ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রশান্ত মহাসাগরে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন


প্রশান্ত মহাসাগরে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন

চীন প্রশান্ত মহাসাগরে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষামূলকভাবে নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

পাপুয়া নিউ গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নিউজিল্যান্ড সরকারের একটি সূত্র এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে।

পাপুয়া নিউ গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাস্টিন টকাচেঙ্কো এএফপিকে জানান, চীন এ বিষয়ে আমাকে অবহিত করেছে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, চীন আমাকে জানিয়েছে। তিনি বলেন, চীনা রাষ্ট্রদূত নিজে আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন।’

আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

নিউজিল্যান্ড সরকারের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, চীন তাদের আসন্ন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গভীরতম কূপে ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


গভীরতম কূপে ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা

তিতাস-৩১ কূপের পর, স্থলভাগে আরও তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। নতুন কূপগুলো খনন করতে হবে কুমিল্লার বাখরাবাদ, শ্রীকাইল এবং পাবনার মোবারকপুরে। জ্বালানি বিভাগের মতে, এই চারটি কূপে মিলিয়ে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত রয়েছে। জ্বালানি সংকটের সময়ে বিশেষজ্ঞরা এই গভীর অনুসন্ধান কার্যক্রমকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন।

জ্বালানি সংকটের মধ্যে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন সম্ভাবনার দিকে আগাচ্ছে সরকার। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ৩১ নম্বর কূপে দেশের অন্যতম গভীর অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। এখানে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হবে এবং ধারণা করা হচ্ছে, এই কূপে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত থাকতে পারে।

সফল হলে তিতাস-৩১ কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে। এটি দেশের স্থলভাগে সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কার্যক্রম, যা জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে গন্য হচ্ছে। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, একই প্রযুক্তি ও একই ধরনের গভীরতায় দেশের আরও কয়েকটি স্থানে কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন গ্যাসের যথেষ্ট মজুত আবিষ্কারের আশা করছে জ্বালানি বিভাগ। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিতাস-৩১ কূপের খননের কাজ শেষ হলে একই রিগ বা খননযন্ত্র কুমিল্লার বাখরাবাদে নেয়া হবে। সেখানে খনন করা হবে ৪ হাজার ৩৬০ মিটার গভীর পর্যন্ত। এ কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর পরে কুমিল্লার শ্রীকাইল এবং পাবনার মোবারকপুরে ৬ হাজার মিটার গভীর পর্যন্ত কূপ খনন করা হবে। সব মিলিয়ে তিতাসসহ চারটি গভীর অনুসন্ধান কূপে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত রয়েছে বলে জানাচ্ছেন জ্বালানি বিভাগ।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, গ্যাস অনুসন্ধান অব্যাহত রাখতে হবে, এটি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হলে যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময়ে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে যেতে হয়। তাই অনুসন্ধান কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই।

গভীর অনুসন্ধান কূপ খননকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা বলেছেন, এ ধরনের খননকাজে কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ ফারুক জানান, দেশে উচ্চচাপের (হাই প্রেসার) স্তর রয়েছে, যেখানে খনন করা অত্যন্ত কঠিন। এখন পর্যন্ত দেশে কোনো কূপে এই স্তর অতিক্রম করে খনন করা হয়নি। তাই উচ্চচাপের স্তরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খননকাজ পরিচালনা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, দেশের ইতিহাসে আগে যেভাবে গভীর কূপ খনন হয়নি, এখন সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি খুবই ইতিবাচক। তবে এ ধরনের কার্যক্রম যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

সাধারণভাবে দেশে আড়াই হাজার থেকে ৪ হাজার মিটার গভীর পর্যন্ত কূপ খনন করা হয়। এর আগে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৯৭৭ মিটার গভীরতায় কূপ খনন করা হয়েছিল ফেঞ্চুগঞ্জে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৮ জুলাই পালিত হবে ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ এম


১৮ জুলাই পালিত হবে ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালন করা হবে। ১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের ঘটনার পর, ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে এসে নেমে আসেন। সেদিনের ঘটনাবলির জন্য, সম্ভবত চারজন শহীদ হন। যা গণ-আন্দোলনের মোড় পরিবর্তন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

রবিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেছিলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, এ উপলক্ষ্যে আর্মি স্টেডিয়ামে একটি প্রতিবাদী সমাবেশ আয়োজন করা হবে। পরে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিবাদী গানও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার আক্রমণ ছিল সবচেয়ে তীব্র। দিনটি স্মরণে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

প্রদর্শনীর নাম হতে পারে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ অথবা ‘প্রতিরোধের সূচনা’। চারুকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘরের সামনের প্রাঙ্গণ বা শাহবাগ স্কয়ারের উন্মুক্ত স্থানে এই প্রদর্শনী আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে শুরু হওয়া প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ, ছাত্র-জনতা এবং অসংখ্য মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সেখানে কয়েক দিন অবরোধ কর্মসূচি চলেছিল। এই ঘটনায় সেখানে কমপক্ষে ৮০ জন শহীদ হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পল্লী উন্নয়ন দিবসে হবিগঞ্জে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ এম


পল্লী উন্নয়ন দিবসে হবিগঞ্জে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে হবিগঞ্জে আজ একটি র‌্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নিমতলা থেকে একটি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরে ওই র‌্যালির পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ্ব জিকে গউছ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মঈনুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম মুন্সী, হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার গোলাম মোস্তফা রফিক, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক, হবিগঞ্জ বিআরডিবি উপ পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, হবিগঞ্জ পৌর সভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী এবং আরও অনেকে।

সভায় বক্তারা স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সকলকে একসাথে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলী খামেনির জানাজায় ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০০ পি.এম


আলী খামেনির জানাজায় ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ স্লোগান

নিহত সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা জনসমক্ষে উপস্থিত ছিলেন। দাফন অনুষ্ঠানে শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের আহ্বানও জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়েছে।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় টানানো পোস্টার, গ্রাফিতি এবং জনতার স্লোগানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ সহজভাবে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কিছু বক্তা এবং অংশগ্রহণকারীরা খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ শ্লোগান দেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে চার মাসের বেশি সময় বিলম্বের পর ইরান খামেনি এবং তার পরিবারের আরো চার সদস্যের জন্য এক সপ্তাহব্যাপী দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের প্রথম দিন নিহত হন।

জানাজার নামাজে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। অনেক লোক সারারাত মসজিদে অবস্থান করেন, আবার অনেকেই ভোরের আগে এসে উপস্থিত হন, যাতে সকাল ৮টার নামাজে অংশ নিতে পারেন। ইরানের জাতীয় পতাকা ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত লাল পতাকা হাতে অনেক মানুষ খামেনির ছবি বহন করেন। এ সময় ভিড়ের মধ্যে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের ধ্বংস হোক’ স্লোগানও শোনা যায়।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে কিছু পোস্টার, গ্রাফিতি ও জনতার স্লোগানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে কবি মোহাম্মদ রসৌলি লাউডস্পিকারে বক্তব্য দেন। তিনি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানালে উপস্থিত জনতার একটি অংশ উল্লাস প্রকাশ করে।

২৯ বছর বয়সী মুদি দোকানের কর্মী গোলামরেজা সাবুনি বলেন, ‘আমি এখানে প্রতিবাদ জানাতে এবং প্রতিশোধের দাবি তুলতে এসেছি। তারা আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘ওরা আমাদের ইমামকে হত্যা করেছে। আমাদেরও ওদের নেতা ট্রাম্পকে হত্যা করা উচিত।’

পরে আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত খলিল শিরঘোলামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় লেখেন, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু তার চিন্তা ও আদর্শ আরো ছড়িয়ে পড়েছে।’

তিনি দাবি করেন, খামেনির মৃত্যু তার অনুসারীদের বিশ্বাস ও আদর্শকে দুর্বল করতে পারেনি। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর বলেন, খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়া মানুষ দুটি মূল বার্তা দিচ্ছেন—শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ইরানের নিহত নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া।

আলি খামেনির জানাজাকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও ইসরায়েলি হুমকির মধ্যে রবিবার ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা জনসমক্ষে উপস্থিত হন। এ সময় নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ভাই মাসুদ, মেইসাম ও মোস্তফাকে দেখা যায়। এ ছাড়া বিপ্লবী গার্ডের প্রধান জেনারেল আহমদ ভাহিদির ছবিও প্রকাশিত হয়। যুদ্ধের পর এই প্রথম তাদের জনসমক্ষে দেখা যায়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এবং কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ ও চলমান উত্তেজনার মধ্যে তাদের এই উপস্থিতি দেশের ঐক্য, প্রতিরোধের মনোভাব এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর আস্থার বার্তা দিয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি মোজতবা খামেনিকে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবাকে লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল। সে সময় মোজতবা খামেনিকেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

৯৭ বছর বয়সী শিয়া ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আলী খামেনি, তার পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়গানিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি ছিল ছোট্ট নাতনির কফিন, যা অন্য কফিনগুলোর তুলনায় অনেক ছোট ছিল।

খামেনির মরদেহ ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে নেওয়া হবে। সোমবার তেহরানের রাস্তায় তার কফিনসহ অন্যান্য কফিন নিয়ে শোকযাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উপলক্ষে অনেক সড়ক ও জনসাধারণের কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাকে দাফনের মাধ্যমে শোকযাত্রা শেষ হবে।

শনিবার ও রবিবারের অনুষ্ঠানে কত মানুষ অংশ নিয়েছেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে ইরানের বিভিন্ন শহরেও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দাফন অনুষ্ঠান ছিল জাতীয় ঐক্যের একটি প্রদর্শন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ইরান আংশিক নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবানন-সংক্রান্ত আঞ্চলিক ইস্যুতেও দুই পক্ষের মতপার্থক্য রয়েছে।

রবিবার মার্কিন নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক সংস্থা জানায়, গত ৭২ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৭০টি জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে শনিবারেই ১৮টি জাহাজ চলাচল করেছে।

সংস্থাটি আরো জানায়, ওমান ও ইরানের কাছাকাছি নৌপথে চলাচল স্থিতিশীল থাকলেও তা এখনও যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় কম। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে এবং মাইন অপসারণ ও জরিপ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%