ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েন


বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রাম জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার উদ্দেশ্যে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশন বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা

আইএসপিআর জানায়, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ এবং বাঁশখালী এই ৪টি উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, এ সকল এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি মোতায়েন করেছে।

এছাড়া, ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলস্বরূপ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, হাটহাজারী এবং ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওই উপজেলাগুলোতে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এই অঞ্চলগুলোতে আটকে পড়া মানুষদের জন্য নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার (Search and Rescue - SAR) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উদ্ধার অভিযান এবং ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাদুর্গত এলাকায় ৩টি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বরাবরের মতোই দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বদ্ধপরিকর। দুর্গত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: বিজলী ক্যাবলস লিমিটেডের পুরস্কার পেলেন, নারায়ণগঞ্জের রনি মল্লিক ও নবী হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এমপির গাড়ি ভাঙচুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৭ পি.এম


জামালপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এমপির গাড়ি ভাঙচুর

জামালপুরের ইসলামপুরে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।এরই মধ্যে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের গাড়ি ভাঙচুর হয়ে যায়।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের থানার মোড় এলাকার উপজেলা ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনার মধ্যে কোনো হতাহতের খবর জানানো হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা ডাকবাংলোর দ্বিতীয় তলায় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব অবস্থান করছিলেন। সেই সময় নিচে থাকা তাদের সমর্থকদের মধ্যে হঠাৎ করে একটি বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডাটি সংঘর্ষে পরিণত হয়। সংঘর্ষের কারণে এমপির গাড়িসহ তিনটি গাড়ি এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, ‘নতুন ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করার সময়ে একদল দুষ্কৃতকারী আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

তবে এ বিষয়টি নিয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘তিনটি গাড়ি এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শনিবার রংপুরে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


শনিবার রংপুরে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধ করা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নসহ চার দফা দাবিতে আগামীকাল রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ আয়োজন করবে ১১ দলীয় জোট। আয়োজকরা জানিয়েছেন, সমাবেশকে ঘিরে সব শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। তবে বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না। তাই সারাদেশের মতো রংপুরেও চার দফা দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করেছে ১১ দলীয় জোট।

মাওলানা আব্দুল হালিম আরও উল্লেখ করেন, সমাবেশে উত্তরাঞ্চলের দুঃখ দুর্দশার পাশাপাশি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনসহ ৪ দফা দাবি তুলে ধরা হবে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে।

শনিবার রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। এছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেবেন।

সমাবেশে বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে অন্তত ৫ লাখ নেতাকর্মীর অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। সংবাদ সম্মেলনে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানীসহ ১১ দলের জেলা ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনগণের জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ পি.এম


জনগণের জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী লেখেন, জনমিতিক সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের শক্তিশালীকরণ এবং নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি লেখেন, আমাদের উন্নয়ন-অভিযাত্রার অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণদের সম্ভাবনাকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করা। সে লক্ষ্যে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনাকে সমন্বিত করে সরকার বহুমাত্রিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আমি দেশবাসী, বিশেষ করে নবীন প্রজন্মকে দিবসটির চেতনা ধারণ ও বাস্তবায়নে সক্রিয় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানাই।

‘এ বছরের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ আমাদের জাতীয় উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন একটি প্রজন্মের ওপর, যারা হবে শিক্ষিত, দক্ষ, প্রযুক্তিবান্ধব, সুস্থ, মানবিক ও উদ্ভাবনী। তরুণদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বিকাশে রাষ্ট্রকে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা লাভ করবে এবং নিজেদের ইচ্ছা, সক্ষমতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সুখী পরিবার গড়ে তুলতে পারবে।

আজকের তরুণরাই তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির প্রধান শক্তি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যেখানে প্রত্যেক তরুণ-তরুণী যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখবে এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

‘আমরা বিশ্বাস করি, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত হলে তরুণরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে এবং দায়িত্বশীল পরিবার গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও সচেতন ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান জানান, একটি উন্নত জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো সুস্থ জনগোষ্ঠী। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার সবার জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করা, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এ সমন্বিত প্রচেষ্টাই ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি সুদৃঢ় করবে।

‘তবে বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব এবং অপুষ্টির মতো চ্যালেঞ্জ এখনো আমাদের তরুণ প্রজন্মের বিকাশ ও অগ্রযাত্রার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। এসব সমস্যা শুধু একজন কিশোরী বা একটি পরিবারের নয়; এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার ধারাবাহিকতা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতার ওপর। এ কারণে সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসম্মত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, পুষ্টি উন্নয়ন এবং জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও সেবা জোরদারে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে,’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও লেখেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, প্রত্যেক তরুণ-তরুণী যদি সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে ওঠার সমান সুযোগ পায়, তবে তারাই আগামী দিনের সম্ভাবনাময়, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে প্রত্যেক তরুণের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা বাস্তবে বিকশিত হবে এবং একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমি বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজেই কি ডুবছে মার্কিনি বিশ্ব আধিপত্যের জাহাজ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ পি.এম


হরমুজেই কি ডুবছে মার্কিনি বিশ্ব আধিপত্যের জাহাজ?


মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি প্রশ্ন এখন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে—যুদ্ধবাজ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবিরাম যুদ্ধনীতি কি শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই এমন এক কৌশলগত ফাঁদে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তার দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক আধিপত্য ও একক সুপার পাওয়ার হিসেবে থাকার সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে?

ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পরিকল্পনা ছিল দ্রুত, স্বল্পমেয়াদি এবং সিদ্ধান্তমূলক। ধারণা করা হয়েছিল, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অচল করে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধের শেষ অধ্যায় রচনা করা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা যে কাগজের হিসাব মেনে চলে না, তার প্রমাণ মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত।

যে যুদ্ধকে কেউ কেউ এক থেকে দুই সপ্তাহের অভিযানে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে কল্পনা করেছিলেন, তা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নেয়। ইরান প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং দেখিয়ে দেয় যে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য আগের মতো নেই। এই প্রতিরোধ শুধু সামরিক হিসাব-নিকাশই বদলে দেয়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের ধারণাকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে জেতা বা হারার বিষয় নয়; যুদ্ধ মানে অর্থনীতি, জ্বালানি, কূটনীতি এবং জোট রাজনীতিরও লড়াই। আর এই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালী—যে সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ পরিবাহিত হয়। হরমুজে অস্থিতিশীলতা মানেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—তারা কি এমন এক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছেন, যার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য বহন করা তাদের পক্ষেও কঠিন হয়ে পড়বে?

এদিকে ইউরোপ কিংবা ন্যাটো ভুক্ত সব দেশও যে ওয়াশিংটনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিঃশর্তভাবে একমত নয়, তার ইঙ্গিত ইতোমধ্যেই স্পষ্ট। ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের সামরিক জড়িয়ে পড়া নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধ শুরুর সময় থেকে স্পেন ইতালি এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রকাশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের প্রতি হামলা কে সমর্থন করেনি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের সমর্থন চাইলেও সেই সমর্থন তো দেয়নি বরং ক্ষেত্র বিশেষে কোন কোন রাষ্ট্র তাদের আকাশ সীমা ও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দেয়নি। 

 
আবার সম্প্রতি তুরস্কের আঙ্কারায় শেষ হওয়া ন্যাটো সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি প্রকাশ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের সহযাত্রী হতে অস্বীকার করেছেন। তিনি তার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি মেনে দেশ পরিচালনা করছেন এমন ধারণাও প্রকাশ করেছেন তার এই সাম্প্রতিক স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি কিংবা কূটনৈতিক চিন্তা হয়তো অনেক ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধানের মনেই বিদ্যমান। সেই কারনে একই সাথে ইউরোপের আরো কয়েকটি রাষ্ট্র কিংবা ন্যাটো ভুক্ত বেশ কিছু রাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে বিরক্তি প্রকাশ করছেন। কারণ ইউরোপ খুব ভালোভাবেই জানে, বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হলে তার অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব পড়বে ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। সেক্ষেত্রে ন্যাটো যুদ্ধে না জড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ইরানের হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ব্যাপক প্রতিরোধের ধ্বংসলীলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাবে এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মিত্র রাষ্ট্রগুলোতে ক্রমাগত ইরানি হামলায় মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের ফলে তাদেরকে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে বিদায় নিতে বাধ্য হতে হবে এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

আরেকটি বাস্তবতা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে—আজকের বিশ্ব আর একমেরুকেন্দ্রিক নয়। চীন ও রাশিয়ার উত্থান, ব্রিকসের সম্প্রসারণ এবং ডলারের বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার আলোচনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত চাপ আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চীন ও রাশিয়ার বৃহৎ স্বার্থ বিদ্যমান এবং সর্বশেষ ইরানের উপর হামলার সময় চীন রাশিয়া সহ বহির্বিশ্বগামী একটি রেল সেতুতে হামলা মূলত পরোক্ষভাবে চীন এবং রাশিয়ার স্বার্থেই হামলা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে পরাশক্তি চীন এবং রাশিয়া এতদিন গোপনে কিংবা নীরবে ইরানকে সমর্থন যুগিয়ে আসছিল তারা যে প্রকাশ্যে যুদ্ধ শুরু করবে না সেই গ্যারান্টি দেবে কে?

প্রশ্ন হচ্ছে, যদি হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তার ইচ্ছামতো প্রভাব বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কি তা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করবে? একক পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার দীর্ঘদিনের অবস্থান কি তখন নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে?

ইতিহাস বলে, সাম্রাজ্যগুলো অনেক সময় বাইরের শত্রুর আক্রমণে নয়, বরং নিজেদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, ভুল কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের বোঝায় দুর্বল হয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটও সেই পুরোনো ইতিহাসের নতুন সংস্করণ হয়ে উঠবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

তবে একটি বিষয় এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই—হরমুজ প্রণালী কেবল জ্বালানি পরিবহনের পথ নয়; এটি আজ বৈশ্বিক ক্ষমতার রাজনীতির এক বিস্ফোরণবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আর সেই বিস্ফোরণবিন্দুতেই হয়তো নির্ধারিত হবে আগামী বিশ্বের ক্ষমতার নতুন মানচিত্র। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিশ্ব আধিপত্যের ক্ষমতা টিকে থাকবে নাকি ইরানের শক্তিশালী প্রতিরোধের কারণে ধ্বংসের মাধ্যমে নতুন বিশ্ব পরাশক্তি কিংবা বহুমেরু ভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থা চালু হবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%