১১:১০ পি.এম
রাজশাহীর তানোরে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে কৃষকের বিরুদ্ধে প্রভাবশালীদের করা ৮টি মামলা আদালত কর্তৃক খারিজ করার পর নতুন করে ১টি মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলা পাঁচন্দর ইউনিয়নের চিমনা গ্রামে। একের পর এক মিথ্যা মামলার মাধ্যমে কৃষককে হয়রানির ঘটনায় স্থানীয় বাসীর মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
যদিও আদালত পূর্বে ওই জমি নিয়ে করা মামলাগুলো খারিজ করে দিয়েছে, তথাপি কৃষকের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের করা হচ্ছে। একের পর এক দায়ের হওয়া ৮টি মামলার খারিজের পর, সম্প্রতি আদালতে আবারো ১টি মামলা দায়ের করেছেন প্রভাবশালী প্রতিপক্ষরা। ফলে ভুক্তভোগী কৃষকের বিরুদ্ধে একই জমি নিয়ে ৯টি মামলা দায়ের করা হলো।
আরও পড়ুন: চরফ্যাশনে লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ
স্থানীয় বাসী ও ভুক্তভোগীর সাথে কথা বললে জানা যায়, তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের চিমনা গ্রামের দুবইল মৌজার জেএল নং ৮৫, দাগ নং ৬৬১ পরিমাণ ১ একর ৩৩ শতক জমি আর এস ক্ষতিয়ান নং ২০৭, রকম ধানী জমি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ করে আসছেন চিমনা গ্রামের মৃত সাবির মন্ডলের পুত্র আব্দুল মতিন ও তার ওয়ারিশগণ।
এদিকে, ওই সম্পত্তি নিজের দাবি করে যুগিশো গ্রামের সোনারদীর পুত্র বাবলু ও তার আত্মীয় স্বজন জমি দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে। জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে কোর্টের মাধ্যমে বাবলুর আত্মীয় স্বজনরা মতিন ও তার ওয়ারিশগণকে এভিডেভিট করে বন সই দিয়ে জমি ছেড়ে দেন। জমি ছেড়ে দেয়ার পর ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট ওই জমিকে কেন্দ্র করে আদালতে আব্দুল মতিনসহ ৬ জনকে আসামী করে বাবলু তার বন্ধু ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিনকে বাদি করে আদালতে মামলা করেন। আদালত উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে মামলাটি খারিজ করে দেন।
এরপর ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি একই ব্যক্তি বাদি হয়ে মতিনসহ ওই ৬ জনকে আসামী করে পুনরায় আদালতে আরেকটি মামলা করেন। আদালত তদন্তের জন্য তানোর থানাকে নির্দেশ দেয়। তানোর থানা পুলিশ তদন্ত করে বিবাদীদের পক্ষে আদালতে রিপোর্ট দিলে আদালত সেই মামলাটিও খারিজ করে দেন।
পরে ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর একই ব্যক্তি পুনরায় বাদি হয়ে আব্দুল মতিনসহ ৭ জনকে আসামী করে ওই জমিকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত সাপেক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য তানোর সহকারী কমিশনার ভূমিকে দায়িত্ব দেন। তানোর সহকারী কমিশনার ভূমি তদন্ত সাপেক্ষে বিবাদীদের পক্ষে আদালতে রিপোর্ট জমা দিলে আদালত সেই মামলাটিও খারিজ করে দেন।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি দাবিতে কর্মবিরতি, সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
অন্যদিকে, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর বাবলু বাদি হয়ে ওই একই জমি নিয়ে আব্দুল মতিনসহ ৭ জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত ওই মামলাটিও তানোর সহকারী কমিশনার ভূমিকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। তানোর সহকারী কমিশনার ভূমি তদন্ত সাপেক্ষে বিবাদীদের পক্ষে আদালতে রিপোর্ট প্রদান করেন। আদালত সেই মামলাটি খারিজ করে দেন।
এছাড়া, ওই একই জমিকে কেন্দ্র করে বাবলু বাদি হয়ে ২০১৮ সালের ১২ মার্চ আব্দুল মতিনসহ তার ওয়ারিশদের ১৫ জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির সকল আসামীকে খালাস দিয়ে মামলাটি খারিজ করে দেন। ওই জমি নিয়েই ২০১৮ সালের ৭ই নভেম্বর বাবলু বাদি হয়ে আব্দুল মতিনসহ ৭ জনকে আসামী করে তানোর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তানোর থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত সাপেক্ষে বিবাদীদের পক্ষে রিপোর্টসহ মামলাটি আদালতে পাঠিয়ে দেন। পরে বাদী পুলিশের রিপোর্টের বিপক্ষে আদালতে নারাজি দিলে আদালত সেটি পিবিআইকে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেন। পিবিআই বিবাদীর কাগজপত্র দেখে মামলাটি ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে জমা দিলে আদালত সেই মামলাটিও খারিজ করে দেন।
পরে বাবলু তার স্ত্রী শাহিরা বেগমকে বাদি করে আব্দুল মতিনসহ ১২ জনকে আসামী করে আদালতে ১৪৫ ধারায় আরো একটি মামলা দায়ের করান। আদালত বিবাদীদের কাগজপত্র দেখে মামলাটি খারিজ করে দেন। অপরদিকে, ওই একই জমিকে কেন্দ্র করে বাবলু তার বন্ধু এরাজ উদ্দীনকে বিবাদী করে আব্দুল মতিনসহ ৫ জনকে আসামী করে ২০২২ সালের ১১ নভেম্বর আদালতে আরো একটি মামলা দায়ের করান। আদালত আসামীদের কাগজপত্র দেখে সেই মামলাটি খারিজ করে দেন।
আরও পড়ুন: নলছিটি ফেরিঘাটের রাস্তা মেরামত, যাত্রীদের স্বস্তি ফিরেছে
সর্বশেষ, চলতি বছরের গত মাসে বাবলু বাদি হয়ে আব্দুল মতিনসহ ৭ জনকে আসামী করে আদালতে আরো একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্ত সাপেক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য তানোর থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি তানোর থানা পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে। এই নতুন মামলার দায়েরের খবর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সমালোচনা ঝড় উঠেছে। স্থানীয় বাসী বলছেন কৃষককে একের পর এক এভাবে মিথ্যা মামলা দেয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তানোর থানার এসআই খালিদুর রহমান জানিয়েছেন, "মামলার তদন্ত চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে প্রতিবেদন প্রদান করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন