ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প বিলুপ্তির পথে


ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প বিলুপ্তির পথে

গ্রামবাংলার শত বছরের লোক ঐতিহ্য ‘কাঠের চাকা শিল্প’ আজ বিলুপ্তির মুখোমুখি। আধুনিকতার ছোঁয়া ও সময়ের বিবর্তনে যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহনের পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়েছে। যান্ত্রিক যানবাহনের আধিপত্যের কারণে এই ঐতিহ্য আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ের আরামবাড়িয়া গ্রামের কারিগরদের শেষ প্রজন্মের হাতে কোনোরকমে টিকে আছে এই প্রাচীন শিল্পটি।

স্থানীয়দের মতে, মাত্র দুই দশক আগে আরামবাড়িয়া পদ্মাপাড়ের গ্রামগুলোতে সকাল হলেই হাতুড়ি-বাটালের খটখট শব্দ শোনা যেত। নাটোর, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা গরু ও মহিষের গাড়ির কাঠের চাকা কিনতে এখানে ভিড় জমাতেন। তখন এই পল্লীতে প্রায় অর্ধশত কারখানায় দেড় শতাধিক কারিগর দিনরাত কাজ করতেন। তবে যান্ত্রিক যানবাহনের কারণে কাঠের চাকার চাহিদা কমে যাওয়ায় প্রায় সবকটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

বর্তমানে সময়ের পরিক্রমায় মাত্র পাঁচটি কারখানা কোনোরকমে টিকে আছে। স্থানীয় বিপদ চন্দ্র সরকার, অরুন সরকার, মো. ইনু, হাসেম আলী ও মাজদার হোসেন—এই পাঁচজন প্রবীণ কারিগর তাদের পরম মমতায় বহু বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

আরও পড়ুন: জিয়ানগরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল জলিল শেখের সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ ও পথসভা

কারিগরদের মতে, তাদের পূর্বপুরুষরা বিগত প্রায় ২০০ বছর ধরে এই পেশাকে লালন করে আসছেন। বর্তমানে কর্মরত এই পাঁচ কারিগরও ৪০-৫০ বছর ধরে এই পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের দক্ষ হাতে তৈরি কাঠের চাকা এক সময় এই অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের কৃষি, বাণিজ্য ও যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিল। তবে কালের বিবর্তনে গরুর গাড়ির কদর কমে যাওয়ার পাশাপাশি চাকা তৈরির প্রধান কাঁচামাল বাবলা কাঠের সংকট দেখা দিয়েছে। এখন দশ-গ্রাম খুঁজলেও পর্যাপ্ত বাবলা কাঠ পাওয়া যায় না, আর যা পাওয়া যায় তা দ্বিগুণ দামে কিনতে হয়। ফলে চাকা তৈরি করে উপযুক্ত লাভ পাওয়া যাচ্ছে না।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বর্তমানে কর্মরত পাঁচ কারিগরের সকলেই পঞ্চাশোর্ধ্ব। কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের তুলনায় আয় অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় কারিগরদের সন্তানেরা বা নতুন প্রজন্মের কেউই এই পেশায় আসতে চাইছেন না। ফলে এই পাঁচজন কারিগরের বার্ধক্যের সাথে সাথে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে শতাব্দী প্রাচীন এই শিল্পটি।

স্থানীয়রা বলছেন, একটি কাঠের চাকা কেবল কোনো যানবাহনের অংশ নয়—এটি আবহমান গ্রামবাংলার ইতিহাস, অনন্য কারিগরি দক্ষতা ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। হারিয়ে যাওয়া এই লোকশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সঠিক নথিভুক্তকরণ, ব্যাপকভাবে বাবলা গাছের চারা রোপণ, সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রণোদনা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, বিলুপ্তপ্রায় এই ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রবীণ কারিগরদের টিকিয়ে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।

আরও পড়ুন: চলতি বছরে ৯ মাসে ‘মব’ সহিংসতায় নিহত ১৮৭ জন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুমায়ুনের সঙ্গে উজবেকিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাবোয়েভিচের বৈঠক, আলোচনা বাণিজ্য ও পর্যটন নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


হুমায়ুনের সঙ্গে উজবেকিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাবোয়েভিচের বৈঠক, আলোচনা বাণিজ্য ও পর্যটন নিয়ে

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উজবেকিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলয়েভ বাখরোমজন জুরাবোয়েভিচের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরাকের বাগদাদে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৫২তম কাউন্সিল অধিবেশনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আকাশপথে যোগাযোগ, পর্যটন, বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়াও, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী।

১৭ ও ১৮ অক্টোবর বাগদাদে অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিল অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

এর আগে ১৭ অক্টোবর অধিবেশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় তিনি বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আপিল শুনানি ১৭ নভেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আপিল শুনানি ১৭ নভেম্বর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যা মামলার আপিল বিভাগের শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৭ নভেম্বর।

রোববার, ১৮ অক্টোবর, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত এই তারিখে শুনানির জন্য ধার্য করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের তিন দিন পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় নিহত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার গাড়িচালক ইব্রাহিম।

সাত খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার চার সহকর্মী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করেন। অপরদিকে, আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল একই থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম একসঙ্গে শেষ করে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত নূর হোসেন ও তৎকালীন র‍্যাবের বরখাস্ত তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ৩৫ জন আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। পাশাপাশি ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথি) হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

এরপর, হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা মামলার সব নথি বিজি প্রেসে পাঠায়। বিজি প্রেস পেপারবুক প্রস্তুত করে একই বছরের ৭ মে হাইকোর্টে পাঠায়।

একই বছরের ২২ মে থেকে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। ৩৩ কার্যদিবসে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ২৬ আসামির মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং বাকি ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার মোট ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র‍্যাব-১১’র চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ রানা।

অন্যদিকে, সাজা কমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামি হচ্ছেন র‍্যাবের চাকরিচ্যুত সাবেক সিপাহী আসাদুজ্জামান নূর ও সার্জেন্ট এনামুল কবির এবং নূর হোসেনের ৯ সহযোগী মূর্তজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, আবুল বাশার, রহম আলী, জামাল উদ্দিন সরদার, ভারতে গ্রেফতার সেলিম, সানাউল্লাহ সানা ও শাহজাহান।

বিচারিক আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পাওয়া ৯ জনও র‍্যাবের বরখাস্ত কর্মকর্তা ও সদস্য। তাদের মধ্যে কনস্টেবল হাবিবুর রহমানের ১৭ বছর, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল বাবুল হাসান, কর্পোরাল মোখলেসুর রহমান, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন ও সিপাহী নুরুজ্জামানের ১০ বছর করে এবং এএসআই বজলুর রহমান ও হাবিলদার নাসির উদ্দিন ৭ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। পরে আসামিরা আপিল করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিতদের ক্ষতি করতে পারবে না: খতিব আব্দুল মালেক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিতদের ক্ষতি করতে পারবে না: খতিব আব্দুল মালেক

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক মন্তব্য করেছেন, "সত্য ও হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না।" তিনি উল্লেখ করেন, কেয়ামত পর্যন্ত একটি দল হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং তাদের ক্ষতি করার ক্ষমতা কারো নেই। আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনকে এভাবেই রক্ষা করেছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজের আগে খুতবায় এসব কথা বলেন তিনি।

মুফতি আবদুল মালেক খুতবায় আরও বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, "কেরামত পর্যন্ত একটি দল সত্য ও হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।" তাদের বিরোধিতা করে কেউ তাদের ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা যেভাবে তাঁর দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন, তা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ নাম মুহাম্মদ। তাঁর আরেকটি নাম আহমাদ। এ দুটি নাম পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। হাদিসে তাঁর আরও কয়েকটি নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিভিন্ন গুণ ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন।

মহানবী (সা.)-এর প্রতি উম্মতের দায়িত্ব এবং তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে খতিব বলেন, আল্লাহ তাআলা নবুওয়াত দেওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আরও ২৩ বছর জীবিত রেখেছিলেন। এই সময়ে আল্লাহর কুদরত ও রহমতের যেসব নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে জানতে সিরাত অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।

মুফতি আবদুল মালেক উল্লেখ করেন, মহানবী (সা.) নবুওয়াত লাভের পর মক্কায় ১৩ বছর অবস্থান করেন। এ সময়ে পবিত্র কোরআনের বেশির ভাগ সূরা অবতীর্ণ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিতেন। সাহাবিরা তা নির্ভুলভাবে লিখে সংরক্ষণ করতেন। একই সঙ্গে মহানবী (সা.) মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। যাঁরা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন, তাঁরা সৌভাগ্যবান হয়েছেন।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে ঈমানদারদের ওপর নির্যাতনের কথাও খুতবায় তুলে ধরেন বায়তুল মোকাররমের খতিব। তিনি জানান, সে সময় ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করায় অনেক মুসলমানকে কাফেরদের পক্ষ থেকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।

ইসলামি শরিয়তের বিধান সংরক্ষণের বিষয়ে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা যে শরিয়ত দান করেছেন, তা সংরক্ষিত রয়েছে। ইসলামের বিধানে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হলে তা ধরা পড়ে যায়। আল্লাহর দ্বীন যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে সাহাবিদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন, সেভাবেই তা বিদ্যমান থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর দ্বীন কেয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। এ কারণে ইসলামের মূল শিক্ষা ও বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

শুক্রবারের জুমার খুতবায় মুফতি আবদুল মালেক সংক্ষেপে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মক্কায় অবস্থান, মদিনায় হিজরত, মদিনার জীবন, বিভিন্ন যুদ্ধ এবং বিদায় হজের ভাষণসহ তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো তুলে ধরেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিপি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না: আখতার হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


এনসিপি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না: আখতার হোসেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন সরকারের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেছেন যে, "আপনারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে খুব বেশিদিন আপনাদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পারবেন না।" তিনি উল্লেখ করেন যে, যদিও তাদের হাতে টু-থার্ড মেজরিটি রয়েছে, এর ভিত্তিতে তারা সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করছেন, কিন্তু জনগণের রায়ের অভাব থাকলে টু-থার্ড মেজরিটি কোনোভাবেই কার্যকর হতে পারে না। আখতার হোসেন বলেন, "একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি হলো সংস্কারের উল্টো পথে যাত্রা এবং সংস্কারকে ভেস্তে দেওয়ার নামান্তর।" এই কারণেই এনসিপি এই কমিটিতে অংশগ্রহণ করবে না।

শনিবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আখতার হোসেন আরও বলেন, "এই সংবিধান সংশোধন কমিটি সেটা বিলুপ্ত করে সরকার যাতে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে, সে দাবি আমরা সরকারের কাছে আবারও ব্যক্ত করতে চাই।" তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তাদের কার্যক্রম জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে চলছে।

তিনি বলেন, "দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো ’৯০ এ তিন জোটের রূপরেখা হওয়ার পরে তারা ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং তখন তারা সেই তিন জোটের রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে চাননি।" আখতার হোসেন বলেন, "এনসিপির এই নেতা বলেন, এ কারণে আমরা তাদেরকে স্পষ্ট করে বলি—আপনারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে খুব বেশিদিন আপনাদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পারবেন না।" তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, জনগণের রায়ের অভাব থাকলে টু-থার্ড মেজরিটি কার্যকর হবে না।

আখতার হোসেন আরও বলেন, "জুলাইয়ের ১৭ তারিখ, যেদিন জুলাই সনদ স্বাক্ষর করা হয়েছিল, সেই দিনে আমরা সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে মেসেজ দিতে চাই—একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায় অনুযায়ী আপনারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন।" তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা যেন বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। "আর যদি আপনারা তা করতে ব্যর্থ হন, বাংলাদেশের জনগণ অবশ্যই এর বিহিত করে ছাড়বে।"

তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, "অক্ষরে অক্ষরে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কথা বলে বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে জাতির সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে।" তিনি আরও বলেন, "সংস্কারের যে স্তরগুলো আমরা পেরিয়ে এসেছি, বিএনপি সরকার সেই পরিপক্ব বিষয়গুলোকে পেছনে ফিরিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে।" এনসিপির সদস্যসচিব সমালোচনা করে বলেন, "যে সংশোধন কমিটি করা হয়েছে, এটি একদলীয় কমিটি। এটি গণভোটের সঙ্গে প্রতারণা।"

তিনি আরও বলেন, "বারবার আহ্বানের পরেও এনসিপি এই কমিটিতে যায়নি।" সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার মন্তব্য করেন, "একজন ব্যক্তির অভিলাষ চরিতার্থ করতে যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করা হয়েছে, সেটি জাতির সঙ্গে প্রতারণা।" তিনি বলেন, "দুর্বল আওয়ামী লীগ হিসেবে তারা টিকে থাকতে চায়।"

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহউদ্দিন সিফাতের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%