১২:৩৭ পি.এম
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চার বছর পরেও স্থায়ী ঠিকানা পায়নি। একবার স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ২৫০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হওয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান নিয়ে নতুন আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
ক্যাম্পাসের জন্য পূর্বে নির্ধারিত নালিয়ার দোলা বহাল রাখার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন, সমাবেশ এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। অন্যদিকে, টগরাইহাট ও দাশেরহাটের পক্ষ থেকে স্থানীয়রা নিজেদের এলাকার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন।
সবশেষে রাজারহাট উপজেলার ছিনাই এলাকার নাম সম্ভাব্য স্থানের তালিকায় আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
২০২২ সালে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য নালিয়ার দোলাকে উপযুক্ত স্থান হিসেবে রিপোর্ট দেয়। কমিটির সুপারিশ পেয়ে, ২২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ভূমির তফসিল, স্কেচ ম্যাপ ও জমির আনুমানিক মূল্যসহ তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
সেই অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় কুড়িগ্রাম শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নালিয়ার দোলার অন্তর্ভুক্ত বাঞ্চারাম মৌজায় ১৪৩ দশমিক ৩৯ একর এবং সরা মৌজায় ১০৬ দশমিক ৬১ একরসহ মোট ২৫০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে অধিগ্রহণের কার্যক্রম থমকে যায়।
বর্তমানে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শহরের ভকেশনাল এলাকায় চারটি ভাড়া করা ভবনে চলছে। এর মধ্যে দুটি অস্থায়ী হল রয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসনে সমস্যা এবং একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন নতুন করে স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে। গত ২৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় সম্ভাব্য স্থান হিসেবে নালিয়ারদোলার পাশাপাশি টগরাইহাট ও দাশেরহাটের নাম বিবেচনায় রয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু ৯ আগস্ট ইউজিসি একটি পত্রে রাজারহাট উপজেলার ‘ছিনাই’ নামে নতুন একটি এলাকার নাম অন্তর্ভুক্ত করে তথ্য চেয়ে পত্র পাঠালে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত ১০ মে সম্ভাব্য স্থানগুলোর মধ্যে ‘ছিনাই’ এলাকা পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু। এরপর থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাস নালিয়ারদোলা থেকে ছিনাই বা দাশেরহাটে চলে যাচ্ছে মর্মে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে নালিয়ার দোলা এলাকার বাসিন্দারা মানববন্ধন, সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ করেন।
এলাকাবাসীর পক্ষে স্মারকলিপি প্রদানকারী গীতিকার ও লেখক খন্দকার মোহাম্মদ আলী সম্রাট জানান, ভৌগলিক সুবিধা, রেল, সড়ক ও নৌযোগাযোগসহ সার্বিক বিবেচনায় নালিয়ারদোলাকে স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে নালিয়ার দোলাকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও হঠাৎ করে ৪ বছর পর ছিনাইয়ের নামে তথ্য চাওয়ায় সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এই জায়গাটি পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার নিকটবর্তী হওয়ায় এতে কুড়িগ্রাম শহরসহ জেলার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অপরদিকে, টগরাইহাটের বাসিন্দা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আব্দুস সালাম বলেন, টগরাইহাটসহ পূর্ব থেকেই প্রস্তাবিত তিনটি স্থানের যে কোনো স্থানে স্থায়ী ক্যাম্পাস হলে আপত্তি নেই। কিন্তু লালমনিরহাট সংলগ্ন ছিনাইয়ে ক্যাম্পাস স্থাপন করলে কুড়িগ্রামবাসীর কোনো লাভ হবে না।
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
দাশেরহাটের সপক্ষে নানা যুক্তি দিয়েছেন অনেকেই। এদের মধ্যে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ নুর বক্ত মিয়া বলেন, দাশেরহাট এলাকায় বিপুল পরিমাণ খাসজমি রয়েছে। মৎস্য ও কৃষি গবেষণার জন্য এটি উপযুক্ত স্থান। জেলা শহরের সঙ্গে যাতায়াত সহজতর; বিশেষ করে সোনাহাট স্থল বন্দর থেকে আসা বাইপাস সড়কটির সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মানুষ সুবিধা পাবেন।
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সম্ভাব্য স্থানগুলোর তথ্য পাওয়ার পর ইউজিসি চূড়ান্ত সুপারিশ করবে। দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাসের জায়গা নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন