ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ৫৩ বছরে পদার্পণ, মিস ওয়ার্ল্ড থেকে বিশ্বতারকা


ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ৫৩ বছরে পদার্পণ, মিস ওয়ার্ল্ড থেকে বিশ্বতারকা

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউডের জগতে প্রবেশ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন। কখনো প্রেমে মগ্ন পারু, কখনো প্রাণবন্ত শার্লি, আবার কখনো রহস্যময় সুনেহরি। অভিনয়, ফ্যাশন এবং ব্যক্তিত্বের বৈচিত্র্যে তিনি নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন। আজ ১ নভেম্বর, ৫৩ বছরে পদার্পণ করলেন তিনি।

১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর ভারতের কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন ঐশ্বরিয়া। তিনি মডেলিংয়ের মাধ্যমে তার পেশাগত জীবন শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ডের খেতাব জয়ের পর তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান। এরপর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ১৯৯৭ সালে মণি রত্নমের তামিল সিনেমা ‘ইরুভার’-এ তার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। একই বছর ‘অউর পেয়ার হো গয়া’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় প্রবেশ করেন।

১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। এরপর ‘তাল’, ‘মোহাব্বতে’, ‘দেবদাস’, ‘ধুম ২’, ‘গুরু’ এবং ‘যোধা আকবর’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তবে তার ক্যারিয়ারের কিছু চরিত্র বিশেষভাবে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

আরও পড়ুন: পপিকে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন গীতিকার মিল্টন খন্দকার

পারু—‘দেবদাস’

শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘দেবদাস’ সিনেমায় পার্বতী বা পারো চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঐশ্বরিয়া। প্রেম, অপেক্ষা ও বিরহের আবেগে সাজানো এই চরিত্রে তার উপস্থিতি দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে। সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত এই সিনেমাটি ২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।

শার্লি—‘জোশ’

‘জোশ’ সিনেমায় শার্লি ডায়াস চরিত্রে তাকে দেখা যায়। গোয়ার প্রাণবন্ত তরুণী শার্লির সাজপোশাক ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নব্বইয়ের দশকে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ‘মেরে খেয়ালোঁ কি মালিকা’ গানটিও সিনেমাটির একটি পরিচিত অংশ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: দিয়া মির্জাকে নিয়ে বিতর্কের মাঝে সরব আলিয়ার মা সোনি রাজদান

মানসী—‘তাল’

১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া সুভাষ ঘাই পরিচালিত ‘তাল’ সিনেমায় মানসী চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। অনিল কাপুর ও অক্ষয় খান্নার বিপরীতে তার অভিনয়, নাচ ও গানের দৃশ্য দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে। সিনেমাটির জনপ্রিয় গানগুলোতেও তিনি নজর কাড়েন।

মেঘা—‘মোহাব্বতে’

২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মোহাব্বতে’ সিনেমায় মেঘা চরিত্রে দেখা যায় ঐশ্বরিয়াকে। শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনীত এই চরিত্রের পর্দায় উপস্থিতি ছিল সংক্ষিপ্ত, তবে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল মেঘার প্রভাব।

আরও পড়ুন: ‘রামায়ণ’-এর সেটে রণবীরের সঙ্গে আলিয়ার বিশেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ

আমিরান—‘উমরাও জান’

২০০৬ সালের ‘উমরাও জান’ সিনেমায় আমিরান চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। এর আগে ১৯৮১ সালের সিনেমায় একই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রেখা। নতুন সংস্করণে তিনি নিজের মতো করে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলেন। ছবিটিতে তার অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ ও পোশাকও আলোচনায় আসে।

বিনোদিনী—‘চোখের বালি’

ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ২০০৩ সালের বাংলা সিনেমা ‘চোখের বালি’তে বিনোদিনী চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি এক শিক্ষিত তরুণ বিধবার জীবনের গল্প তুলে ধরে। তৎকালীন সমাজের নানা বিধি-নিষেধের মধ্যে নিজের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও আত্মপরিচয়ের জায়গা খুঁজে ফেরে বিনোদিনী। সংযত অভিনয়ে চরিত্রটির বুদ্ধিমত্তা, আবেগের দ্বন্দ্ব ও প্রচলিত সামাজিক রীতির প্রতি প্রতিবাদ ফুটিয়ে তোলেন ঐশ্বরিয়া। এই চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যতিক্রমী ও জটিল চরিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন: জামিনের পর পরীমনির অশালীন ভাষায় দুই শব্দের পোস্ট

সুনেহরি—‘ধুম ২’

‘ধুম ২’ সিনেমায় সুনেহরি চরিত্রে একেবারেই ভিন্ন রূপে হাজির হন ঐশ্বরিয়া। ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে হৃত্বিক রোশনের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। নাচ, স্টাইল ও চতুর চরিত্রের মিশেলে সুনেহরি হয়ে ওঠে তার ক্যারিয়ারের আলোচিত চরিত্রগুলোর একটি।

নীরজা—‘রেইনকোট’

ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘রেইনকোট’ সিনেমায় নীরজা চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। অজয় দেবগনের অভিনীত মনুর সঙ্গে একসময় তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বহু বছর পর সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে দেখা হলে দুজনের কথোপকথনে উঠে আসে অতীতের স্মৃতি, বর্তমান জীবনের সংকট ও নানা অপূর্ণতার গল্প। প্রচলিত বাণিজ্যিক ছবির বাইরে সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে এ সিনেমায় নিজের ভিন্ন দিক তুলে ধরেন ঐশ্বরিয়া।

আরও পড়ুন: আদনানের প্রথম সিনেমা ‘অপলক’এ নিশো ও মেহজাবীন

সাবা—‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’

২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ সিনেমায় সাবা তালিয়ার খান চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। পেশায় আর্ট কিউরেটর সাবার চরিত্রটি পর্দায় খুব বেশি সময় না থাকলেও তার উপস্থিতি দর্শকদের নজর আকর্ষণ করে।

বলিউডের বাইরেও ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দ্য মিস্ট্রেস অব স্পাইসেস’, ‘প্রভোকড’, ‘দ্য লাস্ট লিজিয়ন’ এবং ‘দ্য পিংক প্যান্থার ২’-এর মতো ইংরেজি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। এসব কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও পরিচিতি অর্জন করেছেন ঐশ্বরিয়া।

কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায়ও তিনি দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। ২০০২ সালে ‘দেবদাস’-এর প্রদর্শনীতে প্রথমবার কান উৎসবে অংশ নেন। পরবর্তী বছর উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি সদস্য হন। এরপর থেকে তার কান উপস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: আথিয়ার জন্মদিনে রাহুলের heartfelt শুভেচ্ছা: তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ এবং ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ফ্রান্স সরকারও তাকে ‘অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ সম্মাননা প্রদান করে।

ব্যক্তিজীবনে ২০০৭ সালে অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন ঐশ্বরিয়া। ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর তাদের ঘরে জন্ম নেয় মেয়ে আরাধ্যা বচ্চন। অভিনয় ও পারিবারিক জীবন—দুই দিক সামলিয়ে এগিয়ে চলেছেন এই অভিনেত্রী। মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট থেকে বলিউডের স্মরণীয় চরিত্র, আন্তর্জাতিক সিনেমা কিংবা কান উৎসবের লালগালিচা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। ৫৩তম জন্মদিনে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়, সৌন্দর্যের পরিচিতির বাইরেও অভিনয়ের নানা রূপে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাওস নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ঝুঁকছে, ভিয়েতনামে বায়ুবিদ্যুৎ রপ্তানি করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


লাওস নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ঝুঁকছে, ভিয়েতনামে বায়ুবিদ্যুৎ রপ্তানি করছে

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : দক্ষিণ লাওসের সবুজ পাহাড়ি অঞ্চলে ১৩৩টি বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন চীনে নির্মিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই টারবাইনগুলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভিয়েতনামের দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে, এই প্রকল্পটি জ্বালানির উৎস বহুমুখী করার আঞ্চলিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাজ করছে।

ডাক ওয়াই গ্রামের কাঠের খুঁটির ওপর নির্মিত বাড়িতে বসে ২৩ বছর বয়সী তুকতা ফনসালা এএফপিকে বলেন, ‘দৃশ্যটা খুব সুন্দর। এগুলো গাছের চেয়েও বড়।’ এ সময় তার কোলে ছিল ছোট্ট শিশু।

লাওসের সেকং প্রদেশ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অসংখ্য বাঁধ নির্মিত হয়েছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে এসব বাঁধের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। পাশাপাশি, এর পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের সময় এসেছে। তারা লাওসের ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ‘মুনসুন উইন্ড পাওয়ার প্রকল্পের’ উদাহরণ তুলে ধরছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকল্পটি উৎপাদন শুরু করে।

সিঙ্গাপুরের সমান আয়তনের এলাকায় বিস্তৃত ৭০০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প এশিয়ার প্রথম আন্তসীমান্ত বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।

চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি নির্মাণ করেছে এবং এর মালিকানায় রয়েছে থাইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নির্দিষ্ট সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে সরাসরি ভিয়েতনামের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভিয়েতনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র। দেশটি ইতোমধ্যেই তার দরিদ্র প্রতিবেশী লাওস থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করে আসছে।

তবে অলাভজনক সংস্থা এনার্জি ল্যাব এশিয়ার কারিগরি কর্মসূচির প্রধান ট্রিস্টান বেলিংহাম বলেন, ‘অর্থনৈতিক হিসাব এখন বায়ুবিদ্যুতের পক্ষে যাচ্ছে।’ তিনি এএফপিকে বলেন, ‘২০ থেকে ৩০ বছর আগে জলবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যেমনটা দেখা গিয়েছিল, এখন নতুন বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জমি ব্যবহারের অনুমতি ও উন্নয়ন-অধিকার নিশ্চিত করতে তেমনই এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।’

লাওসে ইতোমধ্যে ৯০টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও রয়েছে আরও কয়েক ডজন। ফলে উপযুক্ত নতুন স্থান খুঁজে পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

উন্নয়নের জন্য ভালো-

বেলিংহাম বলেন, মুনসুন প্রকল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন অন্যান্য বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোও এগিয়ে যাচ্ছে। লাওসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ১০ থেকে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তুকতা ফনসালা, তার সঙ্গে বসবাসকারী পরিবারের ১৮ সদস্য এবং টারবাইনের আশপাশের ধান ও কফিচাষিদের জন্য মুনসুন প্রকল্প নতুন সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়িয়েছে।

তবে প্রকল্পটি থেকে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারী ঝড়ের সময় এখনো তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। লাওসের নিজস্ব বিদ্যুৎ অবকাঠামো পুরোনো। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থাটিও বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত।

তবুও দেশের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিদেশে পাঠাতে পেরে খুশি তুকতা। তিনি বলেন, ‘এটি উন্নয়নের জন্য ভালো এবং সমৃদ্ধি আনতে পারে।’

ভিয়েতনামের জন্য এই প্রকল্প তুলনামূলক কম খরচে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুতের উৎস। ২০২৩ সালে খরার কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। পরিকল্পিত বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আগামী বছর থেকে বিদ্যুৎ সংকটের ঝুঁকি রয়েছে বলে সেপ্টেম্বরে সতর্ক করেছিল দেশটির সরকার।

ইন্দোচায়না এনার্জি পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থমাস জ্যাকবসেন বলেন, ‘মুনসুন প্রকল্পের মাধ্যমে ভিয়েতনাম স্থানীয়ভাবে যে দামে বায়ুবিদ্যুৎ কিনছে, তার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম দামে লাওস থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছে।’

তার হিসাব অনুযায়ী, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইলেকট্রিসিটি ভিয়েতনাম (ইভিএন) মুনসুন প্রকল্প থেকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রায় ৬ সেন্টে কিনছে। স্থানীয় বাজারের দামের চেয়ে এই হার ২ থেকে ৪ সেন্ট কম।

তবে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক সফরে মুনসুন উইন্ড, ইভিএন এবং প্রকল্পটির অর্থায়ন ব্যবস্থাপক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিনিধিরা বিদ্যুতের এ দাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

‘বিশেষ কিছু রয়েছে’-

২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার ভিয়েতনামের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন ইভিএনের ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন করপোরেশনের কর্মকর্তা নিন সুয়ান হিয়েপ।

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে তিনি এএফপিকে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে লাওস থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ ভিয়েতনামের মোট স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশের সমান হবে। স্থাপিত সক্ষমতা বলতে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামর্থ্যকে বোঝায়।

মুনসুন উইন্ড প্রকল্পের মহাব্যবস্থাপক নারুত বোয়াকাজর্ন জানান, প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতা আরও ১ হাজার মেগাওয়াট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি বিদ্যুতের একটি অংশ যেন লাওসের অভ্যন্তরে ব্যবহার করা যায়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

১১০ মিটার উঁচু একটি টারবাইনের ঘূর্ণায়মান পাখার নিচে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নারুত বলেন, ‘লাওসে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। বায়ু, পানি ও সৌরশক্তি—সবই আছে।’

তিনি বলেন, ‘একই জায়গায় এতগুলো ভালো নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস খুব বেশি দেশে নেই। এদিক থেকে লাওসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’

নারুতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় কর এবং স্থানীয় উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা তহবিলসহ বিভিন্ন খাত থেকে লাওস সরকার ১৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে বিজিবি মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে বিজিবি মোতায়েন

বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবির কারণে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের সমাধান এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গাজীপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের অধীনে ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবির সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য গাজীপুরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবির প্রেক্ষিতে চলমান শ্রম অসন্তোষের কারণে এসব স্থানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি মোতায়েনের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে বিএমপির বিশেষ অভিযানে ইজিবাইক ও অটো উদ্ধার, বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


বরিশালে বিএমপির বিশেষ অভিযানে ইজিবাইক ও অটো উদ্ধার, বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার ৯

বরিশাল মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে একটি ইজিবাইক ও একটি অটো উদ্ধারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১ নভেম্বর) বিএমপি মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথক পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালে পুলিশ একটি ইজিবাইক এবং হলুদ ও লাল রঙের মিশ্রণে তৈরি একটি অটো উদ্ধার করে। এ সংক্রান্ত ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে উদ্ধার হওয়া যানবাহন দুটির মালিকানা, কীভাবে সেগুলো পুলিশের কাছে এসেছে কিংবা সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি।

এদিকে নিয়মিত অপরাধ দমনের পাশাপাশি আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নেও অভিযান পরিচালনা করেছে বিএমপি। এ অভিযানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফলে যানবাহন উদ্ধারসংক্রান্ত ঘটনায় দুজন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় একজন, অন্যান্য আইনে দুজন এবং মহানগর অধ্যাদেশে চারজনসহ ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে সর্বমোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিএমপির এ অভিযানের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশেষ করে মহানগরীর চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার সমন্বিত অভিযান নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চলমান কার্যক্রমের অংশ।


অন্যদিকে বরিশাল মহানগরীতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করতে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে বিএমপি। মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা, সরবরাহ কিংবা সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে বিএমপির পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। মাদকসংক্রান্ত তথ্য জানাতে দুটি হটলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।

যোগাযোগের নম্বর:

০১৩২০-০৬৪০০০

০১৩২০-০৬৪০৪৪

নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিএমপি মিডিয়া সেলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পরিচালিত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে সর্বমোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নগরীর নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়টি তাদের চলমান আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমের অংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুর সরকার উৎখাতের ঘোষণা: ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


নেতানিয়াহুর সরকার উৎখাতের ঘোষণা: ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে, ভৌগোলিক কোনো সীমারেখা না মেনেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শনিবার, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ সতর্কবার্তা দেন মুজতবা খামেনি। তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যেকোনো মাত্রা বা ধরনের হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক, কার্যকর ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাহীন হতে হবে।’

বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ ওয়াহিদি উপস্থিত ছিলেন। মুজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার প্রথম প্রকাশ্যে আসা বৈঠক এটি। গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে দেখা যাননি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় তার বাবা ও তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বৈঠকে মুজতবা খামেনি সামরিক কর্মকর্তাদের ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। তালিকায় ‘আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রুর সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদ’ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন তিনি। পারস্য উপসাগরের উপকূল, হরমুজ প্রণালি, ওমান উপসাগর এবং ইরানের সীমান্ত এলাকায় সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে।

ট্রাম্পের নতুন হামলার ইঙ্গিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিও কার্যত ধ্বংস হয়েছে। তবে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছি। এখনো এক বা দুটি স্থাপনার বিষয়টি বাকি আছে। তবে ১০ মিনিটের মধ্যেই আমরা সেগুলো সামাল দিতে পারি।’ এ সময় তিনি ইরানের সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর কথাও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা ভাবতে পারেন। ওই স্থাপনাও সামাল দিতে হবে। আমরা খুব দ্রুতই এসব করতে পারি।’

তবে ইরান সরকার ওই স্থাপনায় কোনো পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এর আগে ট্রাম্প সরাসরি কিছু না বললেও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবার শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শনিবার তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে, যদিও দেশটির ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা যায় না।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি ইরানের সরকার উৎখাতের জন্য ‘ঐতিহাসিক ও একবারই পাওয়া যায় এমন সুযোগ’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

গত ২২ অক্টোবর ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের বর্তমান সরকারকে চূড়ান্তভাবে উৎখাত করা ছাড়া দেশটি থেকে হুমকি দূর করার আর কোনো পথ নেই। তার অভিযোগ, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবার পথ অনুসরণ করে আবারও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছেন।

এর আগে ১৪ অক্টোবর নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইসরাইলের নির্বাচনের আগে ইরানে আগাম হামলা চালানোর পক্ষে তিনি নন। তবে ইরান বা তাদের মিত্ররা ইসরাইলে হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছিলেন তিনি।

ইসরাইলে গত মঙ্গলবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও আঞ্চলিক মিত্রকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। দেশগুলোকে শুধু হামলার প্রস্তুতি নয়, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আঘাত মোকাবিলার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।

দুই কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। তবে নতুন হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

কূটনীতিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন করে অভিযান শুরু হলে তা কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে বলে মিত্র দেশগুলোকে জানানো হয়েছে। ইরান এবং দেশটির আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলো পাল্টা হামলা চালালে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের জবাবের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এ কারণে এসব স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করতে আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে, পেন্টাগন গত মাসের শেষ দিকে প্রায় ৯ হাজার সেনাসদস্য নিয়ে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট এবং মেরিন সেনা বহনকারী কয়েকটি উভচর যুদ্ধজাহাজ সান দিয়েগো থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরো বাড়তে পারে।

তবে নির্বাচনের পর কত দ্রুত মার্কিন বাহিনী নতুন অভিযান শুরু করতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস ও মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। শনিবার আটলান্টায় জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

রুবিও বলেন, ‘প্রয়োজন হলে আমরা সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। এ বিষয়ে আজ আপনাদের জানানোর মতো কোনো ঘোষণা আমার কাছে নেই। আর আমরা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছি না।’

তবে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব হলে আমরা তাতে আগ্রহী থাকব।’

রুবিওর বক্তব্যে একদিকে সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি, অন্যদিকে আলোচনার সুযোগ রাখার অবস্থান—দুটিই উঠে এসেছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা, সরাসরি বৈঠকে রাজি নয় তেহরান

নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুক্রবার তেহরানে কাতারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা করেন ইরানের কর্মকর্তারা। এরপর শনিবার ইরানি আলোচকেরা কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে দোহায় বৈঠক করেন।

আলোচনার সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগও রয়েছে বলে এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ট্রাম্পের নির্দেশে পাঠানো ওই চিঠির উদ্দেশ্য ছিল আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং নতুন করে মার্কিন হামলা এড়ানোর পথ তৈরি করা বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, চিঠিটি তেহরানের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে আপাতত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।

সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ‘আমেরিকান পক্ষের সংলাপ শুরু এবং আরো বিস্তৃত সমঝোতার উদ্যোগকে আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছি।’ তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি এই চিঠির মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে সেটি হবে তাদের আগের ভুলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া আরেকটি ভুল।

তিনি আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমেরিকানদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো প্রয়োজন আমরা দেখছি না। আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং মধ্যস্থতাকারীরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

কাতার ও পাকিস্তান বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে পাল্টাপাল্টি শর্ত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান সেখানে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে।

কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা এর আগে ইরানের কাছে আস্থা তৈরির জন্য সাত দিনের একটি পরিকল্পনা দিয়েছিল। তবে তেহরান সেটিকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করেছে।

অন্যদিকে, ইরান গত সেপ্টেম্বর থেকে নিজেদের সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ইরানের সমর্থিত একটি নৌপথ ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব বাস্তবায়নের সময়সীমা পাঁচ দিন থেকে কমিয়ে দুই দিন করার বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ইরানের অন্য শর্তের মধ্যে রয়েছে, ইসলামাবাদ সমঝোতার পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো, ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে ছাড় পুনর্বহাল এবং কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের সব অর্থ ছাড় করা।

ওমানের সঙ্গে আলোচিত হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলের পথগুলোর স্বীকৃতিও দাবি করেছে তেহরান। আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, ইরানের সামনে আর কোনো ‘লাল রেখা’ নেই এবং দেশটি আত্মসমর্পণ করবে না।

ইরানের সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ আকারামিনিয়া শনিবার সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে যুদ্ধের পরিধি আরো বিস্তৃত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের আগুন নিঃসন্দেহে আরো বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের জনগণের ক্ষতি করার সাহস দেখালে দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী ‘ভূমিকম্পসম আঘাত’ হানবে।

এদিকে, বাহরাইনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলন মানামা ডায়ালগে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় দফার যুদ্ধ আরও বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক হবে এবং তাতে কোনো সমাধান আসবে না। অতীত থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’

একই সম্মেলনে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ওয়ালিদ আলখেরেইজি বলেন, সামরিক উত্তেজনা ঠেকানো এবং সংকটের অবসানে আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রচেষ্টা চলছে।

যুদ্ধের আশঙ্কার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শনিবার সকালে ‘মার্কিন শত্রুর’ একটি হামলায় মাছ ধরার নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া কেশম দ্বীপের দুই জেলেকে খুঁজে পাওয়া গেছে। এর আগে প্রাদেশিক এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছিল, ওই ঘটনায় আরও দুই জেলে আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে নিষিদ্ধ এলাকায় নৌমাইনে আঘাত লেগে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। এর আগে শুক্রবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছিল, কয়েকটি অনির্দিষ্ট ঘটনা বা মাইনে আঘাতের কারণে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া যোগাযোগের তার কেটে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির প্রায় সব খাতে।

মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জ্বালানির বাড়তি দাম ও যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য চাপ তৈরি করেছে বলে এপি জানিয়েছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন করদাতাদের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে।

অন্যদিকে, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ভালো ফল করলে কংগ্রেসে ট্রাম্পের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা কিছুটা সীমিত হতে পারে। ফলে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তেহরানের এক গৃহিণী ফরিবা বলেন, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে সাধারণ ইরানিরা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তবে রাজধানীর আরেক বাসিন্দা, চল্লিশোর্ধ্ব বিক্রয়কর্মী ইব্রাহিম বলেন, ‘আমরা আরেকটি যুদ্ধকে ভয় পাই না। আমরা তো ৪৮ বছর ধরেই যুদ্ধের মধ্যে আছি।’

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা, ইসরাইলের সরকার গঠনের অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ—সবকিছু মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান এখনো স্পষ্ট।

সূত্র: এএফপি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ডন, রয়টার্স, আলজাজিরা ও ওয়াশিংটন পোস্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%