মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৬ এম
ভারত সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও করবে এমন সব ধরনের উদ্যোগকে শান্তিপূর্ণভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাত সমাধানের জন্য, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলেন মোদি।
মোদি বলেন, "আমাদের অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে যেতে হবে। মানবতার প্রত্যাশা হলো, এই যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব শেষ হোক।"
তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয়। সর্বশেষ বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট তাকে পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছিলেন। মোদি বলেন, "সংকট সমাধানে ভারত সব ধরনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিকে সমর্থন করে।"
মোদি আরও বলেন, "সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন, কারণ এটি শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, পুরো মানবতার স্বার্থে জরুরি।"
মোদির এবারের বক্তব্য কয়েক বছর আগে দেওয়া তার বহুল আলোচিত "এটি যুদ্ধের সময় নয়" মন্তব্যের কথাই আবার মনে করিয়ে দিয়েছে। ২০২২ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মোদি বলেছিলেন, "এটি যুদ্ধের সময় নয়। এখন সময় একসঙ্গে কাজ করার এবং মানবতার জন্য হুমকি হয়ে ওঠা চ্যালেঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার।"
তিনি তখন কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছিলেন। ভারত ধারাবাহিকভাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও পুতিন—দুজনের সঙ্গেই আলোচনায় সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে।
মোদি বলেন, ভারত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে। তার ভাষায়, "প্রতিদিন যুদ্ধ চলা মানেই মানবতাকে আরও পিছিয়ে দেওয়া। তাই আমাদের সংঘাত বন্ধ করার জন্য কাজ করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, ভারত হলো মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের দেশ। দুজনেরই মূল বার্তা ছিল শান্তি।
মোদির বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত বিশ্বাস করে যুদ্ধ নয়, বরং আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা উচিত।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার মারাত্মক প্রাদুর্ভাব আরও বিস্তার লাভ করেছে। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশিত হয়, যেখানে এই তথ্য উঠে এসেছে।
দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে ৬ হাজার ৪১ জনে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩৬৬ জন। সম্প্রতি ভাইরাসটির প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২৯ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯৪৫ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮৬২ জন। এর পরের দুইদিনের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়ে গেছে।
চলতি বছরের মে মাসে ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে সংক্রমণ দেশের ছয়টি প্রদেশের প্রায় ৬০টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতুরি, উত্তর কিভু ও হাউত-উয়েলে এই প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাস। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো অনুমোদিত নির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা নেই। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রোগী শনাক্তকরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট এবং দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে না পারার কারণে ইবোলা নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে দুইজনকে ছুরিকাঘাত করার পর পুলিশের গুলিতে এক নারী মারা গেছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে এই ঘটনাটি ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত নারীর নাম পামেলা সিসনেরোস। তার বয়স ৪৯ বছর। তিনি দুইটি ছুরি নিয়ে ছিলেন এবং প্রায় ২০ সেকেন্ডের মধ্যে দুই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন।
ছুরিকাঘাতে আহত প্রথম ব্যক্তি ৩২ বছর বয়সী এক নারী, যাকে পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। দ্বিতীয় ব্যক্তি ৬৮ বছর বয়সী এক পুরুষ, যিনি পেটের আঘাত নিয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, ঘটনাটি আকস্মিক এবং বিনা উসকানিতে হামলার মতো মনে হচ্ছে। হামলার সময় টাইমস স্কয়ারে হাজারো মানুষ, পর্যটক ও পরিবার উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর কর্মকর্তারা প্রায় চার মিনিট ধরে সিসনেরোসকে ছুরি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি নির্দেশ মানেননি। এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সেটিও কার্যকর না হওয়ায় পুলিশ গুলি চালায়।
পুলিশের দাবি, ওই নারী কর্মকর্তাদের দিকে ছুরি হাতে এগিয়ে আসছিলেন এবং এ সময় তিনি পুলিশকে হুমকি দেন। পরে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিসনেরোসের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পূর্ব ইতিহাস পুলিশের নথিতে রয়েছে। তবে হামলার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত হবে এবং পুলিশের পোশাকে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
ঘটনায় নিহত ও আহতদের পাশাপাশি হামলাকারী নারীকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে জনসম্মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত ও মানহানিকর মন্তব্য করার জেরে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে দুই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া দুই জনপ্রতিনিধি হলেন—কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মেরাব জাকারিয়া এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ঘটনার পটভূমি:
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১০ আগস্ট, যখন ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি’-এর আওতায় নাচোল উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওই নিয়োগের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে কসবা ইউপি চেয়ারম্যান আল মেরাব জাকারিয়া ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তিকর, মানহানিকর ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী বক্তব্য প্রদান করেন।
মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ ও আইনি ব্যবস্থা:
মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের এমন আচরণ প্রত্যাশিত শালীনতা, দায়িত্বশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পর তাদের দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে আইনবহির্ভূত এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী।
এর ফলে ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯’-এর ৩৪(৪)-এর (ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ায়, একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদেরকে স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এ সময় বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কাহালু-নন্দীগ্রাম আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
এছাড়া সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদারসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পতাকা উত্তোলনের পর নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
দলের নেতারা বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলের ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ