ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং
‘দেশে সারের কোনো সংকট নেই’

সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে সহ্য করা হবে না: কৃষিমন্ত্রী


সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে সহ্য করা হবে না: কৃষিমন্ত্রী

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‌‘দেশে সারের কোনো সংকট নেই, কিছু দুষ্কৃতিকারী সংকট তৈরি করছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তা সহ্য করা হবে না।’

শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফরিদপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট চালু হবে: আরিফুল হক

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘আগামী দিনে কৃষি পণ্য আমদানি নয়, দেশ থেকে কৃষি পণ্য রপ্তানি করা হবে। ফরিদপুর জেলায় দেশীয় মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ও সঠিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে হবে।’

এরপর তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার হলরুমে ফরিদপুর জেলার পিঁয়াজ ও পাট চাষীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। 

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি, শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি, মো. ইলিয়াস আলী মোল্লা এমপি।

অন্যদের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎমন্ত্রী: গত আট মাসে জ্বালানি আমদানিতে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি

সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম। পৃথক মতবিনিময় সভায় কৃষি ও কৃষকসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং জেলার কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালদিয়ায় ভিড়বে ‘বড় জাহাজ’, বদলে যাবে বাণিজ্যের গতিপথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


লালদিয়ায় ভিড়বে ‘বড় জাহাজ’, বদলে যাবে বাণিজ্যের গতিপথ

চট্টগ্রাম, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ও সরাসরি বড় জাহাজ ভেড়ানোর ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর তীরে পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে ৪৯ একর জায়গায় নির্মিত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক ‘গ্রিনফিল্ড কন্টেইনার টার্মিনাল।’

ডেনমার্কভিত্তিক বিশ্বসেরা টার্মিনাল অপারেটর ‘এপিএম টার্মিনালস’ ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে এই গ্রিন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। টার্মিনালটি চালু হলে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ এখানে সরাসরি ভেড়ানো যাবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের বছরে প্রায় ৮ লাখ টিইইউ (টোয়েন্টি ফুট ইক্যুভেলেন্ট ইউনিট বা ২০ ফুট) কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়বে। 

আগামীকাল সকাল ১১টায় লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের ‘গ্রাউন্ড ব্রেকিং’ (ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন) করা হবে। পতেঙ্গা বোট ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পাড়ে নির্মাণকাজ শুরু হবে লালদিয়া টার্মিনালের। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতায় যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যয় ও সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে। 

এটি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিমণ্ডলে বাণিজ্যিক হাব হিসেবেও ‘ব্র্যান্ডিং করবে’। একই সাথে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রায় এই টার্মিনালকে নতুন সংযোজন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল এক দশকেরও বেশি সময় আগে। ২০১৩ সালে প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা দীর্ঘদিন বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে পারেনি। লালদিয়ার চর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জায়গাটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আসার পর প্রকল্পটি নতুন গতি পায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস এবং স্থানীয় অংশীদার কিউএনএস কন্টেনার সার্ভিসেস লিমিটেডের চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। 

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর এ প্রকল্পে টার্মিনালটির নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ ও পরিচালনা করবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। তবে, জমির মালিকানা থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে। ৩৩ বছরের কনসেশন চুক্তির মধ্যে প্রথম তিন বছর নির্মাণপর্ব এবং পরবর্তী ৩০ বছর পরিচালনার মেয়াদ থাকবে।
 
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় শেষে টার্মিনাল হস্তান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে,  চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করলে পরিচালনার মেয়াদ আরো ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, লালদিয়া টার্মিনালে থাকবে সাতটি শিপ-টু-শোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (ইআরটিজি) এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্রাক্টর। কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ৬১৩ মিটার দীর্ঘ কন্টেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে। টার্মিনালটিতে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে এবং জেটি সুবিধার কারণে সহজেই হ্যান্ডলিং করা যাবে। 

লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আজ বাসস-কে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনীতিকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি অপ্রয়োজনীয় বড় বড় প্রকল্পের চেয়ে বাস্তবমুখী-জীবনঘনিষ্ঠ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান কীভাবে উন্নত করা যায়, তা নিয়েই ভাবেন বেশি। আর সেটা করতে গেলে আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ লাগবে। লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল শুধু চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের একটি অপারেটর বাংলাদেশে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে এসেছে। এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং এটিই প্রমাণ করছেÑ বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি বিদেশিদের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা কতটা সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। আমি আশা করবো, লালদিয়া টার্মিনাল নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরকে আরো আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক বন্দরে পরিণত করবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ১০ মিটার ড্রাফটের বা বড় কোনো জাহাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পণ্য ছোট জাহাজে করে সিঙ্গাপুর, কলম্বোসহ পার্শ্ববর্তী আঞ্চলিক বন্দরে নিয়ে গিয়ে তুলে দিতে হয়। এতে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময়ও ব্যয় হয়। কিন্তু লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তাতে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে সময় এবং ব্যয় দু’টিই কমবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।’

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার ভাটিতে গুপ্তা বাঁকের পরবর্তী এলাকায় লালদিয়া চরে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ৪৯ দশমিক ১৫ একর। এর মধ্যে ৩২ একর জায়গায় মূল টার্মিনাল, প্রায় ৭ দশমিক ১৫ একর জায়গায় কনটেইনার ইয়ার্ড এবং প্রায় ১০ একর জায়গার একটি অংশে ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধা থাকবে।

বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, লালদিয়া টার্মিনালের নকশায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইয়ার্ডের ক্রেনগুলো প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কর্মীদের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা
বাড়ানো সম্ভব হবে।

প্রকল্পের স্থানীয় অংশীদার কিউএনএস কন্টেইনার সার্ভিসেস লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ কাজে এখানকার বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। টার্মিনাল চালু হলে সেখানে অনেক মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থান হবে। এর বাইরে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, পণ্য খালাস, জাহাজসেবা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ
বাড়বে। সে কারণে এখানকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখছি আমরা।’

লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালকে বাংলাদেশের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ উল্লেখ করে চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘অতীতে অনেক কারণে বিদেশি বিনিয়োগ এ দেশে আসেনি। আমি একজন বেসরকারি বিনিয়োগকারী হিসেবে সবসময় বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই, দেশের অর্থনীতির জন্য উৎসাহবোধ করি। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে চাইলে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দিতে হবে, নীতি সহযোগিতা দিতে হবে। এই বিশ্বের একটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বাংলাদেশে গ্রিনফিল্ড প্রকল্প করছে, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এটি বাংলাদেশের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গত ১৪ বছর ধরে আমরা এই টার্মিনালের স্বপ্ন দেখে আসছি। দক্ষ অপারেটরের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হলে টার্মিনালগুলো সঠিকভাবে গড়ে উঠবে। অয়েল টার্মিনাল ও এলপিজি টার্মিনালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে আরো বেশি সম্পৃক্ত করা দরকার, যাতে কোনো একক শক্তির হাতে সবকিছু কুক্ষিগত না হয়। বর্তমানে যেখানে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটি দেশের জন্য একটি নতুন মাইলফলক। শিপিং ও টার্মিনাল ব্যবসা পরিচালনায় পেশাদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা আন্তর্জাতিক অপারেটরদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে উচারগাঁও কলিমশাহ বাউল সংগঠনের ২১ সদস্যর নতুন কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎স্টার রিপোর্টার:: মোহাম্মদ নূর

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৭ পি.এম


সুনামগঞ্জে উচারগাঁও কলিমশাহ বাউল সংগঠনের ২১ সদস্যর নতুন কমিটি গঠন

‎

‎

মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের সাদকপুর গ্রামের জনপ্রিয় বাউল সংগঠন ‘উচারগাঁও কলিমশাহ বাউল সংগঠন’-এর নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ২১ জন।

‎

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে সংগঠনের নবগঠিত কমিটির অভিষেক ও আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকার নিবন্ধিত এই বাউল সংগঠনটি দীর্ঘ সময় ধরে লোকসংগীত ও বাউল সংস্কৃতি চর্চা এবং প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

‎

নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট গীতিকার ও নাট্যকার এবং লন্ডন প্রবাসী আবুল আজাদের নেতৃত্বে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নবগঠিত কমিটির মাধ্যমে বাউল সংস্কৃতির চর্চা, সংরক্ষণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আছেন বাউল মো. আব্দুল মালিক (ভাণ্ডারী), সহ-সভাপতি হিসেবে মো. আলী আকবর ও মো. নূর উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাস্টার জহির মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. কবির আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মো. আফরোজ মিয়া, সহ-কোষাধ্যক্ষ হিসেবে বিপুল বিহারী দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আব্দুর রশিদ এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রিয়াজ মিয়া।

এছাড়া মহিলা-বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে খোদমালা বেগম, সহ-মহিলা-বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে সিরিয়া বেগম, দপ্তর-সম্পাদক হিসেবে সুজাত আলী, সহ-দপ্তর-সম্পাদক হিসেবে জামিল হোসেন এবং নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম খান, আব্দুল কুদ্দুস, আরশ আলী, ফরমুজ আলী, আনোয়ার হোসেন, মো. শামস উদ্দিন, মো. বিরাজ উদ্দিন ও মো. আব্দুল ওয়াহিদ।

এছাড়াও সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন বাউল শাজাহান সিরাজ, গীতিকার দেলোয়ার শাহ, নুরুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, আব্দুল করিম, আবুল হোসেন, আব্দুল হাকিম, বাউল আতাবুর রহমান এবং সৈয়দ মিয়া।

‎

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন যে, নবগঠিত কমিটি পারস্পরিক ঐক্য, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে বাউল সংস্কৃতি ও লোকসংগীতের প্রচার-প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিয়ে এর সুনাম বিশ্বদরবারে আরও উজ্জ্বল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১৮৫৫ পদে নিয়োগে ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১৮৫৫ পদে নিয়োগে ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ল

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মোট ১ হাজার ৮৫৫টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য আগে দেওয়া ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদে নিয়োগের ছাড়পত্র আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের পার-২ শাখা থেকে সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আব্দুল হোসেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ২৫ জুন ২০২৬ তারিখের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ৪ জুন ২০২৫ তারিখের স্মারকের অনুবৃত্তিক্রমে ২০১৯ সালে দেওয়া তিনটি আদেশের মাধ্যমে অনুমোদিত নিয়োগের ছাড়পত্রের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ছাড়পত্রের আওতায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সদর দপ্তর পর্যায়ে ১৭ ক্যাটাগরির ১ হাজার ৬৬৭টি এবং জেলা পর্যায়ে ৪ ক্যাটাগরির ১৮৮টি পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিয়োগের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া পদের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৫টি।

সদর দপ্তর পর্যায়ের পদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ফিজিওথেরাপিস্ট, গবেষণা সহকারী, সহকারী লাইব্রেরিয়ান, ইপিআই টেকনিশিয়ান, টেলিফোন অপারেটর, ওয়ার্ড মাস্টার, জিনেম কিপার, টিকেট ক্লার্ক, ভেন্টিলেটর কাম মেকানিক, কিনো সুপারভাইজার, রেডিও কিপার ও কার্ডিওগ্রাফার।

এর মধ্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদটি ১১তম গ্রেডের, যার বেতনস্কেল ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদটি ১৪তম গ্রেডের এবং এর বেতনস্কেল ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদটি ১৬তম গ্রেডের, যার বেতনস্কেল ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা।

জেলা পর্যায়ে নিয়োগযোগ্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা সহকারী (এফপিএ), পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই), পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং আয়া। এসব পদে মোট ১৮৮টি শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া অধিদপ্তর পর্যায়ে অতিরিক্ত হিসেবে অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) ও কুক হেলপার পদও ছাড়পত্রের আওতায় রাখা হয়েছে। অফিস সহায়ক পদটি ২০তম গ্রেডের এবং এর বেতনস্কেল ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা।

নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্তও দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে পদোন্নতি, বদলি, অবসর, চাকরিচ্যুতি বা অন্য কোনো কারণে শূন্য হওয়া পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না। শুধু সরাসরি নিয়োগযোগ্য শূন্য পদগুলোতেই জনবল নিয়োগ করা যাবে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে অবহিত করতে হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে অর্থাৎ ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে এসব পদে নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য চিঠিটি মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বরাবর পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ, প্রতিপক্ষের কলাবাগান ধ্বংসের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ, প্রতিপক্ষের কলাবাগান ধ্বংসের অভিযোগ

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নে চোকদার বংশের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষটি পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়। উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের পর, একটি পক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নে চোকদার বংশের জোনায়েদ মেম্বার ও সৈকত চোকদারের পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ৯ জন আহত হন। পরে উভয় পক্ষই শিবচর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করে।

এরপর, ২৫ আগস্ট সকালে স্থানীয় ক্রোকচর বাজার এলাকায় জোনায়েদ মেম্বার হামলার শিকার হয়ে আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন, ২৬ আগস্ট সৈকত চোকদারের জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। তবে গাছ কাটার ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, চোকদার বংশের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সম্প্রতি এই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়ে সৈকত চোকদারের পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের জমিতে থাকা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। অন্যদিকে, জোনায়েদ মেম্বারের পরিবারের পক্ষ থেকে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

জোনায়েদ মেম্বারের ছেলে সাইমুন চোকদার বলেন, “আমার বাবাকে তারা আহত করেছে। তবে আমরা কোনো কলাগাছ বা অন্য কোনো গাছ কাটার বিষয়ে কিছু জানি না।”

সৈকত চোকদারের মা সিরিন সুলতানা বলেন, “জায়গাজমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। জোনায়েদ মেম্বার আহত হওয়ার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমার ছেলেরা শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠিত হওয়াটা অনেকে সহ্য করতে পারেনি। এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে।”

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “জুনায়েদ মেম্বারকে যারা আহত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গাছ কাটার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো তথ্য পাইনি।”

এদিকে সংঘর্ষ ও পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিরোধের সমাধান না হলে যেকোনো সময় আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। দীর্ঘদিনের জায়গাজমি ও বংশীয় বিরোধের অবসান কবে হবে—এমন প্রশ্নও তুলেছেন স্থানীয়রা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিরোধের স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%