বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৬:৫২ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই।
তিনি আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেওয়া একটি বাণীতে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তাই আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আসুন আমরা সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরো সুদৃঢ় করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে নিজেদের আরো নিবেদিত করি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখে পালিত হয় পবিত্র আশুরা। ইসলামের ইতিহাসে এটি এক অনন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এটি শুধু শোক ও স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ ও নৈতিক দৃঢ়তার চিরন্তন শিক্ষা ধারণ করে।’
তিনি বলেন, ‘কারবালার ঘটনা মানব ইতিহাসের এমন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যা যুগে যুগে মানুষকে সত্যের পক্ষে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে অনুপ্রাণিত করে আসছে।’
মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার যে শিক্ষা কারবালা আমাদের দিয়েছে, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরণার উৎস জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) তার পরিবারের সদস্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গীদের নিয়ে জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে শাহাদতের মহান মর্যাদা বরণ করেছিলেন। তার এই আত্মত্যাগ কারবালাকে সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রামের এক অবিনাশী প্রতীকে পরিণত করেছে।’
পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে তারেক রহমান সর্বশেষ রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একই সঙ্গে কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনায় শাহাদতবরণকারী তার পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীদে পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
এ ছাড়াও তিনি এই শোকাবহ দিনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতিও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডার বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে একটি অনন্য তালিকায় তাঁর স্থান করে নিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের তরুণ ফরোয়ার্ড ইয়োহান মানজাবি। বয়স মাত্র ২১ বছরের নিচে থাকার কারণে, তিনি এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং টমাস মুলারের মতো বিশ্বকাপের তারকাদের সঙ্গে রয়েছেন।
কানাডার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভের ক্ষেত্রে রুবেন ভার্গাস এবং মানজাবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে, এই তরুণ ফরোয়ার্ড ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে চারটি গোলের অবদান রেখেছেন।
এমন একটি কীর্তির মাধ্যমে মানজাবি বিশ্বকাপ ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলার হয়ে উঠেছেন, যিনি একটি আসরে চার বা তার বেশি গোল অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ২০১০ বিশ্বকাপে টমাস মুলারও এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।
একই ম্যাচে, সুইজারল্যান্ডের আরেক খেলোয়াড় রুবেন ভার্গাসও গোল করে আলোচনায় আসেন। তাঁর গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের প্রভাব আরও সুস্পষ্ট হয়।
অন্যদিকে কানাডার বিপক্ষে জয়লাভের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে। একই গ্রুপে তারা টানা চারটি বিশ্বকাপে (২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার নজির স্থাপন করেছে।
এই ধারাবাহিকতায়, সুইজারল্যান্ড এখন দ্বিতীয় ইউরোপিয়ান দল হিসেবে ফ্রান্সের সঙ্গে যুক্ত হয়ে টানা চার আসরে শেষ ষোলোতে জায়গা করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পের পেছনে রয়েছে পৃথিবীর অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুল চাপ। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানই এমন শক্তিশালী ভূমিকম্পের অন্যতম কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর বাইরের স্তর বা ভূত্বক কয়েকটি বিশাল টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত। এগুলো অনেকটা জিগস পাজলের খণ্ডের মতো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ক্রমাগত ধীর গতিতে সরে যাচ্ছে। বছরে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার করে এই সঞ্চালন ঘটে, যা মানুষের নখ বৃদ্ধির গতির কাছাকাছি।
উত্তর ভেনেজুয়েলা ক্যারিবীয় প্লেট এবং দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই দুটি প্লেট একে অপরের তুলনায় ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে তাদের কিছু অংশ আটকে যায়।
এর ফলে বছরের পর বছর ধরে ওই এলাকায় চাপ জমতে থাকে। একসময় সেই চাপ সহ্যের সীমা অতিক্রম করলে প্লেটগুলো হঠাৎ সরে যায় বা নিজেদের অবস্থানে ফিরে আসে।
এই আকস্মিক নড়াচড়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি মুক্ত হয়, যা ভূমিকম্প হিসেবে অনুভূত হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক জোড়া ভূমিকম্পের পেছনেও একই প্রক্রিয়া কাজ করেছে।
উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯৭১ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোর্স: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের বেইজিংয়ে ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘লাল গালিচা’ সংবর্ধনা এবং ‘গার্ড অব অনার’ প্রদর্শন করা হয়েছে।
দেশটির স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় এই সম্মান প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রদত্ত হয়।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং প্রধানমন্ত্রীর জন্য লাল গালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান। এ সময় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল সশস্ত্র সালাম দেয়।
দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময়, তোপধ্বনি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানানো হয়। পরে উভয় প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।
এদিন বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে মোট ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যা বিশ্লেষকদের মতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এর আগে, চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে তার অভ্যর্থনা জানানো হয়।
বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দসহ মোট ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে আলোচনা হয় দুই দেশের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন অপরাধ দমন, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে।
মন্ত্রী বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান গভীর সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশরের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অদূর ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী হবে।
হাইকমিশনার জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই ২০২৬ লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
তিনি বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)-এর আওতায় যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যুক্তরাজ্য প্রেরিত ‘ইউকে লেটার’ এর প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান।
বৈঠকে অভিবাসন অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং তা পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করা হয়। মন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-২ অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ