এস এম সাহান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
০২:০০ পি.এম
"বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬।
রোববার সকালে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় চত্বরে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, ফরিদপুরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ফিতা কেটে, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, রেঞ্জ কর্মকর্তা তাওহীদ হোসেন, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহমেদ তাবরিজ, শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন চৌধুরীসহ বিএনপি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তারা শুধু গাছ লাগানো নয়, রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন।
পরে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন। এছাড়া বৃক্ষমেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে স্টল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আয়োজকরা জানান, বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গুলশান ও যাত্রাবাড়ীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আছেন মো. খোকন (৫২), মো. আলী হাসান (৩১), ইসমাইল ওরফে কালু (২২), মো. সাব্বির হোসেন (২০), মো. ইউসুফ গাজী (৩০), মো. সাইফুল উদ্দিন (৪২), মো. শরীফ, মো. রাকিব হাসান বাবু (২৩), মো. জাবেদ (২৯), মো. জাকির (৩২), শাহিন বাবু (২৭), মিজান মৃধা (৩০), মো. সিরাজ উদ্দিন হিমেল (২৬), জোমা বেগম (২৫), ইয়াসিন আরাফাত রাফি (২১), শাহিন মিয়া (৫১), ইয়াছিন (২০), আরিফ (২৬), নাসির (৩৮), হাসান উল্লাহ কালু (৪০), মো. পলক (২২), মো. সবুজ (৩০) এবং মো. সাদ্দাম (৩৪)। একই দিনে গুলশান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পলাশ চৌধুরী (৪৮), জাহিদ শেখ (৪০), মো. পারভেজ (২৪), মো. শরিফ (৩৬), জসীম উদ্দিন (৪৫), মো. সিয়াম (২০), মো. আমিনুল ইসলাম (৩৮), মো. তোফাজ্জল (২০), মো. হানিফ (৩৬), মো. সামিউল (২৩), ইউনুস আলী (৩৫), মো. ওমর ফারুক (৩৬), মো. কামাল হাওলাদার (৩২) এবং মো. জাফর আহম্মেদ (২৮)। রবিবার (২ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শনিবার (১ আগস্ট) যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ থানা এলাকার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পরোয়ানাভুক্ত মামলার আসামি এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিয়াজ মেহেদী বলেন, রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপির নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডাকাতির অভিযোগে উজ্জ্বল (৩৫) নামের একজন যুবককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে আটকে আছে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল শনিবার রাতে শহরের ষষ্টিতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটককালে তার কাছ থেকে বিজিবির পোশাক, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি এবং দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার সকালে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উজ্জ্বল বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার গোগা গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র।
পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল ষষ্টিতলা এলাকার ওই তিনতলা ভবনে অভিযান চালায়। তখন অভিযুক্তের ফ্ল্যাট তল্লাশি করে এক সেট বিজিবির পোশাক, দুটি সচল ওয়াকিটকি, একজোড়া হ্যান্ডকাফ, দুটি চাপাতি এবং একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, উজ্জ্বল দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাহিনীর পোশাক পরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও রাস্তায় ডাকাতি করে আসছিলেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
যশোর ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান জানান, উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে এর আগে যশোরের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া ৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাইকোর্ট প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট অথবা নবায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদেশ দিয়েছে। রবিবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করে।
গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনের নিষ্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে করা হচ্ছে না, তখন জনস্বার্থে এইচআরপিবির পক্ষ থেকে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়।
শুনানির পর আদালত আদেশ প্রদান করেছে যে, ৬০ দিনের মধ্যে প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা নবায়নের পেন্ডিং আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে, আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এ তথ্য জানান।
এছাড়া প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা নবায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা বেআইনি ঘোষণা কেন করা হবে না, এবং প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, এই বিষয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
এইচআরপিবির পক্ষে রিট পিটিশনার হিসেবে যুক্ত আছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ এবং অ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম।
বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন কেবিনেট সচিব, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, আইন সচিব এবং পাসপোর্ট অফিসের ডিজিসহ মোট ১৪ জন।
মনজিল মোরসেদ আরও জানান, আদালতের এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, প্রবাসীদের যে সকল নবায়নের আবেদন পেন্ডিং রয়েছে, তা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
এছাড়া আদালত অপর একটি আদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ২১ দিনের মধ্যে একটি চিঠি ইস্যু করে দেশে বিভিন্ন হাইকমিশন ও এম্বাসিকে প্রবাসীদের দাখিল করা নতুন পাসপোর্ট বা নবায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পাসপোর্ট অফিসে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এ আন্দোলন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শুরু হয়েছিল এবং এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসন, বিরোধী মত দমন, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। দীর্ঘ আন্দোলন, সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অনুঘটক হিসেবে সরকারের পতন ঘটে এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতার সৃষ্টি হয়।
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতারা জানান, জুলাই আন্দোলনের রাষ্ট্র সংস্কার, জবাবদিহিতা, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এনসিপির জন্ম হয়। দলের আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেন এবং মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী একাধিক ছাত্রনেতা ও বিভিন্ন পেশাজীবীও দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
এনসিপি প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। রাষ্ট্র সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং নির্বাচনকে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার লক্ষ্য সামনে রেখে দলটি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে যোগ দেয় বলেছে দলটির নেতারা। জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে এনসিপি বিভিন্ন আসনে নির্বাচন করে এবং ৬টি আসনে বিজয় অর্জন করে, যা নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে গণ্য হয়।
এনসিপির সমর্থকদের দাবি অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির বহু সমন্বয়ক, ছাত্রনেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আন্দোলনকারী বর্তমানে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত আছেন। তাদের মতে, জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক রূপই এনসিপি। ফলে জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তারা অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বার্থান্বেষী মহলের একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জুলাই আন্দোলনের কর্মী এবং এনসিপির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে আন্দোলনের রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই আন্দোলন ছিল একটি সর্বস্তরের গণআন্দোলন। সেখানে নানা মতাদর্শের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাই আন্দোলনের উত্তরাধিকারকে কোনো একক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একীভূত করে দেখার সুযোগ নেই। তাদের মতে, আন্দোলনের চেতনা জাতীয় সম্পদ এবং সেটি সব গণতান্ত্রিক শক্তির জন্য প্রযোজ্য।
বিশ্ব রাজনীতিতেও গণআন্দোলনের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তির আত্মপ্রকাশের একাধিক দৃষ্টান্ত রয়েছে। ভারতে ২০১১ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর ২০১২ সালে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মনীশ সিসোদিয়া ও সঞ্জয় সিংয়ের নেতৃত্বে আম আদমি পার্টি (AAP) গঠিত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দিল্লিতে সরকার গঠন করে। পোল্যান্ডে ১৯৮০ সালের সলিডারিটি আন্দোলন কমিউনিস্ট শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC) দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে বর্ণবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯৪ সালে নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। তিউনিসিয়ার ২০১০-১১ সালের জেসমিন বিপ্লবও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি করে এবং পরবর্তী সময়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের পথ প্রশস্ত করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসে গণআন্দোলনের পর আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অংশের রাজনৈতিক দল গঠন অস্বাভাবিক নয়। তবে সেই দলকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সমালোচনা ও জনসমর্থনের পরীক্ষার মধ্য দিয়েই টিকে থাকতে হয়। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জুলাই আন্দোলন, এনসিপির ভূমিকা এবং আন্দোলনের উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী বহু ব্যক্তি বর্তমানে এনসিপির নেতৃত্ব ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তবে আন্দোলনের সকল অংশগ্রহণকারী যে এনসিপির সঙ্গে একমত বা সম্পৃক্ত, এমন দাবি সর্বজনস্বীকৃত নয়; এ বিষয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক মত ও বিশ্লেষণও বিদ্যমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ