প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সের পার্লামেন্ট ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর এই আইন প্রচলিত হয়েছে। ফলে ইউরোপের মধ্যে এই ধরনের আইন পাস করা প্রথম দেশ হিসাবে ফ্রান্স আবির্ভূত হয়েছে।
এই আইন আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এই আইনের আওতায় ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। এ ছাড়া, এই বয়সসীমার নিচে থাকা বিদ্যমান ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টও বন্ধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই কারণে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
নতুন আইনের অধীনে ফ্রান্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হলে সবার বয়স যাচাই করা বাধ্যতামূলক হবে। শিশু-কিশোরদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের বিধিনিষেধ নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই আইনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদের শেষ সময়ে এ ধরনের আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মনোযোগ, মানসিক বিকাশ এবং সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের মধ্যে আসক্তি, উদ্বেগ ও একাকিত্বের প্রবণতা বাড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি যৌথভাবে এই আইনটি অনুমোদন করেছে।
আইনটি কার্যকর হবে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। তা ছাড়া, নতুন সব অ্যাকাউন্টের জন্য বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক হবে। দ্বিতীয় ধাপে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম বিদ্যমান সব অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ফ্রান্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার অব্যাহত রাখতে সবাইকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের বয়স ১৫ বছরের বেশি।
এদিকে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, বয়সসীমা নির্ধারণ, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন কার্যক্রম পূর্বে থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে নতুন আইন কার্যকর হলে তা মেনে চলার আশ্বাসও তারা দিয়েছে।
অন্যদিকে, শিশু ও কিশোরদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে ইউরোপীয় কমিশন। ফ্রান্সের এই আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
এর আগে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু করেছিল। এবার ফ্রান্স সেই পথ অনুসরণ করতে যাচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন