ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ট্রাম্প এত দিন মিথ্যা বলেছিলেন?


ট্রাম্প এত দিন মিথ্যা বলেছিলেন?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:১৪

বিষয়টি গোয়েন্দা সিনেমার মতই রোমাঞ্চকর। ডেটলাইন ৮ জুলাই।

আরও পড়ুন: শেনজেন ভিসার আবেদন বন্ধ করেছে সুইডিশ দূতাবাস

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্ক এসেছিলেন। তিনি এসেছিলেন কাতার রাজপরিবারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে। কিন্তু ফেরার সময় বিমানবন্দরে দেখা গেল এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানটি দাঁড়িয়ে আছে।

রাতারাতি বিমান বদলানোর বিষয় নিয়ে কারো কল্পনা ছিল। সেই কল্পনার ভেতর দিয়েই ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানে চড়ে বসেন। এর আগে তিনি বিমানের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নিলেন, ছবি উঠলো। প্রচার হলো যে ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানে চড়ে আঙ্কারা ত্যাগ করলেন।

এমন পরিস্থিতিতে বিমানে তখন ট্রাম্পের সফরসঙ্গী সাংবাদিক, হোয়াইট হাউসের স্টাফ এবং বিমানের কর্মীরা already বসেছিলেন।

এরপর সবার চোখের সামনে ধুলো দিয়ে ট্রাম্প বিকল্প দরজা দিয়ে বিমানের বাইরে নেমে গেলেন। সেখানে একটি ভ্যান ছিল, যা বিমানবন্দরের খাবার সরবরাহকারী। সেই ভ্যানের ভেতরে চড়ে পরাক্রমশালী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রানওয়ের অপর প্রান্তে অপেক্ষায় থাকা সামরিক বিমান ‘এয়ার ফোর্স সি-৩২এ’তে চলে গেলেন।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্য-ডানপন্থীদের প্রাইমারিতে অংশ নেবেন না এদুয়ার ফিলিপ

সবার কল্পনাকে হার মানিয়ে সেই সামরিক বিমান নিয়ে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মিল্ডেনহল ঘাঁটিতে উড়ে গেলেন।

কিন্তু নাটক তখনও শেষ হয়নি। ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানটি পৌঁছানোর কিছু মিনিট পর এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানটিও পৌঁছে যায় সেখানে। ট্রাম্প সামরিক বিমান থেকে নেমে একটি গোপন দরজা দিয়ে ভেতরে গিয়ে বসলেন এয়ারফোর্স ওয়ানে। এরপর যথারীতি, একজন সিদ্ধ অভিনেতার মতো, তিনি হাত নাড়তে নাড়তে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে নেমে আসেন।

সবাই জানলো ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানের বিমানে চড়েই আঙ্কারা থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছেন। সেখান থেকে তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে এয়ারফোর্স ওয়ানের নতুন বিমানে চড়ে ওয়াশিংটন ফিরলেন। ওয়াশিংটন পোস্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই গোপন অভিযানের খবর প্রকাশ না করা পর্যন্ত সবাই ভাবছিল, তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানেই আঙ্কারা ছেড়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট খবর প্রকাশের পর ট্রাম্প তার এই গোপন অভিযানের গল্প স্বীকার করে বলেছেন, সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শে তিনি এটি করেছেন। তবে প্রেসিডেন্টের এই গোপন অভিযান নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম হচ্ছে।

ওয়াশিংটনের পোস্টের খবরের সত্যতা স্বীকার করা মানে হলো, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস মিলে ট্রাম্পের ফেরার ব্যাপারে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা বলেছেন। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার কারণে সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শে গোপন অভিযান বা অভিনয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ইরান যুদ্ধে প্রভাব ফেলতে পারে

প্রশ্ন হলো, নিরাপত্তা ঝুঁকি কেটে যাওয়ার পরও কেন বিষয়টি পরিষ্কার করে জানানো হলো না। কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বদলের ঘটনা এটি প্রথম নয়, ২০০০ সালে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাকিস্তান সফরের সময়ও বিমানের বদল হয়েছিল। ক্লিনটনের জন্য নির্ধারিত মার্কিন ব্র্যান্ডের সি-২০ বিমানটি অবতরণ করার কিছুক্ষণ পর একটি চিহ্নহীন সি-২০ বিমানে করে ক্লিনটন পাকিস্তান পৌঁছেছিলেন। ওসামা বিন লাদেনের মতো সন্ত্রাসীরা বিমানটি ভূপাতিত করতে পারে, এই আশঙ্কার কারণে ক্লিনটনের বিমান বদলানোর ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু ক্লিনটন শিগগিরই তার নিরাপত্তা কৌশল কার্যকরভাবে প্রকাশ করেছিলেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট মঙ্গলবার জানিয়েছে, ক্লিনটন হোয়াইট হাউস সফরের আগে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানকে অফ দ্য রেকর্ড ব্রিফ করেছিলেন। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো, আপাত বিপদ কেটে যাওয়ার পরেও ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউস ক্রমাগত মিথ্যা বলে গেছে।

যুক্তরাজ্য থেকে এয়ারফোর্স ওয়ানের নতুন বিমানে চড়ে ওয়াশিংটন ফেরার পথে বিমানে বসে সাংবাদিকদের সাথে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প বারবার কোনো ধরনের হুমকির কথা অস্বীকার করেন। যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরার পথে এক সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ‘আপনি বলছেন কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল না?’ ট্রাম্প উত্তর দেন, ’না। না। কেন থাকবে?’ অন্য কোনো সমস্যা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’না।’

নির্দিষ্ট কোনো হুমকি ছিল কি না তা নিয়ে সাংবাদিকরা ক্রমাগত চাপ দিতে থাকলে ট্রাম্প বিষয়টি এড়িয়ে যান। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন, আমার ওপর তো সবসময়ই হুমকি থাকে। আপনাদের আগে তাদের তালিকায় আমি এক নাম্বারে আছি। তবে আমি গেলে, আপনারাও যাবেন।’ মুখে ‘আমি গেলে আপনারাও যাবেন’ বললেও ট্রাম্প কার্যত সাংবাদিক এবং অন্য স্টাফদের ঝুঁকির মুখে ফেলে নিজে বিকল্প বিমানে চড়ে বসেছিলেন।

আরও পড়ুন: নতুন ভোটার হওয়া ও এনআইডি সংশোধনের নিয়ম জেনে নিন

এখন প্রশ্ন উঠেছে, সত্যি যদি ঝুঁকি থাকেই, তাহলে সাংবাদিক এবং অন্য স্টাফদের নিরাপত্তার বিষয়টি কেন বিবেচনায় নেয়া হয়নি? তাদের কেন কিছু না জানিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে বাধ্য করা হলো? কেন তাদের জন্য কোনো বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হলো না? তাছাড়া এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বিমানটি রক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল? ট্রাম্পকে রক্ষায় কি তাহলে এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমান এবং তার যাত্রীদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লিনটনের মতো ট্রাম্পও অফ দ্য রেকর্ড সাংবাদিকদের জানিয়ে রাখতে পারতেন। তবে সাংবাদিকদের সাথে ট্রাম্পের সেই আস্থার সম্পর্ক নেই। সাবেক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট রবার্ট ম্যাকডোনাল্ড সিএনএন-এর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ’অন্য বিমানটির জন্য কী ধরনের নিরাপত্তা নেয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠবে, যেখানে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিরা তখনও সেই বিমানে ভ্রমণ করছিলেন।‘

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও গত মঙ্গলবার সিএনএন-এর একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যান, যেখানে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে প্রশাসন সাংবাদিক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল কি না। সাংবাদিক কিংবা সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, কংগ্রেসকেও বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। একজন ডেমোক্রেটিক জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগী গত মঙ্গলবার জানান, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের দল ‘গ্যাং অব এইট’-কেও এই ঘটনাটি সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়নি।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্টের যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় কংগ্রেস সাধারণত গভীরভাবে যুক্ত হয় না। তারপরও ওই সহযোগী মনে করেন, ’ঘটনাটি সম্পর্কে না হলেও, হুমকির বিষয়ে কংগ্রেসকে ব্রিফ করা উচিত ছিল।’

আরও পড়ুন: আইআরজিসির দাবি: হরমুজে মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ

বারাক ওবামার সময় হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা ডেভিড অ্যাক্সেলরড সিএনএন-এর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ’হুমকির মাত্রা এতটা বেশি থাকার কারণে প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করতে যদি তাদের এমন অসাধারণ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়ে থাকে, তবে মার্কিন জনগণের জানার অধিকার ছিল যে এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে হুমকির মাত্রা এতটাই উচ্চ ছিল।’

ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউস বরাবরই ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। কিন্তু নিরাপত্তার হুমকির কারণে গোপনে বিমান বদলের ঘটনায় এটা প্রমাণিত, ইরানের কথিত হুমকিটি যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য ছিল। শুধুমাত্র ট্রাম্প নয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথও বিমান ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে ইরানের তথাকথিত অক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

গত মার্চ মাসে হেগসেথ বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল শিগগিরই ’ইরানি আকাশসীমার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ এবং ’প্রশ্নাতীত আকাশসীমা’ লাভ করবে। গত ২৪ মার্চ ট্রাম্প যোগ করেছিলেন, ’আমাদের বিমান আক্ষরিক অর্থেই তেহরান এবং তাদের অন্যান্য অংশের ওপর দিয়ে উড়ছে; তারা এ নিয়ে কিছুই করতে পারছে না।’

ট্রাম্প আরো বলেছিলেন, ইরানের কোনো নৌবাহিনী, কোনো সামরিক বাহিনী, কোনো বিমান বাহিনী এবং কোনো বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা নেই। এখন দেখা যাচ্ছে সবই বাগাড়ম্বর। ইরানের ভয়েই আঙ্কারা থেকে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে, ট্রাম্প ও হেগসেথের মন্তব্যের পরপরই, এপ্রিলের শুরুতে দুটি মার্কিন জেট বিমান ভূপাতিত করে ইরান তাদের সক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের আহ্বান: পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হতে হবে

তারচেয়ে বড় কথা হলো, ট্রাম্প আঙ্কারা থেকে এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানে চড়ে আঙ্কারা ত্যাগের সময়ই এয়ারফোর্স ওয়ানের নতুন বিমানটির নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিষয়টি হোয়াইট হাউস বরাবর অস্বীকার করে এসেছে। ট্‌রাম্প তখন বলেছিলেন, মার্কিন সেনারা যাতে ভালো করে ঘুরে দেখতে পারে, এ জন্যই নতুন বিমানটি আগেই পাঠানো হয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমস নতুন বিমানের নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাদের চার সাংবাদিককে তলব করেছিল হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প настолько ক্ষেপেছিলেন যে, কারা এই তথ্য ফাঁস করলো, তা জানতে ব্যাপক তদন্তও হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের কারো কারো ফোন পর্যন্ত জব্দ করা হয়েছিল।

এখন ঘটনা পরম্পরায় প্রমাণিত যে, নিউইয়র্ক টাইমসের সংবাদ সঠিক ছিল। কারণ আঙ্কারা থেকে ফেরার পরেই নতুন বিমানটি আবার সংস্কারে পাঠানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, রাজকীয় বিমানে চড়ার জন্য উতালা হয়ে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। এ জন্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবে যাচাই করার আগেই তাড়াহুড়ো করে নতুন বিমানটি এয়ারফোর্স ওয়ান বহরে যুক্ত করা হয়েছিল। প্রশ্ন হলো, তাহলে নিউইয়র্ক টাইমসের চার সাংবাদিককে তলব করা হলো কেন?

অনেক প্রশ্নের শেষ প্রশ্ন হলো, ইরানের ভয়ে পালালেও ট্রাম্প এটিকে এতদিন স্বীকার করেননি কেন? ট্রাম্প যে ভয় পেয়েছেন, এটা কাউকে জানাতে চাননি নাকি ইরানের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, সেটা স্বীকার করতে চাননি?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালীগঞ্জে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


কালীগঞ্জে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অপহরণের শিকার অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজীব হোসেন (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাথী খাতুন (১৪) বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায় যে, কালীগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর বাজার থেকে গত ২ আগস্ট সকালে ওই স্কুলছাত্রীকে মোটরসাইকেলে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় রাজীব। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

পরিবারের অভিযোগ অনুসারে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে বনগ্রামের মো. হাসান আলীর ছেলে রাজীব হোসেন তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন এবং কুপ্রস্তাবও দিতেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে দামোদরপুর বাজারে আব্দুস সালামের জুতার দোকানের সামনে পৌঁছালে রাজীব মোটরসাইকেলে করে জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে বাঘারপাড়ার দিকে চলে যান।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, মামলা রুজুর পর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি রাজীবকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাউদকান্দিতে ৩৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


দাউদকান্দিতে ৩৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

 

একটি অভিযান পরিচালনা করে ৩৫ (পঁয়ত্রিশ) কেজি গাঁজা এবং একটি টয়োটা হাইস মাইক্রো গাড়িসহ মো. ইব্রাহীম (২৪) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে পৌরসভার দক্ষিণ সতানন্দীতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং গাঁজা সহ তাকে আটক করা হয়।

যার আটককৃত ব্যক্তি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থনার তাইজুল ইসলাম ও পারুল বেগমের ছেলে।

মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোরে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এটি দাউদকান্দি মডেল থানাধীন দাউদকান্দি পৌরসভার দক্ষিণ সতানন্দি এবং দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী টোল প্লাজার ১০০ গজ পশ্চিম দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে করা হয়।

এসময় সড়কে একটি হাইস গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চালক ইব্রাহীমের ড্রাইভিং সিটের নিচে বিশেষ কায়দায় বক্সে রক্ষিত মোট ১৪টি প্যাকেট, প্রতিটি প্যাকেট থেকে ৩৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে গাঁজা বহন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছেন।

 

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘এ ব্যাপারে মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিকেলে আসামিকে কুমিল্লা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের টিকাদানে ডিএনসিসি সফল, আগামী সপ্তাহে কলেরা টিকা: প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ পি.এম


হামের টিকাদানে ডিএনসিসি সফল, আগামী সপ্তাহে কলেরা টিকা: প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) হামের টিকাদান কর্মসূচিতে সফলতা দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি জানান, ডিএনসিসি সারাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে প্রথমস্থান অর্জন করেছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় উল্লেখ করেছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে নগরীতে কলেরা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।

আজ বুধবার গুলশানে ডিএনসিসি নগর ভবন মিলনায়তনে ইউনিসেফ-এর রিভিউ ওয়ার্কশপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার সময়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শহরের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়তে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন ডিএনসিসির প্রশাসক। তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ইপিআইসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে ডিএনসিসি সবসময় নগরবাসীর পাশে রয়েছে।

শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, নগরীতে কোথাও ময়লা-আবর্জনা পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে। সিটি করপোরেশনের কুইক রেসপন্স টিম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ইতিমধ্যে নাগরিকদের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী, ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রিয়াদ মাহমুদসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ লেবাননে চারতলা স্কুল ভবন উড়িয়ে দিল ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


দক্ষিণ লেবাননে চারতলা স্কুল ভবন উড়িয়ে দিল ইসরাইল

দক্ষিণ লেবাননে একটি চারতলা সরকারি স্কুল বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইলের বাহিনী। বুধবার সকালে, স্থানীয় সময় নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের জাওতার আল-শারকিয়াহ গ্রামের কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

আন্তর্জাতিক ডেস্কের খবর অনুযায়ী, লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী জাওতার আল-শারকিয়াহ গ্রামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থানরত শেখ নাঈম মাহদি পাবলিক স্কুলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সমূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়।

চারতলা ভবনটির এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে স্কুলটির অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে হামলার সময়ে সেখানে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা উল্লেখ করেছে, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোন হতাহতের খবর মেলে নি।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা নিয়ে যখন নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তখন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের এই ঘটনা সামনে এসেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর ওপর ইসরাইলি হামলা ও সামরিক অভিযানের প্রভাবে পূর্বে বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে।

স্কুলটি কেন ইসরাইলি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর থেকে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্কুল ভবনটিতে হামলার আগে সেখানে কোনো সামরিক কার্যক্রম চলছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগও ছিল না।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চলাকালীন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন করে স্কুল ধ্বংস হওয়ার ঘটনায় ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%