ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দিনাজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত


দিনাজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে দিনাজপুরে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায়, দিনাজপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যাগে আয়োজিত র‍্যালির উদ্বোধন করেন দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. গোলাম রসুল রাখি।

আরও পড়ুন: মণ্ডপের দেয়ালে শিল্পকর্মে বাবার আত্মত্যাগের গল্প ও কৃষকের অবদান

এই র‍্যালিতে বিএনসিসি মহাস্থান রেজিমেন্টের ৩৪ বিএনসিসি ব্যাটালিয়নের দিনাজপুর জেলার ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪৫ জন ক্যাডেট, তিনজন সামরিক প্রশিক্ষক, চারজন পিইউও, সরকারি কলেজের প্রতিনিধিসহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

র‍্যালি শেষে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. গোলাম রসুল রাখি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে, এটি এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সম্ভব হলে ডেঙ্গু অনেকটাই প্রতিরোধ করা যাবে। তিনি বলেন, চিকিৎসার চেয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন। ব্যক্তি, পরিবার, এলাকাবাসী এবং জাতীয় পর্যায়ের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ রয়েছে।

র‍্যালিতে দিনাজপুর স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক শেখ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক অ্যান্ড এস্টেট) সুমন রঞ্জন সরকার, সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান, পিইউও বিএনসিসি মো. হামিদুর রহমান সোহেল, সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. সাদরাতুন মুমতাহিনা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন মো. নাহিদ, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নূর আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার আসামি মেরিল সুমন গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরনো স্টেডিয়ামে চলছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার বিকেলে তোলা। -কালের কণ্ঠ

রাজধানী ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জে। এ উপলক্ষে আগামী রবিবার (১৬ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে জেলার সদর, কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।

এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পাকুন্দিয়ায় পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদ্বোধন এবং সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ। এর বাইরেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এটিই নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম কিশোরগঞ্জ সফর। তার এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার জেলাটিতে এবার আশানুরূপ উন্নয়ন সম্ভব।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশা করছেন, এ সফরের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ও মানুষের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা এ জন্য সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছেন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জেলা শহর ও কটিয়াদীর রাস্তাঘাট সংস্কার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পরিষ্কার করা হয়েছে। সার্কিট হাউস সাজিয়ে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুরো জেলাজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে এবং তার বক্তব্য শুনতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে কিশোরগঞ্জবাসী মনে করছেন এবার প্রকৃত অর্থেই উন্নয়নের ছোঁয়া মিলবে।

বেকারত্ব ঘুচবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কটি চার লেনে রূপান্তর এবং ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথটি ডাবল লাইনে রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি। বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত কিশোরগঞ্জ ইপিজেড এবং দেশি চিনি শিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কালিয়াচপড়া চিনিকল সচল করার দাবি উঠেছে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত ও মুমূর্ষু রোগীদের স্থানান্তরে বাজিতপুরের সরারচরে নির্মিত বিশাল এয়ারট্রিপটি বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করার প্রকল্পটিও অনেক পুরনো। বন্ধ থাকা কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলটি চালু করার দাবিও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। এছাড়া, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রেলপথে আরো দুটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু, হাওরকেন্দ্রিক মৎস্য হিমাগার নির্মাণ, নতুন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর ও কটিয়াদী উপজেলাকে গ্যাস সঞ্চালন লাইনের আওতায় আনা, নিকলীসহ হাওরের পর্যটনে মনোযোগ বাড়ানোর দাবিও রয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলাবাসীর মধ্যে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ জেলা সফরের সূচিতে জানানো হয়েছে, তিনি রবিবার সড়কপথে কিশোরগঞ্জ আসবেন। এদিন সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা, বিতরণ ও স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বেলা সাড়ে ১২টায় কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর দুপুর ১টার দিকে আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।

বেলা আড়াইটায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজের পরে কিছুক্ষণ বিশ্রামের সময় নেওয়ার কথাও রয়েছে। বিকেল ৪টায় জেলা শহরের পুরনো স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, অন্যান্য অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম তথা অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরতদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিশোরগঞ্জ সফরকালে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করে জাতীয় মৎস্যপক্ষ উদ্বোধন করবেন। এদিন মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখা সারা দেশের ১৪ জন উদ্যোক্তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক দেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম, এবং সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার যে পাইলট কার্যক্রম রয়েছে, সেটিও উদ্বোধন করবেন।

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন কিশোরগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতে পারেন।

দু্ই সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন যে, বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ হাওরাঞ্চলে দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন হয়ে থাকে। এই কারণে এ অঞ্চলের সম্ভাবনা, উদ্যোক্তা ও খামারিদের সাফল্য জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতেই প্রধানমন্ত্রী তার ইচ্ছায় রাজধানীর বাইরে কটিয়াদীতে এবারের মূল আয়োজনটি করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুতিনের বিলিয়ন ডলারের প্রাসাদ রক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইউক্রেনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


পুতিনের বিলিয়ন ডলারের প্রাসাদ রক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইউক্রেনের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কৃষ্ণসাগর উপকূলস্থ বিলিয়ন ডলারের অতি বিলাসবহুল প্রাসাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত অত্যন্ত শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ইউক্রেনের দ্বারা ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হয়েছে।

গত এক সপ্তাহের মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্টের অবকাশযাপনকেন্দ্রের ১২ মাইল দূরে জেলেনঝিক এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনী দুটি ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলে পুতিনের প্রাসাদ রক্ষাকারী একটি এস-৪০০ বিধ্বংসী বিমানবিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও এর লঞ্চ প্যাড ধ্বংস হয়েছে, যা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকে, ইউক্রেনীয় সামরিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফল হামলাটির পর কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত পুতিনের ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের এই সুবিশাল রাজপ্রাসাদটি কার্যত সুরক্ষাহীন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আক্রমণের প্রথম ধাপে গত ৭ আগস্ট ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার 'ভোলনা কুপোল গ্যারান্ট' নামের একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানে। ২০ বর্গমিটার এলাকায় স্টারলিংক যোগাযোগব্যবস্থার কার্যকারিতা নষ্ট করতে এই রুশ প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হত। এরপরের রবিবার পূর্ববর্তী দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ মিটার দূরে থাকা একটি এস-৪০০ বিমানবিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও এর লঞ্চ প্যাডকে লক্ষ্যবস্তু করে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়।

ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার মেজর রবার্ট ব্রোভদি জানান, ধ্বংস হওয়ার আগে রবিবার রাতে এস-৪০০ ব্যবস্থাটি থেকে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এরপরই ইউক্রেনীয় হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হয় এবং তিন ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকে। সামরিক বিশ্লেষক ইয়ান মাতভেয়েভ স্যাটেলাইট চিত্র পর্যবেক্ষণ করে অন্তত একটি লঞ্চার ধ্বংসের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ধ্বংসের ফলে প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রাসাদটি এখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। কারণ, রাশিয়া যেকোনো আকাশপথের হামলা ঠেকাতে এই এস-৪০০ ব্যবস্থার ওপরেই নির্ভরতা রেখেছিল।

রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলের জেলেনঝিক শহরের কাছে কৃষ্ণসাগর উপকূলে অবস্থিত ইতালীয় স্থাপত্যশৈলীর এই সুবিশাল প্রাসাদের নির্মাণব্যয় আনুমানিক ১.২ বিলিয়ন ডলার। প্রয়াত রুশ বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির অ্যান্টি-করাপশন ফাউন্ডেশনের অনুসন্ধানে এই প্রাসাদের গোপন তথ্য প্রথম ফাঁস হয়েছিল। প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির জন্য বিস্তৃত এই রাজকীয় কমপ্লেক্সে একটি হকি রিংক, নিজস্ব সিনেমা হল এবং একাধিক বিলাসবহুল রেস্তোরাঁও রয়েছে। পুরো এলাকা নো-ফ্লাই জোনের আওতায় এবং রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি-এর কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঘেরা থাকে।

এর আগে চলতি মাসের ৩ আগস্ট প্রাসাদের অদূরে আর্খিপো-ওসিপোভকা সৈকত এলাকায় একটি ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় তিন শিশুসহ অন্তত সাতজন প্রাণ হারায় এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়, যাকে ইউক্রেনের পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করেছিল মস্কো।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী রাশিয়ার সীমানার গভীরতর আক্রমণ জোরদার করেছে, যার মধ্যে গত সপ্তাহের ৬০০ মাইলেরও বেশি ভেতরের একটি ড্রোন হামলাও অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে রেডিও স্বোবোদার করা একটি তদন্তে দেখা যায়, পুতিনের আরেক আবাসস্থল ভালদাই হ্রদের প্রাসাদ ঘিরে ২৭টি আকাশ প্রতিরক্ষা টাওয়ার স্থাপনসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে। মে মাসে ফাঁস হওয়া একটি ইউরোপীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার চেষ্টা এড়াতে রুশ প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানের মধ্যে রয়েছেন এবং ব্যাংকারে লুকিয়ে থাকার মতো চরম পথও বেছে নিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৬ আগস্ট শুরু জাতীয় মৎস্য পক্ষ, স্বর্ণপদক পাচ্ছে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


১৬ আগস্ট শুরু জাতীয় মৎস্য পক্ষ, স্বর্ণপদক পাচ্ছে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ শুরু হবে আগামী ১৬ থেকে ৩০ আগস্ট সারা দেশে, ‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যের সাথে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

মৎস্য উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) প্রদান করা হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।

মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জাতীয় মৎস্য পদক তুলে দেবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় মৎস্য পদক দেশের মৎস্যখাতে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার জন্য গৃহীত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ বছর ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পদক অর্জন করবে।

জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, যেমন শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার এবং মৎস্য মেলা। এর মাধ্যমে নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে মৎস্যখাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সরকার খাতটিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী করতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাগরিককে চড়-থাপ্পড় বা লাঠিপেটার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেই: আসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


নাগরিককে চড়-থাপ্পড় বা লাঠিপেটার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেই: আসক

ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের বালুর ঘাটে, ইজারাদারের এক কর্মীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কর্তৃক চড়-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে মারধরের ঘটনার পর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তীব্র প্রতিবাদ এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আসক’র সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদের কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গত ১২ আগস্ট কালীরবাজার এলাকায় মোবাইল কোর্ট অভিযানের সময় ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী ইজারাদারের এক ব্যবস্থাপককে পরপর দুটি থাপ্পড় মারেন এবং লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন। পরে আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন বলেও সংবাদে উল্লেখ রয়েছে।

আসক মনে করে, আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা একজন সরকারি কর্মকর্তার হাতে একজন নাগরিকের এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়। যদি কোনো ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করেছে বলেও সন্দেহ থাকে, তবে তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আইন প্রয়োগের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ কারোর নেই।

মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর কোনো বিধানেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের চড়-থাপ্পড়, লাঠিপেটা বা শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নেই। মোবাইল কোর্ট আইনের অধীনে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বিচার এবং আইনে নির্ধারিত শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তবে কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করা বা লাঞ্ছিত করা সেই ক্ষমতার অংশ নয়।

যখন একজন সরকারি কর্মকর্তা রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার আচরণে আইন প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সংযম প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। তার হাতে অর্পিত ক্ষমতা নাগরিককে অপমান বা শারীরিকভাবে দণ্ডিত করার ক্ষমতা নয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা একটি অনুগ্রহ নয়, এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

এ অবস্থায় আসক প্রশ্ন উঠছে, কোন আইনি এখতিয়ারের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ইউএনও একজন নাগরিককে চড় মারলেন এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন? মোবাইল কোর্টের কোন বিধান তাকে এ ধরনের শারীরিক শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছে? যদি এমন কোন আইনগত ক্ষমতা না থাকে, তাহলে এ ধরনের আচরণকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অংশ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র মনে করে, ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধু ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ঘটনার তদন্ত করা। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যসহ সব প্রমাণ সংরক্ষণ করে তদন্ত করা উচিত। একই সাথে তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%