ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে গেছে ঢাকা-বরিশাল চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প


জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে গেছে ঢাকা-বরিশাল চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প

পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে গেছে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার মেগা প্রকল্প।

ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙা পর্যন্ত চোখজুড়ানো এক্সপ্রেসওয়ে থাকলেও, এরপর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে।

চাহিদার তুলনায় অর্ধেক জমিও বুঝে না পাওয়ায় শুরুই করা যাচ্ছে না প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এবং অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের লাখো মানুষের স্বপ্নের এই মহাসড়ক প্রকল্প।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে দুইদিনে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল দুই ব্যবসায়ীর

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, পদ্মা সেতু চালুর পর ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২০৫ কিলোমিটারের এই সরু সড়কটিতে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন এই রুটে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার যানবাহন চলাচল করছে। দুর্ঘটনা কমাতে এবং যানবাহনের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে ভাঙা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে জমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মূল নকশা, ব্যয় নির্ধারণ এবং অর্থায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতায় থমকে আছে দৃশ্যমান কাজ।

জানা গেছে, মহাসড়কের বরিশাল অংশে ৪৭ একর জমির চাহিদা থাকলেও, সওজ এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণ করতে পেরেছে মাত্র ২৬ একর।

এই মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াত করা বাস চালক সত্তার হোসেন বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়ে পার হওয়ার পর এই সরু সড়কে ঢুকলেই বুকটা দুরুদুরু করে। গাড়ির চাপ এত বেশি যে ওভারটেক করার জায়গা পাওয়া যায় না। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। চার লেনের কাজ দ্রুত শেষ না হলে এই সড়কে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

সড়কটির বেহাল দশা ও ধীরগতির চাপে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়েছে। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি বরিশাল মহানগরের সভাপতি বিশ্বজিৎ ঘোষ বিশু বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা মসৃণ না হওয়ায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। মহাসড়কটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।’

আরও পড়ুন: মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ ও সমাবেশ, গ্রেফতারের দাবি

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশ স্থবির হয়ে থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ বলেন, ‘বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি ঝুলে আছে। জমি অধিগ্রহণের মতো প্রাথমিক কাজ বছরের পর বছর আটকে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ তাদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

দি বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এ্যাড এইচ এম তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘পদ্মা সেতুর সুফল আমরা পুরোপুরি পাচ্ছি না এই সরু সড়কের কারণ। সড়কটি প্রশস্ত না হওয়ায় পণ্য পরিবহনের সময় যেমন দীর্ঘ হচ্ছে, তেমনি পরিবহন খরচও অনেক বেড়ে যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এই মহাসড়ক চার লেনে রূপান্তর করার কোনো বিকল্প নেই।’

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বরিশাল অংশে ৪৭ একর জমির প্রয়োজন হলেও মাত্র ২৬ একর জমি আমরা হাতে পেয়েছি। বাকি জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। জমি পাওয়ার সাথে সাথেই মূল নকশা ও অর্থায়নের চূড়ান্ত কাজ সম্পন্ন করে দৃশ্যমান কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’

তবে জটিলতা কাটিয়ে দ্রুতই কাজ শুরু করার কথা জানিয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান বলেন, ‘আশা করছি খুব দ্রুতই জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ করে ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত চার লেনের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে কুয়াকাটা পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের কাজ হাতে নেবে সরকার।

আরও পড়ুন: জৈন্তাপুরে চাকরির প্রলোভনে দুই নারীকে ভারতে পাচারের চেষ্টা, একজন গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে বর্তমানে ৬৪টি জিআই পণ্য নিবন্ধিত রয়েছে : শিল্পমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


দেশে বর্তমানে ৬৪টি জিআই পণ্য নিবন্ধিত রয়েছে : শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছে।

তিনি বলেন, আজ জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, নিবন্ধিত জিআই পণ্যের মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র, কৃষিপণ্য, খাদ্যসামগ্রী, হস্তশিল্প এবং প্রাণিসম্পদভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য, যা দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটায়।

নিবন্ধিত জিআই পণ্যের মধ্যে রয়েছে- জামদানি শাড়ি, বাংলাদেশের ইলিশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম, নেত্রকোনার বিজয়পুরের সাদামাটি, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল, বাংলাদেশের কালিজিরা চাল, রংপুরের শতরঞ্জি, রাজশাহী সিল্ক, ঢাকাই মসলিন, বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম, শেরপুরের তুলশীমালা চাল, বাংলাদেশের শীতলপাটি, বগুড়ার দই, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া আম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশ্বিনা আম।

এ ছাড়া জিআই পণ্যের তালিকায় রয়েছে নাটোরের কাঁচাগোল্লা, বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম, কুমিল্লার রসমালাই, কুষ্টিয়ার তিলের খাজা, রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আম, মৌলভীবাজারের আগর, মৌলভীবাজারের আগর আতর, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মণ্ডা, যশোরের খেজুরের গুড়, নরসিংদীর অমৃতসাগর কলা, রাজশাহীর মিষ্টি পান, গোপালগঞ্জের রসগোল্লা, জামালপুরের নকশিকাঁথা, টাঙ্গাইল শাড়ি, নরসিংদীর লটকন, টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারস, ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দই এবং মাগুরার হাজরাপুরি লিচু।

মন্ত্রী আরও জানান, জিআই স্বীকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে সিলেটের মণিপুরি শাড়ি, সিরাজগঞ্জের গামছা, মিরপুরের কাতান শাড়ি, ঢাকাই ফুটি কার্পাস তুলা, কুমিল্লার খাদি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী, গোপালগঞ্জের কাঁসার গহনা, সুন্দরবনের মধু, শেরপুরের ছানার পায়েশ, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি, গাজীপুরের কাঁঠাল, কিশোরগঞ্জের রাতাবোরো ধান, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের চিজ, বরিশালের আমড়া, কুমারখালীর বেডশিট, দিনাজপুরের বেদানা লিচু, মুন্সীগঞ্জের পাটক্ষীর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের জামুর্কি সন্দেশ এবং নওগাঁর নাক ফজলি আম।

অন্য জিআই পণ্যের মধ্যে রয়েছে ঢাকাই ফুটি কার্পাসের বীজ ও গাছ, মেহেরপুরের মেহেরসাগর কলা, নেত্রকোনার বালিশগঞ্জ মিষ্টি, ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি, মেহেরপুরের হিমসাগর আম, ফরিদপুরের পাট, মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি, কালীগঞ্জের গামছা, জয়পুরহাটের লতিরাজ কচু এবং মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, স্টারমারের পদত্যাগের পেছনে কি কারণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


যুক্তরাজ্যে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, স্টারমারের পদত্যাগের পেছনে কি কারণ?

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সদ্য পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। তার পদত্যাগের ঘোষণার মাধ্যমে লেবার পার্টি সরকারের নেতৃত্বে প্রায় ২৩ মাসের অবসান ঘটল।

এতদৰ্ম्यान যুক্তরাজ্যে গত এক দশকে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী আসার অপেক্ষা ইঙ্গিত করছে।

সোমবার (২২ জুন) ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে উপস্থিত হয়ে, স্ত্রীকে পাশে নিয়ে জনসমক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি লেবার পার্টির প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়াবেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী পদে তিনি নির্বাচনের সমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবেন এবং সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে চেষ্টার কোন কমতি রাখবেন না বলেও তিনি যোগ করেন।

তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত সমর্থকরা করতালিতে বিদায় জানান তাকে। স্টারমারের এই পদক্ষেপের ফলে তার দলের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহামের কাছে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথও তৈরি হলো।

কয়েক দিনের অনিশ্চয়তার পর এবং লেবার পার্টির এমপি ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের তীব্র চাপের মুখে, অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন স্টারমার। তবে তিনি তার নেতৃত্বের ওপর প্রতিষ্ঠার জন্য সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছিলেন।

বিভিন্ন কেলেঙ্কারি এবং উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একের পর এক পদত্যাগের কারণে তার পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়লেও, তিনি শীর্ষ পদে থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবুও গত কয়েকদিনের চাপের মুখে পদত্যাগই করতে হলো কিয়ার স্টারমারকে। তার পদত্যাগের ফলে আগামী এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে বড় জয় পাওয়া অ্যান্ডি বার্নহামের এই জয় স্টারমারের জন্য ছিল চূড়ান্ত বিপর্যয়। এই পরিস্হিতির পরপরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে, গত বছরের ২০১৬ সালের বিতর্কিত ব্রেক্সিট গণভোটে, ব্রিটিশ ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের হওয়ার পক্ষে ভোট দেন। এর ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়, যার প্রভাব এখনও বিদ্যমান।

কনজারভেটিভ পার্টি ছয় বছর ধরে ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু ২০১৬ সালের জুলাইয়ে গণভোটের ফল প্রকাশের পর ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন। ব্রেক্সিট রাজনৈতিক প্যানেলে অনেক পরিবর্তনের সূচনা করে।

স্টারমারের পদত্যাগের পেছনে মূলত লেবার পার্টির ভেতর চাপ বৃদ্ধি এবং মধ্য-বামপন্থী আইনপ্রণেতাদের অসন্তোষ ছিল। তার নেতৃত্বে অসন্তুষ্ট হয়ে এমপি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার পদত্যাগ দাবি করতে শুরু করেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করলে স্টারমার দ্রুত দলীয় জনপ্রিয়তার পতনের মুখে পড়েন।

উদারপন্থী বা লিবারেল ভোটাররা পরিবেশবাদী পার্টির দিকে ঝুঁকেছে, যা আরও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

শুরুতে তিনি পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও দলের নেতারাই তাকে চ্যালেঞ্জ জানান। পূর্বের প্রধান নির্বাচন পর্যন্ত লেবার পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলে থাকবে।

এদিকে, নাইজেল ফারাজ এই রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ব্যক্তিগতভাবে তার ফায়দা নিতে কাজে লাগাচ্ছেন। রিফর্ম ইউকে দলটি সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতার পেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।

জনমত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক লুক ট্রাইল বলেছেন, '২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।'

স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামকে বিবেচনা করা হচ্ছে, যারা সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। এটি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথও উন্মুক্ত করেছে।

স্টারমারের পদত্যাগের পরেও রাজনীতির অঙ্গনে নতুন নেতৃত্ব পরিষ্কার হতে এখনও সময় লাগবে। এর ফলে গত এক বছরে যুক্তরাজ্য নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটে যাওয়ার ফলে এটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

বর্তমানে, ২০১৬ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে ছয়জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গড়ে প্রতি দেড় থেকে দুই বছর পরপর নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং ঋষি সুনাকের পর এবার কিয়ার স্টারমার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতি মন্ত্রী

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আজ রাজধানী ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম ২০২৬ এর সনদ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে যান।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন এবং দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য।

আজকের এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসাবে কৃতি পাঠকদের হাতে সনদ ও পুরস্কার প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ্ কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

সংস্কৃতি মন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একসময় ঐশ্বর্য, প্রাচুর্য ও গৌরবময় ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত ছিল। তিনি আলেকজান্ডার থেকে শুরু করে ইবনে বতুতা পর্যন্ত বহু পর্যটক ও ঐতিহাসিক এই ভূখণ্ডের সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির প্রশংসা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়লেও জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে দেশকে পুনরায় এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি করে।

জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে ‘জেন-জি’ বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি কাঠামোগত রূপান্তরের প্রত্যাশা করছেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং মাদকের বিস্তার রোধ সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। বই পড়ার অভ্যাস একজন মানুষকে আলোকিত করে এবং জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলে। তরুণ প্রজন্মকেই আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি দেশের গণগ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়নে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সবকিছুই বিপক্ষে, কিন্তু আমরা জিততে পারি’–আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে অস্ট্রিয়ার কোচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ পি.এম


‘সবকিছুই বিপক্ষে, কিন্তু আমরা জিততে পারি’–আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে অস্ট্রিয়ার কোচ

বিশ্বকাপের মঞ্চে ২৮ বছর পর ফিরে এসেছে অস্ট্রিয়া। জর্ডানের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলের জয়ের মাধ্যমে শুভ সুচনা করার পর তাদের সামনে এসেছে দ্বিতীয় ম্যাচের একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় তারা ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মোকাবিলা করবে। এই ম্যাচের প্রাক মুহূর্তে অস্ট্রিয়ার কোচ রাল্ফ রাংনিক মন্তব্য করেন, যদিও পূর্বাভাসগুলো গ্রুপ জে'র দ্বিতীয় রাউন্ডের এই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখছে, তবে তার দলের পারফরম্যান্সই হবে মূল বিষয়।

এই জার্মান কোচ উল্লেখ করেন, 'যদি এটি (জয়-পরাজয়) অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করতো, তাহলে হয়তো বলতো আমরা জিতব না, একেবারেই না। সবকিছুই আমাদের বিপক্ষে, কিন্তু আমরা জিততে পারি। এটা একটি দলগত খেলা, আর যদি আমরা সাহস ও ধারাবাহিকতা নিয়ে খেলি, তাহলে আমরা সফল হতে পারি। আর্জেন্টিনা অসাধারণ এক স্তরে রয়েছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা কীভাবে খেলি।'

আরলিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের প্রেস কনফারেন্সে তিনি আরও বলেন, 'আমরা জিততে পারি বা নির্ধারিতভাবে ড্র করতে পারি।' এ সময় তিনি লিওনেল মেসির পারফরম্যান্সের কথাও উল্লেখ করেন, যিনি আলজেরিয়ার বিপক্ষে গত ম্যাচে অসাধারণভাবে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন। তিনি বলেন, 'তিনি একজন অসাধারণ ও চমকপ্রদ খেলোয়াড়, এবং ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। স্পষ্টতই, আর্জেন্টিনা শুধুমাত্র তাকে নিয়েই নয়, বরং তিনি একটি শক্তিশালী দলের নেতা।'

প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এই জার্মান কোচ আরও জানান, 'আর্জেন্টিনার দুর্বলতাগুলো সহজেই বলা যায়। আমরা খুব কম বা প্রায় কোনো দুর্বলতাই খুঁজে পাইনি। তাদের দলের মধ্যে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় রয়েছেন। তারা অনেক বেশি বল দখলে রাখতে চায়, কিন্তু আমরা সেই অনুযায়ী খুব ভালোভাবে প্রস্তুত। আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে, আগে থেকেই অনুমান করতে হবে এবং বিস্মিত হওয়া যাবে না।'

অন্যদিকে, দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবং বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মার্সেল সাবিৎসার বলেন, 'জাতীয় দলের হয়ে আমার ১০০তম ম্যাচে এমন একটি পরিবেশে, হাজারো দর্শকের সামনে এবং আর্জেন্টিনার মতো অসাধারণ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা আমার জন্য একটি বড় সুযোগ। আমি আমার জাতীয় দলের জন্য ভালো পারফর্ম করতে প্রস্তুত রয়েছি।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%