ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
আরবি নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে জামায়াত আমিরের শুভেচ্ছা

হিজরি সন মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস-ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ: ডা. শফিকুর রহমান


হিজরি সন মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস-ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ: ডা. শফিকুর রহমান

পবিত্র হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮ উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) তিনি এক বিবৃতির মাধ্যমে এই শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তার সাহাবিদের মক্কা থেকে মদিনায় ঐতিহাসিক ‘হিজরত’-এর মহান স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে এই সনের গণনা শুরু হয়। হিজরি সন মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি জানান, হিজরত কেবল সাধারণ স্থান পরিবর্তন ছিল না; বরং এটি ছিল জুলুম, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে ন্যায়, ইনসাফ ও সত্যের একটি গৌরবময় বিজয় এবং ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক বাঁক বদল।

আরও পড়ুন: ইসলামী আন্দোলনের প্রশ্ন, আঁতাতের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন?

জামায়াতের আমির আরও বলেন, বিদায়ী বছরের সব ভুলত্রুটি, ব্যর্থতা ও গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের সুমহান আদর্শকে ধারণ করার শপথ গ্রহণ করতে হবে।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ও দেশের চলমান প্রেক্ষাপটে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পরস্পর সহমর্মিতা অত্যন্ত জরুরি। হিজরতের ত্যাগ ও কোরবানির চেতনা বুকে ধারণ করে সমাজ থেকে সকল ধরনের অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করে বলেন, ‘নতুন হিজরি বছর আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া, ন্যায়বিচার, সততা ও মানবকল্যাণের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

দেশকে সকল সংকট, অস্থিরতা ও বিভেদ থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রার্থনা জানিয়ে তিনি একটি ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: বিএনপির এমপির ফুলেল শুভেচ্ছা, সাধারণ সম্পাদককে শোকজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবীনগরে গোলাগুলির ঘটনায় নিখোঁজ রিফাতের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩১ এম


নবীনগরে গোলাগুলির ঘটনায় নিখোঁজ রিফাতের মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল দাসপাড়ায় ঘটে যাওয়া গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ থাকা রিফাত (২৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে নরসিংদীর করিমপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে জানিয়ে বলেন, ‘সন্ধ্যায় মৃতের বোন এসে মরদেহটি তার ভাইয়ের হিসেবে শনাক্ত করেছে। এখন মরদেহের পোস্ট মর্টেম করার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় মৃতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’

নিহতের বোন মুক্তা বেগম অভিযোগ করেন যে, তার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, মরদেহে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের আলামত দেখা গেছে।

দাফন শেষে এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত রিফাতের স্ত্রী ও তিন মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

এর আগে, গত রবিবার (১৪ জুন) রাতে নবীনগর উপজেলার বাড়াইল দাসপাড়ায় সশস্ত্র হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় কনিকা দাস (৪০) নামের এক নারীও আহত হন।

ঘটনার পর থেকেই রিফাত নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার মৃত্যু ও মরদেহ গুমের বিষয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরেই হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘রিফাতের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি আমরা জানি। নিহতের পরিবার মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরো জানান, যেহেতু মরদেহটি নরসিংদীতে উদ্ধার হয়েছে, সেখানেও মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের ইরান চুক্তিতে চাপে নেতানিয়াহু, নির্বাচনের আগে কঠিন সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ এম


ট্রাম্পের ইরান চুক্তিতে চাপে নেতানিয়াহু, নির্বাচনের আগে কঠিন সমীকরণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে চেয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নতুন কূটনৈতিক সমঝোতা সেই হিসাব উল্টে দিয়েছে।

ইসরায়েলের বড় অংশের জনমত ও রাজনৈতিক মহল এই চুক্তির বিরোধিতা করায় নেতানিয়াহু একদিকে যেমন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন, অন্যদিকে ট্রাম্পের ওপর অতিনির্ভরশীলতার অভিযোগও জোরালো হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তাই নিরাপত্তা, কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী। খবর ফরচুন

নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ক্যারিয়ার বাজি রেখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার অত্যন্ত দৃঢ় ও লৌহকঠিন সম্পর্কের ওপর। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কটিই এখন তার জন্য একটি মারাত্মক রাজনৈতিক বোঝায় পরিণত হয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান চুক্তির বিরোধিতা করছে ইসরায়েলের সিংহভাগ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহল। আর এতেই নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে।

আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতানিয়াহু। তিনি গভীরভাবে আশা করেছিলেন, হোয়াইট হাউসে বসা তার দেশের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধুর’ প্রত্যক্ষ সাহায্য নিয়ে তিনি অনায়াসে এই নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবেন।

কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিপরীতে নেতানিয়াহুকে এমন একটি চুক্তির মোকাবিলা করতে হচ্ছে যা ইরানের ইসলামিক রিপাবলিককে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় রেখে দেবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেওয়া এই পদক্ষেপের নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের জনমত জরিপগুলোতে পড়তে শুরু করেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো, ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে নেতানিয়াহু যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর খুব সামান্যই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরায়েলি ধারাভাষ্যকার ইয়িনন মাগাল আগে নেতানিয়াহুর কট্টর সমর্থক ছিলেন। তিনি তেল আবিবের রেডিও ১০৩ এফএম-এ বলেছেন, ‘ট্রাম্প নেতানিয়াহুর পিঠে ছুরি মেরেছেন।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের ভয়াবহ হামলা ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় আগে থেকেই বড় ধরনের ধস নেমেছিল।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ইরান-বিরোধী যৌথ অভিযানে ট্রাম্প বারবার বলছেন, সব সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। এতে ইসরায়েলিরা নতুন করে তাদের আধিপত্য চিন্তায় পড়ে গেছে।

দুই নেতার ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় গালিগালাজ করে তিরস্কার করেছেন ট্রাম্প। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, এই অংশীদারিত্বে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েল আসলে কতটা ছোট ও অধীনস্থ অবস্থানে আছে।

গত রোববার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘কঠিন লোক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, তাদের জন্য যা করা হচ্ছে, তাতে ইসরায়েলের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনেও ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্ত ও হতাশ দেখা গেছে।

মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘লেবানন ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েল যে আচরণ করছে, তাতে আমি খুশি নই।’

সোমবার হোয়াইট হাউস জানায়, এই চুক্তির ফলে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে পারবে না এবং অস্ত্র তৈরির উপযোগী সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতও রাখতে পারবে না। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আরও নিরাপদ হবে।

অন্যদিকে সোমবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু স্বীকার করেন, ‘চুক্তিটি আসলে কেমন হবে, তা আমরা এখনো জানি না।’

তিনি আবার নির্বাচনে লড়ার ও জেতার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর আমি বহু বছর ধরে একে অপরকে চিনি। অনেক বিষয়ে আমরা একমত হই, কিছু বিষয়ে মতের অমিল হয়। ইসরায়েলের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার এবং তা রক্ষায় আমি সব সময় সোচ্চার থাকব।’

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার সিএনবিসি নিউজকে বলেন, চুক্তির খসড়া এই সপ্তাহেই প্রকাশ করা হবে। এটি পুরো অঞ্চলকে সবার জন্য নিরাপদ করবে।

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এই চুক্তির পক্ষে কথা বলেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখাতে চাইছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সামরিক সংঘাতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও ব্যালিস্টিক-ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই দুটিই দীর্ঘদিন ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি ছিল।

নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার মন্ত্রী মিরি রেগেভ গালি ইসরায়েল রেডিওকে বলেন, তেহরানে নেতৃত্ব না বদলালে এই ধ্বংস হওয়া কর্মসূচিগুলো কয়েক বছরেই আবার গড়ে তোলা সম্ভব।

নেতানিয়াহুকে লেবাননে ইসরায়েলের আক্রমণ বন্ধ করার জন্য পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছেন ট্রাম্প। রয়টার্স জানায়, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের ফলে ইতোমধ্যেই হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতেও বাধ্য হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছিল।

সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘লেবাননের বিষয়টি সমাধান করা যায় কি না, আমরা দেখতে চাই। হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাদের একটু কথা বলতে হবে।’

তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা ব্লুমবার্গকে নিশ্চিত করেছেন, লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এই চুক্তির বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। হিজবুল্লাহর কোনো হামলার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের থাকবে।

রোববার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, সেদিন বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলা ইরানের সঙ্গে আলোচনা প্রায় ভেস্তে দিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এরপর এক ফোনালাপে তিনি নেতানিয়াহুকে বলেন—তার ‘বিচারবুদ্ধি নেই’৷

তবে ইসরায়েলের বেশিরভাগ মানুষ হিজবুল্লাহকে অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি মনে করে। কারণ এই গোষ্ঠী ইসরায়েল ধ্বংসের শপথ নিয়েছে এবং তেহরানের সমর্থনে উত্তর ইসরায়েলে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের নির্দেশে পিছু হটলে তাকে এই সমালোচনার মুখে পড়তে হবে যে, তিনি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন-ইরান চুক্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ নয়। আমরা এই চুক্তির পক্ষ নই, এটি আমাদের নিরাপত্তার দিকে নজর দেয় না এবং এটি আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।’

ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিদের মতো মধ্যপন্থী রাজনীতিকরা সরাসরি নেতানিয়াহুকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে যে ভয়াবহ পরিণতি হবে, তা নেতানিয়াহু আগে থেকে বুঝতে পারেননি।

এই পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং এই সংঘাত আমেরিকা ও বিশ্বের অন্য মানুষের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই অর্থনৈতিক ক্ষতি ইসরায়েলিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ না হলেও, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির ওপর এটি বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে।

ল্যাপিদ বলেন, নেতানিয়াহু আমেরিকানদের কাছে ঝুঁকির বিস্তারিত হিসাব না দিয়ে এক ধরনের অতি-আশাবাদী চিত্র তুলে ধরেছিলেন। যার ফলে যুদ্ধের মাঝপথেই তিনি তাদের আস্থা হারান। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের কয়েক মাস আগে আমেরিকায় তেলের দাম বাড়ার গুরুত্ব নেতানিয়াহু বিবেচনায় নেননি।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, লড়াইয়ের শুরুতে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প উভয়েই ইরানি জনগণকে শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তেহরানে সরকারপন্থি টহল দলের ওপর ড্রোন হামলাও চালিয়েছিল ইসরায়েল।

কিন্তু কোনো গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি। বরং তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করে। এরপর নেতানিয়াহু গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখলে ইসরায়েলি বাহিনীকে দেওয়া তার নির্দেশের কথা বেশি বেশি প্রচার করতে থাকেন।

নেতানিয়াহুর প্রতিরক্ষামন্ত্রী সোমবার বলেন, হুমকি না কমা পর্যন্ত সৈন্যরা তাদের অবস্থান থেকে সরবে না।

অন্য দিকে ইরান বলছে, যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টেই কার্যকর হতে হবে, যা মূলত হিজবুল্লাহকে রক্ষার একটি কৌশল। লেবানন সীমান্ত থেকে মিলিশিয়ারা ফের গুলি চালালে ইসরায়েল কীভাবে জবাব দেয়, তা নেতানিয়াহুর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

এই ধারাবাহিক সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যর্থতায় নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। গত সপ্তাহে ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৬১ শতাংশ মানুষ মনে করেন—৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর আর নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত নয়।

অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনের আগে করা জরিপ বলছে, নেতানিয়াহু ও তার জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে মাত্র ৫১টির মতো আসন পেতে পারে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে কম।

এখন নেতানিয়াহুকে সরানোর দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন সাবেক জেনারেল গাদি আইজেনকোট। তার বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা বলে দেয়, মানুষ নেতানিয়াহুর বাগাড়ম্বরপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে যাচ্ছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের কাছ থেকেও নেতানিয়াহু কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। নেতানিয়াহুর কূটনৈতিক দক্ষতা যতই থাকুক, ওয়াশিংটনের ওপর তার নির্ভরতা এড়ানো যায় না।

ইসরায়েল সামরিক স্বাধীনতার দাবি করলেও, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর দেশটিকে বিপুল প্রতিরক্ষা সহায়তা দেয় এবং জাতিসংঘ ও অন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে কূটনৈতিক সমর্থন দেয়।

২০১৫ সালে ওবামার ইরান চুক্তির বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু রিপাবলিকানদের কাছে লবিং করতে পেরেছিলেন, যা ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি দলীয় ইস্যু করে তুলেছিল।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন—ট্রাম্প নিজেই রিপাবলিকান, আর ডেমোক্র্যাটরা এখন ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করছে।

পিউ রিসার্চের তথ্য বলছে, উভয় দলের ৫০ বছরের কম বয়সী বেশিরভাগ মানুষ এখন ইসরায়েল ও নেতানিয়াহু—দুজনকেই নেতিবাচকভাবে দেখে।

নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার মন্ত্রী জেভ এলকিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে চুক্তি চাইছে, ইসরায়েল তা আটকাতে পারবে না। আমাদের কিছু প্রভাব খাটানোর সুযোগ আছে, তবে তা সীমাহীন নয়।’

তবে তিনি স্বীকার করেন, এই চুক্তি নিয়ে আপত্তি থাকলেও ট্রাম্প এখনো ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট।

যুদ্ধের এই ডামাডোলের বাইরে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত জীবনেও সংকট চলছে। তিনি প্রোস্টেট ক্যানসার ও হৃদরোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন নিয়মিত।

এর সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ আছে, যার জন্য তাকে প্রতি সপ্তাহে আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে হয়।

গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু আর নির্বাচনে লড়বেন কি না, তা নিশ্চিত নন। এই কথা শুনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি দ্রুত বিবৃতি দিয়ে জানায়, তার পুনর্নির্বাচনের প্রস্তুতি ঠিকমতোই চলছে।

নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে সব ফৌজদারি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে ট্রাম্প যখন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার অনুরোধ জানান, তিনি তাতে খুশি হন।

এতে সমালোচকদের সেই অভিযোগ আরও জোর পায় যে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের কাছে সহজেই নতি স্বীকার করেছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিদের একটি মন্তব্যে পুরো পরিস্থিতির সারমর্ম ধরা পড়ে। তিনি নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, ‘তিনি আমাদের এমন একটি পরাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করছেন, যা নিজের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়েও অন্যের কাছ থেকে আদেশ নেয়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসপাতালে লাশ রেখে উধাও বন্ধুরা, তরুণের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪২ এম


হাসপাতালে লাশ রেখে উধাও বন্ধুরা, তরুণের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

গাইবান্ধা সদর উপজেলার একটি অঞ্চল থেকে পুলিশ রায়হান মিয়া (১৬) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে। স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে, তার দুই বন্ধু তাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছে এবং এরপর হাসপাতালে মরদেহ রেখে পালিয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতের ঘটনায় সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হরিনসিংহা গ্রাম থেকে রায়হানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রায়হান ঐ গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, বিকালে রায়হান তার দুই বন্ধু সাকিব ও রিফাতের সঙ্গে স্থানীয় হাওয়া দিঘির মোড়ে একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। রাতের বেলা হলেও রায়হান বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা ত্যানা খোঁজ নিতে শুরু করেন। পরে তারা জানতে পারেন, রায়হানকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে রায়হানের মরদেহ দেখতে পান।

রায়হানের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গোসল করার সময় সাকিব ও রিফাত তাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেছে। এরপর তারা নিজেদের রক্ষা করার জন্য রায়হানের অচেতন দেহ হাসপাতালের কাছে রেখে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দুই বন্ধু এবং তাদের পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত দুই বন্ধু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এখনও পলাতক থাকায় মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমবাপ্পে-দেম্বেলেকে নিয়েই সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের একাদশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৭ এম


এমবাপ্পে-দেম্বেলেকে নিয়েই সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের একাদশ

সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচে ফ্রান্সের একাদশে রাখা হয়েছে এমবাপ্পে এবং দেম্বেলে দুজনেই। ছবি : রয়টার্স।

কাতার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফ্রান্স টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হতে পারক, যদি ভাগ্য সহায় হত। তবে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

এবার সেই আক্ষেপ দূর করতে ফ্রান্স মাঠে নামছে, শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে।

আজ সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামবে ফ্রান্স। বিশ্বকাপ অভিযানের জন্য আক্রমণভাগে সেরা খেলোয়াড়দের একাদশে রেখেছেন কোচ দিদিয়ের দেশম। তারা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলবে, যেখানে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে স্ট্রাইকার হিসেবে থাকবেন।

দুই উইংয়ে থাকছে মাইকেল ওলিসে এবং দেজিরে দুয়ে। এই দুজনের মাঝে জায়গা করে নিয়েছেন ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে।

অপরদিকে সেনেগাল ৪-৩-৩ ফর্মেশনে মাঠে নামবে। আক্রমণভাগে সাদিও মানের সঙ্গে জুটি বাঁধবে নিকোলাস জ্যাকসন ও ইসমাইলা সার।

ফ্রান্সের একাদশ হলো-

মাইক মেনিওঁ (গোলরক্ষক), জুলস কুন্দে, উইলিয়াম সালিবা, দায়োত উপমেকানো, থিও হার্নান্দেজ, অঁরেলিয়ে চুয়ামেনি, আদ্রিয়েন রাবিও, মাইকেল ওলিস, উসমান ডেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে, দেজিরে দুয়ে।

এবং সেনেগালের একাদশ হলো-

এদুয়ার্দো মেন্ডি (গোলরক্ষক), কালিদু কুলিবালি, মুসা নিয়াখাতে, ক্রেপিন দিয়াত্তা, এল হাজি মালিক দিউফ, ইদ্রিসা গেয়ি, লামিনে কামারা, পেপে গেয়ি, সাদিও মানে, নিকোলাস জ্যাকসন, ইসমাইলা সার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%