ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দিল্লি কাঁপানো জেন-জি' থেকে বাংলা'র জেন-জি'র দৃষ্টি সরাতেই কি জামায়াতের ভিডিও ফাঁস!


দিল্লি কাঁপানো জেন-জি


দিল্লির মসনদ কাঁপানো জেন-জি আন্দোলনে যখন গোটা ভারত উত্তাল তখন একই সময়ে একই দিনে বাংলাদেশের জামায়াত এমপির নারী গঠিত কেলেঙ্কারির ভিডিও একের পর এক ফাঁস হওয়া এবং বাংলাদেশের সমস্ত জনগণের দৃষ্টি সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা নিয়েই ব্যস্ত রাখা কি কাকতালীয় নাকি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা "র" এর বুদ্ধিদীপ্ত ও ভারতীয় বর্তমান উত্তল রাজনীতি থেকে দৃষ্টি এড়ানোর জন্য করা একটি মিশনারি কাজ?

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা যারা সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে তারা যেন ভারতের বর্তমান উত্তপ্ত রাজনীতি নিয়ে সম্পৃক্ত হতে না পারে এবং বাংলাদেশের জামায়াত নেতার ভিডিও নিয়ে ব্যস্ত থাকে তেমন উদ্দেশ্যেই কি জামায়াত নেতার ভিডিও একইদিনে ফাঁস করার ঘটনা কি পরিকল্পিত নাকি কাকতালীয়? এমন প্রশ্ন উদয় হওয়া অসম্ভবের কিছু নয়।

ভারতের রাজনীতিতে নতুন এক অস্থিরতার নাম হয়ে উঠেছে জেন-জি। দিল্লির ক্ষমতার করিডোর থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে তরুণদের ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও ডিজিটাল সংগঠনের নতুন বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা এখন সর্বত্র। সোশ্যাল মিডিয়া আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি এখন জনমত নির্মাণ, আন্দোলন সংগঠন এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র।

এই বাস্তবতার মধ্যেই বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই ভাইরাল হতে শুরু করে জামায়াতের এক নেতা এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের এক সংসদ সদস্যকে ঘিরে পুরোনো ভিডিও। প্রশ্ন উঠতেই পারে—কেন ঠিক এই সময়? কেন এমন এক মুহূর্তে, যখন ভারতজুড়ে তরুণদের আন্দোলন আঞ্চলিক রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু?

এখানে একটি প্রশ্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সামনে অনিবার্যভাবে এসে দাঁড়ায়—এটি কি নিছক কাকতালীয়, নাকি ডিজিটাল এজেন্ডা নির্ধারণের একটি উদাহরণ? আজকের পৃথিবীতে যুদ্ধ শুধু সীমান্তে হয় না; যুদ্ধ হয় তথ্যের, বর্ণনার এবং মানুষের মনোযোগের ওপরও। যে পক্ষ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে, সে-ই অনেক সময় রাজনৈতিক সুবিধা পায়।

বাংলাদেশ নিজেই এমন তরুণ ছাত্র জনতার আন্দোলনের একটি বড় উদাহরণ দেখেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে জনমত গঠন, তথ্য বিনিময় এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় শক্তিতে পরিণত হতে পারে, তা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো রাষ্ট্রই এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কৌশলগত ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করবে—এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। বরং দিল্লির মসনদ কাঁপানো আন্দোলনে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা যারা সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে তারা যেন ভারতের বর্তমান উত্তপ্ত রাজনীতি নিয়ে সম্পৃক্ত হতে না পারে এবং বাংলাদেশের জামাত নেতার ভিডিও নিয়ে ব্যস্ত থাকে তেমন উদ্দেশ্যেই কি জামায়াত নেতার ভিডিও ফাঁস একইদিনে করা নাকি কাকতালীয়? এমন প্রশ্ন উদয় হওয়া অসম্ভবের কিছু নয়।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন তোলা যায়—ভারতের চলমান পরিস্থিতির সময়ে বাংলাদেশের অনলাইন পরিসরে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি আলোচনাকে হঠাৎ কেন্দ্রে নিয়ে আসার পেছনে কোনো সুসংগঠিত তথ্য-অভিযান ছিল কি? যদি থাকে, তার নেপথ্যে কারা? কোনো রাষ্ট্র, কোনো রাজনৈতিক স্বার্থগোষ্ঠী, নাকি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাভাবিক অ্যালগরিদমিক বিস্তার? এসব প্রশ্নের উত্তর প্রমাণসাপেক্ষ তদন্ত ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক সমাজে অস্বাভাবিক নয়।

ডিজিটাল যুগে একটি বিষয় স্পষ্ট—মানুষের মনোযোগই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাই যখন একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা ঘটছে, তখন একই সময়ে অন্য কোনো ইস্যুকে সামনে আনার প্রচেষ্টা দেখা গেলে সেটি বিশ্লেষণের দাবি রাখে। ইতিহাস বলছে, তথ্যযুদ্ধের অন্যতম কৌশলই হলো জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন করা।

তবে কোনো অভিযোগকে প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যেমন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়, তেমনি সময়, প্রেক্ষাপট ও ঘটনার অস্বাভাবিক মিলগুলোকে প্রশ্নহীনভাবে উপেক্ষা করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কাজেই প্রয়োজন স্বাধীন অনুসন্ধান, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রবাহের উৎস নিয়ে গভীর গবেষণা।

আজকের পৃথিবীতে যুদ্ধের নতুন নাম—ন্যারেটিভের যুদ্ধ। সেখানে গুলি নয়, ভাইরাল ভিডিওও রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। তাই প্রশ্নটি থেকে যায়—আমরা কি শুধুই দর্শক, নাকি অদৃশ্য তথ্যযুদ্ধেরও অংশ?
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ডিসিদের ক্ষমতা বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ডিসিদের ক্ষমতা বাতিল

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের ও কর্মচারীদের নিয়োগে ডিসিদের ক্ষমতা বাতিল করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) হাতে দেওয়ার বিষয়টি বাতিল করা হয়েছে।

এর ফলে, আবারও ডিসিদের হাতে অশিক্ষক জনবলের নিয়োগের ক্ষমতা থাকবে না।

মঙ্গলবার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ নতুন একটি পরিপত্র জারি করেছে। এ পরিপত্রে আগের পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার, নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, স্নাতক (পাস) কলেজ) শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগের সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুসরণীয় নির্দেশমালা সংশোধন করা হয়েছে।

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, স্নাতক (পাস) কলেজ) প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক ব্যতীত অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগের সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষা বিভাগের গত ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ সেপ্টেম্বর জারীকৃত পরিপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে, ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি জারিকৃত নির্দেশমালার ২.৪-এর ক, খ ও গ এ বর্ণিত অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগসংক্রান্ত অংশ ব্যতীত অন্যান্য পদে (যেমন ট্রেড অ্যাসিসটেন্ট, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, গবেষণাগার, ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশপ্রহরী, আয়া, অফিস সহায়ক) নিয়োগসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট অংশ বহাল রাখা হয়েছে।

গত ২৮ আগস্টের পরিপত্রে বলা হয়েছিল যে, শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিওভুক্ত কর্মচারী পদে নিয়োগ সুপারিশ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব ইদানীং ডিসি পালন করবেন। এই কমিটিতে সদস্যমণ্ডল হিসেবে থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলার সবচেয়ে পুরোনো সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অথবা তার প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের একজন প্রতিনিধি (পরিদর্শকের নিচে নয়), এবং সংশ্লিষ্ট জেলার যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক অথবা সহকারী পরিচালক।

কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

এ ছাড়া, এতে আরো বলা হয়েছে যে, নিয়োগ সুপারিশ কমিটি পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রস্তুত ও নিয়োগের সুপারিশ দেবে। নিয়োগ সুপারিশ কমিটি মৌখিক পরীক্ষার প্রয়োজনে একাধিক বোর্ড গঠন করতে পারবে। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধির নেতৃত্বে নবম গ্রেডের নিচে নয় এমন ৩ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড গঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের ১০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


পুলিশের ১০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি

পাবনা জেলার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহসহ পুলিশের ১০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদের স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই বদলি কার্যকর করা হয়।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহকে সিআইডিতে বদলি করা হয়েছে। একইসাথে, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের আবু আশ্রাফকে পাবনার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন আহমেদকে র‍্যাবে বদলি করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআজি মো. কফিল উদ্দিনকেও পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।

একই দিন, পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসিয়ান ওয়াজেদকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। রাজশাহী ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশজিকুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আপেল মাহমুদকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের (টিআর পদে) পুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকেও রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সিআইডির পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার তাহসিন মাসরুফ হোসেন মারুফকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গভীর রাতে ইমামের পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


গভীর রাতে ইমামের পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় পারিবারিক কলহের কারণে ব্লেড দিয়ে স্বামীর যৌনাঙ্গ কেটে দেওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

আহত আবু দাউদ (৫০) জামালপুর রেলওয়ে মসজিদের ইমাম হিসেবে পরিচিত। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ভোররাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির পর স্ত্রীর ব্লেড দিয়ে আবু দাউদের যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয়। এতে তাকে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তার স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মধোখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুখদেব রায় বলেন, এ ঘটনার অভিযোগ পেলে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফাইনাল খেলা নিয়ে বিরোধ, মা-মেয়ের ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


ফাইনাল খেলা নিয়ে বিরোধ, মা-মেয়ের ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলা

বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মা এবং মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন কিশোর গ্যাংয়ের হামলায়।

এ ছাড়া আহতদের মামলা করার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের মওলার পাড়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতদের নাম হলো- ময়রা খাতুন (৫৫) এবং তার মেয়ে রাবিয়া খাতুন (১৫)। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ময়রা খাতুনের মাথায় চারটি সেলাই এবং রাবিয়া খাতুনের মাথায় সাতটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৯ জুলাই) রাতে সংগঠিত আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে স্থানীয় যুবক রাকিবের সঙ্গে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলামের গ্রুপের এক সদস্যের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর থেকে মোরশেদুল ইসলাম বিভিন্নভাবে রাকিবকে হুমকি দিতে শুরু করেন। এর ফলস্বরূপ, সোমবার সকালে মোরশেদুল ইসলাম ও তার ভাই মোহাম্মদ হাবিবের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দলের সদস্য রাকিবের বাড়িতে গিয়ে হামলা করে।

এই সময়, প্রতিবেশীরা যখন রাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছিলেন, হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারাল দা ও কুড়াল নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালাতে শুরু করে। এতে ময়রা খাতুন, তার মেয়ে রাবিয়া খাতুনসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। মা-মেয়ের মাথা, কপাল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতরভাবে জখম হয়। হামলার পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। পরে তাদের চমেক হাসপাতালে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম এলাকায় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। তার বাবা জাকের হোসেনের বিরুদ্ধে ভূমি দখলসহ আরও বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে।

আহত ময়রা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল জানিয়েছেন, "আমার মা এবং বোন কারো কোনো ক্ষতি করেননি। প্রতিবেশীকে হামলা থেকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তাদের অপরাধ। এজন্য তাদের দা-কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মাথা, কপাল ও মুখে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আমরা অসহায় মানুষ। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে বিষয়টি থানাকে জানালেও, মামলার আশঙ্কার কারণে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর জানিয়েছেন, "ফাইনাল খেলা নিয়ে তর্কের জেরে মা-মেয়ের ওপর হামলা হয়েছে। তারা এখন চিকিৎসাধীন আছেন। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরল আলম আশেক বলেছেন, "গুরুতর আহত অবস্থায় বাঁশখালী থেকে দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। পরে চিকিৎসকরা তাদের সার্জারি বিভাগে ভর্তি দেন।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%