মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
০৭:৪৭ এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নে অত্যন্ত আনন্দঘন ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘ছয়সূতি ইউনিয়ন ফ্রিজ ও টিভি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ছয়সূতি খেলার মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. সিদ্দিক মিয়া (মেম্বার), ছয়সূতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন মুর্শেদ নিজামী বাবুল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মো. আরশ মিয়া, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি এনায়েতউল্লাহ খান এবং ছয়সূতি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. হানিফ মিয়াসহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীবৃন্দ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছয়সূতি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. শাকিল মিয়া।
উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি লড়াইয়ে মাঠে নামে গাজিরচর একাদশ ও ভৈরব মর্নিং এফসি। খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই দুই দলের টানটান উত্তেজনা ও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে পুরো মাঠজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচকে ঘিরে ছয়সূতি ও এর আশেপাশের এলাকা থেকে আসা ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের মধ্যে ছিল উপচে পড়া ভিড় ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, স্থানীয় যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা এবং নতুন ফুটবল প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যেই নিয়মিতভাবে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খেলাপি ঋণ আদায়ের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি আদালতে বিচারাধীন ঋণসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা হ্রাসের জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (অল্টারনেটিভ ডিসপিউট রেজল্যুশন-এডিআর) কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির নীতিমালা জারি করেছে। এডিআরের এই কার্যক্রমে যোগ্য ও সক্ষম প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার ফলে খেলাপি ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে এবং এটি আদালতে বিচারাধীন ঋণসংক্রান্ত মামলার চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে জানায় যে, ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) জন্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তিকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, খেলাপি ঋণ আদায় এবং ঋণসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতে এডিআর পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক পূর্বে বিআরপিডি সার্কুলার নং-১১/২০২৪ এবং বিআরপিডি-২ সার্কুলার লেটার নং-০২/২০২৬ জারি করে এডিআর-এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিল। তবে দেশের আর্থিক খাতে মধ্যস্থতা ব্যবস্থার বিস্তার ঘটানোর জন্য যোগ্যতা, সক্ষমতা ও উপযুক্ততার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন ছিল। সেই জন্যই নতুন এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, এডিআর পরিচালনায় আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, পার্টনারশিপ অ্যাক্ট অথবা কোম্পানি আইনের আওতায় নিবন্ধিত হতে হবে। অন্যদিকে, হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন এবং অন্তত তিন বছরের পেশাগত অথবা ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দেউলিয়া, ঋণখেলাপি বা দুর্নীতির কারণে গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হওয়া যাবে না।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্তত পাঁচ সদস্যের একটি মধ্যস্থতাকারী প্যানেল থাকতে হবে। এই প্যানেলে অন্তত একজন হিসাববিদ ও একজন আইন বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। মধ্যস্থতাকারীদের ব্যাংকিং, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আইন, হিসাবরক্ষণ, নিরীক্ষা অথবা বিচারিক কাজে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং তারা ঋণখেলাপি বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি (পিইপি) হতে পারবেন না।
তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্ট কার্যালয়, মধ্যস্থতা কক্ষ, ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, অনলাইন শুনানির সুবিধা, সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তথ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত ব্যবস্থাপনা, গোপনীয়তা রক্ষা, আচরণবিধি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি নীতিমালা প্রণয়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আবেদন মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের স্কোরিং ম্যাট্রিক্স অনুসরণ করা হবে এবং তালিকাভুক্ত হতে ন্যূনতম ৭০ নম্বর অর্জন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৯০ দিন আগে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি ক্যালেন্ডার বছরের শেষে দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন পরিচালনা করতে পারবে এবং গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান বা নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে প্রতিদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি দফতর ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) তারিখে গুরুত্ব সহকারে আয়োজন সম্পর্কিত কিছু কর্মসূচি রয়েছে, তা দিনের শুরুতেই জেনে নেওয়া যেতে পারে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিকেল ৩টায় বুড়িগঙ্গার খোলামোড়া ঘাট থেকে ঐতিহ্যবাহী ‘নৌকা বাইচ’ প্রতিযোগিতার আয়োজন শুরু হবে। প্রতিযোগিতাটি শেষে ওয়াইজ ঘাটে গিয়ে শেষ হবে। এরপর সোয়ারি ঘাটে শতবর্ষী স্টিমার পিএস মাহমুদে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন, নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে ‘শতবর্ষের সফল ব্যক্তি স্মারক সম্মাননা প্রকাশনা ও সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামও উপস্থিত থাকবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ কেজি ৩২০ গ্রাম হেরোইন নিয়েও দুজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল এবং তার চাবিও উদ্ধার করা হয়েছে, যা মাদক পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। আটককৃতদের মধ্যে একজন কিশোর রয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটের সময় সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট মরাপাগলা গ্রামের একটি মেহগনি বাগানের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করে।
আটককৃত ব্যক্তিরা হচ্ছেন সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের শুকনাপাড়া এলাকার মো. আশরাফুল ওরফে শুকুদ্দির ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৩) এবং একই এলাকার মো. কবিরুল ইসলাম ওরফে কবিরের ছেলে মো. সিফাত আলী (১৫ বছর ১ মাস ২৫ দিন)।
জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ প্রভাব থেকে যুবসমাজসহ সাধারণ জনগণকে রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে। জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে উপপরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল হাসানের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল বুধবার সন্ধ্যায় ছোট মরাপাগলা এলাকায় অভিযান শুরু করে।
অভিযানে সাইফুল ইসলাম ও সিফাত আলীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের হেফাজত থেকে ২ কেজি ৩২০ গ্রাম অবৈধ মাদকদ্রব্য হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত লাল রঙের হিরো ব্র্যান্ডের এইচএফ-ডিলাক্স একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুবসমাজসহ সকল স্তরের মানুষের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে, এবং তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিন বা ছয় মাস পেরোনোর মধ্যে, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) সংসদীয় আসন এলাকার উন্নয়নচিত্রে যুক্ত হয়েছে একের পর এক দৃশ্যমান উন্নয়ন।
সড়ক, সেতু-কালভার্ট, খাল খনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন থেকে শুরু করে পানি, বিদ্যুৎ ও সেচব্যবস্থা, মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির-শ্মশানসহ ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোতে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। স্থানীয় জনজীবনের নানা প্রয়োজনকে সামনে রেখে এগিয়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।
১৮০ দিনে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা ৪৫০টি প্রকল্পের মধ্যে ৩২৯টির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর বাইরে সরকারি বরাদ্দে নেওয়া ২৭টি প্রকল্পের প্রতিটিই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আরও ৪৮টি প্রকল্পের কাজ চলমান; যার অর্ধেকের বেশি ইতোমধ্যে এগিয়ে গেছে। এসব প্রকল্পে গড় অগ্রগতি ৬৪ শতাংশ।
এলাকাবাসী বলছেন, সরকারের প্রথম ৬ মাসে একটি সংসদীয় এলাকার মানুষের প্রয়োজন মেটাতে এই চমক দেখিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
এ প্রসঙ্গে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, 'স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রকল্পটিকে দ্রুত বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।'
তিনি জানান, ইতোমধ্যে সংসদীয় এলাকার মসজিদ ও ঈদগাহে ৩৮টি, মাদ্রাসা ও হেফজখানায় ২৫টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। খাল ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া হয়েছে ১৯টি প্রকল্প, সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ করতে নির্মাণ করা হয়েছে ১২টি সেতু ও কালভার্ট। পানি, বিদ্যুৎ ও সেচ খাতের ৪৮টি সরকারি প্রকল্পই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। একইভাবে ভূমি ও সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে নেওয়া উদ্যোগগুলোও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ উন্নয়ন উদ্যোগ কেবল অসাধারণ প্রতিমন্ত্রীর নিজ সংসদীয় আসনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার উন্নয়নেও ১৮০ দিনের মধ্যে অনেকগুলো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তিনি নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় কাজ করছেন।
হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক জাকের হোসেন বলেন, 'হাটহাজারীতে ৬ মাসে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা বিগত ১৭ বছরেও হয়নি। ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় এখানে সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। বিশেষ করে হাটহাজারী বাস স্টেশনে যে যানজট ছিল, সেখানে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের কারণে যানজট এখন নেই বললেই চলে।'
তিনি বলেন, উপজেলায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির জন্য খাল খনন ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার করার কারণে এবার জলাবদ্ধতাও হয়নি। তিনি এখানে ৬০০ বেডের একটি হাসপাতাল করার চেষ্টা করছেন, একই সাথে ক্রীড়া ব্যবস্থার উন্নয়নে মিনি স্টেডিয়াম করারও পরিকল্পনা করছেন। এসব উন্নয়নে এলাকার মানুষজন যথেষ্ট খুশি।
জাকের হোসেন আরও বলেন, 'তিনি বিগত ২০ বছর ধরে সব সময় হাটহাজারীতে ছিলেন, তিনি জানেন কোথায় কী করতে হবে। তাই দ্রুত এত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, 'সময়ের হিসেবে ১৮০ দিন খুবই অল্প, কিন্তু মানুষের প্রতি দায়িত্বের ভার অনেক বেশি। এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমি চেষ্টা করেছি মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতি সৎ ও নিবেদিত থাকতে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি সরকার শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতিতেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।'
তিনি বলেন, এই ১৮০ দিনে যা করার পরিকল্পনা ছিল, তা বাস্তবায়নের পথেও দৃঢ়ভাবে এগিয়েছি। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ- এই চারটি ভিত্তিকে সামনে রেখে কাজ করেছি। প্রতিটি সিদ্ধান্তে ছিল একটি লক্ষ্য- মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। আমার নির্বাচনী এলাকা এবং মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ তাদের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া অনুভব করতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের এই উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহানায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ করছি, মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটছে দ্রুত। এজন্য প্রধানমন্ত্রীরকে আন্তরিক ধন্যবাদ।'
সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার আলোকে মন্ত্রণালয়ের নানা প্রকল্পের ওপর আলোকপাত করে তিনি জানান, সরকারের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গৃহীত সব কার্যক্রম ধাপে ধাপে সমন্বিত ডাটাবেইসে সংরক্ষণ ও আপডেট করা হবে, যাতে জনগণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা অ্যাপ চালু করা হয়েছে। জনগণ অ্যাপ ব্যবহার করে সব ভূমিসেবা পাচ্ছেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে করা যাচ্ছে- ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, নামজারির ফি জমা, খতিয়ান সংগ্রহ, ডিসিআর প্রতিলিপি সংগ্রহ, খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ, মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ, খতিয়ান অনুসন্ধান ও যাচাইসহ সব ধরনের সেবা মিলছে। একই সাথে হেল্পলাইন নাম্বার ১৬১২২ এর মাধ্যমেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে, হাটহাজারী-রাঙামাটি মহাসড়ক এখন সৌরবিদ্যুৎ চালিত স্মার্ট স্ট্রিট লাইটের আলোয় আরও নিরাপদ, আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছে, তেমনি আলোকিত করেছে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ককে।
হাটহাজারী পৌরসভাকে ব্যাংক বুথ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সহজ সেবাপ্রাপ্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও নাগরিক বান্ধব করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় হাটহাজারী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভার ওয়ার্ড, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, উপজেলা ও পৌরসভা প্রশাসনের মাধ্যমে ৩ লাখ ৬২ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটির আসামবস্তি এলাকায় বৃহৎ শ্মশান ঘাটে মৃতদেহ সৎকারের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলীর দুর্গম কুক্যাছড়ি খিয়াং পাড়ার people's দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলার সরকারহাট বাজার সংলগ্ন মির্জাপুর মৌজার সরকারি আনুমানিক ১ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৩ শতক সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। আল মুহসিনাত বালিকা হিফজখানার ছাত্রীদের গরম ও লোডশেডিংয়ের কষ্ট লাঘবে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চলমান কিছু প্রকল্পের কাজের মধ্যে রয়েছে- মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বিলে কৃষকদের সেচ প্রকল্প পাইপলাইন নির্মাণকাজ, ১৪ নম্বর শিকারপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বাথুয়া গ্রামে আসাদ আলী রোড থেকে নেয়ামত আলী রোড পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যক্রম, পশ্চিম চারিয়া কাজী পাড়া সন্দ্বীপ কলোনি অন্তর্গত আনিস খাল সংলগ্ন রাস্তা মেরামত, মেখল ইউনিয়ন এর হারিয়াননালা খাল খনন কর্মসূচি।
এছাড়াও রয়েছে হাটহাজারীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বউ বাজার থেকে দশতলা পর্যন্ত নালা পরিষ্কার কার্যক্রম, ফটিকা কামাল পাড়া থেকে সেন বাড়ি হয়ে দশতলার পেছনে নালা পরিষ্কার ও খাল খনন কার্যক্রম, মেখল ৫ নম্বর ওয়ার্ড ফতেহ আলী কাঞ্চন বাড়ির সড়ক মেরামত, চৌধুরীহাট জিসি টু মদুনাঘাট (দাতারাম চৌধুরী সড়ক) সংস্কার কাজ ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় সুন্দরী ছড়া পুনঃখনন, আবদুল গফুর তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও ফতেয়াবাদ-রামদাশহাট-মদুনাঘাট সড়ক মেরামত কাজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ