১১:৩৭ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইরে গণপিটুনিতে ‘ছিনতাইকারী’ নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় নিরীহ মানুষ ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের আসামি করার অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। সোমাবার (৬ জুলাই) রাতে ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত সিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকসেবন এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। তার কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করেছেন। তাদের দাবি হল, সিজানকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার উদ্দেশে আটক করা হয়েছিল। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু ঘটনার পরে মসজিদের ইমাম, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং নিরীহ এলাকাবাসীকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে, যা হয়রানিমূলক। বিক্ষোভ মিছিলটি পশ্চিম মাসদাইরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক প্রতিবাদ সমাবেশে পরিণত হয়। সমাবেশে এক মাছ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সিজান ও তার সহযোগীরা একাধিকবার নিজের কাছ থেকে ছিনতাই ও জোরপূর্বক টাকা আদায় করেছে। এক নারী পোশাক শ্রমিক বলেন, সিজান ও তার সহযোগীদের কারণে সন্ধ্যার পর এলাকায় নারী ও শিশুদের চলাচল নিরাপদ ছিল না। সমাবেশ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, নিরীহ মানুষকে হয়রানি বন্ধ এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, 'নিহত সিজানের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। তদন্তের স্বার্থে সব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় গণপিটুনিতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে সিজানের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তার মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মসজিদের ইমামসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগে এক যুবকের মোবাইল ফোন ছিনতাই ও বিক্রির বিষয়ে সিজানের একটি কথিত স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার জের ধরেই ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয় বলে তারা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন