মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
১০:১৬ পি.এম
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত একটি পোস্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি নয়াবাড়ী গ্রামের মৃত হিম্মত আলীর ছেলে সাহাজ উদ্দিন (৫০)।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকালে তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ২৮ আগস্ট শুক্রবার সকালে Md Nazmul Hasan নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে https://www.facebook.com/share/p/1G5nzfkaZa/ লিংক এর মাধ্যমে "দ্বাড়িয়াকান্দিতে ১৪৪ ধারা অমান্য করে জমিতে হামলা: জসিম উদ্দিন ও নাছিমা বেগমের মাথায় কোপ ও হাত ভঙ্গ, নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা, মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ" শিরোনাম উল্লেখ করে যে লিখাটি পোস্ট করা হয়েছে তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সাংবাদিক না হয়েও উক্ত পোস্টে মো. নাজমুল হাসান নিজেকে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে একটি সংবাদ উপস্থাপন করে আমাদের বিরুদ্ধে যেসব কথা লিখেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
সংবাদে মো. নাজমুল হাসান উল্লেখ করেছেন- বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালত কর্তৃক জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করেছি, যাহা আদৌও সত্য নয়।
প্রকৃতপক্ষে আমার দখলীয় নিজস্ব জায়গায় গত ২৩ আগস্ট রোববার সকাল থেকে সীমানা প্রাচীর (দেওয়াল) নির্মাণ কাজ শুরু করি। এর পর দিন ২৪ আগস্ট দুপুরের দিকে কুলিয়ারচর থানার এএসআই আব্দুল লতিফ (নি.) উক্ত জায়গার উপর ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি নোটিশ জারি করেন। তাৎক্ষণিক আদালতের নিষেধাজ্ঞা মান্য করে আমারা দেওয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেই। এখন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রয়েছে।
মো. নাজমুল হাসান তার সংবাদে আরো উল্লেখ করেন, স্থানীয় কতিপয় নেতার মদদে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর বসতবাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছি। হামলার একপর্যায়ে আমরা নাকি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জসিম উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগমের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছি এবং উভয়ের হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছি।
কুলিয়ারচর থানায় আমার বড় ভাই মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে তানভীরের দায়ের করা অভিযোগপত্রে এমন কোন অভিযোগ করা হয়নি এবং কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সাংবাদিকদের তোলা ছবি ও ভিডিওতে শুধু আহত নাসিমা আক্তার ছাড়া সংবাদে উল্লেখিত জসিম উদ্দিনের মাথায় কোপ কিংবা হাত ভাঙা, নাছিমা বেগমের হাত ভাঙ্গা আঘাতের কোন চিহ্ন নেই। এমন কি অন্য দুই জনের শরীরেও রক্তাক্ত আঘাতের কোন চিহ্ন নেই।
গত ২৩ আগস্ট রোববার দেশীয় মারাত্বক অস্ত্রাদী নিয়ে আমার বড় ভাই জসিম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে আমরা কোন হামলা করিনি। বরং ওই সময় আমাদের নিজস্ব দখলীয় সম্পত্তিতে আমরা সীমানা প্রচীর (দেওয়াল) নির্মাণ করা অবস্থায় বিকাল ৪ টার দিকে আমার ভাবী মোছা. নাছিমা বেগম ঝগড়া করার উদ্দেশ্যে আমাদের জায়গা থেকে বেশ কয়েকটি বাঁশ কেটে ক্ষতি করতে থাকে। এসময় আমি বাধা নিষেধ দিলে ভাবী কোড়াল দিয়ে আমাকে কোপ মারতে আসলে আমি কোড়ালটি ধরে ফেলি। কোড়াল নিয়ে আমাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কোড়ালের ঘারার আঘাতে ভাবীর মাথা ফেটে যায়। অন্যদেরকে কেউ কোন মারধর করিনি। এই জায়গা নিয়ে একাধিকবার এলাকায় সালিশ দরবার হয়েছে। শেষ সালিশে সালিশানরা সীমানা বন্টন করে খুটি গেড়ে দিয়ে গেছে। আমরা উক্ত সীমানার খুটি মেনে আমার জায়গায় দেয়াল নির্মাণ কাজ করে আসছিলাম। কিন্তু আমার ভাই জসিম উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সালিশ দরবার না মেনে উল্টো আমাদেরকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমা করে আসছে। গত ২৪ আগস্ট সোমবার কুলিয়ারচর থানার এএসআই মো. আব্দুল লতিফ বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে আমাদের জায়গার উপর ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি নোটিশ জারি করার সাথে সাথে আমরা উক্ত জায়গায় দেওয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেই। এখনও আমাদের কাজ বন্ধ রয়েছে। এখানে ১৪৪/১৪৫ ধারা ভঙ্গ করা হয়নি।
সংবাদে তানভীর আহমেদ ও আউলিয়া বেগমসহ একই পরিবারের ৪ জন মারাত্মক রক্তাক্ত আহত হয়েছেন এমন কথা উল্লেখ করে আরো লিখা হয় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জসিম উদ্দিনের মাথায় কোপ দিয়ে ও পিটিয়ে তাঁর হাত ভেঙে দেওয়া হয়। তাঁর স্ত্রী মোছা. নাছিমা বেগমকেও কুপিয়ে মাথা ফাটানো হয় এবং পিটিয়ে তাঁর হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়া তানভীর আহমেদ ও নাছিমা বেগমের বোন আউলিয়া বেগমকেও পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কুলিয়ারচর থানায় ও সাংবাদিকদের নিকট দেওয়া অভিযোগের সাথে এ লিখার কোন মিল নেই। এ লিখার আগে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদেও এসব কথা উল্লেখ নেই।
সমাজে আমাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে আমাদের প্রতিপক্ষ গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার সকালে Md Nazmul Hasan নামক ফেসবুক আইডি থেকে https://www.facebook.com/share/p/1G5nzfkaZa/ লিংক এর মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে এ সংবাদটি পোস্ট করে আমাদের মানহানি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত এ পোস্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এর সাথে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করায় এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করছি।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, গত ২৩ আগস্ট রোববার সকালে সীমানা প্রাচীর (দেওয়াল) নির্মাণ কাজ শুরু করার পর দুপুরে আমার বড় ভাই জসিম উদ্দিনের ছেলে তানভীর আহমদ বাদী হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ফৌ: কা: বি: আইনের ১৪৪/১৪৫ ধারায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কিশোরগঞ্জে একটি মোকদ্দমা দাখিল করে। যাহার সি আর মোকাদ্দমা নং- ১০৮১/২৬। উক্ত মোকাদমা দাখিলের পর বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে স্মারক নং- ২৮৩৯/২০২৬, তারিখ-২৩/০৮/২০২৬ ইং মূলে দ্বাড়িয়াকান্দি মৌজার খতিয়ান নং- সিএস- ৫৪৩ ও আর.এস- ৩৯৪, দাগ নং- সিএস- ৪০৭, আর.এস-১২৫৫, শ্রেণি- কান্দা, ১০ শতাংশ বিরোধীয় ভূমিতে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষদ্বয়ের মধ্যে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৪/১৪৫ ধারার বিধান মোতাবেক ২৪ আগস্ট সোমবার দুপুরের দিকে কুলিয়ারচর থানার কর্তব্যরত এএসআই মো. আব্দুল লতিফ (নি.) আমাদের উভয় পক্ষের মধ্যে একটি নোটিশ জারী করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয় বিরোধীয় ভূমিতে কেউ যদি জোর পূর্বক প্রবেশ করে শান্তি ভঙ্গের চেষ্টা করে তাহলে সেই পক্ষ আইনে আমলে আসিতে বাধ্য থাকিবেন। নোটিশ জারির পর থেকে বিরোধীয় ভূমিতে দেয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়। এখনো কাজ বন্ধ রয়েছে। আমাদেরকে আইনের চোখে অপরাধী বানাতেই এসব মিথ্যা প্রচার চালানো হয়েছে। ছবিতে আহত মোছা. নাছিমা বেগমসহ চার জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দি ফাঁড়িতে চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে ফাড়ির ইনচার্জ এর নির্দেশে সাব ইন্সপেক্টর মোঃ মাহমুদুল হাসানের কার্যক্রমের ফলে শৌলপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে চোরচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর এলাকার খলিফা কান্দিতে মৃত নূর হোসেন শেখের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, নূর হোসেন শেখের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জয়গুন নেসা একা বাড়িতে বসবাস করেন, কারণ তার পুত্র সন্তানেরা জীবিকার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। গত ২২ আগস্ট, জয়গুন নেসা (৬০) বাড়িতে না থাকার সুযোগে চোরচক্রের পাঁচ সদস্য শিবলু খান (৫০), সাগর (৩০), সুমন (৩২), আতাহার (৪৫) এবং রুবেল (৪২) গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা ঘরের আলমারি ভেঙে গলার হার, চেইন, কানের দুল এবং আংটি সহ আট ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৯০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির ঘটনা জানার পর, ২৩ আগস্ট জয়গুন নেসা তার পুত্রদের সাথে আলোচনা করে চিকন্দি ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে, চিকন্দি ফাঁড়ির সাব ইন্সপেক্টর মোঃ মাহমুদুল হাসান তার দলের সাথে অভিযান চালিয়ে শৌলপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে চোরচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। গ্রেফতারকৃত চোরের সদস্যরা শৌলপাড়া ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা।
চিকন্দি ফাড়ির সাব ইন্সপেক্টর মোঃ মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, "জয়গুন নেসা নামে এক নারী আমাদের চিকন্দি পুলিশ ফাঁড়িতে এসে চুরির একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করার জন্য সরজমিনে যাই।" তিনি আরও বলেন, "জয়গুন নেসার পুত্র মিজান শেখের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে একটি সূত্র ধরে আমাদের কৌশল অবলম্বন করে চোরের মূল হোতা সহ ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।" আতাহারের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে, চুরি করা টাকা ভাগ বাটোয়ারা করা হয়েছে এবং আড়াই ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের হার শিবলু খানের কাছে এক লক্ষ ৭৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আইনে বলা আছে চুরি যাওয়া মালামাল যে ক্রয় করবে, বাংলাদেশ পেনাল কোড ৪৪১ ধারায় সাত বছর কারাদণ্ড হতে পারে।" এই কারণে শিবলু খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চোরের পাঁচ সদস্যকে চিকন্দি ফাঁড়ি থেকে পালং মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শোলপাড়া ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা শিবলু খান দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছেন। এছাড়াও, শিবলু খানের একটি রাতের অন্ধকারের বাহিনী রয়েছে, যারা তাদের চুরি করা মালামাল অল্প দামে শিবলু খানের কাছে বিক্রি করে।
পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম বলেন, "চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে চিকন্দি ফাঁড়ির পুলিশ চুরির ঘটনার সাথে যারা প্রকৃত জড়িত ছিল তাদেরকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।" তিনি জানান, "চলমান নিয়মিত আইনে মামলা হয়েছে। আসামিদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৮ আগস্ট ২০২৬ : জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর ও ভাঙা দেয়ালের কষ্ট দূর করে ময়মনসিংহের নান্দাইলে ৩৬টি অসহায় ও গৃহহীন পরিবারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে আধুনিক আধাপাকা ‘স্বপ্ন বাড়ি’র চাবি। একই সঙ্গে নান্দাইল পৌরসভায় একটি নতুন উন্নয়নকৃত সড়কের উদ্বোধন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আজ নান্দাইল উপজেলায় দিনব্যাপী এক সফরে উপস্থিত থেকে এসব ঘরের চাবি হস্তান্তর ও সড়কের উদ্বোধন করেন। এর আগে, সকালে তিনি রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে নান্দাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং মোয়াজ্জেমপুর সাহেব বাড়ি জামে মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করেন।
নান্দাইলের মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘নান্দাইলের কোনো মানুষ যেন অনাহারে কিংবা আশ্রয়হীন না থাকে, সেটিই ছিল আমার মূল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। আজ ৩৬টি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করার মাধ্যমে সেই স্বপ্নের সূচনা হলো। পর্যায়ক্রমে নান্দাইলের গৃহহীন সব মানুষকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
তিনি নিজে উপস্থিত থেকে এসব ঘরের নির্মাণকাজ তদারকি করেছেন বলে জানান।
নতুন পাকা ঘর হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা। হামিদা খাতুন নামের এক উপকারভোগী বলেন, ‘আমি সন্তানদের নিয়ে ভাঙা ঘরে থাকতাম। মন্ত্রী আমাগো নতুন ঘর দিছেন। দুই হাত তুলে দোয়া করমু। হেরা অনেক বছর ক্ষমতায় থাকুক আর আমাগো এইভাবে সহযোগিতা করুক।’
মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের বাহাদুর গ্রামের সবুজ মিয়া অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, ‘দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও কষ্ট শেষে এই পাকা ঘর তাদের সন্তানদের জন্য এক নিরাপদ ভবিষ্যতের পথ খুলে দিয়েছে।’
অনুষ্ঠানে নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী নিজ এবং সরকারি উদ্যোগে গৃহহীনদের জন্য যে স্বপ্ন বাড়ির উদ্যোগ নিয়েছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। গৃহহীনদের জন্য এমন জনকল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে বলে আমি মনে করি।’
পরে, বিকেলে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী নান্দাইল পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের ভূঁইয়াপাড়া রাস্তা থেকে ভূঁইয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভায়া মামুনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ইউনিব্লক দ্বারা উন্নয়ন (০০-৩২৫ মিটার) সড়কের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি নান্দাইল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা সার ডিলারদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে রাতে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে নান্দাইল ত্যাগ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটে ৭ পদের নির্বাচনে ৪৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। শেষ দিন শুক্রবার বিকাল চারটা পর্যন্ত ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি ও পাঁচটি সদস্য পদে প্রার্থীরা এই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।
রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এ.বি.এম তৈমুর জানান, প্রায় ১৫ বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০১২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে এ বি এম তৈমুর ভাইস চেয়ারম্যান ও আহসান হাবিব সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ওই কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরপর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যনির্বাহী কমিটির এই নির্বাচনে ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, সেক্রেটারি পদে ৭ জন ও ৫টি সদস্য পদে ৩৭জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান শাহীন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি এ বি এম মোমিনুল হক, মো. আমীর হোসেন ও ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
সেক্রেটারি পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বর্তমান সেক্রেটারি ও জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান, কামরুল ইসলাম, শেখ মাহবুবুর রহমান, মো. লুৎফুল হাই ভূঞা, মো. হারুন অর রশিদ, মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. শাহ ওয়াসিম। পাঁচটি সদস্য পদে বিপরীতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৩৭ জন প্রার্থী।
রেড ক্রিসেন্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপত্তি গ্রহণ এবং একইদিন দুপুর দুইটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপত্তি নিষ্পত্তি করা হবে। ৩১ আগস্ট সকাল ১০টায় প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং একইদিন দুপুর দুইটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে মোট ভোটার ১০ হাজার ৬৪৫ জন। এর মধ্যে আজীবন সদস্য ৯ হাজার ৪৬৬ জন এবং বার্ষিক সদস্য ১ হাজার ১৭৯জন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পর নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। সবার সহযোগিতা কামনা করে প্রার্থীদের নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকার সড়কে অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের জন্য, যানজট নিরসন এবং নিরাপদ বিকল্প গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে গুলশান-২ চত্বরে গুলশান সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণজাগরণ সমাবেশ’ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত মন্তব্য করেন, তারা অটোরিকশা বা চালকদের জীবিকার বিরুদ্ধে নন। তাদের দাবি নিরাপদ সড়ক। সড়কে সব ধরনের যানবাহনের চলাচল সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত হওয়া আবশ্যক।
ওমর সাদাত আরও বলেন, রিকশার ওপর নির্ভর করে একটি দেশের পরিবহনব্যবস্থা চলতে পারে না।
বিশ্বের কোনো দেশেই এমন ধরনের পরিবহনব্যবস্থা নেই। তাই অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব চালকদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার দাবি তিনি জানান।
তিনি বলেন, দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হলো অসহনীয় যানজট ও অনিয়ন্ত্রিত পরিবহনব্যবস্থা।
অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী প্রয়োজন, কিন্তু দেশে এর ঘাটতি রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত পরিবহনব্যবস্থার কারণে বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা, এর কারণে সৃষ্ট যানজট, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে আলোচনা চললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। তারা জানান, দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাবেশ থেকে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনবাসীর পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত অটোরিকশা চলাচলের অনুমোদন দেওয়া; প্রধান, গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে অটোরিকশা চলাচল সীমিত করা; ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা; নিরাপদ বিকল্প গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা এবং অটোরিকশাচালকদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা।
সমাবেশে গুলশান সোসাইটির মহাসচিব মজিবুর রহমান মৃধা, সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী দিলানসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা পাঁচ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ