০৩:৫৬ পি.এম
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামে প্রায় আড়াই বছরেও কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।
সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ একসঙ্গে শুরু করার কথা ছিল। ২০২৪ সালের ১৪ মে থেকে সেতুর কাজ শুরু হয়।
এরপর গড়িয়ে গেছে প্রায় আড়াই বছর এবং মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। অথচ কালভার্টের কাজ শুরুই হয়নি।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত
এটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছে, কালভার্টটি নির্মিত হলে গতিয়াশাম গ্রামের সঙ্গে আশপাশের চার গ্রামের যোগাযোগ সহজ হয়ে উঠবে। কিন্তু এখন কাজ আটকে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে পাঁচ গ্রামের প্রায় ছয় হাজার মানুষ। বিশেষ করে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী দুর্গতির শিকার হয়ে পড়েছে বেশি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ মিটার দক্ষিণে চার দশমিক ২৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি কালভার্ট নির্মাণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ রাজারহাট উপজেলায় ৯টি সেতু এবং কালভার্ট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৮ টাকার দরপত্র হয়, এবং কাজটি ঠিকাদার নূর আলম মিয়ার কাছে আসে। কাজটি ১৪ মে শুরু হয়।
আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে চোরাই ল্যাপটপ ও একডজন মোবাইল ফোন সহ গ্রেফতার ২
তবে ৯টি সেতু ও কালভার্টের মধ্যে অন্যগুলোর কাজ এগিয়ে গেলেও গতিয়াশামের কালভার্টের কাজ শুরুই হয়নি।
উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রকল্পের ৯টি সেতু-কালভার্টের জন্য এ পর্যন্ত এক কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার ১০০ টাকা অর্থ ছাড় হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে পুরনো কালভার্টটি ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু নতুন কালভার্ট নির্মাণের কাজ আর এগোচ্ছেনা। ঠিকাদারের পক্ষ থেকে বিকল্প সড়ক বা সাঁকো করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। পরে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের একটি সাঁকো নির্মাণ করেন। এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে গতিয়াশাম, চর গতিয়াশাম, নীরব বাজার, নকীর পুল এলাকায় যাওয়ার একমাত্র পথ।
গতিয়াশামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের চলাচলের একমাত্র পথ। রাস্তার ওপারে আমাদের জমি রয়েছে। জমিতে যেতে হলে এই পথ ব্যবহার করতে হয়। কালভার্ট না থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ৩৩
আরেক বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন পাঁচ গ্রামের মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করছে। তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই পথ ব্যবহার করছে। বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে শিশু এবং বয়স্কদের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।’
স্থানীয় দিনমজুর আলম মিয়া ও ফজলু মিয়া জানান, ‘কালভার্ট না থাকায় ভ্যান চলাচল করতে পারে না। অন্য পথ দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
একই এলাকার শাহজালাল মিয়া জানিয়েছেন, তার এক ভাতিজা সাঁকো দিয়ে পার হওয়ার সময় পানিতে পড়ে গিয়েছিল এবং পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
শিক্ষার্থী মাছুম বিল্লা জানায়, তারা দেড় বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয় ও মাদরাসায় যাচ্ছে এবং বর্ষার সময় পানি বাড়লে ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ইউএনওর আকস্মিক শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান করালেন রেহেনা আক্তার
ঠিকাদার নূর আলম বলেন, ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যা, বৃষ্টি এবং বন্যার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। তিনি জানান, আগামী নভেম্বরের মধ্যে কালভার্টটির কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত কাজটি শেষ করার চেষ্টা করছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন