বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৪:২৬ পি.এম
বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩ গাইবান্ধা আয়োজিত ‘মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ’ বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেছেন, যে দেশের মাটিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুয়ে আছেন, যে দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর—সেই দেশে মাদক কোনোভাবেই প্রশ্রয় পেতে পারে না।
তিনি বলেন, মাদক ও সামাজিক অপরাধ থেকে শিক্ষার্থী, তরুণ ও আগামী প্রজন্মকে দূরে রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা উচিত।
বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩ গাইবান্ধা আয়োজিত ‘মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, গাইবান্ধায় অনেক আলোকিত মানুষের বসবাস। র্যাবের মহাপরিচালকের বাড়িও এই জেলায়। এমন একটি আলোকিত এলাকায় মাদকের আখড়া থাকতে পারে না, মাদক প্রশ্রয় পেতে পারে না। গাইবান্ধা থেকেই মাদক নির্মূলের অভিযান শুরু হবে।
তিনি গাইবান্ধা সরকারি কলেজসহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদকমুক্ত রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদক ও সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রাখতে তাদের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার প্রতি মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
র্যাব-১৩, সিপিসি-৩ গাইবান্ধার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার রেজাউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক অধ্যাপক মাজহারউল মান্নান এবং গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জ, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় ঘটেছে একটি সড়ক দুর্ঘটনা, যেখানে রেজাউল আলম (৪৫) নামে একজন মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলার দিগনগর এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মৃত রেজাউল আলম একজন মৌলিক তথ্য অনুযায়ী বড় বনগ্রামের মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা বাসস’কে জানান।
স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, দুপুরের দিকে রেজাউল আলম মোটরসাইকেল চালিয়ে মুকসুদপুর থেকে টেকেরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। দিগনগর এলাকায় পৌঁছানোর পর, পেছন থেকে আসা এক দ্রুতগতির অজ্ঞাত ট্রাক তাঁর মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন এবং ট্রাকের নিচে পিষ্ট হন, যা ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর বাউফলে একটি গৃহবধূর ঘর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আতিকুল ইসলাম নামে এক যুব জামায়াত নেতাকে স্থানীয় জনগণ আটক করেন। বুধবার (১২ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার পূর্ব ইন্দ্রকূল গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত আতিকুল ইসলাম সূর্যমণি ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সেক্রেটারি। জানা গেছে, প্রতিবেশী গৃহবধূর স্বামী ঘরে না থাকার সুযোগ নিয়ে বুধবার গভীর রাতে যুব জামায়াত নেতা আতিক ওই গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় গৃহবধূর শ্বশুর বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার দেন। তখন আশেপাশের লোকজন এসে তাদের আটক করেন। খবর পেয়ে আতিকের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে তার ওপর চড়-থাপ্পড় মেরে তাকে নিয়ে যান। গৃহবধূর শ্বশুর আমির হোসেন হাওলাদার বলেন, "আতিক কিছুদিন আগে আমার পুত্রবধূর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। বুধবার রাতে আমার চিৎকার শুনে পুত্রবধূর ঘর থেকে বের হয়ে কাঁপতে থাকেন আতিক। এরপর লুঙ্গি পরিবর্তন করে দ্রুত প্যান্ট পরেন। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাদের আটক করেন।" অভিযুক্ত আতিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। সূর্যমণি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ ইউসুফ হাওলাদার বলেন, "আতিক দলের কোন পদে আছেন তা আমি জানি না। তবে তিনি জামায়াত করেন, এটা সঠিক। বুধবার রাতে আতিককে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে গ্রামবাসী।" উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, "বিষয়টি আমাকে একজন অবহিত করেন। বিস্তারিত না জেনে কোনো কিছু বলতে পারছি না।" অনুরূপভাবে, বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, "খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠাই। পুলিশ যাওয়ার আগেই বিষয়টি দফারফা হয়ে গেছে। এখন অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সানাউল্লাহ (৩৩) নামে এক যুবককে টেঁটা মেরে হত্যা করার মামলায় আক্তার সরকার (৪৫) নামে একজনকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। আদালত একই সাথে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার রায়ও দিয়েছেন। নিহত সানাউল্লাহ ছিলেন দিঘুলিয়ারটেক এলাকার সাত্তার সরকারের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক নাজমুন নাহার সumi আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আক্তার সরকার রূপগঞ্জের দিগুলিয়ারটেক এলাকার মৃত আব্দুল লতিফ সরকারের সন্তান।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর সানাউল্লাহর স্ত্রী মোসলেমার সাথে পাশের বাড়ির আক্তার সরকারের মধ্যে হাঁস-মুরগি নিয়ে এক বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় অসুস্থ সানাউল্লাহ ঢাকা হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। রাতের বেলা ডাক্তার দেখিয়ে ফিরে এসে ঝগড়ার কারণ জানতে চাইলে আক্তার সরকার তাদের লোকজনের সাথে ফের একটি বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন।
এসময় উভয়পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আক্তার সরকার ঘর থেকে টেঁটা নিয়ে এসে সানাউল্লাহর বুকের নিচে আঘাত করেন। এতে সানাউল্লাহ সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসলেমা বেগম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আদালত রায়ের ঘোষণা দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে দিনাজপুরে একটি সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায়, দিনাজপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যাগে আয়োজিত র্যালির উদ্বোধন করেন দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. গোলাম রসুল রাখি।
এই র্যালিতে বিএনসিসি মহাস্থান রেজিমেন্টের ৩৪ বিএনসিসি ব্যাটালিয়নের দিনাজপুর জেলার ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪৫ জন ক্যাডেট, তিনজন সামরিক প্রশিক্ষক, চারজন পিইউও, সরকারি কলেজের প্রতিনিধিসহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
র্যালি শেষে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. গোলাম রসুল রাখি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে, এটি এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সম্ভব হলে ডেঙ্গু অনেকটাই প্রতিরোধ করা যাবে। তিনি বলেন, চিকিৎসার চেয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন। ব্যক্তি, পরিবার, এলাকাবাসী এবং জাতীয় পর্যায়ের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ রয়েছে।
র্যালিতে দিনাজপুর স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক শেখ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক অ্যান্ড এস্টেট) সুমন রঞ্জন সরকার, সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান, পিইউও বিএনসিসি মো. হামিদুর রহমান সোহেল, সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. সাদরাতুন মুমতাহিনা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন মো. নাহিদ, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নূর আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ