০৫:৩৫ পি.এম
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের উপর বিশ্বের প্রথম আইন কার্যকর করা দেশ অস্ট্রেলিয়া এ দেশে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার আইন চালু করলেও, ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের প্রাথমিক পর্যায়েই বড় ধরনের দুর্বলতা ধরা পড়েছে।
ফলে, ১৬ বছরের নিচের শিশু-কিশোরদের জন্য আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে, বলছে এক গবেষণা।
সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পরামর্শ দেওয়া গবেষক দলের পরিচালিত ঐ গবেষণার তথ্যমতে, আইন চালুর পর খোলা ৫০টি পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্টের মধ্যে একটিতেও বয়সের প্রমাণ চাওয়া হয়নি। যদিও সব অ্যাকাউন্টেই বলা হয়েছিল ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ বছর।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে ত্রিপল হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন
গত ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া আইনে ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ১৬ বছরের নিচে বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খুলতে না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ কারণে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত করতে ‘যৌক্তিক ব্যবস্থা’ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাশাপাশি সরকার একাধিক পদ্ধতিতে বয়স যাচাইয়ের সুপারিশ করেছে।
তবে বিভিন্ন গবেষণা দেখাচ্ছে, অধিকাংশ ১৬ বছরের নিচে বয়সী ব্যবহারকারী এখনো এই সকল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছে। এ অবস্থায়, গত মাসে অস্ট্রেলিয়া আইন লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করেছে এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
২০২৫ সালে এক হাজারের বেশি অস্ট্রেলিয়ানের ওপর বয়স যাচাই প্রযুক্তি পরীক্ষার প্রতিষ্ঠান কেজেআরের পরিচালক অ্যান্ড্রু হ্যামন্ড রয়টার্সকে জানান, ‘আমাদের বয়স প্রমাণ করতে বলা উচিত ছিল। কিন্তু পরিস্থিতিতে আমাদের একবারও বয়স যাচাই বা কোনও বয়স নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়নি।’
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলে সম্পর্ক পুনর্গঠনের আশা জেলেনস্কির
গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্টগুলো মেটার ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউবসহ বয়সসীমার আওতাভুক্ত ১০টির মধ্যে ৯টি প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েছে।
হ্যামন্ড জানান, কিছু অ্যাকাউন্টে কিশোরদের জন্য ব্যাংকিং সার্ভিসের বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছে, যা indicates করে যে প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর সম্ভাব্য বয়স সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে।
অন্যদিকে, এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ১৬ বছর বয়স উল্লেখ করে খোলা একটি পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্টে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট দেখা গেছে।
তবে, ব্যবহারকারী যদি সরাসরি নিজের বয়স ১৬ বছরের নিচে উল্লেখ করেন তাহলে কোন প্ল্যাটফর্মই তাকে অ্যাকাউন্ট খুলতে দেয়নি। একমাত্র অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘কিক’ বয়সের প্রমাণ ছাড়া অ্যাকাউন্ট খুলতে দেয়নি।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষায় ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকার নতুন কর্মসূচি
স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, গুগল ও এক্স কোন জবাব দেয়নি।
মেটার একজন মুখপত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘পরীক্ষামূলক এই গবেষণাটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ, যদি কোনো ব্যবহারকারীর আচরণে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায় অথবা অ্যাকাউন্টটি রিপোর্ট করা হয়, তাহলে তখনই আনুষ্ঠানিক বয়স যাচাইয়ের ধাপে যাওয়ার কথা।’
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা এখনো বিশ্বাস করে যে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সক্ষমতা রয়েছে।
এদিকে গবেষণার উপদেষ্টারা জানাচ্ছেন, তারা শুরু থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে বাস্তবে শিশু-কিশোররা ভুয়া জন্মতারিখ ব্যবহার করে সহজেই নিয়ম এড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু সেই বিষয়টি মতামতের আওতায় আনা হয়নি।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে ৪ বাড়ির সামনে কাফনের কাপড়, আতঙ্ক ছড়িয়েছে
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেনের অস্ট্রেলিয়া প্রধান কোলম গ্যানন বলছেন, ‘আমরা শুরু থেকেই নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বারবার বলা হয়েছিল, এটি গবেষণার অংশ নয়। এখন দেখা যাচ্ছে, ভুয়া তথ্য দিয়ে নিয়ম ভঙ্গ করা কিশোরদের প্রধান উপায় হয়ে উঠেছে।’
অন্যদিকে যুব ডিজিটাল অধিকার বিশেষজ্ঞ আমান্ডা থার্ড রয়টার্সকে জানান, ‘শুরুতে প্ল্যাটফর্মগুলো স্বঘোষিত অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাকাউন্ট শনাক্তকরণের দিকে মনোনিবেশ করছে। বছরের মাঝামাঝি থেকে যদি আরও উন্নত বয়স অনুমান প্রযুক্তি চালু হয়, তবে ভবিষ্যতে ফলাফল আরও কার্যকর হতে পারে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন