প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মেসির পেনাল্টি মিসের কারণে হতাশ হয়েছেন আর্জেন্টাইনরা। দ্বিতীয়ার্ধে দ্বিতীয় গোল করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মনে জোরেশোরে ছিটকে পড়ার শঙ্কাও দেখা দেয়। এতে মিশর ২-০ তে এগিয়ে যায়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছে।
ফুটবলের জাদুকর মেসি ঠিকই জ্বলে উঠলেন। লড়াইয়ে ফেরার গোলে অবদান রেখে, পরক্ষণেই নিজে আরেক গোল করেন। এবার ২-২ সমতা ফিরলে আর্জেন্টিনা আরও উৎসাহী হয়ে ওঠে। যোগ করা সময়ে ফের জালে বল জড়িয়ে নাটকীয় ভাবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ানরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা।
শুরুতে আর্জেন্টিনার গোলবার কাঁপায় মিশর। ১৫ মিনিটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে।
মিশরীয় ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম ডি-বক্সের মাঝখান থেকে দুর্দান্ত এক হেড করেন। বলটি পোস্টের ডানদিকে নিচের কোণ দিয়ে জালে প্রবেশ করে। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে ক্রস বাড়িয়ে এই গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেন মারওয়ান আতিয়া।
১৫ মিনিটে গোল খাওয়ার পর পাঁচ মিনিটের মধ্যে গোল শোধ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি মেসি।
তাগলিয়াফিকো মিশরের বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন। ২১ মিনিটে মেসি পেনাল্টি কিক নেন। তার বাম পায়ের শট বাঁ দিকে ডাইভ দিয়ে ফিরিয়ে দেন মোস্তফা শোবেইর।
বিশ্বকাপে মেসি মোট ৮টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টি মিস করেছেন। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। এর আগে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তিনি পেনাল্টি গোল করতে পারেননি।
মেসির শট গোলরক্ষকের বাঁ দিক ঘেঁষে নিলেও তা তেমন গতিশীল ছিল না। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা সঠিক উচ্চতায় থাকা বলটিকে দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন।
গোলরক্ষক মোস্তফার জন্য এটি এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে গ্রুপ পর্বে ইরানের তারেমির পেনাল্টি সহ তিনি একইভাবে একবারে মিস করেছিলেন।
২৮ মিনিটে আরেকবার আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন মোস্তফা। রদ্রিগো ডি পলের ক্রসে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড ডানদিকে ঝুঁকে রুখে দেন তিনি।
১০ মিনিট পর মেসির বাঁ পায়ের শট গোলবারের অনেক উপর দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে আলভারেজ শট নেন। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মোস্তফা বলটিকে ফিরিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করে। তবে মিশরের রক্ষণভাগে ৯ জন খেলোয়াড় একদম জমাট হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
মেসি শেষ পর্যন্ত কিছুটা জায়গা তৈরি করে রদ্রিগো ডি পলকে বল বাড়িয়ে দেন। কিন্তু ২০ গজ দূর থেকে আসা ডি পলের নিচু শটটি সহজেই মিসরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা ধরেন।
পাল্টা আক্রমণে হাসানের বাড়ানো পাস ধরে মার্টিনেজকে পরাস্ত করে জিকো বল জালে জড়ান।
এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে মিশর। জিকোর মাধ্যমে আসা একটি চমৎকার ফিনিশিংয়ে তারা এগিয়ে গেছে। কিন্তু আক্রমণের শুরুর দিকে ফাউল হওয়ার কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।
হাসানের দুর্দান্ত দৌড়ে সালাহর পাস এবং জিকোর ফিনিশিংয়ের ফলে এটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হতে পারতো। অন্য প্রান্তে ফাউলের জন্য ফ্রি কিক প্রদান করা হয়েছে।
৬৭ মিনিটে দুই গোল খাওয়ার পর আর্জেন্টিনা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। চার মিনিটের ব্যবধানে তারা দুটি গোল দিয়ে সমতা ফেরায়।
ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে ডান দিক থেকে একটি মেসির ক্রসে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করেন। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর তার বাঁ হাত দিয়ে বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করেন। পোস্টের ভেতরের কোণ দিয়ে বলটি লাইনের ভেতরে ঢুকে পড়া আটকাতে পারেননি। মিশরীয় ডিফেন্ডাররা অফসাইডের জন্য আবেদন করলেও তা বৃথা যায়। ৭৯ মিনিটে গোল ব্যবধান কমায় তারা।
মেসি ম্যাচের ৮৪ মিনিটে গোল করে আবারো সমতা ফেরান। এই বিশ্বকাপে এটি তার অষ্টম গোল। গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বারের নিচের অংশে লাগার পর বলটি জোরালো শটে জালে প্রবেশ করে। এর মাধ্যমে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে আর্জেন্টিনা দুটি গোল করেছে। মেসি টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।
তারপর আর্জেন্টিনার একটি দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে বক্সের মাঝখান থেকে একটি চমৎকার হেডে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ৯২তম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের অ্যাসিস্টে ফার্নান্দেজ তৃতীয়বার জাল কাঁপান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন