বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২২ এম
মদিনার মসজিদে নববীর স্থাপত্য ও আধুনিক প্রকৌশল ব্যবস্থার একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে বিশাল আকারের ভাঁজযোগ্য ছাতাগুলো। এই ছাতাগুলো নান্দনিক নকশা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মিত, যা মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের তীব্র রোদ, বৃষ্টি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার হাত থেকে সুরক্ষা প্রদান করছে। একই সঙ্গে, মসজিদের চারপাশের প্রাঙ্গণে ইবাদত ও চলাচলের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, মসজিদে নববীর চারপাশে মোট ২৫০টি ভাঁজযোগ্য ছাতা স্থাপন করা হয়েছে। এই ছাতাগুলোর সম্মিলিত আচ্ছাদিত এলাকা এক লাখ ৪৩ হাজার বর্গমিটারের বেশি। প্রতিটি ছাতার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ২৫.৫ মিটার, উচ্চতা প্রায় ২২ মিটার এবং ওজন প্রায় ৪০ টন। এসব ছাতার নিচে একসঙ্গে দুই লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি মুসল্লির স্থান সংকুলান সম্ভব।
ছাতাগুলো শুধু রোদ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই নয়, বরং বৃষ্টির সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ প্রকৌশলগত নকশায় তৈরি হওয়ায় এগুলো মুসল্লিদের সরাসরি বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি, বাতাস, বৃষ্টি ও অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে পুরো ব্যবস্থা।
ছাতার সঙ্গে সমন্বিত রয়েছে আধুনিক পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, যা মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণে পানি জমে থাকা এবং মেঝে পিচ্ছিল হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ছাতাগুলো বেশ আধুনিক। বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের মাধ্যমে এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়। সূর্যোদয়ের সময় ছাতাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং সূর্যাস্তের আগে বন্ধ করা হয়।
মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ছাতাগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত শীতলীকরণব্যবস্থাও। ছাতার পাশ বরাবর স্থাপন করা হয়েছে ৪৩৬টি মিস্ট ফ্যান। প্রতিটি ফ্যানে রয়েছে পরিশোধিত পানি ছিটানোর জন্য ১৬টি করে নজল। পাশাপাশি, পুরো ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছে এক হাজারেরও বেশি আলোক ইউনিট। এসব প্রযুক্তি প্রাঙ্গণের পরিবেশকে তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক রাখতে সহায়তা করে।
ছাতাগুলোর নির্মাণশৈলীতেও আধুনিক প্রকৌশল ও ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যের অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে। এগুলোর কাঠামোতে ফাইবারগ্লাস ও কার্বন ফাইবার দিয়ে শক্তিশালী করা ধাতব সাপোর্ট এবং হাতল ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু অংশে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মোজাইক অলংকরণ। এ ছাড়া আলংকারিক উপাদানে ব্যবহার করা হয়েছে স্বর্ণের প্রলেপযুক্ত তামা। ফলে স্থাপনার নান্দনিক সৌন্দর্য বজায় রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতাও নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো ছাতা ব্যবস্থাটি পরিচালিত হয় একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতির সঙ্গে আমলাতন্ত্রের সক্ষমতা মিলছে না। দক্ষতা ও গতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে কিছু কর্মকর্তা সমস্যায় পড়ছেন। পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ‘পাওয়ার হাউস’ খ্যাত অতিরিক্ত সচিব পদে দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় কাজে গতি আনতে অতিরিক্ত সচিব পদে বড় ধরনের পদোন্নতি আসছে।
এই স্তরে পদোন্নতির জন্য ৩ শতাধিক যুগ্মসচিবের নথি বর্তমানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বাছাই কমিটি তথা সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) কাছে জমা পড়েছে। ইতোমধ্যে এসএসবি কর্মকর্তারা অতীত পোস্টিং রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে শর্ট লিস্ট করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দ্রুতই এই পদোন্নতি প্রদান করা হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অন্যান্য বিষয় যেন দক্ষতা ও যোগ্যতাকে ছাপিয়ে না যায়। যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। অতীতের মতো উপযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বঞ্চিত হলে সরকারের কাজে প্রত্যাশিত গতি ফিরবে না।
তারেক রহমান, নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরে যে ঘোষণা করেছিলেন, ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’; প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচিবালয়ে অফিস করছেন তিনি। এসএসবি প্রধান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব নাসিমুল গনি ইতোমধ্যে কয়েকটি সভা করে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির তথ্য যাচাই-বাছাই করেছেন। আরো কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জিও জারি করবে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই পদোন্নতির কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এসএসবি মাধ্যমে সুপারিশ আসবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, মেধাবী ও যোগ্যরা পদোন্নতি পাবেন।
জানা গেছে, প্রশাসনে নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে ২১ বিসিএস ব্যাচকে সামনে রেখে এ পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। ২০০৩ সালের ৩১ মে যোগদান করা এই ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রশাসন ক্যাডারে ২ শতাধিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। বর্তমানে ২১ ব্যাচ থেকে ১৭০ জনের তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০ ব্যাচসহ অন্যান্য লেফট আউট হিসেবে আরো দেড় শতাধিক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে ২০ ব্যাচের কর্মকর্তাদের সংখ্যা বেশি। সর্বশেষ গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ বছরের জানুয়ারি মাসে নির্বাচনের আগে অতিরিক্ত সচিব পদে ১১৮ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। এতে ২০ ব্যাচ থেকে প্রায় ১৮০ কর্মকর্তা বঞ্চিত হন।
বিগত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক থাকার কারণে অনেক কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যেই বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো ২০ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতির আশায় রয়েছেন। সব মিলিয়ে ৩ শতাধিক কর্মকর্তার চাকরির অতীত ও বর্তমান তথ্য যাচাই-বাছাই করছে এসএসবি। কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের সার্বিক তথ্য-উপাত্ত বা ‘ডসিয়ার’ বিশ্লেষণ করছে সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি।
‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সচিব পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’ অনুযায়ী অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য যুগ্মসচিব হিসেবে অন্তত দুই বছরসহ মোট চাকরির মেয়াদ ২২ বছর হতে হবে। ২০২২ সালে যুগ্মসচিব পদোন্নতি পান ২১ ব্যাচের কর্মকর্তারা।
এদিকে পদোন্নতির আশায় গত কয়েকদিন ধরে পদোন্নতিপ্রত্যাশী কর্মকর্তারা এসএসবি সদস্যদের কাছে গিয়ে সালাম বিনিময় করে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন। বিশেষ করে জনপ্রশাসনে এ ভিড় একটু বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, সচিবের কাছে যাচ্ছেন, দোয়া চাচ্ছেন। কিছু কর্মকর্তা অতীত জীবনের সরকারের দলের জন্য রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরছেন। বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকর্তারও দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। যাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রয়েছে, তারাও ঘুরছেন। কারো কারো বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলার পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি থেকে নাকচ হলেও পদোন্নতির জন্য সিনিয়র কর্মকর্তার দ্বারে দ্বারে ঘুরতে দেখা গেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অতিরিক্ত সচিবের বর্তমান পদ ৪১৮টি। সর্বশেষ পদোন্নতির পর অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ শতাধিক। এর মধ্যে অনেকেই অবসরে যাচ্ছেন এবং পদের সংখ্যা কমে আসছে। অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদের চেয়ে প্রশাসনে কর্মকর্তার সংখ্যা বেশি রাখা হয়, কিন্তু বর্তমানে সংখ্যা কম রয়েছে। এজন্য সচিবালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উইংয়ে শূন্যতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া মন্তব্য করেছেন, যাচাই-বাছাইয়ের নামে দলীয় বিবেচনা যেন না করা হয়। প্রশাসনে মেধার ঘাটতি হলে দেশ সংকটে পড়বে। প্রশাসনে পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে নিরপেক্ষ আচরণ শুরু করতে হবে। কে ডিসি ছিল, কার পিএস ছিল এসব না দেখে ওই ব্যক্তি কতটা প্রফেশনাল, কতটা দক্ষ, এসবই দেখা উচিত। পদোন্নতি না পেলে কষ্টটা কেমন হয়, নিশ্চয়ই এসএসবি বোর্ডের অনেকেই জানেন। কোনো ব্যাচমেটের কথা শুনে বা কারও ব্যক্তিগত আক্রোশ যেন কোনো প্রার্থীর ওপর না আসে।
বিনা কারণে কাউকে যেন বঞ্চিত করা না হয়। সৎ, কর্মদক্ষ, যোগ্য ও মেধাবীরা যাতে কোনোভাবে বঞ্চিত না হন, সেই নিশ্চয়তা সরকারকেই দিতে হবে। পদোন্নতিতে কর্মকর্তারা আরো উৎসাহিত হবেন কাজে, বলেন তিনি।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি খাল দখলমুক্ত করা এবং খাস সম্পত্তি রক্ষা করার পাশাপাশি ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন। একাধিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সরকারি খাল ও খাসজমি উদ্ধার করার ফলে সুবর্ণচরে তিনি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। তাঁর এসব পদক্ষেপের ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দখলকৃত খাল, সরকারি খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভূমি-সংক্রান্ত অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত অভিযান ও তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এই কর্মকর্তা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ভূমি-সংক্রান্ত ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের এই সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশেষ করে, প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে সাধারণ বাসিন্দারা সুফল পেতে শুরু করেছেন। সচেতন মহল মনে করছে, ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে জনগণের প্রশাসনিক আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
অভিযানের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন মন্তব্য করেন, "সরকারি সম্পদ ও খাল উদ্ধারে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে।" ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহায়তায় বিপুল পরিমাণ সরকারি খাল দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে সুবর্ণচরে জলাবদ্ধতা আর আগের মতো সৃষ্টি হয় না।
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান জানান, "সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আমার প্রশাসনিক নির্দেশে সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করছেন এসিল্যান্ড ছেনমং রাখাইন।" দখলকৃত সরকারি খাল উদ্ধারসহ যেকোনো অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের মধ্যে চিয়া সিডের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ, কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদ্স্বাস্থ্য উন্নত করার জন্য অনেকেই নিয়মিত চিয়া সিড গ্রহণ করেন। এই বীজে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে, এই উপকারী বীজটি সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে খালি পেটে অথবা ভুলভাবে চিয়া সিড গ্রহণ করলে কিছু মানুষের শারীরিক অস্বস্তি হতে পারে।
জানুন, কোন পরিস্থিতিতে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত-
১. যাদের গ্যাস্ট্রিক ও পেট ফাঁপার সমস্যা রয়েছে: চিয়া সিডে প্রচুর ফাইবার থাকে। হঠাৎ করে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে পেটে গ্যাস, অস্বস্তি, পেট ফাঁপা কিংবা পেটব্যথা হতে পারে। যাদের আগে থেকেই হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অল্প পরিমাণে শুরু করা উচিত।
২. যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে: চিয়া সিডের ফাইবার মল নরম করতে এবং মলত্যাগ সহজ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে, পর্যাপ্ত পানি ছাড়া চিয়া সিড খেলে উল্টো কোষ্ঠকাঠিন্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই শুকনো চিয়া সিড না খেয়ে যথেষ্ট পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া উচিত।
৩. যাদের অন্ত্রের সংকোচন বা ব্লকেজের ঝুঁকি রয়েছে: যাদের অন্ত্রে সংকীর্ণতা, অন্ত্রের বাধা বা খাবার চলাচলে সমস্যা রয়েছে, তাদের চিয়া সিড খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া অপরিহার্য। কারণ এটি পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে।
৪. যাদের রক্তচাপ কম থাকে: চিয়া সিড রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে, যাদের আগে থেকেই রক্তচাপ কম অথবা যারা রক্তচাপ কমানোর ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।
৫. যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে: চিয়া সিডে থাকা ফাইবার খাবারের পর রক্তে শর্করা বৃদ্ধির গতি কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে, যারা ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত চিয়া সিড যুক্ত করলে রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
৬. যাদের চিয়া সিডে অ্যালার্জি রয়েছে: চিয়া সিড খাওয়ার পর চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি, ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে আর খাওয়া উচিত নয়। শ্বাসকষ্ট বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
৭. যাদের গিলতে সমস্যা হয়: চিয়া সিড পানি পেলে দ্রুত ফুলে জেলির মতো হয়ে যায়। তাই শুকনো চিয়া সিড সরাসরি খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে যাদের খাবার গিলতে সমস্যা বা খাদ্যনালিতে সংকীর্ণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি শ্বাসনালি বা খাদ্যনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাহলে কীভাবে খাবেন চিয়া সিড?
১. প্রথমে ১ চা-চামচ চিয়া সিড দিয়ে শুরু করতে পারেন।
২. এক গ্লাস পানিতে অন্তত ২০–৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৪. প্রথম থেকেই বেশি পরিমাণে খাবেন না।
৫. পেটে অস্বস্তি হলে খাওয়া বন্ধ করে কারণ বুঝতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের তিনটি আঞ্চলিক ব্লাড ব্যাংকের রক্ত ও প্লাজমা সংরক্ষণের হিমাগারের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এই হামলায় হ্যাকাররা দূর থেকে এসব হিমাগারের তাপমাত্রা ও ডিফ্রস্টিং সেটিংস পরিবর্তন করে অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায়। এর ফলে সংরক্ষিত রক্তের নমুনা ও প্লাজমা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। তবে, আগাম সতর্কসংকেত পাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সময়মতো ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে কোনো রক্তের পণ্য নষ্ট হয়নি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং দেশটির জাতীয় রক্ত সেবা সংস্থা ফ্রেঞ্চ ব্লাড এস্টাবলিশমেন্ট (ইএফএস) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। ইন্ডিয়া টুডের ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
যেভাবে হামলা চালানো হয়
ইএফএসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ নভেম্বর রাতের দিকে এই সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। হ্যাকাররা সরাসরি ব্লাড ব্যাংকের কম্পিউটার ব্যবস্থায় প্রবেশ করেনি। বরং রেফ্রিজারেশন সরঞ্জাম সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হামলা চালিয়েছে।
এর ফলে তিনটি স্থাপনার হিমাগারে তাপমাত্রা ও বরফ গলানোর নির্ধারিত সীমা পরিবর্তন করা হয়। ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যমের বরাতে কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাপমাত্রা ১১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ইএফএস নির্দিষ্ট কোনো তাপমাত্রার তথ্য নিশ্চিত করেনি।
হামলার বিষয়টি নজরদারি ও অ্যালার্ম ব্যবস্থায় ধরা পড়ার পর কর্মীরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিছু যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা হয়, আবার কিছু যন্ত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংরক্ষিত রক্তের উপাদান ও নমুনা সতর্কতামূলকভাবে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রোগীদের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি?
ইএফএস জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো রক্তের পণ্য বা নমুনা নষ্ট হয়নি। রোগীদের স্বাস্থ্যের ওপরও কোনো প্রভাব পড়েনি। রক্ত সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্ত হিমাগারগুলোর দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে।
ইউরোপজুড়ে রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থায় সাইবার হামলা
ফ্রান্সের ব্লাড ব্যাংকে হামলার ঘটনাটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সাইবার হামলার সঙ্গে একই সময়ে ঘটেছে। বেলজিয়াম, সুইডেন, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে হ্যাকাররা সুপারমার্কেটের ফ্রিজ ও ফ্রিজারের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় প্রবেশ করে তাপমাত্রা পরিবর্তন করে দিয়েছে।
এর ফলে বিপুল পরিমাণ হিমায়িত ও তাজা খাবার নষ্ট হয়েছে। এর আগে অক্টোবরে ফ্রান্সের কয়েক শ সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থাও একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত পুরোনো সফটওয়্যার ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই পরিচালিত দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এ ধরনের হামলার ঝুঁকি বাড়ায়। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ