ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে ১৫৪ জন গ্রেফতার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার


রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে ১৫৪ জন গ্রেফতার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার

রাজশাহী, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের একটি অভিযানে ১৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে এই গ্রেফতার ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।

আজ শুক্রবার রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে পানসি নৌকা বাইচ উৎসবের উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড.এম এ মুহিত

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সময়ের মধ্যে ৩টি খুন, ১টি দস্যুতা, ১টি চুরি এবং ১টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সহ অন্যান্য খাতে ১১৪টি মামলা এবং ৮টি অপমৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযান পরিচালনার সময় পরোয়ানা মূলে ৩৬ জন, সাজাপ্রাপ্ত ৪ জন, তদন্তাধীন মামলায় ১০৯ জন এবং প্রতিরোধমূলক অন্যান্য পদক্ষেপে ৫ জনসহ মোট ১৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকসেবী রয়েছে।

গ্রেফতার ও বিভিন্ন অবৈধ মালামাল উদ্ধারের জন্য পরিচালিত মোট ১৪৫টি অভিযানের মাধ্যমে ৪০ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ১৯২ পিস ইয়াবা, ৫১৮ পিস ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট, ১ কেজি ৪১০ গ্রাম গাঁজা এবং ৩৬০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪৭ জন মানুষকে প্রত্যক্ষ সেবা প্রদান করেছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য রাজশাহীতে অফিসিয়াল ক্যাপ ও টিশার্ট উপহার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতে ঘুম না এলে মুক্তির জন্য ৫ খাবার খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


রাতে ঘুম না এলে মুক্তির জন্য ৫ খাবার খান

রাতে ঘুম না হওয়া এবং স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা কিংবা সারাক্ষণ ক্লান্তির অনুভূতি এখন একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই মনে করেন, শরীর ক্লান্ত থাকলে ঘুম আসতে চায় না। এর ফলে দিনের বেলায় কাজ করার সময় দ্বিগুণ ক্লান্তি অনুভূত হয়। এর সঙ্গে ভুলে যাওয়ার সমস্যাও রয়েছে। পূর্বে যে ছোটখাটো ঘটনা মনে থাকত, এখন সেগুলোও মনে থাকে না। সদ্য ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোও মস্তিষ্ক থেকে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। পরিচিত মানুষের নাম ও মুখ ভুলে যাচ্ছেন অনেকে।

চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ এতটাই বেড়ে গেছে যে, এটি ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করছে। ফলে একদিকে ঘুমের সমস্যা দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে ‘ব্রেন ফগ’-এর লক্ষণও প্রকাশ পাচ্ছে।

‘ব্রেন ফগ’ শব্দটি প্রকৃতপক্ষে একটি বৈজ্ঞানিক পরিভাষা নয়। সাধারণত এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেদের শারীরিক অবস্থার ব্যাখ্যা করতে এই শব্দটি ব্যবহার করেন। আচমকা চিন্তা-ভাবনার শ্লথতা, মনোযোগের অভাব, স্মৃতিলোপ এবং অনিদ্রার মতো বিভিন্ন সমস্যা এর উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়।

চিকিৎসকরা উল্লেখ করেছেন, এই সমস্যার জন্য কেবল হরমোন দায়ী নয়, খাদ্যাভ্যাসও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ঘুমের সমস্যা ও ভুলে যাওয়ার সমস্যার সঙ্গে জড়িত। যারা বেশি মিষ্টিজাতীয় খাবার খান এবং প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। অতিরিক্ত ক্যাফিনও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর।

মুক্তি পেতে ৫ খাবার খান

আখরোট ও কাঠবাদাম: এই খাবারগুলোতে প্রচুর ভিটামিন ‘ই’, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং মেলাটোনিন রয়েছে, যা মস্তিষ্ককে সচল রাখতে এবং গভীর ঘুমে সহায়তা করে।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: কুসুম গরম দুধে উপস্থিত ট্রিপটোফ্যান ও মেলাটোনিন স্নায়ুকে শান্ত করে এবং দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে।

কলা: কলায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ট্রিপটোফ্যান পেশিকে শিথিল করে এবং ঘুমের মান উন্নত করে।

ফ্যাটি ফিশ: ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সেরোটোনিন হরমোন বাড়িয়ে ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে।

টক চেরি বা চেরি জুস: এতে প্রাকৃতিকভাবে মেলাটোনিন উপস্থিত থাকে, যা অনিদ্রা দূর করতে এবং ঘুমের সময় ও গভীরতা বৃদ্ধি করতে কার্যকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবার জন্য তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


সবার জন্য তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বলেছিলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, irrespective of their political affiliation. গত বৃহস্পতিবার তিনি নিজের দলের সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজদের প্রতি একটুও ছাড় দেবেন না। তার শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি কেবল কথার কথা নয়, বরং বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তা তিনি বিশ্বাস করেন এবং কার্যকর করেন।

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অতীতে বহু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের অভিযোগ থাকলেও কোন রাজনৈতিক দল তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ফেনীর জয়নাল হাজারী কিংবা ইয়াবা সম্রাট বদির মতো পরিচিত সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। সবার জানা ছিল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু তৎকালীন সরকারি দলের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধু সংসদ সদস্যরাই নয়, সরকারি দলের নেতাকর্মীরাও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছিলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারছিল না, কারণ তারা শাসক দলের ছত্রছায়ায় ছিল। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের যেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু তারেক রহমান গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বাংলাদেশের রাজনীতির এই অনৈতিক ধারা পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসীদের কোন দলীয় পরিচয় নেই, তাদের একটাই পরিচয় তারা অপরাধী। তারেক রহমান তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। তিনি নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে বলেন। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার সাথে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম যুক্ত হয়েছে। এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দলের পক্ষ থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে অতীতে বহু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এরকম কিংবা এরচেয়ে গুরুতর অভিযোগ এসেছে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। এর পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অস্বীকৃতির সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। নিজের দলের লোকদের খারাপ বললে জনগণের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়- এই ভুল ধারণা রাজনীতিতে প্রচলিত। তাই ক্ষমতাসীনরা নিজেদের দলের অপরাধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, যা সবসময় তাদের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজি করা যায় এবং এর বিচার হয় না। এর ফলে শুধু ক্ষমতাসীন দলের ক্ষতি হয়নি, বরং সামগ্রিকভাবে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে। কিন্তু অতীতে কোন দলের নেতাই সাহসের সাথে নিজের দলে শুদ্ধি অভিযান করতে পারেননি, ফলে রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেনি।

তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিএনপির কঠিন সময়ে, যখন দলের নেতা-কর্মীরা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে, নানা রকম জুলুম নির্যাতনের শিকার, তখনও দলের শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোন আপস করেননি। যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারেক রহমান একটুও দ্বিধা করেননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে তারা আর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এই সময়ে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব হেভিওয়েট নেতারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু বিপথগামী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পথে পা বাড়ায়। কিন্তু তারেক রহমান এদের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি দেখাননি। তাদের একবিন্দু পরিমাণও ছাড় দেওয়া হয়নি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তাকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত দুই বছরে বিএনপির সহস্রাধিক নেতা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছেন। এখন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন যে, তিনি বিএনপিকে পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে কোন ধরনের ছাড় দেবেন না। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায় না। এটি দলীয় নেতাকর্মী কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

এই পদত্যাগের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে- সরকার এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে, এবং আর কোনো বাড়াবাড়ি করা যাবে না। বাড়াবাড়ি করলেই এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে। এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে দেশে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম অনেকটাই কমে আসবে। এর ফলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ভেতরের আবর্জনা পরিষ্কার করার সাহস পাবে। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিকে দুর্নীতি এবং সন্ত্রাস মুক্ত করতে সাহায্য করবে, এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুক্তিযুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়ে মারা গেলেন ‘বীরাঙ্গনা’ ফুলমতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


মুক্তিযুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়ে মারা গেলেন ‘বীরাঙ্গনা’ ফুলমতি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ‘বীরাঙ্গনা’ রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। বার্ধক্য এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স ছিল ৮৪ বছর।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ শুক্রবার বিকেলে প্রশাসনের তরফ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হবে।

ফুলমতির ছেলে মনিরাজ কুমার বলেন, তার মা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করেন, যার ফলে তার ডান হাত ও পা অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি প্রায় সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি নিজ ঘরেই মারা যান।

লেখক ও গবেষক জহুরুল কাইয়ুম সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক প্রকাশনা ‘হৃদয়ে একাত্তর’-এ ফুলমতির জীবনের কিছু তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাকে ‘ফুলমতি রানী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফুলমতির পিতার নাম অর্জুন রবিদাস এবং মাতার নাম ফু রানী রবিদাস। তিনি সাদুল্লাপুর থানার জামালপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার সংসারে এক মেয়ে সপ্তমী এবং চার ছেলে রয়েছে।

ফুলমতির বাড়ি ছিল সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের উত্তরপাড়ায়। তার স্বামী প্রয়াত কুশিরাম সরকার ফসিয়ার। স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন। ১৯৮৮ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে তাকে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন একদিন পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ফুলমতিদের বাড়িতে এসে তাকে ঘর থেকে বের করে নির্মম নির্যাতন করে।

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফুলমতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। পরে ২০১৬ সালের মার্চে তিনি বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন। তবে এর জন্য তাকে সরকারি দপ্তর ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ধরনা দিতে হয়েছে। তাকে ৪৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।

২০১০ সালে ঢাকার স্টেপস্ টুয়ার্ডস্ ডেভেলপমেন্টের সহযোগিতায় স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য জেনেসিস ও উপজেলা সামাজিক উদ্যোক্তা দল তাকে সম্মাননা প্রদান করে এবং কিছু উপহার দেয়।

সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ফুলমতির ত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাস অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন তিনি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অনেক চেষ্টা ও আবেদনের পর ২০১৬ সালে তা মেলে।

আজমী আরও বলেন, শয্যাশায়ী অবস্থায় ফুলমতির চিকিৎসায় সরকারি পর্যায় থেকে আরও সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল। তবে তিনি কিংবা তার পরিবারের সদস্যরা কারও কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেননি। শেষ দিন পর্যন্ত আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছেন এই সংগ্রামী নারী।

তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন অসম সাহসী নারীকে হারালাম।

স্থানীয়রা বলছেন, ফুলমতি শুধু একজন নারী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস। তার নির্যাতন, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। তার স্মৃতি সংরক্ষণে সমাধিস্থলে একটি স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লির ১১ মেট্রো স্টেশন বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


দিল্লির ১১ মেট্রো স্টেশন বন্ধ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে আম আদমি পার্টি (এএপি) এবং কিছু ছাত্র সংগঠন শুক্রবার বিক্ষোভের আয়োজন করার পর দিল্লি মেট্রোর ১১টি স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই স্টেশনগুলোর মধ্যে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং জন্তর মন্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মণ্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওরি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ এবং নয়াদিল্লি স্টেশনের গেট বন্ধ থাকবে। ডিএমআরসি তাদের এক্সে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে রাজীব চক, মণ্ডি হাউস, নয়াদিল্লি এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে মেট্রো পরিবর্তনের সুবিধা চালু থাকবে।

বিক্ষোভের ডাক দেওয়া সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নির্বাচনী তালিকার বিশেষভাবে নিবিড় সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এএপির পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসও এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%