে হরমুজে টোল আদায়ের পরিকল্পনা ওমানের, সংশয়ে বিশ্লেষকরা

ওমান নতুন করে ‘সার্ভিস ফি’ বা ট্রানজিট টোল আরোপের একটি পরিকল্পনা রূপরেখা তৈরি করেছে, যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর কার্যকর হবে। এই ফি আদায়ের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ব্যস্ত আন্তর্জাতিক নৌপথ মালাক্কা এবং সিঙ্গাপুর প্রণালির বর্তমান মডেলটিকে ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি।

তবে, বৈশ্বিক শিপিং এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই কৌশলগত জলপথে এমন ফি আদায়ের যৌক্তিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনগত দিক সম্পর্কে। ১৯৮৫ সালের পর থেকে মালাক্কা প্রণালি এবং সিঙ্গাপুরের মধ্যে প্রবাহিত এদের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ধমনী। ২০০৮ সালে জাপানের অলাভজনক সংস্থা ‘নিপ্পন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এই প্রণালিকে ব্যবহারকারী বিভিন্ন দেশের সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে স্বেচ্ছামূলক আর্থিক অনুদান নিয়ে একটি তহবিল তৈরি করা হয়েছিল। তহবিলের অর্থ মূলত নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাতিঘর ও বয়া রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার কাজে ব্যয় করা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুর বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত এই তহবিলে মাত্র ২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার জমা হয়েছে, যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই নিয়েছে নিপ্পন ফাউন্ডেশন। ফ্রেইট ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান জেনোটা-এর প্রধান বিশ্লেষক পিটার স্যান্ড জানিয়েছেন, জাপানি স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিশ্বের আর অন্য কোনো পক্ষ এই তহবিলে অর্থ প্রদান করে না। এর ফলে, এই মডেলটি হরমুজ প্রণালিতে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মালাক্কা প্রণালির কাঠামোটি হরমুজ প্রণালির জন্য সহজে প্রয়োগ করা যাবে না। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো, হরমুজ প্রণালিতে নেভিগেশন বা জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোন জটিল সমস্যার মুখোমুখি নয়, যার জন্য বিশাল কোনও রক্ষণাবেক্ষণ তহবিলের প্রয়োজন হবে। বরং, ওমান ও ইরান সীমান্তবর্তী এই জলপথ থেকে সংগৃহীত অর্থ নৌপথের উন্নয়নের পাশাপাশি ইরানের পুনর্গঠনের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।

জাতিসংঘের কনভেনশন বা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, হরমুজ এবং মালাক্কার মতো প্রাকৃতিক আন্তর্জাতিক জলপথে যেকোনো দেশের জাহাজের মুক্ত চলাচলের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। এই প্রণালিগুলো সুয়েজ বা পানামা খালের মতো মানবনির্মিত কৃত্রিম খাল নয়, যেখানে কর্তৃপক্ষ অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য বাধ্যতামূলক টোল আদায় করতে পারে।

অবশ্য, শিপিং ইন্টেলিজেন্স ফার্ম কেপলার-এর পলিসি প্রধান মিশেল ব্রুহার্ড উল্লেখ করেছেন, চিলির মেগেলান প্রণালির মতো কিছু প্রাকৃতিক জলপথে নিরাপত্তা ও নেভিগেশন নিশ্চিত করার জন্য সীমিত ফি আদায়ের দৃষ্টান্ত রয়েছে। তবে, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রু‌ট হরমুজ প্রণালিতে বাধ্যতামূলক ফি আরোপের যেকোনো চেষ্টা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন ধরনের বড় আইনি ও ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


গোপালগঞ্জে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় তিন দিনব্যাপী ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলার আজ উদ্বোধন করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বৃহস্পতিবার বেলা ১১ সাড়ে টায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলমের সভাপতিত্বে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছাড়, কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিঠুন সরকার বক্তব্য রাখেন।

ড. মো. মামুনুর রহমান বাসস’কে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই কৃষির বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই পুরনো কৃষি ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে স্মার্ট কৃষিতে রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। এতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

টুঙ্গিপাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলায় মোট ১২ স্টল তৈরি করা হয়েছে। উদ্বোধন শেষে অতিথিরা স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। মেলা আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত চলবে এবং এতে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের ও পৌরসভার শতাধিক কৃষক-কৃষানী অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাজী নজরুলের আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২৬ পি.এম


কাজী নজরুলের আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি 'নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭' কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল অতীত ইতিহাস নয়, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। সুতরাং, তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন, যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন কিংবা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ, সামাজিক দর্শন ও আমাদের মনোজগতে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। কবি নজরুল তেমনই একজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স, আমাদের জীবনের সকল পর্যায়েই তাঁর প্রভাব অপরিসীম।'

আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কক্ষে আয়োজিত এক সভায় (জুম প্ল্যাটফর্ম) বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে, কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী কাজী নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করে বলেন, 'বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি, বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।'

তিনি বলেন,  'পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, তথা যা কিছু অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দর, তার বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। বিপ্লব, বিদ্রোহ কিংবা রণ-সঙ্গীত, ইসলামী তাহজীব তমদ্দুন কিংবা ইসলামী মূল্যবোধের গান, ভজন-কীর্তন কিংবা শ্যামা সংগীত, প্রেম, প্রকৃতি অথবা মানবিক মূল্যবোধ, কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উন্মাদনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল প্রকাশ ছিল শুদ্ধ।'

মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম প্রধান দিশারি এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য রয়েছে সকল কালের, সকল মানুষের।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা।  তাঁর প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন ফুরানোর নয়।'

তিনি বলেন,  'আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনি আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মূল ভাষা।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,  ‘শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বর্তমান প্রজন্মের জন্য, এমনকি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই আমাদের জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের সঙ্গে, গণমানুষ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক আরো গভীর ও নিবিড় করার লক্ষ্যে নানা আয়োজনে 'নজরুল বর্ষ' শুরু হয়েছে।'

তিনি 'নজরুল বর্ষ' উদযাপনে উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, 'আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাগণ, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পীগণ যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন সবাইকে অভিনন্দন।'

তিনি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে নজরুল গবেষক ও নজরুলপ্রেমীদের প্রাধান্য দেয়ার ইঙ্গিত করে বলেন,  ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠানে যেমন নজরুল গবেষকদের উপস্থিতি মানায় না, তেমনি নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠানে আমলাদের চেয়ে নজরুল অনুরাগীদের অংশগ্রহণই বেশি কাম্য।'

নতুন প্রজন্মের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বর্তমান জটিল বাস্তবতায় আমাদের উদীয়মান প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখী’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘর’-এর মতো নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কবিতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।'

প্রধানমন্ত্রী পুনরায় বলেন, নজরুল আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। নজরুল কেবল অতীত ইতিহাস নয়, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস।'

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,  'একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি আজীবন সাম্যের গান গেয়েছেন, যেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টানের কোনো ভেদাভেদ নেই। বর্তমান সরকারও এমন এক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ এবং এমনকি প্রতিটি প্রাণীও নিরাপদে থাকবে।'

এ সময় সারাদেশে নজরুল বিশেষজ্ঞ ও নজরুল প্রেমীদের নিয়ে গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুল সংগীতের আসর, নাট্যোৎসব এবং চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এবং বর্তমান জটিল বৈশ্বিক বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে কবির নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যকে আলোকবর্তিকা হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি।

পরিশেষে, জাতীয় কবির জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও মানবিক চেতনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পী যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%