১২:২০ পি.এম
সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ৮ মাস আগে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে রেখে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। একজন সন্তানের জন্ম হয় ১ মাস আগে।
মৃত্যুর খবর শোনার পর স্ত্রীর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মিতু বেগম। পরিবারের অপেক্ষার প্রহর চলছে সন্তানকে দেখার জন্য।
নিহত শামীম হোসেনের বাসস্থান নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. জাকির হোসেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে ‘প্রেসক্লাব নকলা’র কমিটি গঠন: সভাপতি রানা, সম্পাদক রিজন
মাত্র ৫ বছর আগে পার্শ্ববর্তী হালতি খোলাবাড়িয়া এলাকায় মিতু নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন শামীম হোসেন। সন্তান না হওয়ায় অনেক ডাক্তার-কবিরাজ দেখানো হয়। দীর্ঘ চার বছর পর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হন।
সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে রেখে শামীম প্রবাস জীবনে যায়। কন্যার জন্মের আনন্দে বিদেশে আত্মহারা ছিল শামীম। দেশে ফিরে একমাত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করার অনেক স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু এখন ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, আর সেই আদর করার সুযোগ নেই।
নিহতের মা শাহীনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছেন, "সরকারের কাছে আবেদন করছি, আমার সন্তানের লাশটা দ্রুত ফেরত দেন। অনেক আশা নিয়ে সৌদিতে গিয়েছিল। আমার এক মাস বয়সী নাতনি তার বাবার জীবিত মুখটা দেখতে পেল না। সরকার যেন তার ভবিষ্যতের জন্য কিছু করে দেয়।"
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান খান জানিয়েছেন, ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। নিহত পরিবারের সদস্যদের সমাবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে রওনা দেওয়া হয়েছে। নিহত পরিবারের যদি কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা করা হবে। মরদেহগুলো পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ী জেলা কারাগারে হাজতি নারায়ণ চন্দ্র দাসের মৃত্যু
সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত অবস্থায় আগুনে পুড়ে নাটোরের নলডাঙ্গার তিন প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়ন শ্রীপুরপাড়া গ্রামের মো. রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ, দিঘীরপাড় এলাকার মো. জাকির হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম শেখের ছেলে রবিউল আউয়াল হৃদয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন