ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩২ ঘণ্টার বিভীষিকা, যেভাবে বেঁচে ফিরল ১২ বছরের কিশোরী


ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩২ ঘণ্টার বিভীষিকা, যেভাবে বেঁচে ফিরল ১২ বছরের কিশোরী

ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুনের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়েছিল ১০ তলা আবাসিক ভবন। ১২ বছর বয়সী ফাবিয়ানা ব্লাঙ্কো অলৌকিকভাবে ৩২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে আটকে থেকেও বেঁচে যায়। উদ্ধার হওয়ার পর, সে জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকা একটি কেচাপের বোতল ও কিছু কুচানো চিজ খেয়েই সে বেঁচে ছিল।

ফাবিয়ানার মা কারিনা ব্লাঙ্কো তখন স্পিনিং ক্লাস নিতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় মাটি কাঁপতে শুরু করে। প্রথমে হালকা কম্পন হলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা ভয়াবহ রূপ নেয়।

কারিনা বলেন, “ভূমিকম্পের তীব্রতা বুঝতে পেরেই আমি শুধু চিৎকার করছিলাম- ‘আমার মেয়ে, আমার মেয়ে।’ তারপর গাড়িতে উঠে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ির দিকে ছুটে যাই।”

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানাল মিসর ও পাকিস্তান

সেদিন বাড়িতে একাই ছিল ফাবিয়ানা। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫, যা এক শতাব্দীর মধ্যে ভেনেজুয়েলার অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মুহূর্তেই ধসে পড়ে ১০ তলা ভবন। উত্তরাঞ্চলীয় লা গুইরা অঙ্গরাজ্যের কারাবালেদায় যখন কারিনা বাড়িতে পৌঁছান, তখন তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান।

তিনি বলেন, “একটি ভবন দেখলাম, তারপর যেখানে আমাদের ভবন ছিল সেখানে শুধু ফাঁকা জায়গা, এরপর আরেকটি ভবন। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে, পুরো ভবনটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।”

ভূমিকম্পের সময় কিভাবে ফাবিয়ানা তার মায়ের শোবার ঘরে ছিল, সে জানায়, কম্পন অনুভব করে সে রান্নাঘরে ছুটে যায় এবং রান্নাঘরের কাউন্টার আঁকড়ে ধরে। ঠিক তখনই চারপাশের দেয়াল ধসে পড়ে এবং সে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

আরও পড়ুন: আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন

ফাবিয়ানা স্মৃতিচারণ করে বলে, “সবকিছু কাঁপছিল, ভেঙে পড়ছিল। দেয়ালে ফাটল ধরল, পাশের ফ্ল্যাটের দেয়াল ভেঙে পড়ল। তখন মনে হয়েছিল, আমি মারা যাব। কেউ আমাকে উদ্ধার করতে পারবে না।”

ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩২ ঘণ্টার বিভীষিকা কাটাতে হয়েছে তাঁকে। একটু পরে বাড়ির বাইরের দিকে এসে কারিনা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মেয়ের বিছানার অর্ধেক অংশ দেখতে পান।

তিনি বলেন, “আমি পুরো এলাকাজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছিলাম আর চিৎকার করছিলাম- ‘আমার মেয়ে মারা গেছে।’ তখন আমি কী করব বুঝতে পারছিলাম না।”

অন্যদিকে, ধ্বংসস্তূপের নিচে ফাবিয়ানা চিত হয়ে আটকে ছিল। চারপাশে ছিল কংক্রিটের স্তূপ আর ছাদের ভাঙা অংশ, যা প্রায় তার মুখের সঙ্গে লেগে ছিল।

আরও পড়ুন: ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন

সে বলে, “আমি খুব সহজেই দমবন্ধ লাগা বা আতঙ্কে ভুগি। কিন্তু তখন অদ্ভুতভাবে শান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। হয়তো মস্তিষ্ক তখনও ধাক্কা সামলাচ্ছিল।”

কিছুক্ষণ পর, ওপরতলার বাসিন্দাদের পরিচর্যাকারী এক নার্স জীবিত কেউ আছে কি না জানতে চিৎকার করতে থাকেন। ফাবিয়ানা সাড়া দিলে তিনি তাকে সাহস জোগান।

ছয় ঘণ্টা পর, মধ্যরাতের দিকে ওই নার্সকে উদ্ধার করা হয়। বাইরে এসে তিনি উদ্ধারকর্মীদের জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে ফাবিয়ানা নামে একটি মেয়ে এখনও জীবিত রয়েছে।

এ খবর শুনে কারিনার জীবনে যেন নতুন আশার আলো ফিরে আসে।

আরও পড়ুন: আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ৪৭.৪২% পরিবার ঋণের চাপের মধ্যে

তিনি বলেন, “আমি তখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলাম, যেন ফাবিয়ানাকে ছাড়া নতুন জীবন শুরু করার শক্তি পাই। ঠিক তখনই কেউ এসে বলল- ‘আপনার মেয়ে বেঁচে আছে’।”

ফাবিয়ানা জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে সে কোনও আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিল না।

সে জানায়, “কী কারণে জানি না, কিন্তু আমার মনে আশা ছিল। একটি পা অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো অবস্থায় ছিল। সেটি সোজা করতে গিয়ে কিছু ইট-পাথর সরাই। তখনই একটি কেচাপের বোতল আর কিছু কুচানো চিজ পাই। সেগুলো খেয়েই আমি জ্ঞান ধরে রাখতে পেরেছিলাম।”

স্বেচ্ছাসেবকই হয়ে ওঠেন নায়ক। পরদিন সকালে দমকলকর্মীরা এসে ফাবিয়ানাকে খুঁজলেও তার কোনও সাড়া পাননি। পরে তারা জানিয়ে দেন, আর কিছু করার নেই।

আরও পড়ুন: ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ইউপি নির্বাচনের তফসিলের সম্ভাবনা

কারিনা বলেন, “তখন মনে হচ্ছিল হয়তো দমবন্ধ হয়ে সে মারা গেছে। ঠিক সেই সময় একজন স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে এলেন। তার নাম ভিক্টর। তিনি আমার কাছে সত্যিকারের নায়ক।”

এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে পান ফাবিয়ানা। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও তিনি একটি ভিডিও ধারণ করেন, যাতে পরে সুযোগ পেলে কারও কাছে পাঠাতে পারেন।

ভিডিওতে ফাবিয়ানা বলেন, “রিতামার প্যালেস অ্যাপার্টমেন্ট। ভূমিকম্প হয়েছে। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ। কোনও আলো নেই। কেউ আমাদের উদ্ধার করতে আসেনি। আমি একা আছি। অনেক প্রতিবেশীও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। আমাদের সাহায্য করুন।”

এদিকে স্বেচ্ছাসেবক ভিক্টর ধ্বংসস্তূপের ওপরে উঠে বারবার ডাকতে থাকেন। এবার ফাবিয়ানা তার ডাক শুনে উত্তর দেয়।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে দাঙ্গা ও লুটপাট, ম্যাক্রোঁর কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

ভিক্টর দ্রুত কারিনাকে জানান, তার মেয়ে জীবিত।

কারিনা বলেন, “আমি সবাইকে চিৎকার করে বললাম- ‘আমার মেয়ে বেঁচে আছে।’ এরপর মানুষ দলে দলে এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।”

৩২ ঘণ্টা পর অলৌকিক উদ্ধার। এরপর আরও কয়েকটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাত নেমে আসার পরও উদ্ধার অভিযান বন্ধ হয়নি।

কারিনা টর্চলাইটের ব্যবস্থা করেন। কিছু মোটরসাইকেল ও গাড়ির হেডলাইটের আলোয় ধ্বংসস্তূপ কাটার কাজ চলতে থাকে। অবশেষে ধ্বংসস্তূপে একটি ছোট ছিদ্র তৈরি হয়, যার ভেতর দিয়ে ফাবিয়ানাকে দেখা যায়।

হাসিমুখে সেই ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে তাকিয়ে থাকা ফাবিয়ানার ভিডিও পরে ভেনেজুয়েলাজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।

ফাবিয়ানা বলেন, “এত ঘণ্টা আটকে থাকার পর যখন উদ্ধারকারীদের দেখলাম, তখন বুঝতে পারলাম আমি বেঁচে ফিরব।”

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত দুইটার দিকে, অর্থাৎ ভূমিকম্পের প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা যথেষ্ট বড় একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করতে সক্ষম হন। সেই পথ দিয়েই ফাবিয়ানাকে জীবিত বের করে আনা হয়।

উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে এসে সে মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ফাবিয়ানা বলেন, “বাইরে এসে পুরো ভবনটিকে ধসে পড়া অবস্থায় দেখে মনে হচ্ছিল, যেন কোনও সিনেমা বা টেলিভিশন সিরিজ দেখছি।”

ফাবিয়ানা জানায়, বেঁচে ফিরেছেন মাত্র তিনজন। কারিনা জানান, তাদের ভবনে প্রায় ৫০ জন বাসিন্দা ছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র তিনজন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার ওই ভূমিকম্পে ৩ হাজার ৩৪২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আর এখনও নিখোঁজ রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। অলৌকিকভাবে ফাবিয়ানার বাম পায়ে একটি হাড় ভাঙা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে সামান্য আঁচড় ও আঘাত ছাড়া বড় কোনও শারীরিক ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে সে তার নানীর বাড়িতে রয়েছে। তবে মানসিকভাবে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি।

ফাবিয়ানা বলে, “শুরুর দিকে চিত হয়ে শুতে খুব ভয় লাগত। তখনই ধ্বংসস্তূপের নিচে কাটানো সময়ের কথা মনে পড়ে যেত।”

বর্তমানে তাদের নতুন বাড়ির আশপাশেও অসংখ্য ধসে পড়া ভবন দেখা যায়। কারিনা বলেন, “চারদিকে শুধু শোক আর কষ্ট। প্রতিবেশী আর বন্ধুদের কথা মনে পড়লে খুব কষ্ট হয়। স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। কিন্তু আমাদের সামনে এগিয়ে যেতেই হবে। একজন মায়ের আর কী চাই? আমার মেয়ে বেঁচে আছে- এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

 সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমাদেরকে খুনের পরিকল্পনায় বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে : নাহিদ ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


আমাদেরকে খুনের পরিকল্পনায় বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে : নাহিদ ইসলাম

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? স্পষ্টভাবে আমাদেরকে খুন করার পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত সোয়া ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালীন বোমা বিস্ফোরণের পর তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে সমাবেশে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সমাবেশে ওই সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের পর নেতাকর্মীদের আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এ সময় নাবিলা তাসনিদ মাইকে নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সাভার থেকে আমরা আগস্টে কর্মসূচি সমাপ্ত করছিলাম। তারা বিদ্যুৎ বন্ধ করে এখানে বোমা ফুটিয়েছে। আমরা মনে করি প্রশাসনের সহায়তায় আজকের এই পদযাত্রাকে বন্ধ করার জন্য এখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তিনি এই সরকারকে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে বলেন, জবাব দিতে হবে। কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেন না, তারও জবাব দিতে হবে। তিনি এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে বলেন, আপনারা হুঁশিয়ার থাকুন। আমরা জুলাইয়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবো, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করব, সীমান্ত সুরক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি সফলভাবে আদায় নিশ্চিত করব। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই সভার দায়িত্বে যারা ছিলেন—পুলিশ প্রশাসন, ডিসি—কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেল? কীভাবে এটা ঘটল? এই এলাকার এমপি কী করছে? সে কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে? তিনি জানান, আজকে এখান থেকে আমাদের কয়েকজন ভাই গুরুতর আহত হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন এবং এমপিকে আমরা জবাবদিহিতার আওতায় আনব। ঘটনার বিচার দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিচার চাই। কোনো সন্ত্রাসীর ঠিকানা এই সাভারে হবে না। যারা গণহত্যাকারীদের প্রশ্রয় দেবে, যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনিদের প্রশ্রয় দেবে, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হবে। এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এনসিপির পদযাত্রা চলমান থাকবে। ভয়ভীতি, বোমাবাজি—সবকিছুকে উপেক্ষা করে আমাদের পদযাত্রা চলমান থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিবি পুলিশের ওপর হাতবোমা হামলা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ পি.এম


ডিবি পুলিশের ওপর হাতবোমা হামলা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

 

মাদারীপুর সদর উপজেলার একাধিক মামলার আসামি পারভেজ ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করার পর হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে সহযোগীরা। এসময় আসামির ফেলে যাওয়া ৩০০টি ইয়াবা উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম এ তথ্য জানান। সোমবার (৬ ‍জুলাই) রাত ৮টার সময় সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে।

পালিয়ে যাওয়া পারভেজ ব্যাপারী স্থানীয় ওই এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে, বলে দাবি পুলিশের।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পারভেজকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুকুরপাড়ে যায়। পারভেজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর তার লোকজন একাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়।

মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নঈম জানান, পারভেজ একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে এসময় পারভেজের সহযোগীরা হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটালে তিনি পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া ৩০০টি ইয়াবা পাওয়া যায়। তবে কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি। পারভেজকে ধরতে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির জানাজায় ট্রাম্পের ছবিতে পাথর নিক্ষেপ, ২০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ পি.এম


খামেনির জানাজায় ট্রাম্পের ছবিতে পাথর নিক্ষেপ, ২০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হাজার হাজার শোকাতুর জনতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতীকী ছবিতে পাথর নিক্ষেপ করছেন।

আজ সোমবার প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ইরানের রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সংবাদ সংস্থা মিজান নিউজ এজেন্সির জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ইসলামের পবিত্র হজব্রতের ‘শয়তানের স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ’ (রমি আল-জামারাত) আচারটির অনুকরণে ট্রাম্পের ছবিতে নুড়ি পাথর ছুড়ে নিজেদের ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করছেন।

নিহত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আজ রাজধানী তেহরানের রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল নামে। শোকের আবহে পুরুষ ও নারীরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামের প্রজাতন্ত্রের পতাকা এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ছবি হাতে মিছিলে শামিল হন। রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত এই বিশাল সমাগম থেকে বরাবরের মতোই ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ স্লোগান তোলা হয় এবং মার্কিন পতাকা পোড়ানো হয়।

জানাজা চলাকালীন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর হাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি-সংবলিত একটি ‘ওয়ান্টেড’ বা মোস্ট ওয়ান্টেড ধাঁচের ব্যানার দেখা যায়, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কেড়েছে। ব্যানারটিতে বড় অক্ষে লেখা ছিল ‘কিল ট্রাম্প’ (ট্রাম্পকে হত্যা করো)। এ সময় খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জীবিত অথবা মৃত এনে দিতে পারলে ২০ মিলিয়ন (দুই কোটি) মার্কিন ডলারের বিশাল অঙ্কের পুরস্কার বা বাউন্টি ঘোষণা করা হয়।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানে যেকোনো রাষ্ট্রীয় সমাবেশে জানাজায় আসা সাধারণ মানুষের এই ধরনের মার্কিনবিরোধী অবস্থান একটি নিয়মিত চিত্র। আজকের এই জানাজা মিছিল থেকে ট্রাম্পের পাশাপাশি তার প্রশাসনের তথাকথিত ‘যুদ্ধবাজ উপদেষ্টা’দের একটি তালিকাও জনসাধারণের মধ্যে বিলি করা হয়। আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করে সেই উপদেষ্টাদেরও ভবিষ্যৎ প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৮২২ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ পি.এম


ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৮২২ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮২২ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে। এবারের বাজেটে নতুনভাবে কোনো কর আরোপ করা হয়নি। তবে সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট ঘোষণার অনুষ্ঠানে এসব তথ্য সোমবারের দুপুরে জানান ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব বাজেট ১৭৬ কোটি ২৭ লাখ এবং উন্নয়ন বাজেট ৬৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৬৪৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

বাজেট ঘোষণাকালে প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, নতুন অর্থবছরে নগরবাসী, ব্যবসায়ী বা কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর নতুনভাবে কোনো ধরনের কর আরোপ করা হবে না। বরং যেসব এলাকায় নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে, সেসব এলাকাকে করের আওতায় এনে রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নগরের যেসব এলাকায় অপরাধের প্রবণতা বেশি এবং নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হয়, সেখানে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাসে নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামীর আর্থিক বছরে সড়ক, ড্রেন ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ আরও জোরদার করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই নগরের অধিকাংশ সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের ন্যায্য সেবা নিশ্চিত করাই সিটি করপোরেশনের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাজেট অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদের সঞ্চালনায় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%