১০:১১ পি.এম
ইসরাইলে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিভিন্ন দলের নেতারা বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন, যেখানে বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হবে।
এদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ তিনি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। এ তথ্যটি এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন লাভ করেছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩টি আসন পেয়েছে, যার মধ্যে লিকুদ পার্টির আসন সংখ্যা ২৭টি।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ সদর দফতর সোচিতে স্থানান্তরের প্রস্তাব রাশিয়ার বহাল
১২০ আসনের পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনি আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর জোট রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। এর ফলে, সরকার গঠনে তারা সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সরকার গঠন প্রশ্নে আরব দলগুলো ইতিমধ্যেই আইজেনকোটকে সমর্থন জানিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিরোধী দলগুলোর মধ্যে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। হার্জলিয়ায় এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আইজেনকোটের দল ইয়াশার জানিয়েছে, তথাকথিত ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর নেতারা জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা করবেন।
এদিকে, নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। গত সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় দলের নেতা হিসেবে পরবর্তী জোট সরকারের নেতৃত্ব তাঁরই পাওয়ার অধিকার।
লিকুদ পার্টির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, ‘ইহুদি জনগোষ্ঠীর স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ লিকুদকে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে এবং আমাকে পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছে।’
আরও পড়ুন: ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের: ট্রাম্প
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অংশীদারদের পাশাপাশি এমন যেকোনো দলের সঙ্গে একটি বৃহত্তর সরকার গঠন করতে চাই, যারা যোগ দিতে আগ্রহী এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না।’
তবে, আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নেতানিয়াহু নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এসব দল সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার পর ইসরাইলি আরব দলগুলোর নেতারা সর্বসম্মতভাবে ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তবে তারা ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থি সংগঠন হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করেননি।
আরব দলগুলোর মধ্যে রা'আম পার্টির নেতা ইসরাইলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, অন্য দলগুলোর নেতারা এই সংজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আরও পড়ুন: নর্থ ক্যারোলিনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেট আসন ছিনিয়ে নিলেন ডেমোক্র্যাট কুপার
এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই তালিকার নেতারা অভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছিলেন। তাঁদের ভাষ্য, তাঁরা একটি ‘বর্ণবাদী’ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন