০১:০১ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে বলে পাকিস্তান দাবি করেছে। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারী কাতার জানায়, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনা এখন অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার মধ্যেও উপসাগর ও লোহিত সাগরে জাহাজে নতুন হামলার ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার ব্লুমবার্গ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, পরিস্থিতি আবারও শান্তি বা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। তাঁর ভাষায়, গত দুই-তিন দিনের সংকেত বলছে, তারা কোনো ধরনের সমঝোতার খুব কাছাকাছি রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠকের বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: ২ বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত, ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৭টি প্রমাণিত
একই সময়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান ও ইরানের আলোচনা এখন উন্নত পর্যায়ে রয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সমঝোতার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যদিও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দাম এখনো অনেক বেশি।
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে তারা চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, শুধু এই চুক্তি হলেই প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামরিক হুমকি বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণসহ বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রিজভী: গ্যারান্টি ক্লজের অভাবে তিস্তার পানি পায়নি বাংলাদেশ
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার নতুন করে ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এতে সমঝোতার পথ আবারও কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, গত ৫০ বছরে ইরানের কর্মকাণ্ডে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরানকে অর্থ দিতে হবে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। মঙ্গলবার ইয়েমেনের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে ইরান সমর্থিত হুতিদের সন্দেহভাজন হামলায় একটি ছোট কার্গো জাহাজের চার ক্রু নিহত হয়েছেন বলে ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মিসরীয় মালিকানাধীন ‘তিহামাহ’ জাহাজে হামলার দায় অবশ্য হুতিরা স্বীকার করেনি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের উপকূলের কাছে ওমান উপসাগরে একটি কনটেইনার জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের বন্দরগামী জাহাজ চলাচলে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার সময় সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার থেকে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়।
এ অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মার্কিন জনমত জরিপে যুদ্ধটি ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর সাথে উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা ওয়াশিংটনের ওপর দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর চাপ আরও বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ৭৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন