রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৪ পি.এম
কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে অনলাইন স্ক্যাম পরিচালনার অভিযোগে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। অভিযানের সময়, তাদের কাছ থেকে ৬টি অল-ইন-ওয়ান কম্পিউটার, ১৫টি মোবাইল ফোন এবং কিছু জাল মার্কিন ডলার নোট জব্দ করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিদেশিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি অভিযানে, নমপেনের ডাংকর জেলার ডাংকর কমিউনের মউল ভিলেজের স্ট্রিট ০২বি এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালায় কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই বাড়িতে বিদেশিদের লক্ষ্য করে সন্দেহভাজন অনলাইন স্ক্যাম কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পেয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের ফলস্বরূপ ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
এ সময় সাইবার স্ক্যাম কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ। আটক ৯ বাংলাদেশি নাগরিক এবং জব্দকৃত আলামত পরবর্তী তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নমপেন মিউনিসিপ্যাল পুলিশ কমিশারিয়েটে পাঠানো হয়েছে।
পরে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রস্তুত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নমপেন মিউনিসিপ্যাল কোর্টের প্রসিকিউটরের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যদি চলন্ত পথে হঠাৎ আপনার পায়ের সামনে ভারতের জাতীয় পতাকা পড়ে থাকে, তবে আপনার প্রতিক্রিয়া কী হবে?
এই প্রশ্নটি পাকিস্তানে পরিচালিত একটি ‘সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট’ বা সামাজিক পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাকিস্তানের সাধারণ রাস্তার ওপর ভারতের পতাকা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। ভিডিও নির্মাতারা আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং দেখছিলেন—কেউ কি সত্যিই জাতীয় পতাকাটির ওপর পা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন?
প্রতিক্রিয়া ছিল স্পষ্ট ও চোখে পড়ার মতো। ভিডিওতে দেখা যায়, পথচারীরা পতাকার ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার পরিবর্তে সচেতনভাবে তা এড়িয়ে চলছেন। কেউ পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ খেয়াল রাখছেন যেন তাদের জুতো বা পা পতাকাকে স্পর্শ না করে।
প্রাথমিক দৃশ্যের পর ভিডিও নির্মাতারা পথচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানতে চান—কেন তারা পতাকায় পা দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন?
কথা বলা ব্যক্তিদের বক্তব্য ছিল, "একটি দেশের সঙ্গে আপনার আদর্শগত বা রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে সেই দেশের সাধারণ মানুষ কিংবা তাঁদের জাতীয় পতাকাকে অসম্মান করতে হবে।"
অবশ্যই...
সেখানে সাধারণ ‘আমাদের একে অপরকে শ্রদ্ধা করা উচিত’—এ ধরনের কথাও প্রচুর ছিল।
তবে পুরো বিষয়টি ভিডিওটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কারণ, যাদের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, তাদের কাছে ক্রিকেট, কাশ্মীর সংকট, রাজনীতি কিংবা সামরিক উত্তেজনা নিয়ে কোনো জটিল প্রশ্ন করা হয়নি।
তাদের সামনে কেবল একটি সহজ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল—প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধিত্বকারী কাপড়ের টুকরোর ওপর পা ফেলা।
এবং দেখা গেল, অধিকাংশ মানুষই তা করতে একেবারেই নারাজ।
অনলাইনে ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সামাজিক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এই প্রতিক্রিয়া কি দুই দেশের বৈরী সম্পর্কের প্রতিফলন, নাকি বছরের পর বছর ধরে চলা উত্তেজনার পরও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি নজির?
অবশ্য, অল্প কিছু মানুষকে নিয়ে করা এই ধরনের সামাজিক পরীক্ষা দিয়ে একটি গোটা দেশের মানুষের চিন্তাভাবনাকে বিচার করা সম্ভব নয়।
তা হলো...
কারো সব কথার সঙ্গে আপনি একমত নাও হতে পারেন, তাও তাকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থেকে যায়।
এবং এই মানুষের কাছে সেই শ্রদ্ধাবোধের অর্থ ছিল অন্তত অন্য দেশের জাতীয় পতাকায় নিজের জুতো না ছোঁয়ানো!
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জে জেলা পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মোবাইল ফোন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জুয়ার বিস্তার রোধ করার জন্য। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার প্রবণতা কমানোর লক্ষ্যে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযানে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ২১ জনকে আটক করেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। শহরের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ফোন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা এবং এতে অংশগ্রহণের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে ২১ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তরুণদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তাই অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মন্তব্য করেন, "অনলাইন জুয়া ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।"
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্র শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের সূত্র জানায়, অনলাইন জুয়া ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। শহরের বাইরে জেলার বিভিন্ন এলাকায়ও এ ধরনের অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে।
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও চক্রের কার্যক্রম শনাক্ত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটক ২১ জনের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি। তিনি এও উল্লেখ করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর সুরক্ষার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নৌ-অভিযানকে আরও শক্তিশালী করা অপরিহার্য।
তিনি একটি জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান। সম্প্রতি সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে হুথি গোষ্ঠীর হামলায় ইতালির একটি ইউরোফাইটার যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর হুথিরা জানায়, তারা ইতালির বিরুদ্ধে কোনো লড়াই করছে না। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাজানি স্পষ্ট করেন যে, ইতালি কোনো যুদ্ধে লিপ্ত নয়।
মূলত, লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হুথিদের হামলা থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ইইউ ‘অ্যাসপাইডস’ নামের সুরক্ষা মিশন গঠন করেছিল। তাজানি জানান, সমুদ্রপথে অশান্তি বাড়লেও ইতালি এই মিশনকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি নিরাপত্তা মিশনের মেয়াদ বাড়ানো এবং কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথাও উল্লেখ করেন।
ইতালির বাণিজ্যের জন্য লোহিত সাগর রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, দেশটির সামুদ্রিক ব্যবসার ৪০ শতাংশ এবং এশিয়ায় পাঠানো মোট পণ্যের ৬০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়। তাই লোহিত সাগরে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা ইতালির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারে ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনা করার সময় সাভার মডেল থানার পুলিশ যুবলীগের সাতজন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এ সময় তাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস, পাঁচটি বাঁশের লাঠি এবং একটি ব্যানার জব্দ করা হয়।
রোববার বিকেলে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, সকালে সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লার চৌধুরী পেট্রোল পাম্পের কাছে মহাসড়ক থেকে তাদের আটক করার বিষয়ে ওসি জানান।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাভার ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তুহিন (৩৩), যুবলীগ কর্মী রাজু (৩৯), রুহুল আমিন রাজীব (৩৮), মো. আরিফুল হোসেন (২৫), মোহাম্মদ আলী (৩৫), মো. মুরাদ হোসেন (৪৪) এবং কৃষক লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন (৫০)।
পুলিশ জানায়, সাভারে ঝটিকা মিছিলের উদ্দেশ্যে তিনটি মাইক্রোবাসে করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা যাচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার মডেল থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি মাইক্রোবাসে থাকা সাতজনকে আটক করে। তবে পুলিশ উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য দুটি মাইক্রোবাস কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে আটককৃতদের গাড়ি তল্লাশি করে পাঁচটি বাঁশের লাঠি ও একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়।
ওসি সাইফুল আলম বলেন, আটক ব্যক্তিরা মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছিলেন। এ ঘটনার পর সাভার মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ