বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:০১ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত। ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ৩৬ তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে তিনটায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শুভযাত্রা (র্যালি) বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে উপজেলা হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহেনা আক্তার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার সোমা সরকার, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ মাসুম মিয়া, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার আরিফুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার প্রবীণ নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহেনা আক্তার বলেন,
"প্রবীণরা আমাদের সমাজের দিকনির্দেশক এবং সম্পদ, কোনোভাবেই বোঝা নন। জীবনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অবদান আমাদের সমাজব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করেছে। আজকের এই প্রতিপাদ্য 'দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা' বাস্তবায়নে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। প্রবীণদের শেষ বয়সটা যাতে সম্মান, নিরাপদ সেবা এবং সুস্থতার মধ্য দিয়ে কাটে, তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন প্রবীণদের সার্বিক কল্যাণ, চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিভিন্ন অধিকার রক্ষায় সবসময় পাশে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং এর আওতাধীন ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সাথে ১৫ বছরের খসড়া কনসেশন চুক্তির অনুমোদন প্রদান করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিসিইএর ৩১তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দাখিল করা প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায় ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই)-এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) এই চুক্তি সম্পাদন করবে।
এদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অপর একটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সিসিইএ। এর আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডেল্টা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এলএলসির মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) রাশিয়ার সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘জেএসসি শেচকিনোআজোট’ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী জেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের উচ্ছেদের কাজ চলাকালীন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আকস্মিকভাবে একটি মিনার ভেঙে মসজিদের ছাদের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
কিছু দিন আগে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।
বৃহস্পতিবারের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা মসজিদ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে ভাঙার কাজ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং ধর্মীয় স্থানটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা কান্না ও হতাশায় চিৎকার করে ওঠেন।
উচ্ছেদ কাজ চলাকালীন একটি ক্রেন বা যন্ত্রের বেল্ট ছিঁড়ে গেলে মিনারের একটি অংশ সরাসরি মসজিদের ছাদের ওপর পড়ে এবং ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উজ্জয়িনীর জেলা সংগ্রাহক (কালেক্টর) রৌশন কুমার সিং এক বিবৃতিতে জানান, উভয় পক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতায় উচ্ছেদের কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ছত্র চকে অবস্থিত মসজিদের অংশটি অপসারণের সময় কোনো ব্যক্তি আহত হননি।
আসন্ন 'সিংহস্থ কুম্ভ ২০২৮' উপলক্ষে পুণ্যার্থীদের চলাচলের সুবিধার জন্য একটি প্রধান ৯০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় মসজিদের একটি অংশ ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
কালেক্টর বলেন, "উজ্জয়িনীতে রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজ চলাকালীন মসজিদের একটি অংশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কেউ আহত হননি। পুরো কাজটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন এবং আমরা তাদের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছি।"
তিনি সর্বসাধারণকে কেবল নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি সতর্ক করে দেন যে, যদি কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা মিথ্যা খবর ছড়িয়ে পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গুরু প্রসাদ পরাশরের মতে, কাজটি যাতে নিরাপদে সম্পন্ন হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতি না হয়, সেজন্য ঘটনাস্থলের ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মসজিদের যে অংশটি ভাঙা হচ্ছে তার নিচতলায় বেশ কিছু দোকান রয়েছে।
কাঁঠাল ক্রসিং থেকে গোপাল মন্দির পর্যন্ত রাস্তাটি ১৫ মিটারে উন্নীত করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের সীমানার মধ্যে পড়া সকল অবকাঠামো সরিয়ে ফেলা বা পরিবর্তন করা হচ্ছে।
উজ্জয়িনী পৌর কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজকুমার রাঠোর জানান, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ছত্র চক থেকে গোপাল মন্দিরের দিকের ২.৭ মিটার অংশ এবং অপর প্রান্তের ১.৪ মিটার অংশ রাস্তা সম্প্রসারণের সীমানায় পড়েছে, যার জন্য আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
এই কাজের কারণে স্থানীয় দোকানগুলোও প্রভাবিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, "যেহেতু কাজটি কারিগরিভাবে স্পর্শকাতর, তাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ধাপ অনুযায়ী অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এটি সম্পন্ন করছেন।"
শহরের কাজী খালিকুর রহমান জানান, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নিয়মিত এই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন। উজ্জয়িনীর এই শাহী মসজিদটি প্রায় ১০০ বছরের পুরনো বলে দাবি করা হয়।
রাস্তা প্রশস্ত করার এই মহাপরিকল্পনার আওতায় ধর্মীয় স্থানসহ মোট ২৭২টি অবকাঠামো প্রভাবিত হবে। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯.৮ কোটি রুপি অনুমোদন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন সময় নষ্ট করা, বলের আকার ও ওজন, ওভারথ্রো এবং রানআউট-স্টাম্পিংয়ে পরিবর্তন এনেছে। পাশাপাশি, বেশ কিছু পুরোনো নিয়মকে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আইসিসি পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের সব সংস্করণের হালনাগাদ প্লেয়িং কন্ডিশন প্রকাশ করেছে।
আইসিসির পুরুষ ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান সৌরভ গাঙ্গুলী বলেছেন, "প্লেয়িং কন্ডিশনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এর মধ্যে ক্রিকেট বল এবং ফিল্ডিংয়ের কিছু বিষয়ে আরও স্পষ্টতা এবং খেলার গতি বাড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "আধুনিক ক্রিকেটের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মগুলো তৈরি করা হয়েছে, একই সঙ্গে খেলার সততা ও ধারাবাহিকতাও বজায় রাখা হয়েছে।"
তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই যেসব নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে
সময় নষ্ট করলে ব্যাটারকে শাস্তি
ব্যাটার যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত না থাকে, তাহলে প্রথম অপরাধে আম্পায়ার সতর্ক করবেন। একই ঘটনা দ্বিতীয়বার ঘটলে দেওয়া হবে শেষ সতর্কতা। তৃতীয়বার এবং এরপর প্রতিবার এমন হলে ফিল্ডিং দল পাবে ৫ পেনাল্টি রান। বারবার একই অপরাধ করলে আইসিসির কোড অব কন্ডাক্টের বিধানও প্রয়োগ করা যেতে পারে।
নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটে বলের মাপ নির্দিষ্ট
পুরুষ ক্রিকেটের বলের আকার ও ওজনের ক্ষেত্রে এত দিন থেকেই নির্দিষ্ট সীমা ছিল। তবে নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটে অনেক সময় একই বল দুই শ্রেণিতে ব্যবহার করা হতো। নতুন নিয়মে পুরুষ, নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য তিনটি আলাদা আকার ও ওজনের স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে নারী ক্রিকেটের বলে আকার ও ওজনের সীমা আরও কঠোর করা হয়েছে।
ওভারথ্রো
কোন পরিস্থিতিকে ওভারথ্রো বলা হবে, সেটিও স্পষ্ট করেছে আইসিসি। রান আটকানো বা রানআউট করার উদ্দেশ্যে বল স্টাম্পের দিকে ছুড়ে দেওয়া হলে সেটি ওভারথ্রো হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে বল থামানোর চেষ্টা কিংবা অন্য ফিল্ডারের কাছে বল পাঠানোর সময় সাধারণ মিসফিল্ড হলে সেটিকে ওভারথ্রো বলা হবে না।
বল ‘সেটলড’ হওয়ার নিয়মে পরিবর্তন
বল কখন পুরোপুরি ‘সেটলড’ হয়েছে, তা নির্ধারণে এখন আম্পায়ারকে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ শেষ বলে বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। নতুন নিয়মে বল ‘সেটলড’ হওয়ার জন্য সেটি অবশ্যই বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।
রানআউট বা স্টাম্পিং
রানআউট বা স্টাম্পিংয়ের সময় কোনো ফিল্ডার বল হাতে ধরে স্টাম্প ভাঙলে সেটি বৈধভাবে ‘হেল্ড’ বল হিসেবে বিবেচিত হবে কেবল তখনই, যখন বলের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। অর্থাৎ স্টাম্প ভাঙার মুহূর্তে হাতে শুধু বলের স্পর্শ থাকলেই সেটিকে বল ধরে রাখা হিসেবে গণ্য করা হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে বসে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে ধরা পড়া ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে আদালত সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এই রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন।
এদিন রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সরকারি গোপন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন পুলিশের গোয়েন্দা রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন।
মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুর আলম। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিউল ইসলামের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টের জন্ম তারিখে গড়মিল রয়েছে। যদিও তিনি ভারতীয় নাগরিক, তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ করা আছে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রবিউল স্বীকার করেন যে, তিনি প্রায় ১০-১২ বছর ধরে বাংলাদেশে যাতায়াত করছেন। তিনি কখনো ট্যুরিস্ট ভিসা, কখনো বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। বেশিরভাগ সময় তিনি ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি অবস্থান করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কাজে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন।
আসামি রবিউল ইসলাম রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কাজে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো, পাঠানোর চেষ্টা এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সহায়তা করায় তার বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩, ৩এ, ৪, ৫ এবং ৯ ধারার অপরাধ পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের এসআই বিনয় কুমার রায় তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। ওইদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ