০১:৩১ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বাইরেও নতুন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বুধবার দেশটির সরকার ‘সেভেন মেজর সিড’ নামে সাতটি বড় প্রযুক্তি প্রকল্পের বিষয়ে ঘোষণা দেয়।
এই পরিকল্পনায় পারমাণবিক শক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, মহাকাশ, জৈবপ্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে, দক্ষিণ কোরিয়া নতুন প্রযুক্তিকে দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সভাপতিত্বে ব্লু হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, আগামী এক থেকে দুই দশকের মধ্যে এসব প্রযুক্তিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় নিয়ে আসা।
‘সেভেন মেজর সিড’ পরিকল্পনার আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজেদের তৈরি ছোট আকারের মডুলার পারমাণবিক চুল্লি বা এসএমআর বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে। এসএমআরগুলো প্রচলিত বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় অনেকটা ছোট এবং এগুলো তুলনামূলকভাবে কম জায়গায় স্থাপন করা সম্ভব। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ইউনিট ব্যবহার করা যাবে। পারমাণবিক শক্তির পাশাপাশি ফিউশন শক্তি ও পরবর্তী প্রজন্মের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এই পরিকল্পনাটি যুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
মহাকাশ খাতে দক্ষিণ কোরিয়া আরও বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি চাঁদে একটি মহাকাশযান অবতরণের পরিকল্পনা করছে। মহাকাশ ও বিমান চলাচলকে অক্টোবরের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এর ফলে মহাকাশ গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে দেশীয় সক্ষমতা আরও বাড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া। কোয়ান্টাম প্রযুক্তিকে এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে ১০০-কিউবিটের একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার দেশে তৈরি করা। কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণের মাধ্যমে প্রচলিত কম্পিউটারগুলোর তুলনায় ভিন্ন পদ্ধতিতে তথ্য প্রক্রিয়া করার ধারণা রয়েছে। ভবিষ্যতে, ওষুধ তৈরি, উপাদান গবেষণা, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও জটিল গণনার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হতে পারে। এছাড়াও, ২০৩৫ সালের মধ্যে মস্তিষ্ক ও কম্পিউটারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনকারী প্রযুক্তি বা ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেসের বাণিজ্যিক পণ্য বাজারে নিয়ে আসার লক্ষ্যও নিয়েছে রাষ্ট্রটি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানমন্ত্রী বে কিয়ং হুন জানিয়েছেন, ‘সেভেন মেজর সিড’ উদ্যোগের আওতায় সাতটি প্রযুক্তি এবং কৌশলগত খাত রাখা হয়েছে। এগুলো হলো—
- ছোট আকারের মডুলার পারমাণবিক চুল্লি
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
- ফিউশন শক্তি
- পরবর্তী প্রজন্মের নবায়নযোগ্য জ্বালানি
- কোয়ান্টাম প্রযুক্তি
- মহাকাশ ও বিমান চলাচল
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
- উন্নত জৈবপ্রযুক্তি
- গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও উপকরণের সরবরাহব্যবস্থা
সরকার মনে করে, এসব খাত ভবিষ্যতে অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি ও শিল্পোন্নত দেশ হয়ে রয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর, স্মার্টফোন, গাড়ি ও অন্যান্য শিল্পে দেশটির স্থায়ী অবস্থান রয়েছে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান। একই সময়, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, মহাকাশ, উন্নত জৈবপ্রযুক্তি ও নতুন ধরনের জ্বালানি প্রযুক্তি নিয়ে অন্যান্য দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেড়ে চলছে। দেশের জন্য এই প্রযুক্তিগুলো শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাই দক্ষিণ কোরিয়া নতুন প্রযুক্তির বাজারে শক্ত অবস্থান নিতে উদ্যমী।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
বিজ্ঞানমন্ত্রী বে কিয়ং হুন বলেন, সরকার এসব প্রযুক্তির ‘বীজ’কে বড় হতে সহায়তা করবে। সরকার ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এমন একটি দক্ষিণ কোরিয়া গড়ে তুলতে চাচ্ছে, যার সঙ্গে অন্যান্য দেশের প্রতিযোগিতা করা কঠিন হবে। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া মূলত বর্তমান প্রযুক্তি খাতের সাফল্যের ওপর নির্ভর না করে ভবিষ্যতের অর্থনীতির জন্য নতুন ভিত্তি তৈরি করতে চায়। পারমাণবিক শক্তি, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, মহাকাশ ও জৈবপ্রযুক্তির মতো খাতে বিনিয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন