বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:২০ পি.এম
ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই নীতিমালা কার্যকর হলে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টুর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, আবুল কালাম, আবু তালেব মণ্ডল, আব্দুল করিম এবং শামছুন্নাহার বেগম। বৈঠকে জানানো হয়, ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। নীতিমালা প্রণয়ন হলে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টু মন্তব্য করেন, "খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।" তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে উপকারভোগী নির্ধারণে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে, সে জন্য ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণের সুপারিশ করেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোতে ৬ হাজার ৬৫৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কার্যক্রম বন্ধ করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুপারিশ করে কমিটি।
বৈঠকে খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটির প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, "খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সচেতন।" তিনি খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, শিশুখাদ্যসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যাতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, সে জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তাসহ শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিটি কার্যালয়ে মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং খাদ্যে ভেজাল পর্যবেক্ষণের জন্য মোবাইল ভ্যান সরবরাহের কাজও চলমান রয়েছে।
বৈঠকে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এ পরিস্থিতিতে কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং অকৃষি কাজে কৃষিজমির অননুমোদিত ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুর, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার দুঃস্থ ও অসহায় সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে চাল ও শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় উপজেলা পরিষদ হল রুমে শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চাল ও শাড়ি বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ আসলাম এমপি।
তিনি এ সময় বলেন, "বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে কেউ সংখ্যালঘু নয়। আমাদের সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"
সনাতন ধর্মালম্বীদের নির্ভয়ে পূজা উদযাপন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আপনাদের ভোটে আমরা নির্বাচিত হয়েছি। আপনাদের উপর কোন জুলুম হলে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকবো।"
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সিরাজুল মোল্লা, যুগ্ম সম্পাদক দুলাল খান, শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু, জেলা কৃষক দলের সভাপতি বিএম হারুন অর রশিদ সহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দুঃস্থ ও অসহায় মহিলাদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করা হয় এবং শরীয়তপুর সদর উপজেলাধীন ৩৩টি পূজা মণ্ডপে ৫শ’ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।
এর আগে সাঈদ আহমেদ এমপি শরীয়তপুর সদর উপজেলার পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সনাতন ধর্মালম্বীদের অভাব অভিযোগের কথা শুনে তাদের সার্বিক সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বর্তমানে ৩৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ হাজার ৩০৮ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুসারে, একই দিনে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৫০১ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ এবং বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের মধ্যে একটি পার্থক্য বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের দ্বারা নির্ধারিত বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব করার সময় কিছু বিষয়কে সমন্বয় করা হয়। এর ফলে, এই পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ সাধারণত গ্রস রিজার্ভের তুলনায় কম হয়ে থাকে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি এবং সুদ পরিশোধ, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লেনদেনে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার জোগান নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রিজার্ভের পর্যাপ্ততা দেশের বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি প্রধান সূচক।
তবে, রিজার্ভের সর্বশেষ অবস্থান থেকে চার দিন আগে তুলনায় বৃদ্ধি ঘটেছে। ১১ অক্টোবরের তুলনায় ১৫ অক্টোবর গ্রস রিজার্ভ ৯৫.০২ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ রিজার্ভ ৯৭.৯৮ মিলিয়ন ডলার বেড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে ক্যাম্পাসগুলোতে চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়ে তোলা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণ।
তিনি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার, পোস্টার ছেঁড়া এবং পাল্টাপাল্টি মিছিলের ফলে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
এস এম ফরহাদ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশপাশে গড়ে ওঠা চাঁদাবাজির কারণে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তারা জানে যে, ছাত্রশিবির কোনো চাঁদাবাজি বা অনিয়ম মেনে নেবে না, তাই তারা শিবিরকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি দাবি করেন যে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের সমর্থন করে না, এ বিষয়ে ছাত্রদল পুরোপুরি সচেতন। এর ফলে, পরাজয়ের শঙ্কায় তারা নির্বাচন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
ডাকসু জিএস বলেন, দ্রুত ক্যাম্পাসগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পথ সুগম করতে হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং সম্প্রতি দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনের নামে কড়াকড়ি ও গণগ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে শুরু হয়েছে। শুনানিটি পরিচালনা করছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।
ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ দমন করতে মেট্রো চলাচল সীমিত করা, ইন্টারনেট বন্ধ রাখা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা এবং বিভিন্ন সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে একাধিক রিট ও আবেদন দাখিল করেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) শুনানিকালে আদালত কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে এ বিষয়ে জবাব তলব করেছে এবং সমস্ত মামলাকে মূল মামলার সাথে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে, দিল্লির সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও ধরপাকড় সংক্রান্ত সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। শুনানিতে আদালত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর গত ১২ অক্টোবরের কর্মকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করে এ বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির অভিযোগ করেছে যে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে ভোটারদের বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আদালত এই মামলায় নাগরিকের প্রতিবাদের অধিকার এবং জনশৃঙ্খলা ও আদালতের কার্যপরিধি রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে এখন পুরো দেশের রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ