০৩:৫০ পি.এম
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপাতি বিজয় ঘোষণা করেছেন, ‘সবার আগে তামিল।’ তিনি বলেছেন, তার সরকার রাজ্যের ভাষাগত এবং সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
সোমবার, তামিলনাড়ু বিধানসভায় দেওয়া এক বক্তৃতায় এ কথা বলেন অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাওয়া থালাপাতি বিজয়।
আরও পড়ুন: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি: অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার ৪
সোমবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজ্য গান ‘তামিল تھাই ভাজতু’ গাওয়া বাধ্যতামূলক হবে। এর আগেও কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সবার আগে জাতীয় গান বন্দে মাতরম গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিজয় সরকার রাজ্য গান সবার আগে গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় নিজেই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, রাজ্যের যেকোনো অনুষ্ঠানে তামিল রাজ্য সঙ্গীত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে উভয় দলই এই প্রস্তাবকে সমর্থন করছে। স্পিকার জেসিডি প্রভাকর ঘোষণা করেন, প্রস্তাবটি পাস হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য আর কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই।
প্রস্তাবটি পাশের পর বিধানসভায় দেওয়া এক আবেগঘন বক্তৃতায় বিজয় বলেছেন, ‘তামিল কেবল একটি ভাষা নয়, এটি আমাদের জীবনরেখা এবং আবেগ।’ মাতৃভাষাকে মাতৃত্বের মতো পবিত্র উল্লেখ করে বলেন, ‘তামিল মানে গৌরব, তামিল মানে শক্তি। আপনি যখনই ‘তামিল’ বলবেন, সমগ্র তামিলনাড়ু একত্রিত হবে এবং এক হয়ে দাঁড়াবে। তামিলনাড়ুতে ‘তামিল থাই ভাজতু’-কে অবশ্যই সবার আগে স্থান পেতে হবে। তামিল থাই ভাজতুকে প্রথম স্থান দেওয়া আমাদের অধিকার।’
আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু
প্রস্তাব অনুযায়ী তামিলনাড়ুর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি অফিস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের যে কোনো অনুষ্ঠানের শুরুতে বাধ্যতামূলকভাবে রাজ্য সঙ্গীতটি গাইতে বা বাজাতে হবে।
গত জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি অনুষ্ঠানে প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’, তারপর জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গন মন’ গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জুলাই মাসে সরকারের একটি সতর্কবার্তায় রাজ্যগুলোকে সেই নির্দেশ ‘কঠোরভাবে মেনে চলার’ অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
৯ জুলাইয়ের ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, ‘যখনই জাতীয় গান/জাতীয় সঙ্গীতের সাথে রাজ্যের গান গাওয়া বা বাজানো হবে, তখন জাতীয় গানটি প্রথমে গাওয়া বা বাজানো হবে এবং তারপরে জাতীয় সঙ্গীত বাজবে।’ আজ বিধানসভায় পাশ হওয়া প্রস্তাবে কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তই চ্যালেঞ্জ করা হলো।
রাজ্য সঙ্গীত গাওয়ার এই বিতর্ক বিজয়ের সরকারের সমান বয়সী। গত ১০ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু ইনডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সি জোসেফ বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় গান এবং জাতীয় সঙ্গীতের পরে তামিলনাড়ুর রাজ্য সঙ্গীত বাজানো হয়েছিল। তখন বিরোধী দল এবং বিজয়ের জোট সঙ্গীরাও তার সরকারের সমালোচনা করেছিল। তবে নতুন ক্ষমতা নেয়া টিভিকে দাবি করেছিল, রাজ্য সঙ্গীত তৃতীয় স্থানে বাজানোর সিদ্ধান্তটি সরকারের নয়, শপথ অনুষ্ঠানের প্রটোকল রাজ্যপালের অফিস থেকে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র
১৯৭০ সালে তামিলনাড়ুতে সরকারি অনুষ্ঠানে ‘তামিল থাই ভাজতু’ গানটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এরপর থেকে সরকারি কর্মসূচিতে এটি প্রথমে বাজানোর একটি ঐতিহ্য তৈরি হয়। পরবর্তীতে, ২০২১ সালে এটিকে রাজ্য সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর রাজ্যপালের কার্যালয় তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙ্গেছিল। সোমবার বিধানসভায় সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশের মধ্য দিয়ে সে বিতর্কের আপাত অবসান ঘটলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন