বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৪৪ পি.এম
পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরে ১৩ বছর বয়সী একটি কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলার আসামি তন্ময় মিস্ত্রিকে আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। একইসাথে, এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তন্ময় মিস্ত্রীকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পিরোজপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক এসএম মনিরুজ্জামান এই রায় প্রদান করেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী তন্ময় মিস্ত্রি জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার সিংহখালী গ্রামের উত্তম কুমার মিস্ত্রির ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ভান্ডারিয়া উপজেলার বেতাগী সিংহখালী কেশব লাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তিনি গনিত প্রাইভেট পড়ার জন্য একই গ্রামের সুবোধ মাষ্টারের কাছে ঠিক করার উদ্দেশ্যে গত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ৫ তারিখ সকালে তার নিজ বাড়ী থেকে বের হয়ে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে যাওয়ার পথে সকাল ৯ টার দিকে আসামী তন্ময় মিস্ত্রীর বাড়ীর দক্ষিন পাশে পাকা রাস্তায় পৌঁছলে তন্ময় মিস্ত্রী কিশোরীকে দেখে তার সাথে কথা বলার জন্য কাছে আসে ও তার মুখ চেপে ধরে অমল মিস্ত্রীর বসতঘরের পূর্ব পাশের একটি রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার বিষয় তা কাহারো কাছে প্রকাশ না করার জন্য আসামী ভুক্তভোগী কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে এবং পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
প্রথম দিকে ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এডভোকেট রহিমা আক্তার হাসি। আর আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট মো: শওকত হোসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে যে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার করেছেন, সেই প্ল্যাটফর্মটি এখন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের দমনপীড়নের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও বলপ্রয়োগের বিভিন্ন ভিডিও ইনস্টাগ্রাম, এক্স ও টিকটকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওগুলো তরুণদের কাছে মিম, রিলস ও বিভিন্ন সৃজনশীল কনটেন্টের মাধ্যমে নতুন করে প্রচারিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, এটি তাদের আন্দোলনের সরাসরি সম্প্রচার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সংগঠন কাকরোচ জনতা পার্টি সিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলন চলছে। সংগঠনটির তিনটি দফা দাবির মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক লাখ পাঁচ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, আন্দোলনের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ, ধাতব পেলট এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে। যদিও পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে আন্দোলনকারীদের ধারণা করা অসংখ্য ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে গেছে। রাজ্যের অন্যান্য স্থান যেমন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা, লখনউ এবং আইজিতেও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তরুণরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে মিম, অ্যানিমে, কমিকস এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা উপাদান ব্যবহার করছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক তরুণকে স্পাইডার ম্যান, আয়রন ম্যান অথবা হাল্কের পোশাকে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার জাপানি অ্যানিমে ওয়ান পিসের ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে।
তরুণদের দাবি, অতীতে সরকারকে সমালোচনা করতে গেলেই যে ভয় কাজ করত, এখন সেই ভয় অনেকটাই কেটে গেছে। তারা ইউটিউব এবং মূলধারার গণমাধ্যমের পরিবর্তে নিজেদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে ঘটনাগুলো বিশ্বজুড়ে তুলে ধরছেন।
ডিজিটাল মাধ্যমে আন্দোলনের প্রভাব বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে না। সেইসাথে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের কথাও বলেন।
তবে মোদীর এই বক্তব্যের পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ছবির ওপর মোদীর মন্তব্য ব্যবহার করে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট প্রকাশ করেছেন। সেখানে ক্যাপশনে লেখা হয়, "হাই, আমার নাম গুরুত্বপূর্ণ কিছু না।" আল জাজিরার মতে, ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং ব্যঙ্গের সমন্বয়ে ভারতের তরুণ প্রজন্ম এমন এক ডিজিটাল আন্দোলন গড়ে তুলেছে, যা সরকারের জন্য নতুন ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে না পারলেও, লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নানা বিতর্কের মাঝে ছিল। রেফারিংয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, খেলোয়াড়দের আচরণ এবং একাধিক বিতর্কের কারণে বিশ্বকাপ থেকে দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে তৈরি একটি অনলাইন পিটিশনে ২ কোটিরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন বলেও দাবি করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে যে, ‘Argentina Out’ শিরোনামের এই পিটিশনে বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশের ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮টি ডিজিটাল স্বাক্ষর জমা পড়েছে। পিটিশনের শুরুতেই ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা কয়েক গুণ ছাড়িয়ে গেছে।
এই পিটিশনের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয় যে, বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনা রেফারিংয়ে বিশেষ সুবিধা পেয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি আগে থেকেই বিজয়ী নির্ধারিত থাকে, তাহলে অন্য দলগুলো কেন খেলবে? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করুন।
ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর পিটিশনের আয়ोजকরা এক বার্তায় উল্লেখ করেন যে, ফিফা তাদের কথা শোনেনি, তবে স্পেন তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেছে... ধন্যবাদ স্পেনকে। ফাইনালের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে পিটিশনে স্বাক্ষরের সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়ে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনার কিছু খেলোয়াড়ের আচরণ নিয়ে সমালোচনা ওঠে। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে এরিক গার্সিয়াকে ঘুষি মারার অভিযোগ রয়েছে এবং গাভিকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও, স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবার্সির উপর কঠোর ট্যাকল করার জন্য এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখেছেন; এটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনা ছিল অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত দল। যদিও দলের নিষিদ্ধ করার দাবিতে এত বিপুল সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে, কিন্তু ফিফা এ ধরনের অনলাইন পিটিশনের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তা জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি স্বাক্ষরসংবলিত অনলাইন পিটিশনের রেকর্ড এখনও ‘জুবিলি ২০০০’ আন্দোলনের দখলে রয়েছে। সেই পিটিশনে ২ কোটি ৪৩ লাখ ১৯ হাজার ১৮১ জন স্বাক্ষর করেছিলেন। ফলে ‘Argentina Out’ পিটিশনটি অল্পের জন্য সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়া ইউক্রেনে ‘অগ্রহণযোগ্য’ অস্ত্র সরবরাহ না বাড়াতে সতর্ক করেছে।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয়।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে উদ্ধৃত করে তারা জানায়, ম্যানিলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র সঙ্গে বৈঠকে তিনি ‘কিয়েভ সরকারকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে জোর দিয়েছেন।
ম্যানিলা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানায়।
একটি এশীয় শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ল্যাভরভ ইউরোপীয় দেশগুলোর ‘অস্থিতিশীলতামূলক নীতির’ নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এসব দেশ এখনও রাশিয়াকে ‘কৌশলগতভাবে পরাজিত’ করার চেষ্টা করতে অব্যাহত রয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ল্যাভরভ সংঘাতের ‘রাজনীতিগত ও কূটনৈতিক সমাধান’ খুঁজে বের করতে রাশিয়ার প্রস্তুত থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এটি ছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর ল্যাভরভ এবং রুবিও’র মধ্যে প্রথম বৈঠক।
বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ওয়াশিংটনের মনোযোগ ইউক্রেনে মধ্যস্থতার পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ মোকাবিলার দিকে সরে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছেন, আন্দোলনের নামে ভারতকে পাকিস্তান-বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এর আগে এমন চেষ্টা সফল হয়নি, এবং এবারও হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কলকাতার রাজারহাট-নিউটাউনে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখী হয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্যটি করেন।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে গত কিছুদিন ধরেই ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। 'কাকরোচ জনতা পার্টি'র ব্যানারে এই আন্দোলন ভারতের রাজধানীতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের ‘বিদেশি শক্তির পেশাদার পুতুল’ হিসেবেও উল্লেখ করে দিলীপ ঘোষ জানান, ভারতকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা চলছে।
বিজেপির এই নেতা আরও বলেন, যে বিশিষ্ট চরিত্রগুলো বর্তমানে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা কয়েক বছর ধরে একই ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। কিছু লোক বর্তমানে চুপ থাকলেও, তারা ধীরে ধীরে সামনে আসবে। তিনি বলেন, 'আন্দোলনজীবী' নামধারী কিছু লোক সহজ-সরল মানুষকে সামনে রেখে বারবার দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। তাদের সহজ লক্ষ্য হলো পার্লামেন্টের অধিবেশন। ওই সময় সেখানে গণমাধ্যমের ও জনগণের নজর বিশেষভাবে থাকে, তাই তারা সেই সুযোগটি বেছে নিচ্ছে।
তারপর দিলীপ ঘোষ বলেন, এসব লোক অনেক চেষ্টা করেছে ভারতকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কার মতো বানাতে। তবে, তারা সফল হয়নি এবং এবারও হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনকারীদের পরিণতি কৃষক আন্দোলনের মতো হবে। একই ব্যক্তি—যারা কৃষক আন্দোলনে সক্রিয়, তারাই ছাত্র আন্দোলন ও নারী আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে।
বিদেশি শক্তির সাহায্যের অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতা জানান, এই আন্দোলনকারীরা বিদেশি শক্তির পেশাদার কাঠের পুতুল। সুতরাং, তারা কিছুটা উৎপাত তো অবশ্যই করবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ভুলে যাবেন না, সরকারটি নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের। তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। আন্দোলনকারীরা সুস্পষ্টভাবে চায় সরকার কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক, আর তখন সেটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সারা দেশে পুনরায় অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
আন্দোলনকারীদের বিদেশের দালাল বলে তীব্র কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, তাদের পেছনে বাংলাদেশের মানুষ নেই, জনতাও নেই। এ কারণে তারা বারবার নির্বাচনে পরাজিত হচ্ছে। কিছু 'দালাল টাইপের' লোক বিদেশের স্বার্থ রক্ষার কাজে লিপ্ত রয়েছে এবং সামনে এসে লাফাচ্ছে। সাধারণ জনগণ তাদের চিনে ফেলেছে। প্রথমে যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, সেই সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এখন বুঝতে পেরেছে যে তাদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এই আন্দোলনজীবীরা বিদেশের টাকায় উসকানিমূলক কাজ করে দেশে উৎপাত সৃষ্টি করছে। তবে, তাদের দিন প্রায় শেষের দিকে। ছাত্রদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তারা বারবার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়। যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করেছে, তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—যাতে কেউ এই ধান্দাবাজদের ফাঁদে না পড়ে।
রাহুল গান্ধী ও বিরোধী নেতাদের প্রতি আক্রমণ করে তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী এর আগে মোদীজির মা সম্পর্কে কী বলেছেন, তা সবার জানা। এখন যেসব নেতা বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের কোনো সংকোচ নেই। কারণ তাদের সংসার চলে অন্যের টাকায়। এরা তো শুধু অন্যদের মাইকের স্পিকার হিসেবে কথা বলে। অনেক বিদেশি শক্তি রয়েছে, যারা ভারতের উন্নয়ন ও ঐক্য চায় না। তারা এদের দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ