শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১৬ এম
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূরঘাটা-মোল্লারহাট সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ ও গভীর গর্ত। কোথাও কোথাও গর্তের গভীরতা এক হাতেরও বেশি। উঠে গেছে সড়কের পিচ ও সলিং, বেরিয়ে এসেছে নিচের মাটি। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে তৈরি হয় আরও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকেরা।
বিশেষ করে কালকিনি বাজার থেকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলার সিডিখান, শিকারমঙ্গল, জুরগাঁও, রমজানপুর, সাহেবরামপুর, মোল্লারহাট ও কয়ারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়ক।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. তামিম হাসান বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে আমাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সমাধান করা হোক, যাতে দুর্ঘটনা কমে আসে।’
কালকিনি কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে কলেজে যাতায়াত করি। সড়কের গর্ত ও খানাখন্দের কারণে আমাদের অনেক অসুবিধা হয়। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।’
সড়কটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা জানিয়ে গাড়িচালক মইনুদ্দিন বলেন, ‘আমি একবার মরতে মরতে বেঁচে গেছি। আমার গাড়িটি অল্পের জন্য পালরদী নদীতে পড়ে যায়নি। এভাবে গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করে আমাদের সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশে সংস্কারের অভাবে খানাখন্দ তৈরি হলেও স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ।
তবে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ। কালকিনি উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সড়ক হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুতই সড়কটির মেরামতকাজ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কাগজে-কলমে প্রাক্কলন পাঠানোর মধ্যেই যেন উদ্যোগ সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন হাজারো মানুষ। পাশাপাশি কমবে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের অনেক শহরের মতো রাজধানী ঢাকাও দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে সবশেষ বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, শহরটির বাতাসের মান জনস্বাস্থ্যের জন্য মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) অনুযায়ী শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় ঢাকার স্কোর ৯২। এই স্কোর অনুযায়ী, বায়ুর মান মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে। এ সময় বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৮তম।
একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকায় ২৬৯ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং। এ ছাড়া, ১৬১ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, ১৫৪ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের চেংদু, ১৪৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটির স্কোর ১১২।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ সহনীয় বা মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর।
১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। আর ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ নতুন একটি বিশ্ব মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে ভোট প্রদান করেছে। এই নতুন মানচিত্রে আফ্রিকা মহাদেশকে তুলনামূলকভাবে বড় আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার আকার আগের তুলনায় ছোট দেখা যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বিশ্বের মহাদেশগুলোর আকারকে আরও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে নতুন মানচিত্রটি গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটে ১৬৪টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এ ছাড়া, আরও ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
নতুন মানচিত্রটি ‘ইকুয়াল আর্থ’ কার্টোগ্রাফিক প্রজেকশন নামে পরিচিত। জাতিসংঘের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি বিশ্বের মানচিত্রে মহাদেশগুলোর আকারকে আরও সঠিকভাবে উপস্থাপন করে।
সদস্য দেশগুলোকে প্রচলিত ‘মারকেটর প্রজেকশন’-এর পরিবর্তে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর মূলত সমুদ্রপথে নৌ চলাচলের সুবিধার জন্য এই মানচিত্রটি তৈরি করেছিলেন।
প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা আফ্রিকার দেশ টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসি মন্তব্য করেন, মানচিত্র মানুষের শিক্ষা ও কল্পনাকে প্রভাবিত করে এবং পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের সামষ্টিক ধারণা গড়ে তোলে। তিনি আরও বলেন, "মানচিত্র কখনোই পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। পৃথিবীর বিকৃত চিত্র তুলে ধরলে সেই ভুল ধারণা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে পারে।"
যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছে। ভোটের আগে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ বলেন, "প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোতে মনোযোগ না দিয়ে এই সংস্থা ১৬ শতকের মানচিত্র এবং ক্ষতিপূরণ ও তথাকথিত ‘কগনিটিভ জাস্টিস’-এ এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণেই জাতিসংঘ তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।"
কেন নতুন মানচিত্র?
মারকেটর মানচিত্রে মহাদেশগুলোর আকৃতি ও কোণ তুলনামূলকভাবে সঠিকভাবে দেখানো হলেও আয়তনের অনুপাত সঠিক থাকে না। কারণ গোলাকার পৃথিবীকে সমতল কাগজে উপস্থাপন করতে গেলে কিছু অঞ্চলের আকার স্বাভাবিকভাবেই বিকৃত হয়।
এর ফলে উত্তর গোলার্ধের অঞ্চলগুলোকে তুলনামূলকভাবে বড় এবং বিষুবীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ছোট দেখায়। তাই ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা বাস্তবের তুলনায় বড়, আর আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা ছোট মনে হয়।
২০১৮ সালে একদল মানচিত্রবিদ ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন তৈরি করেন। এতে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়াকে তুলনামূলকভাবে বড় এবং তাদের প্রকৃত আয়তনের কাছাকাছি দেখানো হয়েছে।
এই মানচিত্রের অন্যতম নির্মাতা বোয়ান সাভরিচ ২০২৫ সালে এএফপিকে বলেন, ইকুয়াল আর্থ মহাদেশগুলোর আপেক্ষিক আয়তন বজায় রাখে এবং যতটা সম্ভব পৃথিবীর গোলকের ওপর মহাদেশগুলোর প্রকৃত আকৃতি তুলে ধরে।
ফ্রান্সও বদলাচ্ছে মানচিত্র
নতুন মানচিত্রের পক্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সও রয়েছে। শুক্রবার দেশটি জানায়, তারা আরও মারকেটর মানচিত্র ব্যবহার করবে না।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, "প্রচলিত মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বড় ও প্রভাবশালী দেখা যায়। এমনকি গ্রিনল্যান্ডকেও প্রায় আফ্রিকার সমান বড় মনে হয়।"
তিনি বলেন, "মানচিত্র পরিবর্তন করলেই অবশ্য পৃথিবী বদলে যায় না। কিন্তু একটি বিকৃত চিত্র সংশোধন করা সত্যকে তুলে ধরারই একটি পদক্ষেপ।"
আফ্রিকার সঙ্গে, বিশেষ করে সাবেক ফরাসি উপনিবেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে ফ্রান্স। নতুন মানচিত্র গ্রহণের উদ্যোগকে সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আরব নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না।’ প্রতিটি দিন সময়ের প্রবাহে ইতিহাসের একটি অংশে পরিণত হয়। বর্তমানের এই দিনটি আগামী দিনের অতীত, এবং সেই অতীতের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোই ইতিহাসের পাতায় স্থান পায়।
আজকের দিন, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার, ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে নানা উল্লেখযোগ্য ঘটনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। আসুন, এক নজরে দেখে নিই, ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ঘটনাবলি
১৬১২ সালে, চারটি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৬৬৬ সালে, গ্রেট ফায়ার অব লন্ডনের অবসান ঘটে।
১৭৬৩ সালে, ব্রিটিশ বাহিনী বাজমহলের নিকট উদয়নালায় মীর কাশিমকে পরাজিত করে।
১৯০৫ সালে, রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৩৯ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার নিরপেক্ষতা ঘোষণা করে।
১৯৬০ সালে, রোম অলিম্পিক আসরে মোহাম্মদ আলী বক্সিংয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
১৯৭২ সালে, মিউনিখ গণহত্যা সংঘটিত হয়; ব্লাক সেপ্টেম্বর নামক একটি প্যালেস্টাইন স্বাধীনতাকামী দল মিউনিখ অলিম্পিক গেমসে ১১ জন ইসরাইলিকে হত্যা করে।
১৯৭১ সালে, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শহীদ হন।
২০০০ সালে, প্রশান্ত মহাসাগীয় দ্বীপ টুভ্যালু জাতিসংঘে যোগদান করে।
জন্ম
১১৮৭ সালে, ফ্রান্সের রাজা অষ্টম লুইসের জন্ম হয়।
১৭৭৪ সালে, জার্মান চিত্রকর ক্যাস্পারের জন্ম হয় ডেভিড ফ্রেডরিখের।
১৮৮৮ সালে, স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি ও দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্ম হয়।
১৯৫৪ সালে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার রিচার্ড অস্টিনের জন্ম হয়।
১৯৭০ সালে, বাংলাদেশের সাবেক স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের জন্ম হয়।
১৯৭৯ সালে, ভারতীয় শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীত শিল্পী আয়ান আলি খানের জন্ম হয়।
১৯৯১ সালে, বাংলাদেশি সংগীত শিল্পী ইমরান মাহমুদুল হকের জন্ম হয়।
মৃত্যু
১১৬৫ সালে, জাপানের সম্রাট নিযোর জন্ম হয়।
১৫৬৬ সালে, তুর্কী সুলতান সোলাইমান আজমের জন্ম হয়।
১৭৮৬ সালে, ইংরেজ ব্যবসায়ী পর্যটক জন হ্যানয়ের জন্ম হয়।
১৮৫৭ সালে, ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী অগুস্ত কোঁতের জন্ম হয়।
১৮৫৯ সালে, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী সুলেমান বন্দরনায়েক নিহত হন।
১৯৭৪ সালে, বাংলার লোকসঙ্গীত শিল্পী আবদুল আলীমের মৃত্যু ঘটে।
১৯৯৭ সালে, মাদার তেরেসার মৃত্যু ঘটে।
২০০৯ সালে, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মৃত্যু ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "আমরা আজ কোনো দল, ব্যক্তি, গোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে।"
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হওয়ার আগে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, "আমরা কেন নেমেছি, এই ব্যাপারে ১১ দলের নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যেই বক্তব্য রেখেছেন। আমাদের দাবি স্পষ্ট, ছয় দফা দাবি আপনারা দেখেছেন। তার সঙ্গে সপ্তম দফা হবে—কোনো চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাশত করব না।"
তিনি আরও বলেন, "জনগণ চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ, দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নাই, পানি নাই, ইলেকট্রিসিটি নাই। কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে, কারেন্টের বিল আছে, পানির জন্য কথা বলা যাবে না।"
এ বিষয়ে তিনি বলেন, "অতিষ্ঠ হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের এক তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ ওলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে।"
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, সিফাতের মুখের ভাষা নয়। কিন্তু যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে।"
তিনি বলেন, "ওরে ছেড়ে দেন। ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন—এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদিতে একদম উলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, কেউ বলতে পারবে না।"
ঢাকাবাসীর উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, "আপনারা দোয়া করবেন। আমরা আপনাদের, এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি।"
তিনি বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচির ওষুধ ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিক্রিয়া হলে আমরা বলে দিচ্ছি, আপনারা বলতেছেন এই করলে, সেই করলে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি—জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।"
সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, "আপনারা দোয়া করবেন। এখনই আমাদের লংমার্চ ইনশাআল্লাহ শুরু হবে। আমরা চট্টগ্রামের দিকে এই যাত্রা শুরু করব। মহান আল্লাহতায়ালার সাহায্য কামনা করছি। জনগণের স্বার্থে আমাদের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে আল্লাহ যেন আমাদের সাহায্য করেন। আমাদের ওপর রহম করেন। আমাদের সফরকে আল্লাহতায়ালা সহজ করে দেন।"
"সব ধরনের বাধা-প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আমাদের গন্তব্যে আল্লাহতায়ালা যেন নিরাপদে পৌঁছে দেন। গন্তব্যের পথে বাধা এলে আমরা লড়াই করতেই নেমেছি। জনগণের অধিকারের জন্য আমরা আমাদের গন্তব্যে ইনশাআল্লাহ পৌঁছাব। কোনো বাধাকেই আমরা পরোয়া করব না, ইনশাআল্লাহ।"
তিনি আরও বলেন, "আপনারা দোয়া রাখবেন সবাই। আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি। জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব। আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে চলবে। জাতীয় সংসদে সমান্তরাল এই আন্দোলন চলতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ