শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১০ এম
ঢাকার গণপরিবহণ পরিকল্পনায় মেট্রোরেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে নির্মাণ ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
শুক্রবার ‘মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিকল্পনায় ন্যায্যতা’ শীর্ষক এক অনলাইন সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকার মতো শহরে গণপরিবহণ হিসাবে মেট্রোরেলের প্রয়োজন রয়েছে। তবে একে সব সমস্যার একমাত্র সমাধান হিসাবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। গত এক দশকে ঢাকার বাস ব্যবস্থার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি। বাস রুট রেশনালাইজেশনও কার্যকর করা যায়নি। অন্যদিকে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। আর ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্নের প্রস্তাবিত ব্যয় ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা।
অন্যদিকে এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নের জন্য প্রস্তাবিত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্নের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। প্রকল্প তিনটির ব্যয়ের এই পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইপিডি।
তিনি বলেন, মেট্রোরেলের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ যোগাযোগের অন্য সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথে দ্রুতগতির কমিউটার ট্রেন চালুর সুযোগ রয়েছে। কুড়িল থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত তুলনামূলক কম খরচে বিআরটি নির্মাণের সম্ভাবনাও যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
পরিবহণ পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ মুনতাসীর মামুন বলেন, বর্তমানে ঢাকার মোট যাত্রার প্রায় ১ শতাংশ মেট্রোরেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। পরিকল্পিত সব মেট্রোরেল বাস্তবায়িত হলেও সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ যাত্রা বহন করা সম্ভব হবে। অবশিষ্ট যাত্রার জন্য কার্যকর বাস ও অন্য পরিবহণব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বড় প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ঢাকায় একের পর এক মেগা প্রকল্প নেওয়া হলে মানুষ, ব্যবসা ও বিনিয়োগ আরও বেশি রাজধানীকেন্দ্রিক হতে পারে। এতে বিকেন্দ্রীকরণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংলাপে আইপিডি প্রতিটি মেট্রোরেল প্রকল্পের দরপত্র, চুক্তি, ব্যয়, সময়সীমা ও বাজেট সংশোধনের কারণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ব্যয় যাচাই, প্রকল্পের পরিচালন ব্যয় ও ঋণ পরিশোধের হিসাব প্রকাশ এবং দেশীয় প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।
সংস্থাটি বাস রুটগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় আনা, বিদ্যমান রেলপথে কমিউটার ট্রেন চালু এবং মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে ফুটপাত, সাইকেলপথ ও ফিডার সার্ভিস যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন পরিবহণ প্রকল্প অনুমোদনের আগে মেট্রোরেলের পাশাপাশি বিআরটি, এলআরটি ও কমিউটার রেলের লাভ-ক্ষতি স্বাধীনভাবে বিশ্লেষণের দাবিও জানিয়েছে আইপিডি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) বোম্বের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ধরা পড়েন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয় কক্ষ থেকে। গত ছয় মাসে আইআইটির পাওয়াই ক্যাম্পাসে এটি তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা।
আইআইটি কর্তৃপক্ষ জানায়, মৃত শিক্ষার্থী সাহিল ওয়াকোড়ে এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষার সময় উত্তর খুঁজতে চ্যাটজিপিটিতে প্রশ্নপত্রের ছবি আপলোড করেছিলেন তিনি।
তবে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও বিভাগের প্রধান তার সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা সাহিলকে পরামর্শ দেন এবং আশ্বস্ত করেন যে এ ঘটনায় তার শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়বে না।
আলোচনার পর সাহিল তার আবাসিক কক্ষে ফিরে যান। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
সাহিলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আইআইটি বোম্বে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, এই মর্মান্তিক ঘটনায় তার বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষকসহ ক্ষতিগ্রস্ত অন্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সাহিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আইআইটি পাওয়াই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটি পুরো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সাহিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমন শাস্তি হলে তাকে আবাসিক হল ছাড়তে হতো এবং ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হতো।
শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, এ ধরনের শাস্তির কারণে সাহিলের চার বছরের প্রকৌশল কোর্স পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারত। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ভয় ও চাপ সাহিলকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
এক শিক্ষার্থী বলেন, "কলেজে একজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এ কারণেই আমরা বিক্ষোভে জড়ো হয়েছি। আমরা প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও ঘটনার উত্তর দাবি করছি। এটি প্রথম ঘটনা নয়। শুধু এ বছরই চারটি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত দুই মাসে দুটি ঘটনা ঘটেছে।"
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা চলতে থাকে।
পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দত্তাত্রেয় নালাওয়াড়ে জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন। আইআইটি পাওয়াইয়ে একজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এরপর কিছু শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। আইআইটি প্রশাসন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছে, যাতে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা যায়।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কিছু ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার চিন্তার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে একটি নতুন গবেষণা।
দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা প্রায় ২৭ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এর মধ্যে ৮৪৬ জন জানিয়েছেন যে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহার করেছেন।
গবেষণার ফলাফল নির্দেশ করে, যারা ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহার করেছেন, তাদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ প্রকাশের সম্ভাবনা ৯৩ শতাংশ বেশি ছিল, তুলনায় যারা ওষুধ ব্যবহার করেননি। একইভাবে, আত্মহত্যার চিন্তা থাকার সম্ভাবনা ১৬৮ শতাংশ বেশি ছিল।
গবেষকরা প্রায় এক দশক ধরে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ব্যবহারকারীদের তথ্যও পর্যালোচনা করেছেন। এতে দেখা যায়, যারা ওষুধ সেবনের পর পুনরায় ওজন বাড়ানোর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষণার প্রধান গবেষক ডা. কিউং-ইয়ং সন এবং তার সহকর্মীরা উল্লেখ করেছেন, ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে বিষণ্নতা ও আত্মহত্যাপ্রবণতার একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে চিকিৎসার পর পুনরায় ওজন বৃদ্ধি পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে।
ওজন পুনরায় বৃদ্ধি ও মানসিক স্বাস্থ্য
গবেষকরা জানান, চিকিৎসার মাধ্যমে ওজন কমার পর আবার ওজন বেড়ে যাওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি বিষণ্নতা বা আত্মহত্যার চিন্তার ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে গবেষণার ফলাফল কেবল একটি সম্পর্ক নির্দেশ করে এবং এটি প্রমাণ করে না যে ওজন কমানোর ওষুধ সরাসরি বিষণ্নতা বা আত্মহত্যার চিন্তার কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থূলতা চিকিৎসা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধগুলোর সম্ভাব্য মানসিক প্রভাব নিয়ে চলমান গবেষণায় এ ফলাফল নতুন তথ্য প্রদান করেছে।
আগে থেকেই ছিল উদ্বেগ
ওজন কমানোর ওষুধ ও আত্মহত্যার চিন্তার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে পূর্ব থেকেই উদ্বেগ বিদ্যমান ছিল। এ কারণে বিভিন্ন দেশে এসব ওষুধের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন শত শত রোগীর কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়েছে, যেখানে ওজন কমানোর ওষুধ সেবনের সময় আত্মহত্যার চিন্তা, চরম হতাশা বা গভীর নিরাশার অনুভূতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু রোগী জানিয়েছেন, ওষুধ গ্রহণের আগে তাদের কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না, তবে ওষুধ ব্যবহার শুরু করার পর তারা এ ধরনের উপসর্গ অনুভব করতে শুরু করেন।
সূত্র: সামা টিভি অনলাইন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটে জুমার নামাজের সময় পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে নিহতের সংখ্যা ২১ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহতের সংখ্যা ১০০-এর বেশি বলে জানায় পাকিস্তানের উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২।
বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের পর পুলিশ লাইনের ভেতরে এক সন্ত্রাসীকে স্নাইপারের গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, প্রথমে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ লাইনের দেয়ালে ধাক্কা দেয়। এরপর সন্ত্রাসীরা ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়। বিস্ফোরণের ফলে মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
পুলিশের তথ্যমতে, মোট সাতজন সন্ত্রাসী এ হামলা চালায়। এর মধ্যে ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে। বাকি একজন পুলিশ লাইনের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের ভেতরে অবস্থান নিয়ে মাঝেমধ্যে গুলি চালাচ্ছিল। কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা তাকে ভবনটির মধ্যে আটকে রেখে অভিযান চালাচ্ছে।
আহতদের দ্রুত কোহাটের সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের পর হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করার সক্ষমতা পুলিশের রয়েছে।
নিহত কয়েকজন পুলিশ সদস্যের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফাহিম, ফরিদ, ইসমাতউল্লাহ, সামিউল্লাহ, আবদুল ওয়াহাব, ইন্সপেক্টর ইশতিয়াক ও এসপি ট্রাফিক আকবর শিনওয়ারি।
নিহত বেসামরিকদের মধ্যে ডা. ইসরাফিল এবং দুই শিশু আবদুল্লাহ ও আসাদ রয়েছেন। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তরপ্রদেশে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের কারণে এক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যে তিনি প্রেমিক ও সহযোগীকে ব্যবহার করে নিজের স্বামীকে হত্যা করেছেন। পুলিশ জানায়, ওই নারী পরে লাশ গোপন করতে এবং সরিয়ে ফেলতে তাদের সহায়তা করেছেন।
ঘটনার দুই দিন পর, খালের পাশে একটি কাঠের বাক্সের ভেতর থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অভিযুক্ত নারী, তার প্রেমিক এবং প্রেমিকের সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই নারীর ১৬ বছর বয়সি ছেলেকেও আটক করা হয়েছে।
লখনৌ দক্ষিণের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) মোহাম্মদ মুস্তাক জানান, অভিযুক্ত নারী সুফিয়া বানুর সঙ্গে নিহত রামকিশোর বাল্মীকির প্রায় চার বছরের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে হয়।
তিনি আরও জানান, সুফিয়ার সঙ্গে ৫২ বছর বয়সি মুন্না ওরফে মুচ্ছড়ের সম্পর্কও ছিল। রামকিশোর যখন এই বিষয়টি জানতে পারেন, তখন তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। বিশেষ করে রামকিশোর তার প্রথম স্ত্রী কবিতা দেবীর কাছে আবার যাতায়াত শুরু করেন এবং তাকে আর্থিক সহায়তা দিতে থাকেন। এতে সুফিয়া ক্ষুব্ধ হন।
পুলিশের দাবি, এর পর মুন্না এবং তার সহযোগী ৪০ বছর বয়সি মোহাম্মদ ইকবালের সঙ্গে মিলে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ওই নারী। ১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের ভোরের মধ্যে সুফিয়া ওই দুই ব্যক্তিকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন এবং পূর্ব থেকেই ঘরের দরজা খোলা রাখেন। পরে তারা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত রামকিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।
হত্যার পর প্রমাণ নষ্ট করতে ঘরের মেঝেতে প্লাস্টার করা হয়। রক্তমাখা ঝাড়ু, রামকিশোরের পোশাক এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও লুকিয়ে রাখা হয়। পরে সুফিয়া তার ১৬ বছর বয়সি ছেলেকে ডেকে আনেন। চারজন মিলে রামকিশোরের লাশ খাটের নিচে রাখা একটি কাঠের বাক্সে লুকিয়ে রাখেন।
১৫ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের রাতে ই-রিকশায় করে লাশটি কানাখা এলাকার ভাবাখাদা এলাকায় একটি খালের সেতুর নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ। ১৭ সেপ্টেম্বর রামকিশোরের প্রথম স্ত্রী কবিতা দেবীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে।
ডিসিপি জানান, ই-রিকশাটির সম্ভাব্য চলাচলের পথে প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্য ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।
পরে সুফিয়া বানু, মুন্না ও মোহাম্মদ ইকবালকে গ্রেফতার করা হয় এবং সুফিয়ার ১৬ বছর বয়সি ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত ই-রিকশাটিও উদ্ধার করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ