শাহানুর আলম, বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:০৩ এম
জুলাই বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় রাজপথে মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ। সম্প্রতি মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রাধানগর পয়েন্ট এলাকায় নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকে। এছাড়া বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চালবন পয়েন্টে পুলিশের একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিল চলাকালীন ঠিক পাশ দিয়েই পুলিশের একটি সিএনজি অটোরিকশা অতিক্রম করছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো থানা বা চেকপোস্টের পুলিশ সদস্য মিছিলকারীদের গ্রেপ্তারের কোনো উদ্যোগ নেননি।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ চিরুনি অভিযান শুরু করলেও প্রশাসনের এমন ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে— ছাত্রলীগের ওপর এই ধরপাকড়ের সুযোগ নিয়ে কোনো পক্ষ আবার মামলা বাণিজ্যের প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না? পাশাপাশি প্রশাসনের এই ধরণের উদাসীনতা জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় কোনো হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে।
জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের এভাবে হঠাৎ রাজপথে মহড়া ও প্রকাশ্য উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক কার্যকর করার ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিদ্ধান্তটিকে পিছিয়ে দিয়েছেন। দুই দেশই একটি বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে জানিয়ে, এই শুল্ক আরোপ আপাতত তিন দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন এবং অটোয়া সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চূড়ান্ত হলেই চুক্তি সম্পন্ন হবে। এই আশায় তিনি বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে কার্যকর হতে যাওয়া শুল্ক সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন’ প্রকল্পটি আবার চালু করার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে বেশ ভালো অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান বাকি রয়েছে। এর আগে, গত মাসে কানাডার মদ, গাড়ি এবং দুগ্ধজাত পণ্যে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে, দেশটির ওয়াইন, সিমেন্ট ও হকি স্টিকের মতো কয়েকটি পণ্যের ওপর ট্রাম্প ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এই শুল্ক কার্যকর হলে কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির ক্ষতি হতো। এ কারণে কানাডার প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে গিয়ে আলোচনা চালায় এবং মার্কিন পণ্যের ওপর কিছু ছাড় দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এর ফলস্বরূপ, আপাতত বড় ধরনের বাণিজ্য সংঘাত এড়ানো সম্ভব হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্ক সীমান্তের নিকটবর্তী সিরিয়ার একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের বিমান হামলার ঘটনায় বিরল নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলাটিকে "অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা" হিসেবে উল্লেখ করে ওয়াশিংটন বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কোনো ভূমিকা রাখে না।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়, মঙ্গলবার আবু আল-দুহুর বিমানবন্দরের রানওয়ে ও গুদামঘরে আটটি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইসরায়েল সরাসরি হামলার কথা স্বীকার না করলেও জানিয়েছে, সিরিয়া নিরাপত্তার বর্তমান অবস্থা ভঙ্গের উপক্রম করেছিল। দামেস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ইসরায়েল বলেছে, তারা ওই বিমানঘাঁটিতে তুর্কি সেনাদের মোতায়েন করার অনুমতি দিচ্ছে, যা ইসরায়েলের জন্য হুমকি। তবে সিরিয়া এবং তুরস্ক হামলার জন্য ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছে। তাদের মতে, এসব হামলা ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলার হুমকি সৃষ্টি করছে।
তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিরিয়া ও ইরাক বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছেন।
এক্সে তিনি লেখেন, "আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের বিমান হামলা অপ্রয়োজনে উত্তেজনা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার অগ্রগতিতে বিঘ্ন ঘটানোর সামিল। এ হামলা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।"
সিরিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইসরায়েলের হামলাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ এক অন্যায্য আগ্রাসী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।
তুরস্ক তাদের কোনও সেনা তুর্কি সীমান্ত থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সিরিয়ার আবু দুহুর বিমানঘাঁটিতে গেছে কিনা তা নিশ্চিত করে জানায়নি। তবে, আঙ্কারা ইসরায়েলের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে যে, তুরস্ক তাদের জন্য কোনও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বিনা উপকেন্দ্রে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে বিনা ‘ফসল সুরক্ষা’ নামে একটি অ্যাপস প্লে স্টোরে ছেড়েছে।
ওই অ্যাপসে কোনো ফসলের রোগাক্রান্ত স্থানের ছবি তুলে দিলে সেটি বলে দেবে গাছ বা ফলটি কোন রোগে আক্রান্ত।
অ্যাপসে স্বয়ংক্রিয় ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে এ উত্তর দেওয়া হবে।
এছাড়া কোন দোকানে কোন ওষুধ পাওয়া যাবে, কোন ওষুধে রোগ ভালো হবে, জৈব বা রাসায়নিক- কোন পদ্ধতিতে ফসলের চিকিৎসা করা হবে, এসব তথ্য অ্যাপসটি থেকে পাওয়া যাবে।
বক্তারা বলেন, পাটের সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার।
সে লক্ষ্যে বাংলাদেশের ১০টি অঞ্চলকে সোনালি আঁশ পাটের হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন কৃষিমন্ত্রী।
স্থান নির্বাচনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লায়ও একটি হাব গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
কৃষিজমি কমে গেছে।
বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তারা নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের খাদ্যের জোগানের পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতিকে বদলে দিচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার অতিরিক্ত পরিচালক আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিনার মহাপরিচালক ড. মো. শরিফুল হক ভূঞা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিনার পরিচালক (প্রশাসন ও সাপোর্ট বিভাগ) ড. মো. লুৎফর রহমান মোল্যা, বিনার গবেষণা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদার, বিনার গবেষণা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, বিনার কৃষি প্রকৌশল বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় প্রধান ড. মো. হাসানুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান সহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের পার্লামেন্ট ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর এই আইন প্রচলিত হয়েছে। ফলে ইউরোপের মধ্যে এই ধরনের আইন পাস করা প্রথম দেশ হিসাবে ফ্রান্স আবির্ভূত হয়েছে।
এই আইন আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এই আইনের আওতায় ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। এ ছাড়া, এই বয়সসীমার নিচে থাকা বিদ্যমান ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টও বন্ধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই কারণে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
নতুন আইনের অধীনে ফ্রান্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হলে সবার বয়স যাচাই করা বাধ্যতামূলক হবে। শিশু-কিশোরদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের বিধিনিষেধ নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই আইনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদের শেষ সময়ে এ ধরনের আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মনোযোগ, মানসিক বিকাশ এবং সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের মধ্যে আসক্তি, উদ্বেগ ও একাকিত্বের প্রবণতা বাড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি যৌথভাবে এই আইনটি অনুমোদন করেছে।
আইনটি কার্যকর হবে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। তা ছাড়া, নতুন সব অ্যাকাউন্টের জন্য বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক হবে। দ্বিতীয় ধাপে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম বিদ্যমান সব অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ফ্রান্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার অব্যাহত রাখতে সবাইকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের বয়স ১৫ বছরের বেশি।
এদিকে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, বয়সসীমা নির্ধারণ, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন কার্যক্রম পূর্বে থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে নতুন আইন কার্যকর হলে তা মেনে চলার আশ্বাসও তারা দিয়েছে।
অন্যদিকে, শিশু ও কিশোরদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে ইউরোপীয় কমিশন। ফ্রান্সের এই আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
এর আগে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু করেছিল। এবার ফ্রান্স সেই পথ অনুসরণ করতে যাচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ