বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৪:৩৬ পি.এম
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর মন্তব্য করেছেন, ‘সুযোগ পেলে জামায়াত আ. লীগ থেকেও বড় ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবে।’ তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সুযোগ পেয়েছিল ফ্যাসিস্ট হওয়ার, তাই হয়েছে। জামায়াত-শিবির সেই সুযোগ পায়নি, তাই হতে পারেনি।’
কুষ্টিয়ায় জামায়াত এমপি আমির হামজার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত গণঅধিকার পরিষদের কর্মী সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে গিয়ে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেছেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত গণঅধিকার পরিষদের কর্মী সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে যাওয়ার সময়, সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলছিলেন। তিনি সেখানে আহত কর্মীর শারীরিক অবস্থার খবরও নেন।
এদিকে, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীতে প্রত্যাশা ছিল যে, অংশীদাররা ফ্যাসিবাদের আমলে মজলুম ছিল, তারা সবাই মিলেমিশে একটা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করবে। কিন্তু আমরা দেখেছি, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার খায়েশ তৈরি হয়েছে। তারা ৬ মাস না যেতেই সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বিষোদগার করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঠে কর্মসূচির নামে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এসব বিষয়ে কথা বলায়, জামায়াত-শিবির তাদের শক্তি জানান দিতে কুষ্টিয়ায় তাদের উন্মাদ সংসদ সদস্যকে দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা করেছে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাধারণ সম্পাদক মহাদিসকে কুপিয়ে তার পায়ের দুটি রগ কেটে ফেলেছে এবং সভাপতি সোহানকে বেসবল দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তার নাকের হাড় ভেঙে গেছে এবং তাকে অপারেশন করতে হয়েছে।’
নুরুল হক বলেন, ‘এই জামায়াত-শিবির আওয়ামী লীগের আমলে মজলুম থাকলেও এই ৬ মাসে সারা দেশে কর্মকাণ্ডে দেখাচ্ছে যে, জামায়াতে জামায়াত-শিবির একটা জালেম সংগঠনে পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই উগ্রবাদী ধর্মীয় বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী জামায়াত-শিবির গোষ্ঠীকে সর্বস্তরের জনগণের এখন থেকে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে হবে। এই জামায়াত-শিবির ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে মনে করি, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার কারণে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়েছে। ৭১এ কিন্তু এর চেয়ে ভয়াবহ গণহত্যা, লুটপাট, গণধর্ষণ হয়েছে। সেই ৭১-এর গণহত্যা, লুটপাট, গণধর্ষণের কারণে জামায়াত-শিবিরও কিন্তু নিষিদ্ধ হওয়া দরকার। আমরা বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করব।’
তিনি মন্তব্য করেন, ‘তাদের (জামায়াত) অতীত ইতিহাস রগকাটার ইতিহাস, ধর্ষণের ইতিহাস, দখলদারির ইতিহাস। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা দেখেছি, ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের কে ব্যবহার করে, কিভাবে তারা বিভিন্ন সরকারি অফিস আদালত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দখলবাজি, চাঁদাবাজি চালিয়েছিল।’
আরও জানান, ‘এই সরকারকে তারা ব্ল্যাকমেইল করে, তাদের রাজনৈতিক ধান্দা হাসিল করতে চায় এবং ইসলামি ব্যাংক দখলে নিতে চায়। এরকম আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের লোকজন শেয়ার নিতে চাইছে। তারা ভাগ-বাটোয়ারা চায় এবং ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা চায়।’
জামায়াত-শিবিরকে কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘এরা সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে এ দেশ জাতির জন্য ভয়ংকর বিপর্যয় নিয়ে আসবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেনকে সরকারের পক্ষ থেকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হয়েছে।
এই নিয়োগ সম্পর্কে তথ্য গত সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। সেখানে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী ডা. নাজমুল হোসেনকে আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তার অবসরোত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত করা হয়েছে এবং অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর সেনানিবাসস্থ ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-তে তিন সপ্তাহব্যাপী ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/২’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকারী ফেলোদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন।
এই কোর্সে মোট ৩৯ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
প্রধান অতিথি, জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ক্যাপস্টোন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি সকলকে আহ্বান জানান যে, জাতীয় নিরাপত্তা সুদৃঢ় করার এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান, বিএসপি, এসজিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অব্যাহত সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনে গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কোর্স চলাকালীন ফেলোদের সক্রিয় ও স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, কৌশলগত উপলদ্ধি সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় মেলবন্ধন গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এই ক্যাপস্টোন কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, গঠনমূলক চিন্তাধারার বিকাশ, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ, এনডিসির অনুষদবৃন্দ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানে একটি ট্রেনের ধাক্কায় চারজন রেলশ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে টোকিওর উত্তরে কানুমা শহরের শিন-কানুমা স্টেশনে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের উল্লিখিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাতজন শ্রমিকের একটি দল রেললাইনের পাশে আগাছা পরিষ্কার করছিলেন, যখন একটি এক্সপ্রেস ট্রেন তাদের ওপর চড়াও হয়।
দমকল বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় চারজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনজনকে ট্রেনের নিচে আটকা অবস্থায় এবং একজনকে প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পান।
নিহত চারজনই পুরুষ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছিল। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন, তবে তাঁদের মধ্যে কেউ আহত হননি।
ট্রেনটি ছিল তোবু নিক্কো লাইনের 'স্পাসিয়া এক্স এক্সপ্রেস', যা টোকিও অঞ্চল থেকে তোচিগি এলাকার জনপ্রিয় পর্যটন শহর নিক্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করে।
এক যাত্রী ট্রেনের ধাক্কার সময়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা পরে ট্রেনটি জরুরি ব্রেক করে থেমে যায়। এরপর যাত্রীদের জানানো হয়, শব্দের কারণ খুঁজে দেখতে ট্রেনটি থামানো হয়েছে। উল্লেখ্য, জাপানের রেলব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ হিসেবে পরিচিত।
উন্নত প্রযুক্তি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের ফলে দেশের ভেতরে রেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটার ঘটনা বিরল।
তবে ২০০৫ সালের এপ্রিলে জাপানের আমাগাসাকি শহরে একটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার সময় ১০৭ জন নিহত এবং ৫০০ এরও বেশি লোক আহত হন। অতিরিক্তভাবে, ১৯৬৩ সালে আরেকটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৬১ জন নিহত হয়েছিল। উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে জাপানের শিনকানসেন বুলেট ট্রেন চালু হওয়ার পর থেকে কোনো যাত্রী ট্রেনের লাইনচ্যুত বা সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দূরদেশে যুদ্ধ করার আমেরিকান অভ্যাস ভাঙতে পারলেই বদলে যেতে পারে বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র। আমেরিকা বহু দশক ধরে এমন এক যুদ্ধনীতিতে অভ্যস্ত—যুদ্ধ হবে অন্যের ভূখণ্ডে, মরবে অন্য দেশের মানুষ, ধ্বংস হবে অন্য দেশের শহর; কিন্তু আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থাকবে নিরাপদ।
ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের অভিঘাত পৌঁছে যাবে বাগদাদ, কাবুল, তেহরান, ত্রিপোলি কিংবা অন্য কোনো রাজধানীতে—কিন্তু সেই যুদ্ধের ধোঁয়া, আতঙ্ক ও ধ্বংস সাধারণ আমেরিকান নাগরিকের ঘরের দরজায় কড়া নাড়বে না।এই যুদ্ধনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই। যে জনগণ যুদ্ধের মূল্য নিজের চোখে দেখে না, সেই জনগণের কাছে যুদ্ধ অনেক সময় একটি টেলিভিশন-চিত্র মাত্র।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সংঘাত তাই কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বনাম ক্ষেপণাস্ত্রের যুদ্ধ নয়। এটি আরও বড় একটি প্রশ্নের যুদ্ধ—যুদ্ধের মূল্য কে দেবে?
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা, পরবর্তী পাল্টা আঘাত, জুনের সমঝোতা এবং তার ভেঙে পড়ার পর সংঘাত আবার ভয়ংকর মোড় নিয়েছে। ১৭ আগস্ট ৬০ দিনের সমঝোতার সময়সীমা শেষ হয়েছে; ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছে। ইরান এখন আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে এবং হরমুজকে কেন্দ্র করে সংঘাতের চাপ বাড়ছে। এখানে ইরানের সামনে সবচেয়ে বড় কৌশলগত প্রশ্নটি হলো—কীভাবে এমন প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, যাতে আমেরিকা বুঝতে পারে যুদ্ধ কেবল অন্যের ঘরে আগুন লাগানোর নাম নয়।
আমেরিকার নিরাপদ দূরত্বের যুদ্ধঃ
ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তির একটি অনন্য সুবিধা হলো দূরত্ব। বিশ্বের এক প্রান্তে বসে মার্কিন বাহিনী অন্য প্রান্তে অভিযান চালাতে পারে। বিমানবাহী রণতরী যায়, বোমারু বিমান যায়, ক্ষেপণাস্ত্র যায়—কিন্তু আমেরিকার শহরগুলোতে যুদ্ধের বাস্তবতা পৌঁছায় না।
এই দূরত্বই রাজনৈতিক সুবিধা। কারণ একজন আমেরিকান নাগরিক যদি প্রতিদিন নিজের শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান না দেখে, বিস্ফোরণের শব্দ না শোনে, পরিবারকে নিরাপদে রাখার জন্য রাত জাগতে না হয়—তাহলে বিদেশের যুদ্ধ তার কাছে অনেক দূরের একটি ঘটনা হয়ে থাকতে পারে।
ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সাফল্য তাই ওয়াশিংটন দখল করা নয়। সাফল্য হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রমাণ করেই সেই নিরাপদ দূরত্বের ধারণাটিকে ভেঙে দেওয়া। অর্থাৎ এমন প্রতিরোধক্ষমতা দেখানো, যাতে আমেরিকার নীতিনির্ধারকেরা আর নিশ্চিত থাকতে না পারেন যে যুদ্ধের সব ক্ষতি কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই আটকে থাকবে।এটি সামরিকের চেয়েও বড় একটি রাজনৈতিক বার্তা।
এখানেই ‘আমেরিকার মাটিতে পৌঁছানোর সক্ষমতা’ গুরুত্বপূর্ণ যে, ইরানের গোপন ICBM আছে কি না, অথবা গোপন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুত আছে কি না—এসব নিয়ে নানা দাবি, জল্পনা ও প্রচার রয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই ইরান আই সি বি এম এবং পরমাণু অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করেছে এমনটা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের উপর পারমাণবিক হামলার সম্ভাব্য খবর প্রকাশের পর ইরানের পক্ষ থেকেও তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ সমানে সমান প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার অর্থ দাঁড়ায় ইরানের হাতেও রয়েছে এবং সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পৌঁছতে পারে এমন আইসিবিএম হয়তো তাদের কাছে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ