ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পরদিনই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার কথা, এক রাতের ব্যবধানেই শেষ ৫ প্রাণ


পরদিনই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার কথা, এক রাতের ব্যবধানেই শেষ ৫ প্রাণ

ভারতের মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকার এক বস্তিতে বহুতল ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় এক হৃদয়বিদারক তথ্য সামনে এসেছে। টানা ভারী বর্ষণের কারণে ভেঙে পড়া চারতলা অবৈধ ভবনটির নিচে চাপা পড়ে যে পরিবারটি প্রাণ হারিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার ঠিক পরদিনই ওই স্থান ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে নতুন ঠিকানায় যাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে নিভে যায় মা ও চার সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের জীবনপ্রদীপ।

দুর্ঘটনার কবলে পড়া আক্তার জাহান নামের ওই নারী এবং তার দিনমজুর স্বামী মঈনউদ্দিন ওয়াজিদ আলী শাহ আগে থেকেই টের পেয়েছিলেন যে তাদের টিনের ঘরের পাশে থাকা চারতলা ভবনটি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছিল, টাইলস খসে পড়ছিল এবং সেটি একপাশে হেলে পড়েছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই ভবনের বাসিন্দারা আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যান। বিপদের আভাস পেয়ে আক্তার জাহানও ঘটনার দিন রাতে তড়িঘড়ি করে ঘরের জিনিসপত্র গোছাচ্ছিলেন যেন পরদিন রবিবারই তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে পারেন। মঈনউদ্দিন তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে আর মাত্র একটা রাত পার করলেই তারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবেন। কিন্তু সেই সকাল আর তাদের জীবনে আসেনি। শনিবার রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে চারতলা ওই অবৈধ স্থাপনাটি পাশের টিনের ঘরগুলোর ওপর ভেঙে পড়ে। ঘটনার কিছু সময় আগে ঘরের বাইরে থাকায় মঈনউদ্দিন অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে মারা যান তার স্ত্রী ও সন্তানেরা।

মুম্বাইয়ের মানখুর্দের মন্ডলা এলাকার জনতা নগরে ঘটা এই দুর্ঘটনায় উদ্ধারকারীরা রাতভর অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ ও জীবিতদের উদ্ধার করেন। স্থানীয় পৌর প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে ভেঙে পড়া চারতলা ভবনটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে বাপ্পি হত্যা মামলায় ছাত্রদল নেতাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৬

পুলিশ ইতিমধ্যেই ভবনের মালিক এবং নির্মাণকাজের ঠিকাদারকে গ্রেফতার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন কীভাবে সব সুরক্ষানীতি অমান্য করে এই অবৈধ ভবনটি গড়ে তোলা হয়েছিল।

এদিকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ৫ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন: কলকাতার দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু, শোকার্ত টালিগঞ্জ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে মিশরের স্বপ্ন ভেঙে শেষ আটে আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৩ এম


রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে মিশরের স্বপ্ন ভেঙে শেষ আটে আর্জেন্টিনা

মেসির পেনাল্টি মিসের কারণে হতাশ হয়েছেন আর্জেন্টাইনরা। দ্বিতীয়ার্ধে দ্বিতীয় গোল করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মনে জোরেশোরে ছিটকে পড়ার শঙ্কাও দেখা দেয়। এতে মিশর ২-০ তে এগিয়ে যায়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছে।

ফুটবলের জাদুকর মেসি ঠিকই জ্বলে উঠলেন। লড়াইয়ে ফেরার গোলে অবদান রেখে, পরক্ষণেই নিজে আরেক গোল করেন। এবার ২-২ সমতা ফিরলে আর্জেন্টিনা আরও উৎসাহী হয়ে ওঠে। যোগ করা সময়ে ফের জালে বল জড়িয়ে নাটকীয় ভাবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ানরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা।

শুরুতে আর্জেন্টিনার গোলবার কাঁপায় মিশর। ১৫ মিনিটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে।

মিশরীয় ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম ডি-বক্সের মাঝখান থেকে দুর্দান্ত এক হেড করেন। বলটি পোস্টের ডানদিকে নিচের কোণ দিয়ে জালে প্রবেশ করে। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে ক্রস বাড়িয়ে এই গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেন মারওয়ান আতিয়া।

১৫ মিনিটে গোল খাওয়ার পর পাঁচ মিনিটের মধ্যে গোল শোধ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি মেসি।

তাগলিয়াফিকো মিশরের বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন। ২১ মিনিটে মেসি পেনাল্টি কিক নেন। তার বাম পায়ের শট বাঁ দিকে ডাইভ দিয়ে ফিরিয়ে দেন মোস্তফা শোবেইর।

বিশ্বকাপে মেসি মোট ৮টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টি মিস করেছেন। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। এর আগে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তিনি পেনাল্টি গোল করতে পারেননি।

মেসির শট গোলরক্ষকের বাঁ দিক ঘেঁষে নিলেও তা তেমন গতিশীল ছিল না। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা সঠিক উচ্চতায় থাকা বলটিকে দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন।

গোলরক্ষক মোস্তফার জন্য এটি এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে গ্রুপ পর্বে ইরানের তারেমির পেনাল্টি সহ তিনি একইভাবে একবারে মিস করেছিলেন।

২৮ মিনিটে আরেকবার আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন মোস্তফা। রদ্রিগো ডি পলের ক্রসে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড ডানদিকে ঝুঁকে রুখে দেন তিনি।

১০ মিনিট পর মেসির বাঁ পায়ের শট গোলবারের অনেক উপর দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে আলভারেজ শট নেন। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মোস্তফা বলটিকে ফিরিয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করে। তবে মিশরের রক্ষণভাগে ৯ জন খেলোয়াড় একদম জমাট হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।

মেসি শেষ পর্যন্ত কিছুটা জায়গা তৈরি করে রদ্রিগো ডি পলকে বল বাড়িয়ে দেন। কিন্তু ২০ গজ দূর থেকে আসা ডি পলের নিচু শটটি সহজেই মিসরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা ধরেন।

পাল্টা আক্রমণে হাসানের বাড়ানো পাস ধরে মার্টিনেজকে পরাস্ত করে জিকো বল জালে জড়ান।

এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে মিশর। জিকোর মাধ্যমে আসা একটি চমৎকার ফিনিশিংয়ে তারা এগিয়ে গেছে। কিন্তু আক্রমণের শুরুর দিকে ফাউল হওয়ার কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।

হাসানের দুর্দান্ত দৌড়ে সালাহর পাস এবং জিকোর ফিনিশিংয়ের ফলে এটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হতে পারতো। অন্য প্রান্তে ফাউলের জন্য ফ্রি কিক প্রদান করা হয়েছে।

৬৭ মিনিটে দুই গোল খাওয়ার পর আর্জেন্টিনা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। চার মিনিটের ব্যবধানে তারা দুটি গোল দিয়ে সমতা ফেরায়।

ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে ডান দিক থেকে একটি মেসির ক্রসে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করেন। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর তার বাঁ হাত দিয়ে বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করেন। পোস্টের ভেতরের কোণ দিয়ে বলটি লাইনের ভেতরে ঢুকে পড়া আটকাতে পারেননি। মিশরীয় ডিফেন্ডাররা অফসাইডের জন্য আবেদন করলেও তা বৃথা যায়। ৭৯ মিনিটে গোল ব্যবধান কমায় তারা।

মেসি ম্যাচের ৮৪ মিনিটে গোল করে আবারো সমতা ফেরান। এই বিশ্বকাপে এটি তার অষ্টম গোল। গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বারের নিচের অংশে লাগার পর বলটি জোরালো শটে জালে প্রবেশ করে। এর মাধ্যমে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে আর্জেন্টিনা দুটি গোল করেছে। মেসি টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

তারপর আর্জেন্টিনার একটি দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে বক্সের মাঝখান থেকে একটি চমৎকার হেডে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ৯২তম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের অ্যাসিস্টে ফার্নান্দেজ তৃতীয়বার জাল কাঁপান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যাত্রা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৫ এম


রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যাত্রা শুরু

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। এ যাত্রা শুরু হয় একটি অফিস উদ্বোধনের মাধ্যমে। মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর বিভাগের সদর দপ্তরে চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু এ অফিস উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পর তিনি পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্যে বলেন, রংপুরকে একটি আধুনিক এবং পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়তে চান। উন্নয়নের জন্য মানুষের মধ্যে অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। রংপুরের শ্যামাসুন্দরী খাল এবং কেডি খালের উন্নয়ন করতে হবে। ভাল সড়কের অনুপস্থিতি, রাস্তা-ঘাটের অবস্থা ভাঙা, এবং অনুপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি হচ্ছে। এ সকল সমস্যা সমাধানের জন্য পূর্ণ সহযোগিতা নিয়ে নগরীর উন্নয়ন করা হবে।

সামসুজ্জামান সামু যোগ করেন, ‘পিছিয়ে পড়া রংপুরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। রংপুরের উন্নয়ন করতে গেলে সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু জাফর, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর চেম্বারের সভাপতি এমদাদুল হকসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গ্রেফতার ৫৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৬ এম


তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গ্রেফতার ৫৯

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

ডিএমপির একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গতকাল সোমবার এই personeদের আটক করা হয়।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. রবিউল ইসলাম (৩২), হৃদয় (২৩), মো. রাশেদ (২৩), মো. শামীম অরফে সাগর (২৫), মো. সাইফুল ইসলাম (২৮), মো. আকাশ খন্দকার অরফে ভোদন (২৫), মো. মোতালেব হোসেন (৪১), মো. জাহিদ (২৩), মো. আকাশ খন্দকার অরফে ভোদন (২৫), মো. সুমন (২৮), মো. শাহ আলম (২৮), মো. রাজু (২৮), সৈয়দ অর্পন শাহরিয়ার (২০), মো. আরিফ হোসেন (৩৬), মো. আকিব হোসেন (৩০), মো. মামুন (২৩), মো. আলম মিয়া (৩২), মো. টিপু (২৭), মাইনউদ্দিন অরফে মানিক, মো. রাসেল, মো. মানিক, মোসা. সাথি আক্তার (২৮), মো. রহিদ, মো. ওয়াসিম, রাইয়ান তাসীন রাহিন (২৪), মো. আল-আমিন (২১), মো. সাকিব (২৬), মো. রিয়াজ (১৮), মো. ইউছুফ (৩০), মো. জাফর (২৭), মো. রিফাত (২০), মো. রায়হান (২৪), সোহেল খান (২৫), মো. তানজিল হাসান নয়ন (২১), মো. রিহান (১৯), মো. রহিদ, মো. রাব্বি (২৩), মো. শুভ (২০), মো. সাকিব হোসেন (২৪), পারভেজ (৩০), মো. সোহান (২২), সিয়াম (২০), মো. আলাউদ্দিন (৪০), মো. রাজু মোল্লা (৩০), খালেদ হোসেন অরফে নিশাদ (২৬), মো. স্বপন (২২), মো. শিমুল (২২), মো. জুয়েল (৪০), মো. সোহান (২১), মো. জুয়েল মিয়া (২১), মো. মিজানুর রহমান (২২), মো. আলমগীর হোসেন (২৮), মো. আ. হামিদ (৫৪), মোসা. জরিনা বেগম (৫১), মো. রাসেল (২৮), মো. ফুয়াদ (৩২), মো. আকাশ খন্দকার ভোদন (২৫), মো. রুবেল (৩৩) এবং ওমর ফারুক (২৭)।

আটককৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় ৪ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় ১১ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ২১ জন, আদাবর থানায় ১১ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ৭ জন এবং হাতিরঝিল থানায় ৫ জন রয়েছে।

আটককৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় বিদেশি নাগরিকদের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি জরুরী নয় কি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৮ এম


রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় বিদেশি নাগরিকদের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি জরুরী নয় কি?

বাংলাদেশ আজ শুধু একটি জনবহুল রাষ্ট্র নয়; এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-কৌশলগত রাষ্ট্র। বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক বাণিজ্যপথ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির কারণে বাংলাদেশকে ঘিরে বিদেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এই বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি, অবস্থান ও কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রের একটি হালনাগাদ, নির্ভুল এবং সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার থাকা বিলাসিতা নয়—এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে বিদেশি নাগরিকদের জড়িয়ে অপরাধ, সাইবার জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, অবৈধ ব্যবসা কিংবা ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিটি অভিযোগ অবশ্যই আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত; কোনো ব্যক্তি বা জাতীয়তাকে শুধু পরিচয়ের ভিত্তিতে অপরাধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো—বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রত্যেক বিদেশি নাগরিক বৈধভাবে অবস্থান করছেন কি না, কোথায় বসবাস করছেন, কী ধরনের কাজে নিয়োজিত, তাদের ভিসা ও কর্ম-অনুমতির অবস্থা কী—এসব তথ্য সবসময় হালনাগাদ রাখা।

বিশেষ উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটভিত্তিক পরিচয়ের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক গড়ে তুলে বিবাহ বা পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রই বৈধ ও স্বাভাবিক হতে পারে, তবে যদি কেউ এই প্রক্রিয়াকে পরিচয় গোপন, প্রতারণা, মানবপাচার, অর্থপাচার কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তবে সেটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের ক্ষেত্রে আইনসম্মত যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় আরও কার্যকর করা জরুরি।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র কখনোই তার ভূখণ্ডে কে প্রবেশ করছে, কে কাজ করছে, কে ব্যবসা করছে এবং কে কোন পরিচয়ে অবস্থান করছে—এসব বিষয়ে অন্ধ থাকতে পারে না। কারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সৃষ্টি হয় তখনই, যখন রাষ্ট্রের কাছে তথ্য থাকে না অথবা তথ্য থাকলেও তা সমন্বিত ও হালনাগাদ থাকে না।

একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত পরিচয়বিহীন, দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে বা মানসিক ভারসাম্যহীন পরিচয়ে বসবাসকারী ব্যক্তিদের মানবিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে পরিচয় যাচাই করা। কারণ তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকৃত বাংলাদেশি না হন, অথবা ভিন্ন পরিচয়ে অবৈধভাবে অবস্থান করে থাকেন, তবে আইন অনুযায়ী তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই প্রক্রিয়া অবশ্যই মানবাধিকার, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রচলিত আইন অনুসরণ করেই সম্পন্ন হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বৈধ কর্ম-অনুমতি, কর পরিশোধ, ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি। কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; আবার যারা আইন মেনে বাংলাদেশে কাজ করছেন, তাদের অধিকারও সমানভাবে সুরক্ষিত থাকতে হবে। আইনের শাসনই এখানে একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।

এখন সময় এসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তৎপরতার পাশাপাশি সমন্বিত একটি ডিজিটাল বিদেশি নাগরিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার। দেশে প্রবেশের মুহূর্ত থেকে প্রস্থান পর্যন্ত একজন বিদেশি নাগরিকের বৈধ অবস্থান, কর্মস্থল, ঠিকানা এবং অনুমোদিত কার্যক্রম একটি সমন্বিত ডাটাবেজে সংরক্ষিত ও নিয়মিত হালনাগাদ থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে বিশেষায়িত নজরদারি ও সমন্বয় সেল গঠন করে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য বৈধ বিদেশি অংশগ্রহণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে উন্নয়নের দরজা খোলা রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—দুই লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়। বরং একটি শক্তিশালী, তথ্যনির্ভর ও আইনসম্মত তদারকি ব্যবস্থা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও আস্থা তৈরি করে যে বাংলাদেশ একটি সুশাসিত ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র।

জাতীয় নিরাপত্তা কখনো কোনো ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর বিষয় নয়; এটি আগাম প্রস্তুতি, তথ্যভিত্তিক নজরদারি এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের জন্য বিদেশি নাগরিকদের একটি আধুনিক, সমন্বিত ও সর্বদা হালনাগাদ ডাটাবেজ গড়ে তোলা এখন আর বিকল্প নয়—এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি। কারণ একটি রাষ্ট্র তার সীমান্ত যতটা শক্তভাবে রক্ষা করে, তার চেয়েও বেশি শক্তভাবে রক্ষা করতে হয় তথ্য, আইন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতাকে। রাষ্ট্র যদি এই জায়গায় এক ধাপ এগিয়ে থাকতে পারে, তবে বহিরাগত যেকোনো অবৈধ প্রভাব, সংগঠিত অপরাধ বা নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতাও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে তা না হলে ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ রাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা করা অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%