০২:০১ পি.এম
যুক্তরাজ্যের সাসেক্স অঞ্চলে রাতে শেষ ভাগে বজ্রপাতের কারণে একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা সারারাত কাজ চালিয়েছেন।
দমকল ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, ক্রলির থ্যাচার ক্লোজ এলাকায় একটি বাড়িতে আগুন লাগে। ওয়েস্ট সাসেক্স ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, ওই আগুনের উৎস বজ্রপাত ছিল। একই সময়ে রাত ১২টার পর ইস্টবোর্ন ও বেক্সহিল এলাকায় আরও দুটি বাড়িতে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার পর দ্রুতই দমকলের চারটি করে ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
ইস্ট সাসেক্স ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বজ্রপাতের কারণে দুটি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতজুড়ে বজ্রপাত চলতে থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ধার কার্যক্রম প্রয়োগে আরো কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, বজ্রপাত কিছুটা কমে এলে দমকলকর্মীরা বেক্সহিলের ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যান। সেখানে তারা উঁচু মইযুক্ত দমকল গাড়ি ব্যবহার করে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে তারা আগুনের কারণে উত্তপ্ত থাকা অংশগুলোতে পানি ছিটিয়ে ঠান্ডা করার কাজ অব্যাহত রাখেন। দুপুর ১২টার দিকে পুরো এলাকা পুনরায় পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরো জানান, দীর্ঘ এবং ব্যস্ত রাত কাটানোর পর ইস্টবোর্নের আগুন এখন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের বিরোধীরা গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন জানালেন
অন্যদিকে ওয়েস্ট সাসেক্স ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, থ্যাচার ক্লোজ এলাকায় এখনো চারটি দমকল ইউনিট কাজ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভোর আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে বজ্রপাতের পর সেখানেও আগুনের সূত্রপাত হয়।
এ পর্যন্ত কোনো ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর আগে আবহাওয়া দপ্তর রাত ২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ইস্ট সাসেক্স ও কেন্টের বড় অংশে বজ্রঝড়ের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছিল। এই সতর্কতার মধ্যেই একাধিক বজ্রপাত এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে কয়েক দিন ধরে যুক্তরাজ্যে তীব্র গরম এবং চরম তাপপ্রবাহ চলছিল। এর পর হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি এবং ঝড় শুরু হয়।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, তখন বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে কয়েক দিন টানা তীব্র রোদ থাকার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বজ্রপাত এবং ঝড়ের ঘটনা বেশি ঘটে।
আরও পড়ুন: শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা করতে ব্যর্থ হলে সরকারকেই দায় নিতে হবে: মঞ্জু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন