০৩:২৩ পি.এম
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) চাদ ও ভেনেজুয়েলার সদস্যপদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইসিসি দেশ দুটির সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চাদ এবং ভেনেজুয়েলাকে জানানো হয় যে,
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি দ্বারা প্রকাশিত।
আইসিসির প্রেসিডেন্সি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘এই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি দুঃখ প্রকাশ করছে।’ বর্তমানে আইসিসির প্রেসিডেন্সি কাউন্সিল ফিনল্যান্ড, সিয়েরা লিওন ও পোল্যান্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
বিবৃতিতে বলা হয়, রোম সংবিধির ভিত্তিতে গঠিত আইসিসি থেকে যদি কোনো দেশ সরে যায়, তবে এটি ‘ন্যায়বিচারের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি বন্ধে বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে।’
এতে উল্লেখ করা হয়, ‘আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আইসিসি রয়েছে। এর কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত ও দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল।’
আইসিসির প্রেসিডেন্সি কাউন্সিল চাদ ও ভেনেজুয়েলাকে ‘রোম সংবিধির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অঙ্গীকার অব্যাহত রাখার’ আহ্বান জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলা গত ২৫ জুলাই হেগে অবস্থিত আইসিসি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর দুই দিন পরে একই সিদ্ধান্ত নেয় চাদ। উভয় দেশ তদন্তের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আদালটিকে সমালোচনা করেছে।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রও আইসিসির বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করেছে। তারা আদালতটিকে মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয় এবং অন্য দেশগুলোকেও আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে আইসিসির সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। আদালতের কয়েকজন বিচারকের ওপর ইতোমধ্যেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
চাদ অভিযোগ করেছে যে, আইসিসি আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। আফ্রিকার সামরিক জান্তা-শাসিত বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারও আইসিসি থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
আইসিসির তদন্তের আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলাও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেলিক্স প্লাসেনসিয়া বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা মনে করে, আদালতের কার্যক্রমে ভৌগোলিক পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর ফলে আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর বিরুদ্ধে আদালতের কার্যক্রম অসমভাবে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে।’
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আইসিসি ২০১৪ সাল থেকে ভেনেজুয়েলায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট আইসিসির প্রতিষ্ঠাকালীন দলিল রোম সংবিধি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করবে। এর পূর্বে আইসিসি কারাকাসে তাদের কার্যালয় বন্ধ করে দেয়।
এ সময় দেশের ক্ষমতায় ছিলেন নিকোলাস মাদুরো। পরে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে আটক হন।
আইসিসি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার করে। বর্তমানে আইসিসির প্রেসিডেন্ট ফিনল্যান্ডের পাইভি কাউকোরান্তা। ভাইস প্রেসিডেন্ট সিয়েরা লিওনের মাইকেল ইমরান কানু এবং পোল্যান্ডের মার্গারেটা কাসাঙ্গানাও প্রেসিডেন্সি কাউন্সিলের সদস্য।
আরও পড়ুন: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন