০২:৩১ এম
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন শহরে রাশিয়া ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, এটি ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। হামলায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত হামলাটি চলেছিল।
আরও পড়ুন: রাজশাহীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিনুর ৬ দফা দাবি
রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ইস্কান্দার-এম ও হাইপারসনিক জিরকনসহ প্রায় ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। গভীর রাত দেড়টার দিকে, যখন বাসিন্দারা ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। প্রথমে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওয়াজ শোনা যায়, এরপর কয়েক মিনিট পর একের পর এক বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী।
এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। কিয়েভের ঐতিহাসিক কেন্দ্রের বহু ভবন টানা হামলায় কেঁপে ওঠে। রাতভর হামলার পর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে নতুন করে রুশ বাহিনী আঘাত হানে।
হামলায় রাজধানীর শেভচেনকিভস্কি জেলার একটি তিনতলা ভবনে আগুন লেগে নিজে থেকেই কয়েকজনকে জীবিত এবং একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। এছাড়া রাজধানীর আরও চারটি এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে যেখানে অফিস, আবাসিক ভবন ও একটি ছাত্রাবাসে আগুন লাগে। প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটানোর ফলে লুকিয়ানিভস্কা মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথের ছাদ ধসে পড়ে। এরপর স্টেশনটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আঞ্চলিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খারকিভের কাছে একটি ডাকঘরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে খেরসন ও সুমি শহরেও পৃথক হামলায় অন্তত একজন করে নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন: রাজনীতিবিদদের জনকল্যাণমুখী রাজনীতি করার আহ্বান জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, সর্বশেষ এই হামলায় রাশিয়া রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২৫টি ড্রোনের মধ্যে ১০৮টি ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কিয়েভের ৪৭ বছর বয়সী বাসিন্দা গান্না জাগোরোদনিয়া এএফপিকে জানান, একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র এসে বিস্ফোরিত হচ্ছিল, পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত আতঙ্কজনক। তার কথায়, ওই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল জীবন বুঝি শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে, ইউক্রেনে রুশ হামলার মধ্যেই, কিয়েভ রাশিয়ার অভ্যন্তরে পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মস্কো ও তাম্বোভ অঞ্চলের দুটি বড় ই-কমার্স গুদাম লক্ষ্য করে ওই হামলায় আটজন নিহত হয়েছে। সেই সঙ্গে গুদাম দুটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে।
মস্কো ও তাম্বোভে পরিচালিত এই ড্রোন হামলার দায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জনপদে রুশ হামলার জবাব দিতেই রসদ সরবরাহ কেন্দ্র দুটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। জেলেনস্কির দাবি, কেন্দ্র দুটি ড্রোন উৎপাদন ও পরিচালনায় ব্যবহৃত নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: স্পিকার সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন