ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যন্তর মন্তর যেভাবে গণতন্ত্রের স্পন্দন মাপতে শুরু করল


যন্তর মন্তর যেভাবে গণতন্ত্রের স্পন্দন মাপতে শুরু করল

মহাকাশ অবজারভেটরি হিসেবে ১৭২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত যন্তর মন্তর, দিল্লির ঐতিহাসিক মানমন্দিরের ওপর ২০২৬ সালে সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এর পেছনে রয়েছে জেন-জি আন্দোলনের প্রভাব।

বলা হয়ে থাকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে সূর্যের রশ্মি ঘড়ির কাঁটা মেপে চলে। এখানে ভারতের কৃষক, নারী, সৈনিক, কুস্তিগীর, ছাত্র ও যুবরা বছরের পর বছর ধরে কর্মসূচি পালন করে সরকারের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।

দিল্লির কনট প্লেসের ঔপনিবেশিক আমলের সাদা ভবনগুলির উপরে যখন সূর্যের রশ্মি আরও ওপরে উঠে যায়, তখন তার ছায়া যন্তর মন্তরের লাল পাথরের ওপর গিয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: রাজস্থানে বাস খাদে পড়ে ৮ নিহত, ১৭ আহত

যদিও ওই সূর্য রশ্মি স্লোগান দেয় না, রাস্তা অবরোধ করে না, বা পুলিশের কাছে অনুমতিও চায় না, পৃথিবী তার নিজ অক্ষে ঘোরে। যন্তর মন্তরের লাল পাথরগুলো সেই গতির মাপ নিয়ে সময়কে রূপান্তরিত করে যাচ্ছে বছরের পর বছর।

তবে সম্প্রতি, এই ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর থেকে কয়েক পা দূরে, পার্লামেন্ট মার্গে সময়ের অন্য এক হিসাব নিকাশ চলতে থাকে। চাকরির দাবি এবং ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষায় কাটানো মানুষের যৌবন এখানে কাটছে।

অশোকা রোড এবং টলস্টয় মার্গের মাঝের এই সাধারণ, বাঁকানো রাস্তাটি দিল্লির কাছে গ্রেটার লন্ডনের হাইড পার্কের সমতুল্য হয়ে উঠেছে। এই স্থান এতটাই দৃশ্যমান, প্রতীকী, এবং ক্ষমতার অলিন্দের এতটাই কাছাকাছি যে একে উপেক্ষা করা অসম্ভব।

গত কয়েক মাসে, জেন-জি এই পুরোনো বাঁধানো পথে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে অনলাইনে জন্ম নেওয়া এক ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া থেকে উদ্ভূত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনের ঢেউ এই ঐতিহাসিক ভূখণ্ডে আছড়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে ছাত্রীকে ফেন্টানাইল মাদক খাইয়ে ধর্ষণ, পরে মৃত্যু

যন্তর মন্তরের দুটি ইতিহাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং গণআন্দোলন, আপাতদৃষ্টিতে আলাদা মনে হলেও, এ দুটি আদতে মানুষের স্বাভাবিক কৌতূহলের দুটি ভিন্ন প্রকাশ। সেই কৌতূহল হলো, চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা অনুধাবন করা ও তার কারণ উপলব্ধি করা।

যন্তর মন্তর শুধুমাত্র প্রতিবাদের একটি স্থান নয়। এটি স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উন্মুক্ত আর্কাইভ।

নর্মদার অববাহিকা থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষরা এখানে এসেছেন, খরা ও ঋণে জর্জরিত কৃষক, নারী সুরক্ষার দাবিতে তরুণেরা, পদকজয়ী সৈনিক ও কুস্তিগীর, কর্মচারী, শিক্ষক, চিকিৎসক এবং ছাত্রছাত্রীরাও এখানে হাজির হয়েছেন।

এখানে যেমন প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠনগুলি এসেছে, তেমনই নিঃসঙ্গ, একলা মানুষও এসেছেন, যার কাছে হয়ত নিজের দুঃখ-কষ্ট ছাড়া আর কিছুই নেই। ভিড় বাড়লে, বুঝতে হবে যে প্রতিষ্ঠান ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের আকাশে কোথাও কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলি রাবি ফিলিস্তিনিদের জলপাই ‘চুরি’র অনুমতি দিলেন

যদি তরুণেরা সেখানে প্রশ্ন নিয়ে বসে, তবে তা শুধুমাত্র কোনো মন্ত্রী, পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা বা সাংবিধানিক সংস্থার সংকট নয়, বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোথাও একটি ছন্দ পতন ঘটেছে বলেই। যখন একজন ছাত্র সেখানে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করে, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ কোথায়?’- সে শুধু সরকারের কাছেই উত্তর চাইছে না। সে রাষ্ট্রব্যবস্থার কাছে তার সময় ফেরত চাইছে।

যন্তর মন্তর কীভাবে একটি আন্দোলন কেন্দ্রে পরিণত হলো?
যন্তর মন্তরের আগে দিল্লিতে আরও বড় একটি প্রতিবাদ মঞ্চ ছিল- রাজপথের (বর্তমানে কর্তব্য পথ) নিকটবর্তী বোট ক্লাবের লন। সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন, নর্থ ও সাউথ ব্লকের কাছাকাছি হওয়ায়, ক্ষমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার এটিই ছিল অন্যতম সেরা জায়গা।

১৯৮৮ সালে এই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়, যখন কৃষক নেতা মহেন্দ্র সিং টিকাইতের নেতৃত্বে হাজার হাজার কৃষক আন্দোলনকারী এক সপ্তাহের জন্য এলাকাটি ঘিরে ফেলেন।

তারা সেখানে তাঁবু গেড়েছিলেন, রান্না করেছিলেন, গবাদি পশু এনেছিলেন, কাছেই শৌচকর্ম সেরেছিলেন এবং তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। এই প্রতিবাদের ব্যাপকতা সরকারকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনিদের জলপাই বাগানে অবৈধ ইসরায়েলি সেটেলারদের হামলায় আহত ২

১৯৬০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত, বোট ক্লাবই ছিল ভারতের গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরের মঞ্চ। ১৯৯৩ সাল নাগাদ, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর পর, ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে, প্রশাসন নীরবে রাজপথ থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে নিতে শুরু করে।

আর ঠিক সেই সময়, যন্তর মন্তর একটি মধ্যপন্থা হিসেবে সামনে উঠে আসে। এটি সংসদের কাছাকাছি, কিন্তু খুব বেশি কাছে নয়। সকলের চোখের সামনেই অথচ যার ওপর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিন্তু যন্তর মন্তর শুধুমাত্র প্রতিবাদের স্থান বা একটি প্রাচীন ভবন নয়।

লেখক সালমান রুশদি কিছুদিন আগে লিখেছেন, ‘আমার বন্ধু ও ফটোগ্রাফার সাইমন চ্যাপুট যন্তর মন্তরের একটি চমৎকার আলোকচিত্র সিরিজ তৈরি করেছেন। যখন সেগুলো একটি সীমিত সংস্করণের আর্ট বইতে সংকলিত হয়, আমি সেগুলোর সঙ্গেই একটি গল্প লিখেছিলাম। সেই অতি সীমিত সংস্করণটি ছাড়া এই গল্পটি এর আগে আর কোথাও প্রকাশিত হয়নি।’

যন্তর মন্তর কতটা আলাদা, কতটা স্বতন্ত্র?
বিখ্যাত লেখক পল লুন্ডে ‘জয়সিংহ অ্যান্ড দ্য যন্তর মন্তর’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘যে সময় ইউরোপের জেসুইট মিশনারিরা কোপারনিকাস, টাইকো ব্রাহে এবং গ্যালিলিওর মতো মহান জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধর্মদ্রোহী বলে মনে করতেন, সেই সময় সওয়াই জয়সিংহ একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ঘটাচ্ছিলেন।’

আরও পড়ুন: মঙ্গোলিয়া বিশ্বব্যাংকের আইডিএ তহবিলের দাতা, অনুমোদন ৪৮০ কোটি তুগরিক

যন্তর মন্তরে, যেখানে একসময় ‘সম্রাট জয়প্রকাশ যন্ত্র’টি পৃথিবীর মহাজাগতিক গতির রূপ পরিমাপ করত, সেখানে এখন বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব মাপছে।

জয়প্রকাশ যন্ত্র যেমন আকাশের উল্টো মানচিত্র পৃথিবীতে দেখাতে পারত, তেমনি যন্তর মন্তরের রাস্তাটি দেশের উল্টো গণতান্ত্রিক মানচিত্র তুলে ধরে, যেখানে সংবিধান জনগণকে সর্বোচ্চ বলে ঘোষণা করে, কিন্তু মতামত প্রকাশের জন্য মানুষের বহু প্রতিবন্ধকতা, অনুমতি এবং সময়সীমা অতিক্রম করতে হয়।

কর্নেল ইউনিভার্সিটির কলেজ অফ আর্কিটেকচার, আর্ট অ্যান্ড প্ল্যানিং-এর সহযোগী অধ্যাপক এমেরিটাস ব্যারি পার্লাসের লেখা ’সেলেস্টিয়াল মিরর: দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরিজ অফ জয় সিং’ বইটিতে যন্তর মন্তরের সবচেয়ে সুন্দর এবং গভীর দৃশ্যগত বিবরণ রয়েছে।

ব্যারি পার্লাস লিখেছেন, ‘যন্তর মন্তর শুধু একটি পাথরের যন্ত্র নয়। এটি বিশাল জ্যামিতিক আকারের এক সমন্বয় যা স্বর্গকে পৃথিবীতে নামিয়ে আনে। জয় সিং স্থাপত্যকে বিজ্ঞানের একটি যন্ত্রে পরিণত করেছিলেন।’

আরও পড়ুন: জাতিসংঘ মহাসচিব পদের ৭ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভেটো দিয়েছে স্থায়ী সদস্যরা

যন্তর মন্তরের সঙ্গে আন্দোলনের কী সম্পর্ক?
স্থপতি ও ইতিহাসবিদ অনীশা শেখর মুখার্জী ‘যন্তর মন্তর: মহারাজা সওয়াই জয় সিংস ল্যাবরেটরি ইন দিল্লি’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘দিল্লির যন্তর মন্তর একটি ধাঁধাঁ। এর বিশাল চিত্তাকর্ষক স্থাপত্য আজও বিস্ময় জাগায়। প্রথম দর্শনে যা বিমূর্ত ভাস্কর্য বলে মনে হয়, তা আসলে বিজ্ঞানের সেবায় সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত এক স্থাপত্য – প্রতিটি কাঠামো দেখলে খালি চোখে সময় এবং মহাজাগতিক বস্তুসমূহের অবস্থান বোঝা যায় কারণ তা পরিমাপ করার জন্য যত্নসহকারে স্থাপত্য নকশা করা হয়েছে।’

এই কারণেই যন্তর মন্তর শুধু দিল্লির একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য বা প্রতিবাদস্থল নয়, এটি ভারতের রাজনৈতিক ক্ষেত্রও বটে। এমন একটি স্থান, যেখানে দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাহীন নাগরিকরা ক্ষমতার দরজায় কড়া নেড়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেন।

যন্তর মন্তরের এই প্রতিবাদস্থলে রূপান্তিত হয়ে যাওয়া কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীর নকশার অংশ ছিল না। এটি দ্বিতীয় জীবন পেয়েছে ভারতের স্বাধীন হওয়া এবং নয়াদিল্লিতে ক্ষমতায়নের পরেই।

১৯১১ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য দিল্লিকে দেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক রাজধানী হিসেবে তৈরি করেছিল, যা কলকাতার রাজনৈতিক অস্থিরতা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং জাতীয়তাবাদী জনতার ভিড় থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে আসে।

ইতিহাস গবেষক হারলিন কাউড়ের গবেষণায়, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, বোট ক্লাব, রামলীলা ময়দান এবং যন্তর মন্তর এমন কিছু স্থান, যেগুলোকে জনগণই তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে জনসমক্ষে নিয়ে আসে। সরকারের অনুমতি, নিষেধাজ্ঞা, পুলিশি নিয়ন্ত্রণ সেই জায়গাগুলোর গুরুত্বে আরও বেশি করে আলোকপাত করে।

২০১৭ সালে, ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল পরিবেশগত ও নাগরিক উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং প্রায় চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামলীলা ময়দানকে অবস্থান ধর্মঘটের নতুন আনুষ্ঠানিক স্থান হিসেবে ঘোষণা করে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পুষ্পাঞ্জলি ঝা-র গবেষণা যন্তর মন্তরের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি পরিসংখ্যানগত চিত্র তুলে ধরে, যা জাতীয় ক্ষেত্রে এই ছোট্ট রাস্তাটির রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে।

পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার নথির উপর ভিত্তি করে তাদের সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের অগাস্টের মধ্যে যন্তর মন্তরে অন্তত ১৩,১১৮টি ধর্না এবং ৫,৪৯১টি বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

শুধুমাত্র ২০১০ সালের প্রথম আট মাসেই প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ বিভিন্ন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল।

এমনটা নয় যে প্রতিদিন নিয়মিত একটি বিশাল আন্দোলন হয়। এর অর্থ আরও বৃহত্তর, সেটি হলো, প্রায় প্রতিদিনই ভারতের কোনো না কোনো অংশ থেকে একটি ছোট জনগোষ্ঠী তাদের অভিযোগ নিয়ে রাজধানীতে পৌঁছাচ্ছিল।

অনিল সিনহা এটিকে একটি ‘গণতান্ত্রিক পরিসর’ হিসেবে দেখেন, যা রাষ্ট্র থেকে পৃথক হয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে – এমন একটি পরিসর যা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, আত্মীকৃত, রূপান্তরিত এবং বারবার পুনর্নির্মিত হয়েছে।

কোন কোন বিক্ষোভের জন্য যন্তর মন্তর স্মরণীয় হয়ে থাকবে?
ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী অঁরি লেফেব্র তার ‘রাইট টু দ্য সিটি’-তে লিখেছেন, শহর কেবল বসবাসের বা অধিকার করার কোনো বস্তু নয়, বরং সেখানে উপস্থিত থাকার, তাকে ব্যবহার করার, জীবনের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধার করাও একটি অধিকার।

ক্ষমতা সংসদ, মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং সরকারি কাঠামোর মাধ্যমে তার উপস্থিতি জানান দেয়। ক্ষমতাহীন নাগরিকরা তাদের শরীর, পোস্টার, স্লোগান এবং রাস্তায় কাটানো সময়ের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতির জানান দেন।

ডিজিটাল জগৎ এই বিনিময়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু এটি রাস্তায় সশরীরে উপস্থিত থাকার সম্পূর্ণ বিকল্প নয়।

১৯৯০-এর দশকে, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনে বড় বাঁধের চাকচিক্যময় উন্নয়নের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়া গ্রাম, আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাস্তুচ্যুতি এবং অপর্যাপ্ত পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য যন্তর মন্তরকে একটি মঞ্চে পরিণত করেছিল জনতা।

মেধা পাটকর এবং তার সহকর্মীরা প্রত্যন্ত নদী উপত্যকার ভূগোলকে সংসদের সামনে তুলে ধরেছিলেন। নর্মদার তীরের যে মানুষগুলো উন্নয়নের মানচিত্রের দাগের মাঝে পড়ে ভিটেছাড়া হচ্ছিলেন, তারাই রাজধানীর মানচিত্রে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছিলেন।

২০১১ সালে, আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন যন্তর মন্তরকে টেলিভিশন যুগের রাজনৈতিক রাজধানীতে রূপান্তরিত করেছিল। সে বছরের ৫ই এপ্রিল শুরু হওয়া এই অনশন আন্দোলনের প্রভাব সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, যার দৃশ্যমান ভাষা ছিল সাদা গান্ধী টুপি, ত্রিবর্ণ পতাকা, মোমবাতি এবং ‘আমি আন্না’ স্লোগান।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে দিল্লিতে এক তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যার পর, তরুণ-তরুণীরা ইন্ডিয়া গেট, রাইসিনা হিল এবং যন্তর মন্তরে ভিড় জমিয়েছিল। এটি কোনো একজন নেতার দ্বারা পরিচালিত সমাবেশ ছিল না; এটি ছিল নাগরিকদের ভয়, শোক, অপমান এবং ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ।

২০১৫ সালে, প্রাক্তন সৈনিকরা ‘এক পদ, এক পেনশন’ (OROP)-এর দাবিতে এখানে মাসের পর মাস অবস্থান করেছিলেন, তাদের পদক সরিয়ে রেখে।

২০১৭ সালে, তামিলনাড়ু থেকে খরা-কবলিত কৃষকেরা যন্তর মন্তরে এসে পৌঁছান এবং দাবি করেন যে তারা অন্য কৃষকদের মাথার খুলি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। তারা অর্ধনগ্ন হয়ে প্রতিবাদ করেন, ঘাস খান, দাঁত দিয়ে ইঁদুর ধরেন এবং নিজেদের দেহকে কৃষি সংকটের এক প্রকাশ্য দলিলে পরিণত করেন।

দীর্ঘস্থায়ী এই বিক্ষোভ নিকটবর্তী বাসিন্দাদের জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল। যন্তর মন্তর রোডের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন ক্রমাগত লাউডস্পিকারের ব্যবহার, যান চলাচল অবরোধ, অস্থায়ী কাঠামো, রান্না এবং রাত্রিযাপনের কারণে হওয়া শব্দদূষণ, দূষণ এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে বিঘ্ন ঘটছে।

২০১৭ সালের অক্টোবরে, ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ বন্ধ করে রামলীলা ময়দানে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেয়। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

২০১৮ সালের ২৩ জুলাই, মজদুর কিষাণ শক্তি সংগঠন বনাম ভারত সরকার মামলায় আদালত শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকার এবং বাসিন্দাদের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্যের উপর জোর দেয়।

গণতান্ত্রিক রাজধানীকে নিষেধাজ্ঞার এক স্থায়ী দুর্গে পরিণত করা যায় না, তবে মনে রাখতে হবে প্রতিবাদের স্বাধীনতাও অনির্দিষ্টকালের জন্য অন্য নাগরিকদের জীবন ধ্বংস করার লাইসেন্স দেয় না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার সাদিক কায়েম ও ফরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন আব্দুল কাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৫ এম


এবার সাদিক কায়েম ও ফরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন আব্দুল কাদের

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের অভিযোগ করেছেন, অভ্যুত্থানের পর শিবিরের সদস্য সাদিক কায়েম ও ফরহাদরা নিপীড়ন ও নির্যাতনের ভুক্তভোগী হওয়ার গল্প বলতেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, শিবিরের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, এটি সত্য; তবে সাদিক কায়েমরা এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেননি এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য কোনো উদ্যোগও নেননি। তাদের মধ্যে হল ছেড়ে দেওয়ার মতো ত্যাগের কোনো নজির নেই। বরং, তারা হলে অবস্থান করেছেন, ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী বা পদধারী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন এবং নির্যাতনকারী ছাত্রলীগের সহযোগী হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।

বুধবার বিকালে আব্দুল কাদের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে এসব কথা তুলে ধরেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, শিবিরের কর্মী মাত্র নয়, বরং সাদিক ও ফরহাদের মতো নেতৃস্থানীয় শিবিরের সদস্যরাও নিয়মিত ছাত্রলীগের মিছিল ও মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছেন, পদ গ্রহণ করেছেন এবং গেস্ট রুম ব্যবহার করেছেন। অথচ তাদের সংগঠনের কাঠামো এবং মেসে থাকার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তারা কৌশলগত কারণে হলে অবস্থান করেছেন এবং ছাত্রলীগের সংস্কৃতি চর্চা করেছেন।

তিনি আরও লেখেন, বিপরীতে অনেক শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। তারা হলে থাকতে পারেননি এবং বাহিরে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছেন; তবুও তারা ছাত্রলীগের সঙ্গে আপোষ করেননি। শত প্রতিবন্ধকতার ঊর্ধ্বে গিয়ে তারা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চালিয়ে গেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৬ এম


সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী

নেপালের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন। ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি—ইউনিফায়েড মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদীর (সিপিএন-ইউএমএল) একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার ললিতপুরে দলের কার্যালয়ে শপথ গ্রহণের পর তিনি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন শেষে বিদ্যা দেবী ২০২৩ সালের ৯ মার্চ দায়িত্ব ছাড়েন। প্রায় তিন বছর পর তিনি আবার দলীয় রাজনীতিতে ফিরছেন। ২০১৫ সালের অক্টোবরে নেপালের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে, বিদ্যা দেবী সিপিএন-ইউএমএলের সহসভাপতি ছিলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করলেও তিনি শুরুতে বাধার সম্মুখীন হন। ইউএমএল তার সদস্যপদ বাতিল করে। দলটির যুক্তি ছিল, যিনি প্রেসিডেন্টের মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে ফিরে আসা উচিত নয়।

গত বছর দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নবম বৈঠকে সাবেক প্রেসিডেন্টদের রাজনৈতিক দলের সদস্য না হওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়। পরবর্তীতে দলের অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় বলা হয়, যিনি পুরো জাতির নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাকে সাধারণ দলীয় কর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক নয়।

নির্দেশনায় বিদ্যা দেবীকে জাতির গর্ব হিসেবে সম্মান জানানোর কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তার সদস্যপদ নবায়নের প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে প্রায় ১৪ মাস পর ইউএমএল নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। সেইসাথে বিদ্যা দেবীকে জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দলের চেয়ারম্যান কে পি শর্মা ওলি একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জারি করে তার নিয়োগ আনুষ্ঠানিক করেন। দলের গঠনতন্ত্রের কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কমিটি ও দলের নেতৃত্বের হাতে থাকা বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের মধ্যে বিদ্যা দেবীর অবস্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান কে পি শর্মা ওলির পর তার স্থান। অর্থাৎ, তিনি এখন দলের নেতৃত্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

গত মার্চের নির্বাচনে ইউএমএল পরাজিত হওয়ার পর দলটির পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যা দেবীর প্রত্যাবর্তন দলের রাজনীতিতে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। দলের নেতাদের ধারণা, তার ফিরে আসায় ইউএমএল আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে তার প্রত্যাবর্তনে দলের ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। দীর্ঘদিন ধরে দলটির ওপর চেয়ারম্যান কে পি শর্মা ওলির প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

১৯৭৮ সালে সিপিএন-মালের যুব সংগঠনে কাজের মাধ্যমে বিদ্যা দেবী ভান্ডারির রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৮০ সালে তিনি বিরাটনগরের মহেন্দ্র মোরাং বহুমুখী ক্যাম্পাসের ছাত্র সংসদের কোষাধ্যক্ষ হন। ১৯৮২ সালে তৎকালীন সিপিএন-মালের কেন্দ্রীয় সদস্য মদন ভান্ডারিকে বিয়ে করেন তিনি।

১৯৯৩ সালে এক জিপ দুর্ঘটনায় মদন ভান্ডারির মৃত্যু ঘটে। একই বছর সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন বিদ্যা দেবী। কাঠমান্ডুর একটি উপনির্বাচনে তৎকালীন নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি কৃষ্ণ প্রসাদ ভট্টরাইকে হারিয়ে তিনি জয়ী হন। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে ২০১৫ সালে নেপালের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বিদ্যা দেবী ভান্ডারি। দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর, তিনি আবার সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে ফিরেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিআইজি পরিচয়ের জেরে কপাল পুড়ল অতিরিক্ত ডিআইজির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৬ এম


ডিআইজি পরিচয়ের জেরে কপাল পুড়ল অতিরিক্ত ডিআইজির

নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করার পাশাপাশি অনুমোদিত ছুটির আগেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা একটি প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয় এই প্রজ্ঞাপন।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত অবস্থায় টুটুল চক্রবর্তীর ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুই দিনের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ১৩ নভেম্বর পূর্বাহ্নে কোনো প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

ওই দিন তিনি নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। পরে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছাড়েন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে কয়েকবার রাজশাহী বিমানবন্দরে নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করায় টুটুল চক্রবর্তী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসেন। এ ঘটনায় জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও প্রদান করা হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি এবং সময় বাড়ানোর জন্যও আবেদন করেননি। এরপর অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ৭ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি ২৩ জানুয়ারি থেকে পলাতক রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এরপর গত ১৬ জুন তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশে জানতে চাওয়া হয় কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না। তবে এবারও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরে কর্তৃপক্ষ চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ বিষয়ে গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে মত দেয়।

সবশেষে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে গত ৫ অক্টোবর টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি গত ২৩ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থল থেকে পলাতক। এসব কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

টুটুল চক্রবর্তী ২০তম বিসিএসে ২০০১ সালের ৩১ মে পুলিশে যোগদান করেন। তিনি ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজির দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০২২ সালের ৩১ মে তিনি পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। চাকরি জীবনে ডিএমপির ডিসি ছাড়াও সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টুটুল চক্রবর্তী বিপিএম পদক অর্জন করেছিলেন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৯ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৮ এম


৯ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে

সময়ের স্রোত তার নিজস্ব নিয়মে বয়ে চলে। এই স্রোতের ধারায় ঘটে নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা, মনীষী ও সাধারণ মানুষের জন্ম-মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ হয় মানবসভ্যতা, গড়ে ওঠে ইতিহাস। প্রতি বছরের পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায় প্রতিটি দিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এমন অনেক ঘটনা ও ব্যক্তিত্ব, যা ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

আজ ৯ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার। চলুন ইতিহাসের পাতায় চোখ রেখে জেনে নিই—এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম ও মৃত্যু।

ঘটনাবলি

১৫১৪ - ফ্রান্সের রাজা দ্বাদশ লুই মেরি টিউডরকে বিয়ে করেন।

১৭০৮ - রাশিয়া ও সুইডেনের মধ্যকার ঐতিহাসিক ডেনিপার যুদ্ধ সমাপ্ত হয়।

১৭৭৯ - তাঁত বয়নে যন্ত্রপাতি প্রবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় ম্যান্চেস্টারে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা দাঙ্গা শুরু করে।

১৮৭৪ - বিশ্ব ডাক ব্যবস্থা চালু হয়।

১৮৯৯ - লন্ডনে প্রথম পেট্রোলচালিত মোরটরযান চলাচল শুরু হয়।

১৯১১ - চীনে রাজতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়।

১৯৪০ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জার্মানি লন্ডন শহরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে।

১৯৬২ - ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে আফ্রিকার দেশ উগান্ডা।

১৯৭৬ - মুম্বাই ও লন্ডন শহরের মধ্যে সরাসরি আন্তর্জাতিক টেলিফোন যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

১৯৯৬ - সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন।

২০০৪ - আফগানিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মত সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

২০০৬ - উত্তর কোরিয়া প্রথম পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

জন্ম

১২৫৩ - দশম চার্লস; ফ্রান্সের রাজা।

১২৬১ - ডেনিস; পর্তুগালের রাজা।

১৭৫৭ - দশম চার্লস; ফ্রান্সের রাজা।

১৮৩৫ - ক্যামিল সেন্ট-সায়েন্স; ফরাসি সুরকার ও পথপ্রদর্শক।

১৮৫২ - হারম্যান এমিল ফিসার; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান রসায়নবিদ ও অধ্যাপক।

১৮৫৩ - এমিল রো; বিশিষ্ট ফরাসী চিকিৎসক ও গবেষক।

১৮৭৪ - নিকোলাস রোয়েরিচ; রাশিয়ান প্রত্নতত্ত্ববিদ ও চিত্রশিল্পী।

১৮৭৯ - মাক্স ফন লাউয়ে; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান পদার্থবিদ ও অধ্যাপক।

১৮৯২ - ইভো আন্দ্রিচ; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সার্বীয় লেখক ও কবি।

১৯০৬ - লেয়পোলড সেডার সেনঘোর; সেনেগালের কবি, রাজনীতিবিদ ও ১ম রাষ্ট্রপতি।

১৯০৭ - জ্যাককুয়েস টাটি; ফরাসি অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯২১ - টাডেউসজ রোযেওিসজ; পোলিশ কবি ও নাট্যকার।

১৯২৭ - ফ্রান্সিস ও’ফেরেল আইরিশ; ফুটবল খেলোয়াড় ও ম্যানেজার।

১৯৩৩ - পিটার ম্যান্সফিল্ড; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী ও একাডেমিক।

১৯৩৮ - হেইঞ্জ ফিশার; অস্ট্রিয়া শিক্ষাবিদ, রাজনীতি ও ১১তম প্রেসিডেন্ট।

১৯৩৯ - জন পিলজার; খ্যাতনামা অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক ও ডকুমেন্টারি নির্মাতা।

১৯৪০ - জন লেনন; ইংরেজ গায়ক, দ্য বিটলস ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা।

১৯৪৫ - আমজাদ আলি খান; বিশিষ্ট ভারতীয় সরোদবাদক তথা শাস্ত্রীয় সংগীতজ্ঞ।

১৯৪৭ - ফ্রান্স গাল; ফরাসি গায়িকা।

১৯৫০ - জডয় উইলিয়ামস; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান অধ্যাপক ও সমাজকর্মী।

১৯৫৩ - টনি শালহোউব; আমেরিকান অভিনেতা ও প্রযোজক।

১৯৫৭ - প্রথম চার্লস; নোবেল ফ্রান্সের রাজা।

১৯৬২ - হোর্হে বুরুচাগা; প্রখ্যাত আর্জেন্টিনীয় ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৬৪ - গুইলারমো ডেল টোরো; মেক্সিক্যান আমেরিকান পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯৬৬ - ডেভিড ক্যামেরন; যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

মৃত্যু

১৫৬২ - গ্যাব্রিয়েলে ফ্যালোপিও; ইতালিয়ান শারীরস্থানবিৎ ও চিকিৎসক।

১৮৩১ - ইওয়ানিস কাপোডিস্ট্রিয়াস; রাশিয়ান বংশোদ্ভূত গ্রিক আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ।

১৯২৪ - ভালেরয় ব্রয়ুসভ; রাশিয়ান লেখক, কবি ও সমালোচক।

১৯৩৪ - লুই বারটউ; ফরাসি রাজনীতিবিদ ও ৭৮ তম প্রধানমন্ত্রী।

১৯৩৪ - আলেকজান্ডার; যুগোশ্লাভিয়ার রাজা।

১৯৪৩ - পিটার জেমান; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নেদারল্যান্ডের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।

১৯৬৭ - সিরিল চ্যরিল নরমান হিঙ্ঘলিউড; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ রসায়নবিদ ও অধ্যাপক।

১৯৬৭ - চে গুয়েভারা; বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে খ্যাতিমান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের অন্যতম।

১৯৬৭ - আন্দ্রেঁ মউরোইস; বিখ্যাত ফরাসী ইতিহাসবিদ ও জীবন কাহিনী লেখক।

১৯৭৮ - জাকুয়েস বরেল; বেলজিয়ান শিল্পী, গীতিকার ও অভিনেতা।

১৯৮১ - কাজী মোতাহার হোসেন; বাংলাদেশী পরিসংখ্যানবিদ, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।

১৯৮১ - মাজেদ আবশারার; ইহুদীবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিনী নেতা।

১৯৮৭ - উইলিয়াম পি মারফি; নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান চিকিৎসক ও অধ্যাপক।

১৯৯৫ - অ্যালেক ডগলাস-হোম; ব্রিটিশ ক্রিকেটার, রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রী।

১৯৯৯ - আখতার হামিদ খান; পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদ ও পণ্ডিত।

২০০৪ - জাক দেরিদা; আলজেরিয়ার বংশোদ্ভূত ফরাসি দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%