০৬:৪৮ পি.এম
ঢাকা: দেশের রাজস্ব আদায়ে গতি ফেরাতে এবং করের আওতা বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এবার সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের কেনাকাটা এবং সেবামূলক ১৬টি সুনির্দিষ্ট খাতকে শতভাগ ভ্যাটের (মূল্য সংযোজন কর) আওতায় আনা হচ্ছে। মুদি দোকান, কাপড়ের দোকান থেকে শুরু করে বিউটি পার্লার কিংবা রেস্টুরেন্ট—সবখানেই এখন থেকে ক্রেতাদের ভ্যাট গুনতে হবে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ে ভ্যাট ফাঁকি রোধ এবং বেচাকেনায় স্বচ্ছতা আনতেই এই ১৬টি খাতকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোন ১৬টি ব্যবসায়িক খাতে বসছে ভ্যাট?
আরও পড়ুন: তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, যে ১৬টি খাতে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করা হচ্ছে, সেগুলো হলো:
১. মুদি দোকান: পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বাজারের ছোট-বড় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান।
২. কাপড় বিক্রেতা: সব ধরনের তৈরি পোশাক, শাড়ি ও থ্রিপিসের দোকান বা শোরুম।
৩. জুতার দোকান: ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ডের সব ধরনের জুতা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন: নড়াইলে দুইদিনব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প, সাংস্কৃতিক উৎসব ও জাতীয় নারী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন
৪. বিউটি পার্লার: সব ধরনের রূপচর্চা ও সৌন্দর্যসেবা প্রদানকারী কেন্দ্র।
৫. কনফেকশনারি: বেকারি আইটেম, কেক, পেস্ট্রি ও ফাস্টফুড বিক্রয়কারী দোকান।
৬. কসমেটিকসের দোকান: প্রসাধন সামগ্রী ও রূপচর্চার পণ্য বিক্রেতা।
৭. মিষ্টান্ন ভান্ডার ও রেস্টুরেন্ট: সব ধরনের মিষ্টির দোকান, হোটেল, ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ।
আরও পড়ুন: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মাইক্রোবাস-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষে ৯ জন আহত
৮. আসবাবপত্র বা ফার্নিচার: কাঠ, প্লাইউড বা মেটালের তৈরি সব ধরনের ফার্নিচারের শোরুম।
৯. প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য: ঘরকন্নায় ব্যবহৃত প্লাস্টিক সামগ্রী, মেলামাইন ও সিরামিকের তৈজসপত্রের দোকান।
১০. মোবাইল ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী: মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন, টেলিভিশনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা।
১১. হার্ডওয়্যার ও পেইন্ট: ঘরবাড়ির নির্মাণ ও মেরামতের কাজে ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার পণ্য এবং রঙ বিক্রেতা।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ১১ বছরের মাদরাসাছাত্র নিহত
১২. স্যানিটারি ও ফিটিংস: বাথরুম ও রান্নাঘরের স্যানিটারি সামগ্রী এবং ফিটিংসের দোকান।
১৩. টাইলসের দোকান: দেশি ও বিদেশি সব ধরনের মেঝের টাইলস বিক্রেতা।
১৪. ঢেউটিনের দোকান: ঘর তৈরির ঢেউটিন ও আনুষঙ্গিক লোহালক্কড়ের দোকান।
xv. রড ও সিমেন্ট: আবাসন খাতের প্রধান কাঁচামাল রড ও সিমেন্ট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান বা ডিলার।
আরও পড়ুন: সুলতানি আমলের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে
১৬. ডেকোরেটর: সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের সাজসজ্জা এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠান।
নজরদারিতে ইএফডি ও পিওএস মেশিন
এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ১৬টি খাতের অধিকাংশ ব্যবসাই নগদ টাকায় পরিচালিত হয়, যার ফলে বিশাল অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ থেকে যায়। এই ফাঁকি বন্ধ করতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি) এবং পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হচ্ছে। এর ফলে ক্রেতা পণ্য বা সেবা কেনার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই তথ্য এনবিআরের কেন্দ্রীয় সার্ভারে জমা হয়ে যাবে।
এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "আমরা শুধু ভ্যাটের আওতাই বাড়াচ্ছি না, বরং সাধারণ ক্রেতারা যে ভ্যাট দিচ্ছেন তা সঠিকভাবে সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে চাই। এই ১৬টি খাত সরাসরি ভোক্তার সাথে সম্পৃক্ত, তাই এখানে স্বচ্ছতা আনা জরুরি।"
আরও পড়ুন: সুন্দরবনের জোনাব বাহিনীর প্রধান জোনাব আলী আটক
ব্যবসায়ী ও ভোক্তার প্রতিক্রিয়া
এনবিআরের এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানালেও মাঠ পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কিছুটা উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। বেশ কয়েকজন খুচরা বিক্রেতার মতে, ছোট দোকানে ভ্যাটের হিসাব রাখা এবং ইএফডি মেশিন পরিচালনা করা কিছুটা জটিল। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই ভ্যাট আদায় করা সম্ভব হলে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন